সাম্প্রতিক কার্যক্রম :
কথিত মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এন্ড গার্ড সার্ভিস লিমিটেড এর ব্যাবস্থাপনা পরিচালক পরিচয়ে শীর্ষ প্রতারক শাহীরুল ইসলাম সিকদার (৪৮)’কে বিপুল পরিমান দেশী-বিদেশী অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৪। ✱ র‌্যাব-৯ এর অভিযানে হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানাধীন এলাকা হইতে সাইবার বুলিং ও পর্ণোগ্রাফী মামলার একজন ভন্ড কবিরাজ আহাদুর রহমান (৩৫) গ্রেফতার। ✱ র‌্যাব-৯ এর অভিযানে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানাধীন এলাকা হইতে ওয়ারেন্টভূক্ত একজন পলাতক আসামী গ্রেফতার । ✱ র‌্যাব-৯, সিলেট এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, সিলেট এর যৌথ অভিযান এসএমপি সিলেট এর দক্ষিণ সুরমা থানাধীন এলাকায় পণ্যের মূল্যে তালিকা না প্রকাশ করে অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রয়সহ অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বিক্রয় করাসহ পণ্যের মোড়ক ব্যবহার না করায় “জরিমানা”। ✱ র‌্যাব-৭ এর অভিযানে চট্টগ্রাম মহানগরীর লালখান বাজার এলাকায় চাঁদা আদায়কালে ০৫ জন কিশোর গ্যাং এর সক্রিয় সদস্যকে চাঁদা আদায়ের নগদ অর্থ ও দেশীয় অস্ত্রসহ হাতে নাতে আটক। ✱ র‌্যাব-৯, সিলেট এর অভিযানে সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট থানাধীন এলাকা হতে ১৭১ বোতল ফেন্সিডিল সহ একজন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। ✱ র‌্যাব-৭ এর অভিযানে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী মোড় এলাকা হতে রাজধানী পল্লবীর “সাহিনুদ্দীন” হত্যাকান্ডের নৃশংস ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নোয়াখালীর “যতন সাহা” হত্যাকান্ড বলে প্রচার করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচারের অভিযোগে ০১ জন আটক। ✱ র‌্যাব-৭ এর অভিযানে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানাধীন নোয়াপাড়া এলাকা হতে জীনের বাদশা সেজে সকল সমস্যার সমাধান করার নামে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায়ের প্রতারক চক্রের ০৫ জন সক্রিয় সদস্য আটক। ✱ র‌্যাব-৯, সিলেট এর অভিযানে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানাধীন এলাকা হতে ৩০ কেজি গাঁজা ও ০৩ বোতল বিয়ার এবং একটি প্রাইভেটকারসহ একজন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। ✱ রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে র‌্যাবের অভিযানে ১৭ কেজি গাঁজাসহ ০২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার; মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস জব্দ । ✱

সাম্প্রতিক কার্যক্রম

র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর পল্লবী এলাকা হতে অভিনব প্রন্থায় বিদেশে মাদক পাচারকারী আন্তর্জাতিক চক্রের দেশীয় মূল হোতা মীর মঞ্জুর মোর্শেদ (সানী) ও তার দুই সহযোগীসহ সর্বমোট ০৩ জন গ্রেফতার ॥ বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য উদ্ধার

১।    র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মাদক ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে জনগনের সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। র‌্যাব প্রতিষ্ঠা হতে এই পর্যন্ত ৩,২৮৯ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারসহ ৪৮১.৮৭৪ কেজি হেরোইন, ২,২৬,০৮,০৯৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২৯.০৪৯ কেজি কোকেন, ২৫.৬২৯ কেজি আফিম, ২৯,৯৫,২৩৫ বোতল ফেন্সিডিল, ৩,৭৩,৬২৫ ক্যান বিয়ার, এবং ৭৩,৪৯১কেজি গাঁজা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে র‌্যাব রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানা হতে ৫ কেজি হেরোইনসহ ০১ জনকে গ্রেফতার, খুলনা মহানগর হতে ২.২৫০ কেজি কোকেনসহ ০৬ জনকে গ্রেফতার এবং কক্সবাজার হতে ৮,০০,০০০ পিস ইয়াবাসহ ৩ জন মায়ানমার নাগরিককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। ২।    র‌্যাব তার নিজস্ব গোয়েন্দা তৎপরতায় জানতে পারে যে, একটি আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্র অভিনব কৌশলে বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিস এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে মাদকদ্রব্য চোরাচালান করে আসছে। প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব তার গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল ডিএমপি, ঢাকার অন্তর্গত রুপনগর থানাধীন পল্লবী দ্বিতীয় পর্বের ইস্টার্ন হাউজিং এর ব্লক-সি,বাড়ী নং-১৮৭ এর সাত তলার একটি ফ্লাটে অবস্থান নিয়ে ২৩ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ ১৭০৫ ঘটিকার সময় উক্ত বাড়ীর সাততলার পশ্চিম পাশের ফ্লাটে অভিযান পরিচালনা করে আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্রের ০৩ জন সক্রিয় সদস্য (১)  মীর মঞ্জুর মোর্শেদ (সানী), জেলাঃ জয়পুরহাট  (২) মোঃ মাহমুদুল হাসান (চয়ন), জেলাঃ লালমনিরহাট (৩) মোঃ হাবিবুল্লাহ খান, জেলাঃ সিরাজগঞ্জ’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তাদের নিকট হতে ১৪৫টি জি কেটামিন লেভেলযুক্ত বোতলে রক্ষিত প্রতি বোতলে ১০ মিঃ লিটার জি কেটামিন সর্বমোট ১.৪৫০ লিটার জি কেটামিন, ৩৪টি সাদা তোয়ালে প্রতিটি তোয়ালেতে ১০০ গ্রাম জি কেটামিন সর্বমোট ৩.৪০০ কেজি জি কেটামিন, ১৮০টি জি কেটামিনের খালি বোতল, ০৫টি তোয়ালে ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ৩৪টি কিটোমিন যুক্ত তোয়ালের মধ্যে ১৮টি কিটোমিন যুক্ত তোয়ালে একটি কুরিয়ার সার্ভিস হতে উদ্ধার করা হয়। ৩।    গ্রেফতারকৃত মীর মঞ্জুর মোর্শেদ (সানী) পেশায় একজন খামার ব্যবসায়ী। সে দীর্ঘ প্রায় ৬/৭ বৎসর লন্ডনে থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছে। অন্যদিকে গ্রেফতারকৃত মোঃ মাহমুদুল হাসান (চয়ন) এলএলবি অনার্স এবং গ্রেফতারকৃত মোঃ হাবিবুল্লাহ খান এমবিএ সম্পন্ন করে উভয়ে একটি  ব্যাংকের মার্কেটিং শাখায় কর্মরত রয়েছে। তারা স্ব স্ব ব্যবসা ও চাকুরীর অন্তরালে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। ৪। ধৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় যে, তারা গত ৪/৫ মাস যাবত বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্পেনে কেটোমিন মাদক পাচারের লক্ষে সংঘবদ্ধ হয়েছে। গ্রেফতারকৃত মীর মঞ্জুর মোর্শেদ (সানী) এর ভাই মাহাদী মঞ্জুর মান্না দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর যাবত স্পেনে অবস্থান করছে। সে স্পেনে ইন্টারনেট কলিং ব্যবসার সাথে যুক্ত। ব্যবসায়িক সূত্রে তার সাথে স্পেনের এক নাগরিক আরামডো গঞ্জালিও এর সাথে পরিচয় হয়। পরবর্তীতে দুজন একত্রে বাংলাদেশ হতে কিটোমিন স্পেনে পাচার করার পরিকল্পনা করে। এলক্ষে মাহাদী মঞ্জুর মান্না ০৪ মাস পূর্বে প্রাথমিক বাজার যাচাই করতে বাংলাদেশ আসে এবং ফেরত যেয়ে উক্ত স্পেনের নাগরিককে বিস্তারিত জ্ঞাত করে। পরবর্তীতে ২ মাস পূর্বে মীর মঞ্জুর মোর্শেদ (সানী) এর ভাই মাহাদী মঞ্জুর মান্নাসহ উক্ত স্পেনের নাগরিক বাংলাদেশে এসে গ্রেফতারকৃতদের হাতে কলমে কিটোমিন মাদক পাচারে প্রস্তুত প্রণালী শিখিয়ে দেয়। কিটোমিন মাদক চোরাচালান এর জন্য প্রস্তুত করতে বর্ণিত ঠিকানা চিলেকোঠার ২টি কক্ষ ব্যবহার করত। উক্ত বাড়িটির ৪র্থ তলায় মীর মঞ্জুর মোর্শেদ (সানী) স্বপরিবারে অবস্থান করত। ৫।    গ্রেফতারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, জি-কেটামিন নামক নিষিদ্ধ এই মাদকটি দেশের বিভিন্ন ফার্মেসী হতে সংগ্রহ করতঃ প্রস্তুতের জন্য প্রথমে তারা ১০ মি:লি: এর ১০০ টি বোতলের ছিপি খুলে রেখে দিত যাতে বিষাক্ত গ্যাসটি বের হয়ে যায়। পরবর্তীতে তারা স্টিলের বোলে/হাড়ীতে ৩০ মিনিট যাবত জি কেটামিন ইঞ্জেকশনটি উত্তপ্ত করে; যাতে দ্রব্যটি ঘনরুপ ধারণ করে। এই অবস্থাতেই উত্তপ্ত মাদকটি পরিস্কার সাদা তোয়ালের এক পাশে স্প্রে করতে থাকে এবং শুকানোর জন্য রেখে দেয়। পরে তোয়ালেগুলো ভাজ করে সুরক্ষিতভাবে প্যাকেটের ভিতরে সীল করে কুরিয়ার সার্ভিস এর মাধ্যমে স্পেনে অৎধসফড় মড়হুধষব, খধ-ঈধৎঁহধ, ঝঢ়ধরহ এ ঠিকানায় প্রেরণ করেছে বলে স্বীকারোক্তি দেয়। মাদকদ্রব্যটি বিদেশে পৌছানোর পরে গ্রেফতারকৃত মীর মঞ্জুর মোর্শেদ (সানী) এর ভাই মাহাদী মঞ্জুর মান্নাসহ স্পেনের নাগরিক আরামডো গঞ্জালিওর তত্ত্বাবধানে উক্ত তোয়ালে হতে মাদকদ্রব্যটি সংগ্রহের কাজটি করা হয়। এই চক্রটি বিগত ২ মাসে ০৪টি চালান স্পেনে প্রেরণ করেছে বলে স্বীকারোক্তি দেয়। জানা যায় সম্প্রতি বর্ণিত জি-কিটোমিন মাদকদ্রব্যটির চাহিদা ইউরোপিয়ান দেশে হেরোইন অথবা কোকেন এর চেয়ে অনেক বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে। ৬।    উপরোক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

