সাম্প্রতিক কার্যক্রম :
র‌্যাবের অভিযানে ফেনী জেলার ফেনী সদর থানাধীন শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়ক এলাকা হতে ৯,৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। ✱ র‌্যাবের পৃথক পৃথক অভিযানে রাজধানীর তেজগাঁও এবং মোহাম্মদপুর থানা এলাকা হতে ০২ জন নারী মাদক ব্যবসায়ীসহ ০৩ জন গ্রেফতার। ✱ মহাপরিচালক, র‌্যাব ফোর্সেস এর বক্তব্য ✱ র‌্যাবের অভিযানে ধামরাই এলাকা হতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম এর ০৫ সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার ✱ র‌্যাবের অভিযানে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকা হতে ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজীর সময় ওয়াকিটকি, হ্যান্ডকাফ, দেশীয় অস্ত্র, মাইক্রোবাসসহ হাতেনাতে ০৪ জন গ্রেফতার করেছে র‌্যাব ✱ র‌্যাবের অভিযানে ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানা হতে গাঁজাসহ ০১ মাদক ব্যবসায়ী এবং ০১ জন মাদক মামলার ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী আটক ✱ র‌্যাবের অভিযানে সিলেট জেলার জকিগঞ্জ থানার শেরুলবাগ এলাকা থেকে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ✱ র‌্যাবের অভিযানে বিভিন্ন কলেজের ফলাফল পরিবর্তনের নামে প্রতারক চক্রের মূলহোতা ও সহকারী গ্রেফতার। ✱ র‌্যাবের অভিযানে ঃ বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চ ডুবির ঘটনায় অভিযুক্ত ময়ূর-০২ লঞ্চ এর মাষ্টার গ্রেফতার । ✱ র‌্যাবের অভিযানে ঢাকা মহানগরীর শাহবাগ থানা এলাকা হতে ০১টি বিদেশী পিস্তল, ০১ রাউন্ড গুলি ও ০১টি ম্যাগাজিনসহ ০১ জন কুখ্যাত সন্ত্রাসী গ্রেফতার। ✱

গাজীপুর কালিয়াকৈরে মাইক্রোবাসে গুলি করে ইনক্রেডিবল ফ্যাশনস্ লিঃ গার্মেন্টস এর প্রায় ৮০ লক্ষ ২২ হাজার টাকা ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী সহ ০৫ জন’কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব \ নগদ ৩০ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা, ১১০০ ইউএস ডলার, ডাকাতির কাজে ব্যবহƒত মোটর সাইকেল, গাড়ি এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার।

প্রকাশের তারিখ : ১৪-০৬-২০২০

গত ০৭ জুন ২০২০ তারিখে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সুরিচালা এলাকার ইনক্রেডিবল ফ্যাশনস্ লিমিটেড গার্মেন্টস এর মাইক্রোবাস যোগে বহনকৃত প্রায় ৮০ লক্ষ ২২ হাজার টাকা ডাকাতি হয়। পরবর্তীতে একই দিনে (০৭ জুন ২০২০) ঐ গার্মেন্টের এ/পি জেনারেল ম্যানেজার  প্রোডাকশন) মোঃ খোরশেদ আলম (৬০) অজ্ঞাত নামা ব্যক্তিদের আসামি করে কালিয়াকৈর থানায় মামলা দায়ের করেন, যার নম্বর-০৯, তারিখ ০৭ জুন ২০২০, ধারাঃ- ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড। 

