সাম্প্রতিক কার্যক্রম :
ওয়ান হেলথ গ্লোবাল লিডার্স গ্রুপ অন এন্টি মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স ফোরামের কো-চেয়ার মনোনীত হওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে র‌্যাব ফোর্সেস এর পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন। ✱ র‌্যাবের অভিযানে চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড থানাধীন ভাটিয়ারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯,৭১০ পিস ইয়াবাসহ ০২ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। মাদক পরিবহণে ব্যহৃত একটি ট্রাক জব্দ। ✱ র‌্যাবের অভিযানে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানাধীন চন্দ্রাবিল এলাকায় চাঞ্চল্যকর লেগুনা চালক নাজমুল হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামী ইমন (২৩) কে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে গ্রেফতার। ✱ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলের জলদস্যুদের অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ র‌্যাবের তত্ত্বাবধানে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট আত্মসমর্পণ ✱ র‌্যাবের অভিযানে ঢাকা মহানগরীর পল্টন ও যাত্রাবাড়ী থানাধীন এলাকা হতে দুটি পৃথক পৃথক অভিযানে সর্বমোট ১৫৫০ বোতল ফেন্সিডিলসহ ০৬ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। ✱ র‌্যাবের অভিযানে রাজশাহী কর্তৃক ০১ কেজি ৯৮০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধারসহ ০১ জন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। ✱ র‌্যাবের অভিযানে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানাধীন হারবাং এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৪,৪৫৫ পিস ইয়াবাসহ ০৩ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। ✱ র‌্যাবের অভিযানে এসএমপির এয়ারপোর্ট থানার স্টেডিয়াম এলাকা থেকে ৩০০ লিটার মদ জব্দসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার। ✱ র‌্যাবের অভিযানে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও নয়াবাড়ী কাঁচপুর এলাকা হতে চাঁদাবাজ চক্রের ০৩ জন সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার। ✱ র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর পল্লবী থেকে সাভার থানার চাঞ্চল্যকর ডাকাতি মামলার মূলহোতাকে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ গ্রেফতার। ✱

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উপকূলীয় অঞ্চলের জলদস্যুদের অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ র‌্যাবের তত্ত্বাবধানে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট আত্মসমর্পণ

প্রকাশের তারিখ : ১২-১১-২০২০

বাংলাদেশের সীমানার একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে বঙ্গোপসাগর। এই সাগরকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয় উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা। বিশাল এই উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর উপার্জনের অন্যতম আশ্রয়স্থলকে কণ্টকাকীর্ণ করে রাখে কিছু অস্ত্রধারী বিপথগামী জলদস্যু। জলদস্যু দমনে সরকারের কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে র‌্যাব সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছে। র‌্যাবের কঠোর ভূমিকায় ইতিমধ্যে সুন্দরবন অঞ্চলের জলদস্যুরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে আত্মসমর্পণ করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ০১ নভেম্বর ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত ঘোষণা করেন। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চলে র‌্যাবের কঠোর পদক্ষেপের ফলে ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর মহেশখালীতে এই অঞ্চলের ৪৩ জন জলদস্যু আত্মসমর্পণ করে। এর ফলে এই অঞ্চলে জলদস্যুতার ঘটনা কমে যায়। আজকের জলস্যুর আত্মসমর্পণ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চল জলদস্যুমুক্ত হবার পথে অনেকদূর এগিয়ে যাবে বলে আশা করা যায়। ফলশ্রæতিতে এই অঞ্চলের সাগর কেন্দ্রীক অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরো বেগবান হবে।

বাঁশখালী, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার হাজার হাজার উপকূলবর্তী মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কতিপয় চিহ্নিত জলদস্যু ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রæপের কাছে জিম্মি হয়ে আছে। অনেকে জলদস্যুদের দ্বারা অত্যাচারিত হয়ে দুঃসহ জীবনযাপন করছে। আর এই জলদস্যু ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদেরকে দেশীয় অবৈধ অস্ত্রের বড় একটি অংশ সরবরাহ করে যাচ্ছে এসব এলাকার স্থানীয় অস্ত্র কারিগররা। চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় জলদস্যুদের দমন, দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারিগর ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে র‌্যাব প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে অদ্যবধি   র‌্যাব-৭, বাঁশখালী, মহেশখালী ও কুতুবদিয়াসহ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে ২৪৮ জন কুখ্যাত জলদস্যু এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে আটক করে এবং দেশী-বিদেশী সর্বমোট ৭৯৭ টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রসহ ৮,৮৪২ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করে। এছাড়াও ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের ২০ অক্টোবর ৪৩ জন জলদস্যু র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। ফলে বাঁশখালী, মহেশখালী, কুতুবদিয়ার বিভিন্ন জলদস্যু বাহিনীর অপতৎপরতা বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে।  