জাপানী নাগরিক হোসি কোনিও হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামী বিজয় গ্রেফতার ॥ আসামী বিজয় জেএমবি এর সাংগঠনিক জঙ্গি সদস্য মোঃ মোহাদ্দেস আলী @ দর্জি ॥ জঙ্গি মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ মোহাদ্দেছ আলী @ দর্জি (৩৬) জাপানী নাগরিক হোসি কোনিও হত্যায় সম্পৃক্ততার স্বীকারোক্তি।

১।    গত ১৯ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ আনুমানিক ০৯৩০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১২, সিপিএসসি, বগুড়া ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে পূর্বের রেকর্ডকৃত বগুড়া জেলার শাজাহানপুর থানার মামলা নং-২৬, তারিখ ৩১/০৭/২০১৭ ইং, ধারা-২০০৯ সালের সন্ত্রাস বিরোধী আইনের (সংশোধিত/২০১৩) এর ৬(২) এর (ঈ) র‌্যাব বাদী মামলার সন্দিগ্ধ আসামী বগুড়া জেলার শাজাহানপুর থানাধীন ডেমাজানী ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামের ভোলাবাড়ি স্ট্যান্ড বাজারে তার নিজ দর্জি দোকান হতে নিষিদ্ধ ঘোষিত একজন জেএমবি সদস্য মোঃ মোহাদ্দেছ আলী @ দর্জি (৩৬), পিতা-মোঃ মজিবর রহমান, সাং-কামারপাড়া, থানা-শাজাহানপুর, জেলা-বগুড়াকে গ্রেফতার করে। ২।    পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক ০২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বর্ণিত মামলায় তার সম্পৃক্ততার কথা সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও সে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। এখানে উল্লেখ্য যে, গত ০৩ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে রংপুরের কাউনিয়া নামক স্থানে জাপানী নাগরিক হোসি কোনিও হত্যাকান্ডে সে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিল বলে জানিয়েছে। ৩।    জিজ্ঞাসাবাদে মোহাদ্দেছ জঙ্গিবাদে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জানায় যে, গত ২০১৫ সালে প্রতিবেশীর সাথে পারিবারিক কলহের জের ধরে তার মাকে গাছের সাথে বেঁধে মারপিট করে ও সে বাধা দিলে তাকেও মারপিট করে এবং প্রতিবেশীরা ভিডিও চিত্র ধারণ করে। পরবর্তীতে ক্ষোভের বশঃবর্তি হয়ে বাল্যবন্ধু মোস্তাফিজ @ বোমা শাকিল (২৮) এর নিকট ঘটনার বিস্তারিত বললে সে প্রতিশোধ নিতে জেএমবি’তে যোগদানের জন্য দাওয়াত দেয় এবং এক পর্যায়ে সে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য রাজী হয়ে যায়। ২০১৫ সালে মাঝামাঝি সময় একদিন সন্ধ্যায় বগুড়ার শাজাহানপুরের একটি মাঠে মোস্তাফিজ তাকে রজিবুল ও রাজীব গান্ধির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। রাজীব গান্ধি তাকে ০১ টি সীমসহ মোবাইল দেয় এবং তার অনুগত হয়ে উগ্রবাদী কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বলে। ৪।    প্রথমত মোহাদ্দেছ @ বিজয়’কে একটি শিয়া মসজিদে আক্রমন করার জন্য নির্বাচন করা হয়। এ বিষয়ে সে আরও জানায় যে, বগুড়াতে প্রাথমিক পরিচয় পর্ব শেষে এর আনুমানিক ১৫/২০ দিন পরে রাজীব গান্ধি (৪৫) মোবাইল করে রংপুর শাপলা চত্তরে যেতে বলে। তখন সে শাপলা চত্তরে যায়, সেখান থেকে তাকে একটি টিনসেডের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে রফিক, শফিক, বাইক হাসান ও রাহুল‘কে দেখতে পায়। সেখানে তাকে সাংগঠনিক কোড নাম দেয় ‘বিজয়’ ঐ বাড়ীতে তখন সে ০৪ (চার) দিন অবস্থান করে এবং রাজীব গান্ধির আদেশে রফিক, রাহুল ও বাইক হাসানের সাথে উত্তরাঞ্চলের একটি শিয়া মসজিদ হামলার পরিকল্পনা করে। পরবর্তীতে শিয়া মসজিদে হামলার পরিকল্পনা বাতিল হয় এবং সে নিজ বাড়ীতে ফিরে আসে। ৫।    মোহাদ্দেছ @ বিজয় এর অস্ত্র প্রশিক্ষণ সম্পর্কে জানায়, ১০/১৫ দিন পরে রাজীব গান্ধি তাকে রংপুরে পূর্বের বাসায় যেতে বললে সে ঐ বাড়ীতে যায়। তখন রাজীব গান্ধি তাকে অস্ত্র দিয়ে পিস্তল লোড, আনলোড এবং গুলি করার প্রশিক্ষণ দেয়। রাজীব গান্ধি তাকে একটি ৬ মিঃ মিঃ পিস্তল ও ০৪ রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি ম্যাগাজিন এবং রফিক‘কে একটি ৯ মিঃমিঃ পিস্তল ও ০৪ রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি ম্যাগাজিন দেয়। ১ ৬।    অস্ত্র প্রশিক্ষণ শেষে তাকে রংপুরের কাউনিয়ায় জাপানী নাগরিক হোসি কোনিও’কে হত্যার জন্য নির্বাচন করা হয়। রাজীব গান্ধির কথা মোতাবেক গত ০৩ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে আনুমানিক ০৮০০-০৮৩০ ঘটিকার সময় বাইক হাসানের মোটর সাইকেলে সে মাঝখানে ও রফিক পিছনে বসে রংপুর সাতমাথায় যায়, সেখানে রাজীব গান্ধি তাদেরকে রিসিভ করে বলে যে, আল্লাহর দুশমনকে মারতে হবে। সে মোতাবেক তারা মোটর সাইকেল যোগে কাউনিয়া আলুটারি কাঁচা রাস্তায় পৌছাইয়া অস্ত্র লোড করে অপেক্ষা করতে থাকে। বাইক হাসান হোন্ডা ষ্ট্যান্ড করে পাকা রাস্তায় দাড়িয়ে ছিল। সকাল আনুমানিক ০৯০০-০৯৩০ ঘটিকার দিকে জাপানী নাগরিক হোসি কোনিও বড় ক্যাপ মাথায় দিয়ে রিক্সা যোগে আসতে ছিল, রফিক রাস্তার মাঝখানে রিক্সার সামনে দাড়িয়ে হোসি কোনিও’কে সম্ভোধন দিলে রিক্সাওয়ালা রিক্সা থামিয়ে দেয়, সঙ্গে সঙ্গে গুলি বর্ষন শুরু করলে জাপানী নাগরিক হোসি কোনিও গুলি খেয়ে রিক্সা থেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যায়। তারা দৌড়িয়ে পাকা রাস্তায় গিয়ে বাইক হাসানের হোন্ডাই উঠে পালিয়ে যায়। বাইক হাসান তাদেরকে যার যার মত চলে যেতে বললে সে নিজ বাড়ীতে চলে যায়। এই ঘটনার পর সে আর কারো সাথে যোগাযোগ করে নাই। ৭।    উল্লেখ্য যে, বিগতে সময়ে এই বিজয় উত্তরাঞ্চলে সংগঠিত আরও কয়েকটি জঙ্গি হামলায় জড়িত ছিল বলে তথ্য পাওয়া যায়। র‌্যাবের এই ধরণের জঙ্গী বিরোধী আভিযানিক কার্যক্রম আপনাদের সহযোগিতায় বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। র‌্যাবের প্রতিটি সদস্য “বাংলাদেশ আমার অহংকার” এই মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে সবসময়ই দেশ মাতৃকার সেবায় অঙ্গিকারাবদ্ধ।

নকল, অনুমোদনহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ মজুদ এবং বিক্রয় ৪২ লক্ষ টাকা জরিমানা ও তিনজনের কারাদন্ড