    ঘটনার বিবরণে জানা য়ায়, ইনক্রেডিবল ফ্যাশনস্ লিমিটেড গার্মেন্টস এর শ্রমিক এবং স্টাফদের বেতন প্রদান করার লক্ষ্যে গত ০৭ জুন ২০২০ তারিখ আনুমানিক ১১১৫ ঘটিকার সময় ব্যাংক এশিয়া, কালিয়াকৈর শাখার উদ্দেশ্যে ফ্যাক্টরীর সহকারী ম্যানেজার মেজবাহ উল হক (৪০)সহ ৬ জন কোম্পানীর মাইক্রোবাস যার রেজিঃ নম্বর ঢাকা মেট্রো-চ-৫৩-৯৫১১ নিয়ে গমন করে। ব্যাংক হতে টাকা গ্রহণ পূর্বক দুপুর আনুমানিক ০১২০ ঘটিকার সময় ব্যাংক হতে বাহির হয়ে উল্লেখিত মাইক্রোবাস যোগে ফ্যাক্টরীর দিকে রওনা হয়। রওনা হওয়ার পর আনুমানিক ০১৩০ ঘটিকার সময় কালিয়াকৈর থানাধীন খাড়াজোড়া এলাকায় নির্মাণাধীন ফ্লাইওভার এর দক্ষিণ পাশে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে পৌঁছানো মাত্রই ডাকাতদের চালিত যানের মাধ্যমে মাইক্রোবাসের গতি রোধ করে লোহার রড, হাতুড়ী, ষ্টীলের পাইপ এবং পিস্তলসহ অতর্কিতভাবে ভাংচুর ও গুলি করে উক্ত অর্থ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। উক্ত গোলাগুলির ঘটনায় ফ্যক্টরীর সহকারী মার্চেন্ডাইজার রাজীব মজুমদার শুভ (২৮) গুরুতর জখম প্রাপ্ত হয়। 

    বর্তমান করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন ভাতা লুটের ঘটনা সারাদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ঘটনাটি মিডিয়াতে গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হয়। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে র‌্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে। 

    এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৪ জুন ২০২০ তারিখ ০১৩০ ঘটিকা হতে ১১০০ ঘটিকা পর্যন্ত র‌্যাব-১ এর আভিযানিক দল ঢাকা মহানগরী ও ঢাকা জেলার বিভিন্ন স্থানে (সাভার, আশুলিয়া, মগবাজার, ডেমরা এবং কড়াইল বস্তি) অভিযান চালিয়ে (ক) মোঃ রিয়াজ (৩৬), পিতা- মোঃ সুলতান হাওলাদার, মাতা- মোসাঃ খাদিজা বেগম, সাং - গোডাংগা, থানা-আমতলী, জেলা-বরগুনা; (খ) মোঃ সাগর মাহমুদ (৪০), পিতা- মৃত আঃ ছত্তার ফকির, মাতা-মেহেরনিগার, সাং-দক্ষিণ বহাল গাছিয়া, থানা-পটুয়াখালী, জেলা-পটুয়াখালী; (গ) মোঃ জলিল (৪০), পিতা- মৃত গঞ্জের আলী মোল্লা, মাতা-মৃত সোনাবরু বেগম, সাং- খানপুরা, থানা-বাবুগঞ্জ, জেলা-বরিশাল; (ঘ) মোঃ ইসমাইল হোসেন @ মামুন (৪৫), পিতা - মৃত মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান, মাতা- মাফিয়া বেগম, সাং-খানখানাপুর, থানা-রাজবাড়ী, জেলা-রাজবাড়ী; ঙ। মনোরঞ্জন মন্ডল @ বাবু (৪১), পিতাঃ মৃত দয়াল মন্ডল, গ্রাম- ভাতগ্রাম, থানা- মির্জাপুর, জেলা- টাঙ্গাইল’দেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের নিকট হতে উদ্ধার করা হয় নগদ ৩০ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা, ১১০০ ইউএস ডলার, ০১টি প্রিমিও প্রাইভেট কার (চট্ট মেট্রো-গ ১১-৭৬৫৩), ০৩টি মোটর সাইকেল (বরিশাল মেট্রো-ল-১১-০৭২৭, ঢাকা মেট্রো হ ৬৪-১৭১৪, ঢাকা মেট্রো ল-১৮-০১৬১) ০১টি বিদেশী রিভলবার, ০১টি বিদেশী পিস্তল, ২১ রাউন্ড গোলাবারুদ, ২টি ম্যাগজিন, ৩টি পাসপোর্ট এবং ৩৮টি মোবাইল ফোন। গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিকভাবে অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্টতার কথা স্ব¦ীকার করেছে।

    গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, প্রায় ৪/৫ মাস পূর্বে চক্রটির মূল হোতা গ্রেফতারকৃত জলিলের পরিকল্পনায় ঈসমাইল হোসেন @ মামুন এবং মনোরঞ্জন মন্ডল @ বাবু টার্গেট সিলেকশনের কাজ শুরু করে। তারা গাজীপুর, আশুলিয়া, কালিয়াকৈর এলাকায় বেশ কিছু গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী শ্রমিকদের বেতন সংগ্রহ প্রক্রিয়া যাচাই বাছাই করে ইনক্রেডিবল গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী’কে টার্গেট করে। তাদের পর্যবেক্ষণে উদঘাটিত হয় যে, বর্ণিত ফ্যাক্টরী শ্রমিকদের বেতন ক্যাশে প্রদান করা হয়। এছাড়া ব্যাংক হতে টাকা সংগ্রহের সময় কোন অস্ত্রধারী নিরাপত্তা প্রহরী থাকে না। তৎপ্রেক্ষিতে পরিকল্পনা মোতাবেক গ্রেফতারকৃত মনোরঞ্জন মন্ডল @ বাবু উক্ত গার্মেন্টস্ েএকজন সাব-কন্টাক্টরের কর্মী হিসেবে মার্চের ২য় সপ্তাহ হতে আসা যাওয়া শুরু করে। সে গার্মেন্টসের অন্যান্য কর্মী, নিরাপত্তা প্রহরী, পার্শ্ববর্তী দোকান ও অন্যান্য সূত্র হতে কৌশলে যাবতীয় তথ্যাদি সংগ্রহ করে। অতঃপর চক্রটি প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতির পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে। 

    গ্রেফতারকৃতরা আরও জানায় যে, তাদের এপ্রিল এবং মে মাসের ডাকাতির পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। কারণ এপ্রিল ২০২০ মাসের বেতন দেয়া হয়েছিল মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে এবং মে ২০২০ মাসের বেতন সংগ্রহ করা হয়েছিল পুলিশ স্কটের মাধ্যমে। অতঃপর তারা জুন ২০২০ এর বেতন সংগ্রহকে টার্গেট করে। তারা জানতে পারে যে, জুন ২০২০ মাসের বেতন সংগ্রহের সময় পুলিশ স্কট থাকবে না। এই তথ্য অনুযায়ী তারা ০৭ জুন ২০২০ তারিখে ডাকাতির মূল পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ঘটনার প্রায় ১২-১৫ দিন আগে গ্রেফতারকৃত মোঃ ঈসমাইল হোসেন@মামুন, মোঃ জলিল এবং মনোরঞ্জন মন্ডল @ বাবু মাঠ পর্যায়ে রেকী করে ডাকাতির জন্য সুবিধাজনক বিভিন্ন স্থান নির্বাচন করে। 

