সাম্প্রতিক কার্যক্রম :
অনসাইট আইডেন্টিফিকেশন এন্ড ভেরিফিকেশন সিস্তেম (ওআইভিএস) এর শুভ উদ্বোধন ✱ রাজধানীর বংশালে র‌্যাবের অভিযানে ১৫১২ পিস অবৈধ সরকারী ঔষধ ও প্যাথেডিনসহ ০১ জন গ্রেফতার। ✱ ঢাকার আশুলিয়া হতে ৫২ কেজি গাজাসহ ০২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৪ঃ মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার জব্দ। ✱ র‌্যাব ৯ এর অভিযানে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া হতে নৌবাহিনীর অফিসার্স পরিচয় প্রদানকারী ভূয়া পরিচয়পত্র সহ প্রতারকচক্রের ০১ জন গ্রেফতার। ✱ র‌্যাব-২ এর অভিযানে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আসামী, অস্ত্রধারী শীর্ষ সন্ত্রাসী, ধর্ষণকারী, ছিনতাই, মাদক ও জুয়াড়িসহ ৯৮ জন গ্রেফতার এবং ১০ কেজি আফিমসহ বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার। ✱ ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ ও চকবাজারে র‌্যাবের অভিযানে ১৫ জুয়াড়ি গ্রেফতার। ✱ র‌্যাব-১১ এর অভিযানে নারায়ণগঞ্জ শহর হতে ১২ জন জুয়াড়ি গ্রেফতার। ✱ র‌্যাব-২ এর অভিযানে ১৩ হাজার ৫০ পিস ইয়াবা ও মাদকবহনকারী বাসসহ ০২ জন’কে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা হতে গ্রেফতার। ✱ সিরাজদিখান, যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা এলাকায় নকল ওয়াশিং পাউডার ও ভেজাল খাবারের উপর র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৪ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা; ০১ টি কারখানা সিলগালা। ✱ সাভারের আমিন বাজার এলাকায় অনলাইনভিত্তিক জুয়ার আসর হতে ০৬ টি বৈদেশিক মুদ্রার নোট এবং নগদ ১,৪৫,২৫০ টাকাসহ ০৭ জন জুয়াড়ী’কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৪। ✱

র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর দিয়াবাড়ী এলাকা হতে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার যাবৎজীবন দন্ডপ্রাপ্ত আসামী জঙ্গি ইকবাল হোসেন @ ইকবাল @ জাহাঙ্গীর @ সেলিম গ্রেফতার॥

প্রকাশের তারিখ : ২৩-০২-২০২১

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

১।  উপস্থিত র‌্যাব ফোর্সেস এর সকল কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ আস্সালামু-আলাইকুম।

২।     প্রথমেই আমি সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করছি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতার স্বাদ। স্মরণ করছি ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মউৎসর্গকারী সকল শহীদদের প্রতি। একই সাথে স্মরণ করছি জাতির পিতার পরিবারের সকল শহীদ সদস্য যাঁরা ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ঘাতকের বুলেটের আঘাতে শাহাদাৎ বরণ করেন। 

৩।    এছাড়াও স্মরণ করছি জঙ্গি বিরোধী অপারেশনে শাহাদাত বরণকারী লেঃ কর্ণেল আজাদসহ জীবন উৎসর্গকারী অন্যান্য র‌্যাব ফোর্সেস এর সদস্যবৃন্দকে। 

৪।    আমি সশ্রদ্ধ চিত্তে আরও স¥রণ করছি ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শাহাদাত বরণ কারীদের এবং আহত হয়ে যাঁরা আজও সেই গ্রেনেডের ক্ষত বয়ে চলেছেন। 

৫।    ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ঘৃনিত, কলংকজনক ও বিভীষিকাময় একটি দিন। সেদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঘৃন্যভাবে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। আল্লাহর অশেষ রহমত; তিনি বেঁচে যান। আলোচিত গ্রেনেড হামলায় শাহাদত বরণ করেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী ও আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী আইভী রহমানসহ দলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ অনেকেই এখনও সেই দুঃসহ এবং বিভিষিকাময় স্মৃতি ও ক্ষত বয়ে চলেছেন।

৬।    আপনারা নিশ্চয়ই জানেন যে, ২১ আগস্ট ইতিমধ্যে গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতে দীর্ঘ সাত বছরে সর্বমোট ২২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও শুনানি শেষে ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর এই মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা হয়। যুগান্তকারী এই রায়ে অভিযুক্তদের মৃত্যুদন্ড, যাবজ্জীবন কারাদন্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়। 

৭।    এই চাঞ্চল্যকর মামলার আসামীদের গ্রেফতার করতে অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ন্যায় র‌্যাবও তৎপরতা অব্যাহত রাখে। ইতিপূর্বে র‌্যাব ২০০৫ সালে জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান ও তার ভাই মুহিবুল্লাহ @মফিজ @অভিকে গ্রেফতার করেছিল। এছাড়া এই মামলার সংশ্লিষ্টতায় ২০০৭ সালে ১৬টি আরজিএস গ্রেনেড উদ্ধারসহ এ পর্যন্ত ১৫ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। 