নকল অনুমোদনহীন, বিক্রয় নিষিদ্ধ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রয় ও মজুদ করায় রাজধানীর শাহবাগ বিপণী বিতান ও আজিজ কো-অপারেটিভ মেডিসিন মার্কেটের ৪১টি ঔষধের দোকানীকে ৪২ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়েছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত। গতকাল বেলা ১১.০০ ঘটিকা থেকে রাত অবধি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবং র‌্যাব-৩ এর সহযোগিতায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সারওয়ার আলম। অভিযানে র‌্যাবের কর্মকর্তা ছাড়াও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ০৮ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকালে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞরা দেখতে পান যে শাহবাগ বিপণী বিতানের প্রায় সকল ঔষধের দোকানেই বিপুল পরিমান বিক্রয় নিষিদ্ধ অনুমোদনহীন এবং নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রয় করা হচ্ছে। তাছাড়া ইনসুলিন সহ জীবন রক্ষাকারী ঔষধ নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় না রেখে অনেক বেশী তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুর রহমান জানান যে, ৩১টি ঔষধের দোকানের রেফ্রিজারেটর পরীক্ষা করে মাত্র ২টি দোকানের রেফ্রিজারেটরে সঠিক তাপমাত্রা ঔষধ সংরক্ষণ করছে দেখা যায়। আর বাকী ২৯ টি দোকানে দেখা যায় ২-৮¬¬ ডিগ্রী সেলসিয়াসে যে সব ঔষধ সংরক্ষণ করার কথা সেগুলো রাখা হয়েছে ২০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের উপর। এতে এ সব জীবন রক্ষাকারী ঔষধের কার্যকারিতা নেই বললেই চলে। অনিয়মের একই ধরনের চিত্রও ধরা পড়ে সদ্য “মডেল ফার্মেসী” হিসেবে সনদ পাওয়া সুপর্না ড্রাগ, নিউ ভিআইপি ড্রাগ হাউজ, টিভোলী ফার্মেসী এবং ইউনাইটেড ড্রাগ ষ্টোর। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা দেখা যায় নিউ ভিআইপি ড্রাগ হাউজে, সেখানে দোতলা ও নিচতলার সেলফে চেক করে বিপুল পরিমাণ অনুমোদনহীন, নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ পাওয়া যায়। এমনকি ভারতের রাজস্থানের সরকারী ঔষধও পাওয়া যায়। তাছাড়া একই মার্কেটের মেসার্স মেডিকোর্স ঔষধের দোকানের মালিক মোঃ মনঞ্জুর ও তার সহযোগী মোঃ মোর্শেদুল করিম নকল ও বিক্রয় নিষিদ্ধ ঔষধ নিয়ে পালাবার চেষ্টা করলে তাদেরকে আটক করা হয় এবং পঞ্চাশ লক্ষ টাকা মূল্যমানের ঔষধ জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজিজ কো-অপারেটিভ মার্কেটে অভিযান চালিয়ে একই রকম চিত্র দেখতে পান আদালত। এ সমস্ত অনিয়মের কারণে মোট ৪১টি দোকানী কে ৪২ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং নিউ ভিআইপি ড্রাগ হাউজের মালিক মোঃ মতিউর রহমানকে ছয় মাস, মের্সাস মেডিকোর্সের মালিক মোঃ মঞ্জুর কে দুই বছর এবং মোঃ মোর্শেদুল করিম’কে এক বছরের কারাদন্ড দেন ভ্রাম্যমান আদালত। অভিযানে প্রায় তিন কোটি টাকা  মূল্যের ঔষধ জব্দ করা হয় এবং তা ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাতুনাইলস্থ ময়লাগারে ধ্বংস করা হয়।

র‌্যাবের অভিযানে ০১টি বিদেশী পিস্তল, ০১টি ম্যাগাজিন, ০৩ রাউন্ড গুলি, ১.১ কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য এবং ০৩ টি জিহাদী বই সহ ০৩ জন তামিম-সারোয়ার গ্রুপের নব্য জে.এম.বি এহসার ও গায়েরে এহসার সদস্য গ্রেফতার

১। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই র‌্যাব দেশের সার্বিক আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে গোয়েন্দা এবং আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ/বিস্ফোরক দ্রব্যাদি উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে সর্বাত্মকভাবে কাজ করে চলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে জে.এম.বি. সদস্যরা আবারও দেশের সার্বভৌমত্য ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় চরম হুমকি সৃষ্টি করছে। দেশের অভ্যন্তরে আবারও নতুন করে চোরাগুপ্তা হামলা, ধ্বংসাত্মক ও নাশকতামূলক কাজ করে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে জে.এম.বি. সদস্যরা তৎপর হয়ে উঠেছে। জঙ্গি বিরোধী কার্যক্রম দমনের লক্ষ্যে র‌্যাব সব সময় সক্রিয়ভাবে কাজ করে চলেছে। ২। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৫, রাজশাহী এর একটি আভিযানিক দল অদ্য ২৯ অক্টোবর ২০১৭ ইং তারিখ রাত্রী আনুমানিক ০৪:১৫ ঘটিকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন বাবলাবোনা ক্যাঞ্জালপাড়া গ্রামে পাগলা নদীর পার্শ্বে একটি আম বাগানে অভিযান পরিচালনা করে গোপন বৈঠকরত অবস্থায় তামিম-সারোয়ার গ্রুপের নব্য জে.এম.বি. সদস্য ১। মোঃ জেনারুল ইসলাম @ মঈন (২৫), পিতা-মোঃ এনামুল হক, সাং-ধোবড়া (বর্তমান সাং-দেবীনগর), ২। মোঃ রসুল বক্স (৫০), পিতা-মোঃ জিল্লুর রহমান, সাং-ধোবড়া, ৩। মোঃ ইসলাম (৭০), পিতা-মৃত মছুর উদ্দিন, সাং-শিবনগর মোড়লপাড়া, সর্ব থানা-শিবগঞ্জ, জেলা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ’দেরকে (১) বিদেশী পিস্তল-০১ টি, (২) পিস্তলের ম্যাগাজিন-০১ টি, (৩) গুলি-০৩ রাউন্ড, (৪) বিস্ফোরক দ্রব্য-১.১ কেজি, (৫) জিহাদী বই-০৩ টি, (৬) টর্চ লাইট-০১ টি এবং (৭) গ্যাস লাইট-০১ টি সহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। ৩। ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, অদ্য ২৯ অক্টোবর ২০১৭ ইং তারিখ র‌্যাব-৫, রাজশাহীর একটি আভিযানিক দল বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালীন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন বাবলাবোনা ক্যাঞ্জালপাড়া গ্রামে পাগলা নদীর পার্শ্বে একটি আম বাগানে ১০/১১ জন নব্য জে.এম.বি. সদস্য তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও রাষ্ট্রদ্রোহী কার্যকলাপ পরিচালনা সহ দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে গোপনে বৈঠক করছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৫, এর একটি আভিযানিক দল উক্ত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে রাত্রী আনুমানিক ০৪:১৫ ঘটিকায় উক্ত আমবাগানের ভিতর পলিথিনের ছাউনীযুক্ত মাচানের মধ্যে ১০/১১ জন জঙ্গি সদস্য গোপন বৈঠকরত অবস্থায় র‌্যাবের উপস্থিতি বুঝতে পেরে অকস্মাৎ পালানোর চেষ্টাকালে তাদেরকে ধাওয়া করে উক্ত আমবাগান হতে উপরোক্ত ০৩ (তিন) জন জঙ্গি সদস্যকে ধৃত করা হয় এবং তাদের নিকট হতে (১) বিদেশী পিস্তল-০১ টি, (২) পিস্তলের ম্যাগাজিন-০১ টি, (৩) গুলি-০৩ রাউন্ড, (৪) বিস্ফোরক দ্রব্য-১.১ কেজি, (৫) জিহাদী বই-০৩ টি, (৬) টর্চ লাইট-০১ টি এবং (৮) গ্যাস লাইট-০১ টি সহ উদ্ধার করে। ৪। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীগণ ও ঘটনাস্থল হতে পলাতক অজ্ঞাতনামা অন্যান্য আসামীগণ সকলেই তামিম-সারোয়ার গ্রুপের নব্য জে.এম.বি এর সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করে এবং ধৃত আসামী ১। মোঃ জেনারুল ইসলাম @ মঈন ও ২। মোঃ রসুল বক্স (৫০) নিজেদের জে.এম.বির এহসার সদস্য এবং ৩। মোঃ ইসলাম গায়েরে এহসার সদস্য বলে পরিচয় দেয়। তারা আরও জানায় যে, তারাসহ পলাতক অজ্ঞাতনামা প্রায় ১০/১১ জন নব্য জে.এম.বি. সদস্য তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও রাষ্ট্রদ্রোহী কার্যকলাপ পরিচালনা সহ দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে উক্ত আম বাগানে গোপনে বৈঠক করছিল। ৫। উপরোক্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

র‌্যাবের অভিযানে ভাঙ্গা থানাধীন থানমাত্তা বটতলা নামক স্থান হতে দীর্ঘদিন যাবৎ মোবাইল ফোনে জ্বীনের বাদশা, পীর-দরবেশ, সাধু-সন্ন্যাসী সেজে কখনো ভয় কখনোবা লটারী ও বোনাস এর প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অংকের অর্থ আতœসাৎকারী প্রতারক চক্র সনাক্ত ও তিন প্রতারক গ্রেফতার।