    এসব জলদস্যু প্রবণ জায়গায় র‌্যাবের অবিরাম টহল এবং দৃঢ় মনোভাবের ফলে জলদস্যু এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী গুলো কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এছাড়া র‌্যাব-৭ এর ক্রমাগত অভিযান, অতি সক্রিয় গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক এবং কৌশলগত পদক্ষেপের কারণে জলদস্যুদের কর্মকান্ড পরিচালনা করা দুরুহ হয়ে পড়েছে। এসব কারনে জলদস্যুরা স্বপ্রণোদিত হয়ে তাদের কাছে থাকা সমস্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পন করার ইচ্ছা পোষণ করে। 

    ইতিপূর্বে র‌্যাব-৭ এর তত্ত্বাবধানে আত্মসমর্পণ, র‌্যাব-৬ ও র‌্যাব-৮ এর তত্ত¡াবধানে সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ ও পূর্নবাসন প্রক্রিয়াও তাদেরকে অনুপ্রানিত করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিতে ও মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ করানো ছিল যুগান্তকারী ঘটনা। 

    ২০ অক্টোবর ২০১৮ সালে মহেশখালী আত্মসমর্পণের পর উপকূলীয় অঞ্চলের জলদস্যুদের উপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে বাঁশখালী, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া অঞ্চলের জলদস্যুরা তাদের দস্যু জীবনের অবসান ঘটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে উৎসাহী হয়। এ প্রেক্ষিতে র‌্যাব তাদের জন্য আজকের এই সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় অদ্য ১২ নভেম্বর ২০২০ তারিখে বিনা শর্তে উপকূলীয় অঞ্চলের জলদস্যুরা আত্মসমপর্ণ করছে। আত্মসমর্পণকৃত জলদস্যুদের তালিকা ও অস্ত্রের বিবরণ ক্রোড়পত্র ‘ক’ তে এবং বাহিনী অনুযায়ী জলদস্যুদের নামীয় তালিকা ক্রোড়পত্র ‘খ’ হিসেবে দেওয়া হলো।  

       বাহিনীর নাম:
০১। বাইশ্যা ডাকাত বাহিনী  - ০৩ জন
০২। খলিল বাহিনী  - ০২ জন
০৩। রমিজ বাহিনী  - ০১ জন
০৪। বাদশা বাহিনী   - ০৩ জন 
০৫। জিয়া বাহিনী     - ০২ জন
০৬। কালাবদা বাহিনী - ০৪ জন
০৭। ফুতুক বাহিনী  -  ০৩ জন
০৮। বাদল বাহিনী - ০১ জন
০৯। দিদার বাহিনী  - ০১ জন
১০। কাদের বাহিনী  - ০১ জন
১১। নাছির বাহিনী  -  ০৩ জন
১২। অন্যান্য -  ১০ জন
    সর্বমোট       =  ৩৪ জন

 

উদ্ধারকৃত অস্ত্র
এলজি- ৪১টি
থ্রি কোয়াটার এলজি- ১৯টি
বিদেশী পিস্তল- ০১ টি
রিভলবার- ০১টি
এসবিবিএল- ০৫টি
এসবিবিএল বন্দুক- ১৬টি
ডিবিবিএল বন্দুক- ০১টি
ওয়ান শুটারগান- ০১টি 
থ্রি কোয়াটার ওয়ান শুটারগান- ০১টি
এসবিবিএল ওয়ান শুটারগান- ০১টি
পাইপগান- ০১টি
এয়ারগান-  ০২টি
সর্বমোট   =  ৯০ টি 

 

উদ্ধারকৃত গোলাবারুদ
০১।  .১২ বোরের গুলি- ৮৮৬ রাউন্ড 
০২।  .২২ বোর রাইফেলের গুলি- ১,১৭০ রাউন্ড 
      সর্বমোট গুলি/কার্তুজ- ২,০৫৬ রাউন্ড
 

 

    আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুরা সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বাঁশখালী, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার অন্যতম সু-সংগঠিত, ভয়ংকর দুর্র্ধষ ও সক্রিয় জলদস্যু বাহিনী। এসব বাহিনীর সকল অস্ত্র-গোলাবারুদসহ সদলবলে র‌্যাব-৭ এর নিকট আত্মসমর্পণ এর ফলে বঙ্গোপসাগরের বাঁশখালী, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপকূলীয় অঞ্চলে দস্যুবৃত্তিতে নিয়োজিত অন্যান্য জলদস্যু ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরাও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে দারুণ ভাবে উৎসাহিত হবে বলে আমরা মনে করি। বাঁশখালী, মহেশখালী ও কুতুবদিয়াসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের জলদস্যু/অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রেফতার করার লক্ষে র‌্যাব-৭ এর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
 

আরও সাম্প্রতিক কার্যক্রম