৮।    এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (ঘঝও) এর দেওয়া তথ্যমতে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ আভিযানিক দল গত রাত (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখ) ০৩০০ ঘটিকায় রাজধানীর দিয়া বাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার যাবৎজীবন সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গি মোঃ ইকবাল হোসেন @ ইকবাল @ জাহাঙ্গীর @ সেলিম, পিতাঃ আব্দুল মজিদ মোল্লা, জেলাঃ ঝিনাইদহকে গ্রেফতার করে। 

৯।    গ্রেফতার পরবর্তী আসামী জঙ্গি ইকবালকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জানা যায় জঙ্গি ইকবাল এইচএসসি পাশ। স্কুল ও কলেজে অধ্যায়নরত অবস্থায় ছাত্র দলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিল বলে সে জানায়। জঙ্গি ইকবাল ১৯৯৪ সালে কেসি কলেজ, ঝিনাইদহে ছাত্র সংসদে ছাত্রদলের নির্বাচিত শ্রেনী প্রতিনিধি ছিল। সে ১৯৯৫ হতে ১৯৯৮ পর্যন্ত মালয়শিয়ায় প্রবাসী কর্মজীবি হিসাবে অবস্থান করে। দেশে ফিরে এসে জঙ্গি ইকবাল আইএসডি ফোন ও অন্যান্য ব্যবসা-বানিজ্য শুরু করে। এসময় সে, সর্বহারা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সাথে বিরোধ/কোন্দলে জড়িয়ে পড়ে। ২০০১ সালে তার চিন্তা-চেতনা ও মনস্তাত্তিক পরিবর্তন আসে। সে ঝিনাইদহের স্থানীয় এক জঙ্গি সদস্যদের মাধ্যমে সে হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশ (হুজিবি)তে যোগদান করে। সে ২০০৩ সালে মুফতি হান্নান ও অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের সান্নিধ্যে চলে আসে। সে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিতে থাকে। সে ২০০৪ সালে আগস্ট মাসে মুফতি হান্নানের নির্দেশে ঢাকায় চলে আসে এবং গোপন আস্তানায় অবস্থান করতে থাকে। সেখানে হুজিবি নেতা মুফতি হান্নানসহ অন্যান্য সমমানদের সাথে গভীর সম্পর্ক তৈরী হয়। সে মুফতি হান্নানের সাথে বিভিন্ন স্থানে দলীয় গোপন বৈঠকে অংশগ্রহণ করত।

১০।    ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে সে জানায় যে, মুফতি হান্নানের নির্দেশে সে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে। মুফতি হান্নান হামলা পরিচালনার জন্য তাকে গ্রেনেড সরবরাহ করেছিল। সে আরও উল্লেখ করে যে, হামলা চলাকালীন সময়ে সে মঞ্চকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুঁড়েছিল। ঘটনার পর সে ঝিনাইদহে গমন করে এবং সেখানে আত্মগোপনে অবস্থান করতে থাকে। 

১১।    ঘটনা পরবর্তী র‌্যাব জঙ্গি ইকবাল হোসেনকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে একাধিক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। ২০০৮ সালে জঙ্গি ইকবালকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে ঝিনাইদহে তার নিজ বাড়ীতে এবং পরবর্তীতে গাজীপুর ও সাভারসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব। এ সময় আত্মগোপনে থাকাকালীন সে নিরাপত্তাকর্মী, শ্রমিক, রিক্সা মেকানিক ইত্যাদি ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল বলে জানায়। সে ২০০৮ সালে দেশ ত্যাগ করে। প্রবাসে আত্মগোপন থাকাবস্থায় প্রথমে “সেলিম’’ এবং পরবর্তীতে জাহাঙ্গীর নাম ধারণ করে। এক পর্যায়ে, সে প্রবাসে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত হলে, তাকে ২০২০ সালের শেষের দিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। দেশে ফেরত এসে জঙ্গি ইকবাল আত্মগোপনে থেকে সমমানদের সাথে পূনরায় যোগাযোগ স্থাপন করে। উল্লেখ্য যে, জাতীয় নিরাপত্ত গোয়েন্দা (ঘঝও) এবং র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখা জঙ্গি ইকবাল সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং জঙ্গি ইকবালকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

১২।    আমি দৃঢ় কণ্ঠে বলতে চাই, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের আভিযানিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে র‌্যাব বদ্ধ পরিকর। বাংলাদেশের মাটিতে জঙ্গিবাদের কোন ঠাঁই নেই। 

১৩।    পরিশেষে আমি আপনাদের সকলকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাই আমাদের মাঝে উপস্থিত থাকার জন্য। 

ধন্যবাদ, আল্লাহ হাফেজ।
 

আরও সাম্প্রতিক কার্যক্রম