১। র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সবসময়ই অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, খুনি, মাদক ও মাদক ব্যবসায়ী, বিভিন্ন সদস্যদের গ্রেফতার পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। র‌্যাবের সৃষ্টিকাল থেকে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, খুনি, বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার, ছিনতাইকারী, চোরাকারবারী, অপহরণ ও প্রতারকদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে সংগঠিত চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে র‌্যাব জনগনের সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ২। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৮ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানাধীন থানামাত্তা বটতলা এলাকার একটি চক্র মোবাইল ফোনে জ্বীনের বাদশা, পীর-দরবেশ, সাধু-সন্ন্যাসী সেজে কখনো ভয় কখনোবা লটারী ও বোনাস এর প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে দীর্ঘদিন যাবৎ বিপুল অংকের অর্থ আতœসাৎ করে আসছে। উক্ত সংবাদের প্রেক্ষিতে র‌্যাব-৮, এর একটি আভিযানিক দল গত ২৯ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ আনুমানিক ১৭০০ ঘটিকায় থানমাত্তা বটতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে উক্ত প্রতারক চক্রের তিন সদস্য যথাক্রমে (১) মোঃ রাসেল মিয়া (২১), পিতাঃ মোঃ আনোয়ার শিকদার, (২) মোঃ শাকিল মাতুব্বর (১৬), পিতাঃ মোঃ হায়দার মাতুব্বর, উভয় সাং- চৎলারপাড়, (৩) মোঃ সামসু মাতুব্বর (৩৫), পিতাঃ বদরুদ্দিন মাতুব্বর, সাং- পাতরাইল, সর্ব থানাঃ ভাঙ্গা, জেলাঃ ফরিদপুর। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বর্ণিত প্রতারকগণ মোবাইল ফোনে জ্বীনের বাদশা, পীর-দরবেশ, সাধু-সন্ন্যাসী সেজে কখনো ভয় কখনোবা লটারী ও বোনাস এর প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে দীর্ঘদিন যাবৎ বিপুল অংকের অর্থ আতœসাৎ এর বিষয়টি স্বীকার করেন। জিজ্ঞাসাবাদে উক্ত চক্রের অন্যান্য সদস্যদের নাম ও কর্মতৎপরতার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারে। প্রতারণার উদ্দেশ্যে তারা স্বর্ণের মূর্ত্তি, লটারি, বোনাস প্রভৃতি প্রাপ্তির প্রলোভন দেখাত অথবা গভীর রাতে জ্বীনের বাদশা সেজে অলৌকিকভাবে ক্ষতি করার ভয় দেখাত বলে স্বীকার করে। তাদের হেফাজত থেকে প্রতারনার কাজে ব্যবহৃত স্বর্ণ বলে প্রচারিত ২২ টি পিতলের সরঞ্জাম, ০২ টি ল্যাপটপ, ২৩ টি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন অপারেটরের ৮১ টি সীম কার্ড, প্রতারনার মাধমে অর্জিত মোট ৪,৭৮,৪০০/- টাকা, বিভিন্ন ব্যাংকের ০৮ টি চেকবহি এবং ০৪ টি টাকা জমার রশিদ জব্দ করা হয়। ৩। উপরোক্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

র‌্যাবের অভিযানে কুষ্টিয়া ও ঢাকা হতে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের ০২ সদস্য আটক, লিবিয়ায় জিম্মি অবস্থায় অপহরণকারীদের নৃশংসতার শিকার গুলিবিদ্ধ ০২জন সহ সর্বমোট ০৩ জন ভিকটিম উদ্ধার।

১। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশী শ্রমিকদের সুনাম ও চাহিদার ভিত্তিতে বিপুল্ পরিমাণ জনশক্তি বিদেশে গমন করছে। তাদের কষ্টার্জিত আয় আমাদের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এ সুযোগে বাংলাদেশের এক শ্রেনীর অসাধু দালাল চক্র স্বল্প আয়ের মানুষদের প্রলোভন দেখিয়ে আর্ন্তজাতিক মানবপাচার চক্রের যোগসাজসে বিদেশে প্রেরনের নামে মানব পাচার করছে। এ ধরনের পাচারের শিকার সাধারণ জনগণ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, বনে জঙ্গলে কিংবা কোথাও কোথাও জিম্মি অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে এবং মোটা অংকের মুক্তিপন প্রদান করে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। ২। বিগত সময়ে মানবপাচার বিরোধী বিভিন্ন অভিযানের প্রেক্ষিতে র‌্যাব-৩ এর কাছে তথ্য ছিল যে, একশ্রেণীর আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্র উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে অসহায় স্বল্প আয়ের মানুষদের অবৈধভাবে লিবিয়ায় প্রেরণ করছে এবং পরবর্তীতে তাদেরকে এয়ারপোর্ট হতে জিম্মি করে অত্যাচারের মাধ্যমে বাংলাদেশ হতে মুক্তিপন আদায় করছে। সম্প্রতি র‌্যাব-৩ গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে জানতে পারে যে, অসাধু দালাল চক্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ হতে মানবপাচারের শিকার কয়েকজন ভিকটিম লিবিয়ায় জিম্মি অবস্থায় অপহরণকারীদের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে মূমুর্ষ অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছে। এ ব্যাপারে লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে দূতাবাস এ সংক্রান্তে ভিকটিম ১। এ এম এরশাদ মিয়া (৩০), পিতা-আবদুল মান্নান, সাং-২১৯/১ এ দক্ষিণ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা, ২। মোঃ এরশাদ খন্দকার(২৯), পিতা- মোঃ নুরুল ইসলাম খন্দকার, সাং-দক্ষিন টেংড়া,সারুলিয়া, ডেমরা, ঢাকার নাম জানায়। পরবর্তীতে ভিকটিমদ্বয় লিবিয়াস্থ বাংলাদেশী দূতাবাস ও ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব মাইগ্রেশন (ওঙগ) এর সহায়তায় বাংলাদেশে ফেরত আসে। পরবর্তীতে ভিকটিমরা র‌্যাব-৩ এর নিকট এ ঘটনা সংক্রান্তে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ৩। ভিকটিম এরশাদ মিয়া জানায় যে, সে ২০১০ সালে উচ্চ শিক্ষার জন্য মালয়েশিয়া গমন করে এবং মালয়েশিয়ার সারওয়াক শহরের ইন্টি কলেজ হতে হোটেল ম্যানেজমেন্টে অনার্স সম্পন্ন করে। ২০১৫ সালে সে বাংলাদেশে ফেরত এসে ইউরোপে কর্মসংস্থানের চেষ্টা করতে থাকে। এ সময় তার সাথে স্থানীয় দালাল মোশাররফ হোসেনের পরিচয় হয়। মোশাররফ তাকে সম্পূর্ণ বৈধভাবে ০৮ লক্ষ টাকার বিনিময়ে গ্রীসে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিবে বলে আশ্বাস প্রদান করে এবং রেজওয়ান ওভারসীস এর মাধ্যমে ভিকটিম এরশাদ মিয়াসহ আরো ০২ জন ২। মোঃ রিয়াজুল হাসান রিফাত এবং ৩। মোঃ এরশাদ খন্দকার এর ভিসা প্রসেসিং এবং বিএমইটি কার্ড করা হয়। পরবর্তীতে গত ২৩/০৪/২০১৭ ইং তারিখে গ্রীসে প্রেরণের উদ্দেশ্যে ঢাকা হতে ইস্তাম্বুল বিমান টিকেট প্রদান করেন। মোশাররফ জানান, ইস্তাম্বুল পৌছানোর পর এয়ারপোর্টে ই-মেইলের মাধ্যমে পরবর্তী গন্তব্যের বিমান টিকেট প্রদান করা হবে। ইস্তাম্বুল এয়ারপোর্টে ০২ দিন অবস্থান করার পর তাদেরকে ইস্তাম্বুল হতে লিবিয়ার বিমান টিকেট প্রদান করা হয় এবং জানানো হয় তারা লিবিয়া হয়ে ইউরোপ প্রবেশ করবে। পরবর্তীতে তারা লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলীর মেতিকা এয়ারপোর্টে পৌছালে একদল লিবিয়ান অস্ত্রধারী গ্রুপ তাদেরকে জিম্মি করে। এসময় বিমান বন্দরের পার্কিং লটে পৌছালে অন্য একটি সশস্ত্র দল আটক জিম্মিদের মালিকানা দাবী করলে বিবাদমান ০২ গ্রুপের মধ্যে বন্ধুক যুদ্ধ শুরু হয় এবং ভিকটিম এরশাদ মিয়া ও এরশাদ খন্দকার গুলিবিদ্ধ হয়। পরবর্তীতে ভিকটিম এরশাদ মিয়াকে আবু সেলিম মুসলিম হাসপাতাল, মেতিকা ও ভিকটিম এরশাদ খন্দকারকে মেতিকা হাসপাতাল ত্রিপলীতে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ ০৪ মাস চিকিৎসা শেষে গত ০২ আগস্ট ২০১৭ তারিখে তারা লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (ওঙগ) সহায়তায় বাংলাদেশে ফেরত আসে এবং পুণরায় হাসপাতালে ভর্তি হয়। ৪। উপরোক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‌্যাব ব্যাপক অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে গত ৩০/১০/২০১৭ তারিখ ২১১০ ঘটিকায় কুষ্টিয়া হতে আসামী ১। মোঃ মোশারফ হোসেন খালাসী (৫৫), পিতা-মৃত আব্দুল হালিম খালাসী, সাং-দুড়াইল খালাসী বাড়ী, থানা+জেলা-মাদারীপুর এবং ঢাকা হতে রেজওয়ান ওভারসীসের মালিক ২। মোঃ দেলোয়ার হোসাইন জসিম (৫০), পিতা- মৃত হাজী আবুল হোসেন, সাং-দক্ষিণ বাটা মাড়া, থানা-বোরহান উদ্দিন, জেলা-ভোলা, বর্তমানে বাসা নং-১৭, ৫ম তলা, হরনাথ ঘোষ রোড, চকবাজার, ডিএমপি ঢাকাদ্বয়কে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় যে, দীর্ঘদিন যাবৎ তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অভিবাসন প্রত্যাশী মানুষদের সরলতার সুযোগ নিয়ে মানবপাচারের মতো অপরাধ করে আসছে। আসামীদের নিকট হতে ৭০টি পাসপোর্ট এবং নগদ ১ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়। ৫। উপরোক্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