    গ্রেফতারকৃতরা জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন মূল দলটি প্রথমে ৩টি মোটর সাইকেল যোগে একটি সুবিধাজনক স্থানে মিলিত হয়। মোটর যানের পেছনের আরোহীরা সকলে অস্ত্র বহন করেছিল। এছাড়া সাগর মাহমুদ একটি বড় হ্যামার সাথে নেয়। অন্যদিকে টাকা বহনের জন্য একটি প্রাইভেটকার জামগড়া নামক স্থানে অপেক্ষা করছিল। গ্রেফতারকৃত মনোরঞ্জন মন্ডল @ বাবু বর্ণিত গার্মেন্টস এর নিকটবর্তী স্থান থেকে হালনাগাদ তথ্য উপাত্ত সরবরাহ করছিল। গ্রেফতারকৃত মনোরঞ্জন মন্ডল @ বাবু ১১১৫-১১৩০ ঘটিকার দিকে মোবাইলে মূলহোতা মোঃ জলিল’কে জানায় যে, গার্মেন্টস থেকে টাকা উত্তোলনের জন্য গমনকারী মাইক্রোবাস ব্যাংকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছে। অতঃপর ৪/৫ মিনিটের মধ্যে মাইক্রোবাসটি উক্ত সুবিধাজনক স্থান অতিক্রম করে। তখন সফিপুর অপেক্ষমান তিনটি মোটরসাইকেল নিরাপদ দূরে থেকে মাইক্রোবাসটি অনুসরণ করতে থাকে। মাইক্রোবাসটি ব্যাংকে পৌঁছালে মোটরসাইকেল আরোহীরা ব্যাংক হতে দূরবর্তী স্থানে থেকে মাইক্রোবাসটি নজরদারী করতে থাকে। টাকা উত্তোলনের পর মাইক্রোবাসটি যখন রওনা দেয় তখন পূনরায় উক্ত ৩টি মোটর সাইকেল অনুসরণ শুরু করে। প্রথমে মূল হোতা মোঃ জলিল বহনকারী মটর সাইকেল এবং অপরটি গ্রেফতারকৃত সাগর মাহমুদ চালিত মোটর সাইকেল মাইক্রোবাসের সামনে গিয়ে মাইক্রোবাসের গতি কমিয়ে দেয় এবং গ্রেফতারকৃত মোঃ রিয়াজ চালিত মোটর সাইকেল (৩য় মোটর বাইক) রাস্তায় চলমান নোয়া মাইক্রোবাস থামিয়ে দিয়ে কৌশলে ব্যারিকেড দিয়ে ফেলে। ফলে বেতন বহণকারী মাইক্রোবাসটি সম্পূর্ণ থেমে যায়। ঘটনাটি সংগঠিত হয় কালিয়াকৈর থানাধীন খাড়াজোড়া এলাকায় নির্মানাধীন ফ্লাইওভার এর দক্ষিণ পাশে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে। অতঃপর ডাকাত দলের সদস্যরা লোহার হ্যামার দিয়ে বেতনবাহী মাইক্রোবাস এর গøাস ভেঙ্গে দেয় ও পিস্তলসহ অতর্কিতভাবে মাইক্রোবাস এর সামনে গøাস লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করে। এতে একটি গুলি ফ্যক্টরীর সহকারী মার্চেন্ডার রাজীব মজুমদার শুভ (২৮) এর গলায় লাগে এবং গুরুতর জখম প্রাপ্ত হয়। পরবর্তীতে তারা মাইক্রোবাসের ভিতরে থাকা ফ্যাক্টরীর লোকদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জোরপূর্বক উল্লেখিত টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রæত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পুরো ঘটনাটি ৫-১০ মিনিট এর মধ্যে সংগঠিত হয়। ঘটনাস্থলে ডাকাতদের এলোপাতারি গোলাগুলির ফলে দূঘটনাক্রমে তাদের দলের মূল হোতা মোঃ জলিল হাতে গুলিবিদ্ধ হয়। পরবর্তীতে ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে সে ২ দিন চিকিৎসাধীন ছিল।

    গ্রেফতারকৃতরা তাদের ঘটনাস্থল ত্যাগ করা সম্পর্কে জানায় যে, ঘটনাস্থল ত্যাগ করার প্রাক্কালে মোটর সাইকেলে থাকা পুরাতন কাপড় দিয়ে জলিলের ক্ষত হাত বেধে নেয়। অতঃপর তারা মোটর সাইকেল যোগে জামগড়া কাশিমপুর রোডে  অপেক্ষমান প্রাইভেট কারের নিকট পৌছালে গুলিবিদ্ধ মোঃ জলিল এবং লুটকৃত টাকা নিয়ে সাগর মাহমুদ ও মোঃ রিয়াজ ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। উল্লেখ্য, উক্ত প্রাইভেটকারের মালিক সাগর। সাগরের ড্রাইভার প্রাইভেট কারটি নিয়ে অপেক্ষা করছিল। জামগড়া হতে সাগরের ড্রাইভার সাগর মাহমুদ চালিত মোটর বাইকটি চালিয়ে নিয়ে যায়। 