র‌্যাবের অভিযানে সিলেটের বিশ্বনাথ থেকে নরসিংদীর শিবপুরের চাঞ্চল্যকর কিশোরী আজিজা হত্যা মামলার প্রধান আসামী বিউটি বেগমসহ ০২(দুই) জন গ্রেফতার।

১। র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সবসময়ই অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, খুনি, মাদক ও মাদক ব্যবসায়ী, বিভিন্ন সদস্যদের গ্রেফতার পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। র‌্যাবের সৃষ্টিকাল থেকে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, খুনি, বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার, ছিনতাইকারী, চোরাকারবারী, অপহরণ, মানব পাচারকারী ও প্রতারকদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে সংগঠিত চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে র‌্যাব জনগনের সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ২। গত ২৭ অক্টোবর ২০১৭ খ্রিঃ রাত অনুমান ০৯.০০ ঘটিকার সময় নরসিংদী জেলার শিবপুর থানাধীন ভিটি খৈনকুট গ্রামের ১৩ বৎসরের কিশোরী আজিজা আক্তারকে গ্রামের দোকান থেকে কেরোসিন তেল নিয়ে বাড়ী আসার পথে রবিউল্লা ফরাজীর বাগানে পূর্ব শূত্রতার জের ধরে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে একই গ্রামের ১। বিউটি (২৬), স্বামী- আব্দুস সালাম, অন্যান্য সহযোগী ২। রুবেল মিয়া (২৭), ৩। তমুজা বেগম (৫৫), ৪। সানোয়ারা বেগম (৫০)সহ আরো অজ্ঞাতনামা ০৩(তিন) জন পুরুষ পরস্পর যোগসাজসে আজিজাকে ধরে নিয়ে একটি বেল গাছের সাথে চিকন রশি দিয়ে বাঁধে এবং তার গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়। আগুনে বেল গাছে বাঁধা রশি পুড়ে গেলে সে ছুটে মোজাম্মেলের মুরগীর ফার্মের কাছে মাটিতে পড়ে আর্তনাদ করতে থাকে। আগুনের লেলিহানে আজিজার শরীর, মাথার চুল ও কাপড় পুড়ে যায়। অতঃপর স্থানীয় লোকজন চিকিৎসার জন্য আজিজাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৮ অক্টোবর ২০১৭ খ্রিঃ রাত ০১.০০ ঘটিকার সময় ভর্তি করে। সেখানে উপস্থিত ডাক্তারসহ অন্যান্যদের কাছে বর্ণিত আসামীদের নিষ্ঠুরতার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়। অতঃপর, চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ০৫.০০ ঘটিকার সময় আজিজা মারা যায়। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। আজিজার এই মৃত্যুর নিষ্ঠুরতা ও নির্মমতা সারা দেশবাসীকে ব্যথিত করেছে যা বাংলাদেশের সকল মিডিয়া, টক্শো, সামাজিক গণমাধ্যমে ধারাবাহিক ভাবে প্রচারিত হচ্ছে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে বিচারের জোর দাবী অব্যাহত আছে। র‌্যাব-৯, সিলেট এর একটি আভিযানিক দল বিষয়টি নিয়ে কাজ করে গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে মামলার ০১নং আসামী বিউটি ও ০৪ নং আসামী সানোয়ারা বেগম ঘটনার পরপরই সিলেটে পালিয়ে আত্মগোপন করে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে অদ্য ৩১ অক্টোবর ২০১৭ খ্রিঃ রাত ০৩.০০ ঘটিকার সময় র‌্যাব-৯ এর একটি অভিযানিক দল সিলেট জেলার বিশ্বনাথ থানাধীন মীরেরগাঁও গ্রাম এলাকায় পরিচালনা করে (১) বিউটি বেগম (২৬), স্বামী-আঃ সালাম, গ্রামঃ ভিটি খৈনকুট (২) সানোয়ারা বেগম (৫০), স্বামী-বাচ্চু মিয়া, গ্রাম- উত্তর কামালপুর, সর্বথানা-শিবপুর, জেলা-নরসিংদীদ্বয়কেগ্রেফতার করে। ৩। উপরোক্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর মিরপুরে দারুস সালাম এলাকা হতে নিহত জঙ্গি আব্দুল্লাহর সহযোগী জেএমবি সদস্য এবং বিমান নিয়ে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে পাইলট সাব্বির (বাংলাদেশ বিমানের ফার্স্ট অফিসার) সহ ০৪ জঙ্গি সদস্য গ্রেফতার।

১।    গত ০৪ সেপ্টে¤¦র ২০১৭ তারিখ হতে ০৮ সেপ্টে¤¦র ২০১৭ তারিখ পর্যন্ত মিরপুর দারুস সালাম এলাকায় কমল প্রভা নামক বাড়ীর ৫ম তলায় জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাব অভিযান (উদ্ধার অভিযানসহ) পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে জঙ্গিদের দ্বারা সৃষ্ট বোমা বিস্ফোরণে জেএমবির সদস্য মীর আকরাবুল করিম @ উপল @ আব্দুল্লাহ, তার দুই স্ত্রী, দুই পুত্র সন্তান এবং তার দুই সহযোগীসহ নিহত হয়। ২।    এরপর বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে র‌্যাব এর গোয়েন্দা দল ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু  করে। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৬ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ র‌্যাব-৪ এর অভিযানে নারায়াণঞ্জ ফতুল্লাহ হতে  আব্দুল্লাহর অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী জেএমবি সদস্য মোঃ বিল্লাল হোসেন (২৩)’ কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। উক্ত গ্রেফতারকৃত মোঃ বিল্লাল হোসেন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। পরবর্তীতে র‌্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতায় আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটিত হয়। উক্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে র‌্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল অদ্য ৩১ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ ০২:০০ হতে সকাল ১১:০০ ঘটিকায় মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নিহত জঙ্গি আব্দুল্লাহর সহযোগী ও জেএমবি’র নি¤œ বর্ণিত সদস্যদের গ্রেফতার করেঃ ক। সাব্বির এমাম সাব্বির (৩১) -(আব্দুল্লাহর ভাড়াকৃত ফ্ল্যাট বাড়ির মালিকের সন্তান) খ। মোসাঃ সুলতানা পারভীন (৫৫) -(আব্দুল্লাহর ভাড়াকৃত ফ্ল্যাট বাড়ীর মালিকের স্ত্রী) গ। মোঃ আসিফুর রহমান আসিফ (২৫) -(বাড়ীর মালিকের স্ত্রীর নিকট আত্মীয়) ঘ। মোঃ আলম (৩০) -(চা দোকানদার) ৩।    গ্রেফতারকৃত মোসাঃ সুলতানা পারভীন (৫৫), স্বামী- হাবিবুল্লাহ বাহার আজাদ, সাং- বিত্তিপাড়া, থানা-শৈলকুপা, জেলা-ঝিনাইদহ; এ/পি-২/৩ বি, বর্ধণবাড়ী, দারুস সালাম, ঢাকা। সে আব্দুল্লাহ যে বাসায় ভাড়া থাকত সেই বাসার মালিক হাবিবুল্লাহ বাহার আজাদের স্ত্রী। সে আব্দুল্লাহর ভাড়াকৃত ফ্ল্যাটে যেয়ে এবং ছাদে উঠে প্রায়শঃ জঙ্গি সংগঠনের বিষয়ে আব্দুল্লাহর সাথে আলোচনা করত। সে আব্দুল্লাহর বাসায় মানিক @ ফরহাদ @ সারোয়ার জাহান এর নিকট হতে বায়াত গ্রহণ করে। এছাড়াও সে আব্দুল্লাহকে সংগঠনের জন্য বিভিন্ন সময় আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। ৪।    গ্রেফতারকৃত মোঃ আসিফুর রহমান আসিফ (২৫), পিতা- মোঃ আলমগীর হোসেন, সাং- ছোট শেখহাটি মাষ্টারবাড়ী, থানা-কতোয়ালী, জেলা-যশোর; এ/পি-২/৩ বি, বর্ধণবাড়ী, দারুস সালাম, ঢাকা। সে গ্রেফতারকৃত  মোসাঃ সুলতানা পারভীনের ভাই এর ছেলে। আব্দুল্লাহর সাথে আসিফ (গ্রেফতারকৃত) এর ঘনিষ্ঠতা ছিল বিধায়, প্রায়শঃ সে আব্দল্লাহর বাসায় যাতায়াত করত এবং জঙ্গি সংগঠনের বিভিন্ন বিষয়ে তারা আলোচনা করত। সেও আব্দুল্লাহর বাসায় বসে মানিক@ ফরহাদ @ সারোয়ার জাহান এর নিকট হতে বায়াত গ্রহণ করে। সে বিস্ফোরক তৈরীর জন্য আব্দুল্লাহর বাসায় বিভিন্ন ধরণের কেমিক্যাল সরবরাহ করত। এছাড়াও সে তার বন্ধুর কাছ থেকে একটা ৯ এমএম পিস্তল এনে আব্দুল্লাহর নিকট সরবরাহ করতে চেয়েছিল। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় আব্দুল্লাহ পিস্তলটি গ্রহণ করেনি। উল্লেখ্য যে, আসামী সুলতানা পারভীন উক্ত অস্ত্রটি ক্রয়ের জন্য আব্দুল্লাহকে টাকা দিতে সম্মত হয়ে ছিল। ৫।    গ্রেফতারকৃত মোঃ আলম (৩০), পিতা-মঞ্জু মিয়া, সাং-উজ্জ্বলপুর, থানা-কেন্দুয়া, জেলা-নেত্রকোনা; এ/পি-২/১ ভাঙ্গাদেয়াল (ভাঙ্গাওয়াল), দারুস সালাম, ঢাকা। সে একজন চায়ের দোকানদার। সে বিভিন্ন সময় সংগঠনের কাজে আব্দুল্লাহকে গাড়ি সরবরাহ করত। গত রমজান মাসের আগে গ্রেফতারকৃত মোঃ আলমের মাধ্যমে ট্রাক সংগ্রহ করে বিল্লাল সেই ট্রাক চালিয়ে তাদের নিকটবর্তী পুলিশি স্থাপনায় নাশকতার পরিকল্পনা করে আব্দুল্লাহ। সম্প্রতি ইউরোপে জঙ্গিদের গাড়ী হামলা কৌশলে অনুপ্রাণিত হয়ে গ্রেফতারকৃত আলমের সরবরাহকৃত গাড়ি দিয়ে সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা গাড়ি চালানোর অনুশীলন করে। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জার্মানীর ন্যায় এদেশে তাদের  উদ্দেশ্য ছিল গাড়ি চালানো শিখে বিভিন্ন স্থানে গাড়ি অথবা গাড়ী বোমা হামলা করা। ৬।    সর্বোপরি সবথেকে সংবেদনশীল ব্যাপার হচ্ছে বাংলাদেশ বিমানের ফাস্ট অফিসার গ্রেফতারকৃত পাইলট সাব্বির এমাম সাব্বির (৩১), পিতা-হাবিবুল্লাহ বাহার আজাদ, সাং-২/৩, কমলপ্রভা, বর্ধণবাড়ী, দারুস সালাম, ঢাকা; এ/পি-ফ্ল্যাট# ৪(৫ম তলা), বাড়ী # ৪৩, রোড # ৩, ব্লক বি, সেকশন ১২, পল্লবী, ঢাকা  এর জঙ্গি কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টতা। সে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমী হতে বিমান চালনার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। এরপর সে ২০১০ সাল হতে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জবমবহঃ অরৎধিুং তে চাকুরী করে এবং এ সময় স্পেন থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। ২০১৪ সালে হতে অদ্যাবধি সাব্বির বাংলাদেশ বিমানের পাইলট হিসেবে চাকুরীরত। তিনি বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং-৭৩৭ পরিচালনা করে থাকেন। তিনি সর্বশেষ গত ৩০ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ    ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা (১৯:৫০-২৩:০০) ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন। গ্রেফতারকৃত সাব্বির তুর্কি থেকেও বিমান চালনার উপর প্রশিক্ষণ গ্রহন করে। সে দুবাই, কাতার, মাসকাট, সিংগাপুর, মালেয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ছাড়াও অন্যান্য আরো অনেক দেশে বাংলাদেশ বিমানের পাইলট হিসেবে কাজ করেছে। আব্দুল্লাহর সাথে তারও ঘনিষ্ঠতা ছিল এবং সেও মানিক @ ফরহাদ @ সারোয়ার জাহান এর নিকট হতে বায়াত গ্রহণ করে। গুলশান হামলার আগে ও পরে আব্দুল্লাহ, গ্রেফতারকৃত পাইলট সাব্বির, সারোয়ার একত্রে নাশকতার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গ্রেফতারকৃত পাইলট সাব্বির বিমান চালিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের বাসভবনে আঘাত করা অথবা বিমানের যাত্রীদের জিম্মি করে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করে। তার চাকুরীর ভাতা বাবদ ১০ লক্ষ টাকা পাওয়ার কথা ছিল এবং উক্ত টাকাগুলো পেলেই আব্দুল্লাহর মাধ্যমে সংগঠনে দান করবে বলে আব্দুল্লাহকে কথা দিয়েছিল। ৭।    গ্রেফতারকৃত সাব্বির এমাম সাব্বির (৩১) এর মত একজন দুর্ধর্ষ ব্যক্তি বাংলাদেশ বিমানের মত সংবেদনশীল স্থানে চাকুরীরত, যেখানে সর্বদা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের যাতায়াত। এ ধরনের একজন উগ্রবাদী জঙ্গিকে গ্রেফতার করে র‌্যাব বাংলাদেশকে নিকট ভবিষ্যতে আরো একটি নতুন অনাকাঙ্খিত/ভায়াবহ ঘটনা থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে। আগামীতে এ ধরনের সাফলতা ধরে রাখতে র‌্যাব দৃঢ় হস্তে বদ্ধপরিকর। ৮।    উপরোক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

র‌্যাবের অভিযানে সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু-ডাকাত “মানজু বাহিনীর” প্রধান মোঃ মানজু সরদার এবং “মজিদ বাহিনীর” প্রধান মোঃ তাকবির কাগচী @ মজিদসহ ২০ (বিশ) জন সক্রিয় সদস্য বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ র‌্যাবের নিকট আত্মসমর্পণ।