    প্রাইভেট কারটি পথিমধ্যে মগবাজার এলাকায় থেমে জলিলের জন্য পরিধেয় বস্ত্র ক্রয় করে। অতঃপর তারা সকলেই সাগরের খিলগাঁও বাসায় যায়। এ সময় মোটর সাইকেল আরোহীরা বাসার বাইরে অবস্থান করতে থাকে। তারা জলিলের জামা-কাপড় পরিবর্তন করা হলে মোঃ জলিলকে নিয়ে মালিবাগের একটি প্রাইভেট হাসপাতালের উদ্দেশ্যে গমন করে। এ সময় পথিমধ্যে তারা টাকাগুলো ভাগ করে সদস্যদের মাঝে পৌছান হয়। অংশগ্রহন ভেদে ৮ লক্ষ ২০ হাজার হতে ৫ লক্ষ টাকা এবং অস্ত্র বহন ও গুলি এবং প্রাইভেট কার প্রদান করার জন্য আলাদা আলাদা ভাবে টাকা দেওয়া হয়। 

    গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, মূলত ৮-১০ জনের একটি সিন্ডিকেটে এই ডাকাতির ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এরা সবাই পেশাদার অপরাধী। এই দলের মূল হোতা গ্রেফতারকৃত মোঃ জলিল। জলিলের বিরুদ্ধে বরিশালের বাবুগঞ্জ থানায় হত্যা মামলাসহ ছিনতাই, প্রতারণাসহ নানা অপরাধের মামলা রয়েছে। বিভিন্ন অপরাধের সাথে যুক্ত থাকায় গ্রেফতার এড়াতে ২০১৬ সালে সে প্রবাসে পাড়ী জমায়। সে বিগত ৭-৮ মাস পূর্বে দেশে ফিরে আসে।

    সিন্ডিকেট সম্পর্কিয় জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, এই সিন্ডিকেটে ডাকাতি, ছিনতাই ছাড়াও সদস্যরা নিজে বা বিভিন্ন গ্রæপের সাথে যুক্ত হয়ে মাদক, চাদাঁবাজী ও পতিতাবৃত্তির ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে। ঢাকাসহ আশেপাশের অন্যান্য এলাকায় ভাড়াকৃত ফ্লাটে পতিতাবৃত্তি পরিচালনা করে থাকে। ক্ষেত্র বিশেষে তারা খদ্দেরকে জিম্মি করে অস্ত্রের মুখে অর্থ আদায় করে থাকে। পতিতাবৃত্তির ব্যবসাটি সাগর মাহমুদ পরিচালনা করে। এছাড়া সে বিভিন্ন অপরাধী চক্রের সাথে জড়িত হয়ে বিবিধ ধরনের অপরাধ সংগঠনের জন্য সমন্বয়  করে থাকে। এ ক্ষেত্রে মোঃ রিয়াজ তার  অন্যতম সহযোগী । গ্রেফতারকৃত সাগরের নামে ঢাকার পল্টন, বনশ্রী, চকবাজার, সূত্রাপুরসহ বিভিন্ন থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। তবে পটুয়াখালী জেলা শহরে একটি মিষ্টির দোকান আছে।

    সিন্ডিকেটের আরেক সদস্য ঈসমাইল হোসেন @ মামুন’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে বিভিন্ন ডলার প্রতারনা, ডাকাতি ও ছিনতাই এর সাথে জড়িত। ২০০৭ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রবাসে ছিল। প্রবাসে থাকাকালীন সময়ে মূল হোতা গ্রেফতারকৃত জলিলের সাথে পরিচয় হয়। মামুনের নামে ডলার প্রতারনার মামলা আছে বলে জানা যায়।

    সিন্ডিকেটের আরেক সদস্য মনোরঞ্জন মন্ডল @ বাবুু’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে পেশায় একজন দর্জি ছিল। মনোরঞ্জন মন্ডল @ বাবু মূলত সিন্ডিকেটের তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে কাজ করে। ঈসমাইল হোসেন @ মামুন ও মোঃ জলিলের সাথে পরিচয় হওয়ার পর মোঃ জলিল তাকে তাদের সিন্ডিকেটের তথ্য সংগ্রহের কাজে নিয়োগ দেয়। 

    গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত আছে।