১। ঐশ্বর্যময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য আর জীব বৈচিত্রের স্বমহিমায় বিশাল সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল হাজার হাজার উপকূলবর্তী মানুষ প্রতি নিয়তই বনদস্যু/জলদস্যুদের আক্রমনের শিকার হয়। সুন্দরবন সহ বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় বনদস্যু, জলদস্যুদের দমনের লক্ষ্যে র‌্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ড, বিজিবি ও বন বিভাগের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স কাজ করছে, যার প্রধান সমন্বয়কারী র‌্যাব মহাপরিচালক। র‌্যাব সুন্দরবন এলাকায় জলদস্যু ও বনদস্যুদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। র‌্যাব প্রতিষ্ঠা হতে এ পর্যন্ত সফল অভিযানে ১৪০১টি অস্ত্র, ২৬,২৯০ রাউন্ড গুলি উদ্ধারসহ ৩৯৫ জন জলদস্যু/বনদস্যুকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসে। ফলে সুন্দরবন কেন্দ্রিক বনদস্যু/জলদস্যু বাহিনীর অপতৎপরতা বহুলাংশে কমে আসে। সাধারনত ইলিশ ও শুটকি মৌসুমকে কেন্দ্র করে জলদস্যু/ডাকাতরা তাদের ডাকাতি, জেলে অপহরণ এবং অপহরণের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়ের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। সে কারনে ইলিশ মাছ আহরণ ও শুটকি প্রক্রিয়াকরণ মৌসুমে সুন্দরবন এলাকায় যাতে মৎস্য আহরনকারী জেলেদের জলদস্যু কর্তৃক অপহরণ/ডাকাতির কবলে না পড়তে হয় সে লক্ষ্যে র‌্যাব সুন্দরবন এলাকায় জলদস্যু/ডাকাত দমনে বিশেষ আভিযানিক কার্যক্রম জোরদার করে। ২। র‌্যাবের এই কঠোর তৎপরতার কারনে গত ৩১ মে ২০১৬ তারিখ সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু “মাষ্টার বাহিনীর” ১০ জন জলদস্যু ৫২টি দেশী-বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র এবং প্রায় ৩৯০৪ রাউন্ড গোলাবারুদ, গত ১৪ জুলাই ২০১৬ তারিখ সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু “মজনু ও ইলিয়াস বাহিনীর” ১১ জন জলদস্যু ২৫ টি দেশী-বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১০২০ রাউন্ড গোলাবারুদ, গত ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখ সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু “আলম ও শান্ত বাহিনীর” ১৪ জন জলদস্যু ২০ টি দেশী-বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র এবং সর্বমোট ১০০৮ রাউন্ড গোলাবারুদ, গত ১৯ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু “সাগর বাহিনীর” ১৩ জন জলদস্যু ২০টি দেশী-বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৯৬ রাউন্ড গোলাবারুদ, গত ২৭ নভেম্বর ২০১৬ তারিখ সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু “খোকাবাবু বাহিনী” ১২জন জলদস্যু ২২টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১০০৩ রাউন্ড গোলাবারুদ, গত ০৬ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখ সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু “নোয়া বাহিনী” ১২জন জলদস্যু ২৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১১০৫ রাউন্ড গোলাবারুদ, গত ২৯ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখ সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু “জাহাঙ্গীর বাহিনী” ২০জন জলদস্যু ৩১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৫০৭ রাউন্ড গোলাবারুদ, “ছোট রাজু বাহিনী” ১৫জন জলদস্যু ২১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১২৩৭ রাউন্ড গোলাবারুদ সর্বশেষ গত ২৮ এপ্রিল ২০১৭ তারিখ সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু “আলিফ ও কবিরাজ বাহিনী” ২৫ জন এবং জলদস্যু ৩১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১১১০ রাউন্ড বিভিন্ন প্রকার গোলাবারুদ’সহ র‌্যাব-৮ এর নিকট আতœসমর্পন করে। (এখন পর্যন্ত বিগত ১৫ মাসে সর্বমোট ১২টি বাহিনীর ১৩২ জন জলদস্যু, ২৪৭ টি অস্ত্র ও ১২,৪৯০ রাউন্ড গোলাবারুদ সহ র‌্যাব-৮ এর নিকট আতœসমর্পণ করে) এ ঘটনা সমুহের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় অন্যান্য জলদস্যু বাহিনী সমূহের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। তারই ধারাবাহিকতায়, সম্প্রতি পশ্চিম সুন্দরবনের জলদস্যু বাহিনী (ক)‘‘মানজু বাহিনী ও (খ) মজিদ বাহিনী’’ উৎসাহিত হয়ে একই পথ অনুসরন করার সুযোগ খুঁজতে থাকে। ৩। “মানজু বাহিনী” সম্পর্কে জানা যায় যে, বাগেরহাট জেলায় মংলা থানায় সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের মংলা, শ্যালাগাং, হারবাড়িয়া, ভদ্রা, সুন্দরবনের পশুর নদী এবং বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন উপকূলবর্তী অঞ্চলে সর্বাপেক্ষা সক্রিয় একটি জলদস্যু বাহিনী। পশুর নদী সংলগ্ন বিভিন্ন খাল ও চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালাগাং সংলগ্ন অঞ্চলের বনজীবি ও জলজীবি সাধারণ মানুষ তাদের প্রধান লক্ষ্য। মোঃ মানজু সরদার (৪৪), পিতাঃ জিন্নাত সরদার দীর্ঘদিন যাবত উক্ত বাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছে। সে ২০১১ সাল থেকে সুন্দরবনে জলদস্যুবৃত্তি করে আসছে। ৪। “মজিদ বাহিনী” সম্পর্কে জানা যায়, এই বাহিনী পূর্ব সুন্দরবনের মংলা, হারবাড়িয়া, ভদ্রা এবং বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন উপকূলবর্তী অঞ্চলে সক্রিয় অপর একটি জলদস্যু বাহিনী। পশুর নদী সংলগ্ন বিভিন্ন খাল ও চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালাগাং সংলগ্ন অঞ্চলের বনজীবি ও জলজীবি সাধারণ মানুষ তাদের প্রধান লক্ষ্য। মোঃ তাকবির কাগচী @মজিদ (৩৮), পিতাঃ মোঃ মমিন আলী কাগচী দীর্ঘদিন ধরে এ বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। সে ২০১২ সাল থেকে সুন্দরবনে জলদস্যুবৃত্তি করে আসছে। ৫। “মানজু বাহিনী” এবং “ মজিদ বাহিনীর’’ প্রায় সকল শীর্ষস্থানীয় জলদস্যু অতি অভিজ্ঞ এবং দূর্ধর্ষ প্রকৃতির অপরাধী। খুলনা এবং বাগেরহাট জেলার সুন্দরবন সংলগ্ন বিভিন্ন থানায় তাদের প্রত্যেকের নামে/বেনামে একাধিক মামলা রয়েছে। র‌্যাব-৮ কর্তৃক সকল গোয়েন্দা তথ্যের যোগসূত্র নির্ণয়ের পর পরই সুন্দরবনের পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলে জলদস্যু বিরোধী অভিযানের মাত্রা আরও উল্লেখযোগ্য হারে জোরদার করা হয়। সুন্দরবনের প্রতিটি নদী ও শাখা জুড়ে র‌্যাবসহ অন্যান্য আইন শৃংখলা বাহিনীর অবিরাম টহল এবং দৃঢ় মনোভাবের ফলে জলদস্যু/ডাকাত দলগুলোর কার্যক্রম কোনঠাসা হয়ে পড়ে এবং তাদের অপরাধসীমা প্রায় শূণ্যের কোটায় চলে আসে। বিভিন্ন জলদস্যু/ডাকাত বাহিনী র‌্যাব এর হাতে নিস্ক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি র‌্যাব-৮ এর ক্রমাগত একাধিক কঠোর অভিযান, অতি সক্রিয় গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক এবং কৌশলগত পদক্ষেপের কারণে কোনঠাসা হয়ে ভীত হয়ে পড়ে। তারা অনুধাবন করে অধিক অর্থ উপার্জন ও কুপ্ররোচনার স্বীকার হয়ে তারা ভুল পথে পরিচালিত হয়েছিল। তাদের নিজ অপরাধ বুঝতে পেরে স্বপ্রণোদিত হয়ে তাদের কাছে থাকা সমস্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আইনের কাছে নিজেদেরকে সোপর্দ করতে ইচ্ছা পোষণ করে। ৬। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৮, সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে ৩১ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ হতে বিশেষ অভিযান আরম্ভ করে। ৩১ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ সুন্দরবন এর আওতাভুক্ত চাঁদপাই রেঞ্জের অন্তর্গত শ্যালা নদীতে আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনাকালে জলদস্যু/ডাকাত “মানজু বাহিনীর’’ সদস্যগণ তথ্যদাতা এর মাধ্যমে আভিযানিক দলের কমান্ডারের সাথে যোগাযোগ করে এবং মৃর্গামারির শ্যালাগাং এর পশ্চিম পাড়ে গহীন জংগলে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে। আভিযানিক দলটি ৩১ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ বিকাল আনুমানিক ১৪০০ ঘটিকায় মৃর্গামারির শ্যালাগাং এর নিকট পৌঁছালে খালের প্রবেশ মুখ হতে অনুমান ১০০ গজ পশ্চিম পাড়ে কয়েকজন লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে এগিয়ে যায়। দঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁাঁড়িয়ে থাকা লোকদের নিকট পৌঁছালে তারা বনের ভিতর থেকে বেরিয়ে এসে আভিযানিক দলের সামনে হাত উঁচু করে করে দাঁড়িয়ে থাকে এবং নিজেদেরকে বনদস্যু/ডাকাত কথিত “মানজু বাহিনীর’’ জলদস্যু (১) মোঃ মানজু সরদার (৪৪), পিতাঃ জিন্নাত সরদার, সাং-রমজায়পুর, থানাঃ রামপাল, জেলাঃ বাগেরহাট (২) জুলফিকার ইজারদার (৪৬), পিতাঃ মৃত মোসলেম ইজারদার, সাং-প্রসাদনগর, থানাঃ রামপাল, জেলাঃ বাগেরহাট, (৩) মোঃ বাচ্চু মল্লিক (৩২), পিতাঃ মোঃ রুহুল আমিন মল্লিক, সাং-বর্ণিছায়রাবাদ, থানাঃ রামপাল, জেলাঃ বাগেরহাট, (৪) মোঃ তৌহিদুর রহমান শেখ (৫০), পিতাঃ মৃত সফির উদ্দিন শেখ, সাং-কালিকাপ্রসাদ, থানাঃ রামপাল, জেলাঃ বাগেরহাট (৫) মোঃ রেজাউল ইসলাম (২৫), পিতাঃ মোঃ ইদ্রিস আলী, সাং-খারদার, থানাঃ সদর, জেলাঃ বাগেরহাট, (৬) মোঃ পলাশ খাঁন (৩৪), পিতাঃ মোঃ গোলামরসুল খাঁন, সাং-বড়কাটাখালী, থানাঃ রামপাল, জেলাঃ বাগেরহাট (৭) মোঃ সুমায়ন ফকির (২৫) পিতাঃ মোঃ রজব আলী ফকির, সাং কালীকাপ্রসাদ, থানাঃ রামপাল, জেলাঃ বাগেরহাট (৮) মোঃ জামরুল শেখ (৩০), পিতাঃ মৃত ইজার উদ্দিন শেখ, সাং-বড়দূর্গাপুর, থানাঃ রামপাল, জেলাঃ বাগেরহাট, (৯) মোঃ মজিব ইজারদার (৩২) পিতা মোঃ আয়ুব আলী ইজাদ্দার, সাং-প্রসাদনগর থানাঃ রামপাল, জেলাঃ বাগেরহাট, (১০) মোঃ হাওলাদার আলমগীর (৩৮), পিতাঃ মৃত মোজাহের হাওলাদার, সাং-জিগির মোল্লা, থানাঃ রামপাল, জেলাঃ বাগেরহাট (১১) মোঃ হানিফ শেখ (৩২) পিতাঃ তাইফ শেখ, সাং-বর্দাসকাঠি, থানাঃ রামপাল, জেলাঃ বাগেরহাট বলে পরিচয় প্রদান করে। তারা আভিযানিক দলকে আরো জানায় যে, তাদের ব্যবহৃত কিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদ বনের ভিতর বিভিন্ন স্থানে লুকানো আছে যা তারা হস্তান্তর করতে চায়। ৭। অতঃপর আভিযানিক দলটি জলদস্যুদের গ্রেফতার করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত মাঝিদের নিয়ে অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধারের লক্ষ্যে বনের মধ্যে তল্লাশী শুরু করে। তল্লাশীর এক পর্যায়ে খালের পাড় হতে বনের মধ্যে অনুমান ১০০-১৫০ গজ ভিতরে লুকানো অবস্থায় একাধিক বস্তা, চটের ব্যাগ ও প্লাস্টিকের কন্টেইনারের ভিতরে ভরা অবস্থায় অস্ত্র-গুলি পাওয়া যায়। সকল ব্যাগ ও কন্টেইনার থেকে সর্বমোট ১৯টি দেশী-বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র এবং সকল প্রকার অস্ত্রের প্রায় ৮৫৩ রাউন্ড তাঁজা গুলি উদ্ধার করা হয়। ৮। একই দিন কুখ্যাত ‘‘মজিদ বাহিনী’’ প্রধান মোঃ তাকবির কাগচী@মজিদ (৩৮) বিশ্বস্ত তথ্যদাতা মারফত চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারিয়া নামার চরে আনুমানিক ২০০ গজ বনের ভিতরে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করে। এ তথ্যের ভিত্তিতে শ্যালা নদীতে আটক এবং উদ্ধার অভিযান শেষ করে পশুর নদীর উদ্দেশ্যে র‌্যাব-৮ এর আভিযানিক দল রওনা করে। বিকাল আনুমানিক ১৫৩০ ঘটিকায় আন্ধারিয়া নামা চরের প্রবেশ মুখে গহীন জঙ্গলের মধ্যে আকষ্মিক ভাবে ০৯ জন ব্যক্তিকে র‌্যাবের টহল নৌযান দেখে পলায়ন করতে লক্ষ্য করা যায়। এ সময় হ্যান্ড মাইকে তাদের আশ্বস্ত করা হলে তারা জঙ্গল থেকে হাত উঁচু করে বের হয়ে আসে এবং নিজেদেরকে “মজিদ বাহিনীর’’ সদস্য (১) মোঃ তাকবির কাগচী@মজিদ (৩৮), পিতাঃ মোঃ মমিন আলী কাগচী, সাং-কালিঞ্চী, থানাঃ শ্যামনগর, জেলাঃ সাতক্ষীরা, (২) মোঃ হাসান বিশ্বাস (৩৯), পিতাঃ মোঃ রজত আলী বিশ্বাস, সাং-গোপিনাথপুর, থানাঃ কলারোয়া, জেলাঃ সাতক্ষীরা(৩) মোঃ আব্দুল মজিদ (৩০), পিতাঃ আকবর গাজী, সাং ভেটখালী, থানাঃ শ্যামনগর, জেলাঃ সাতক্ষীরা, (৪) মোঃ ইউনুছ শেখ (২৪), পিতাঃ মোঃ আহাদুর শেখ, সাং- বংশিপুর, থানাঃ শ্যামনগর, জেলাঃ সাতক্ষীরা(৫) মোঃ হাফিজুল ইসলাম (৩২), পিতাঃ মোঃ ইনতাজ আলী গাজী, সাং-তেতুলতলা, থানাঃ কয়রা, জেলাঃ খুলনা, (৬) মোঃ আফজাল খাঁন (৩৫), পিতাঃ মোঃ আফছার খাঁন, সাং-কালীকাপ্রসাদ, থানাঃ রামপাল, জেলাঃ বাগেরহাট, (৭) মোঃ এসকেন খাঁন (৪০), পিতাঃ মোঃ জোব্বার খাঁন, সাং-কুমারখালী, থানাঃ রামপাল, জেলাঃ বাগেরহাট, (৮) মোঃ হাসান আলী ইজারদার (৩২), পিতাঃ মৃত মোসলেম ইজারদার, সাং-প্রসাদনগর, থানাঃ রামপাল, জেলাঃ বাগেরহাট, (৯) মোঃ মোসা ইজাদ্দার (৩৩), পিতাঃ মৃত নেচার ইজাদ্দার, সাং-প্রসাদনগর, থানাঃ রামপাল, জেলাঃ বাগেরহাট বলে জানায়। তারা জানায় যে, তাদের ব্যবহৃত কিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদ বনের ভিতর লুকানো আছে সেগুলো আভিযানিক দলের নিকট হস্তান্তর করতে চায়। ৯। অতঃপর আভিযানিক দলটি তাদেরকে গ্রেফতার পূর্বক ঘটনাস্থলে উপস্থিত মাঝিদের নিয়ে অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধারে বনের মধ্যে তল্লাশী শুরু করে। তল্লাশীর এক পর্যায়ে আন্ধারিয়া নামার চরের পাড় হতে বনের মধ্যে অনুমান ২০০-২৫০ গজ ভিতরে জলদস্যু/ডাকাতদের দেখানো ও সনাক্ত মতে লুকানো অবস্থায় একাধিক বস্তা, চটের ব্যাগ, প্লাষ্টিকের কন্টেইনারের ভিতরে ভরা অবস্থায় অস্ত্র-গুলি পাওয়া যায়। সকল ব্যাগ ও কন্টেইনার থেকে সর্বমোট ১৪ টি দেশী-বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র এবং সকল প্রকার অস্ত্রের প্রায় ৪৭৬ রাউন্ড তাঁজা গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। ১০। ৩১ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ সন্ধ্যা ১৬৩০ ঘটিকা নাগাদ অভিযানের সমাপ্তি ঘোষনা করা হয় এবং রাত ২০০০ ঘটিকায় আতœসমর্পণকারী দস্যু ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র সরঞ্জামসহ বাগেরহাট জেলার মংলা থানার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা হয়। ৩১ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ সকাল ০৫০০ ঘটিকা হতে ০১ নভেম্বর রাত ২০০০ ঘটিকা পর্যন্ত অভিযানে “মানজু বাহিনীর” ১১ জন জলদস্যু এবং “মজিদ বাহিনীর” ০৯ জনসহ সর্বমোট ২০ জন জলদস্যু র‌্যাব-৮ এর নিকট আতœসমর্পণ করে এবং ১০টি বিদেশী একনালা বন্দুক, ০৭টি বিদেশী দোনালা বন্দুক, ০৬ টি .২২ বোর বিদেশী এয়ার রাইফেল, ০৬ টি ওয়ান শ্যুটারগান এবং ০৪ টি কাটা রাইফেলসহ সর্বমোট ৩৩ টি দেশী-বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র এবং সর্বমোট ১৩২৯ রাউন্ড বিভিন্ন প্রকার গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। ১১। “মানজু বাহিনী” এবং “মজিদ বাহিনী” সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনের অন্যতম সংগঠিত এবং সক্রিয় জলদস্যু বাহিনী। বাহিনী দুটি সকল অস্ত্র-গোলাবারুদসহ সদলবলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ এর ফলে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন ও তৎসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে সাধারণ মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে ও নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে মৎস্য আহরণ করতে পারবে। বনজীবি এবং মৎস্যজীবি সাধারণ মানুষের মধ্যে এর ফলে ব্যাপক আশার সঞ্চার হবে এবং দস্যুবৃত্তিতে নিয়োজিত অন্যান্য বনদস্যু/জলদস্যুরাও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে দারুনভাবে উৎসাহিত হবে। ১২। উপরোক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

র‌্যাবের অভিযানে ময়মনসিংহের ত্রিশাল এলাকা হতে জেএমবি এর ০১ জন সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার।

১। এলিট ফোর্স র‌্যাব সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ এর বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থানে থেকে নিরলস ভাবে কাজ করে আসছে। র‌্যাবের কর্ম তৎপরতার কারণেই সারাদেশে একযোগে বোমা বিষ্ফোরণসহ বিভিন্ন সময়ে নাশকতা সৃষ্টিকারী জঙ্গি সংগঠন সমূহের শীর্ষ সারির নেতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মীদেরকেও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভবপর হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে কারো কারো মৃত্যুদন্ড, যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়েছে, কেউ কেউ বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছে এবং বেশকিছু মামলা এখনো বিচারাধীন। তবে যে সকল জঙ্গি এখনো আত্মগোপন করে আছে তাদের তৎপরতা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। র‌্যাবের কঠোর গোয়েন্দা নজরদারী ও অভিযানের ফলে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনগুলোর নেতা কর্মীরা পূনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে বার বার ব্যর্থ হয়েছে এবং বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে আটক হয়েছে। ২। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১৪ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, কতিপয় সন্দেহজনক জঙ্গী সদস্য ত্রিশাল থানাধীন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় সংযোগ সড়ক এলাকায় অবস্থান করছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৪ এর একটি আভিযানিক দল ০২ নভেম্বর ২০১৭ তারিখ ১২০৫ ঘটিকার সময় ত্রিশাল থানাধীন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় সংযোগ সড়কের কেরানী বাড়ীর মোড়ে পৌঁছা মাত্র র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের কয়েকজন দৌড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এ সময় সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় একজনকে তার কাঁধে থাকা একটি ব্যাগসহ গ্রেফতার করা হয়। আটককৃত ব্যক্তির নাম ঠিকানা জিজ্ঞাসা করলে সে জাহাঙ্গীর আলম @ শ্রাবন @ আবু শাম (২৪), জেলা-চাঁদপুর বলে জানায়। সে বর্তমানে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড এ্যাপ্লিকেশন বিষয়ে ডিপ্লোমা প্রোগ্রামে ১ম বর্ষে অধ্যয়নরত আছে বলে জানায়। পরবর্তীতে আটক কৃত ব্যক্তির সাথে থাকা ব্যাগ তল্লাশী করে উগ্রবাদী বই ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়। ৩। গ্রেফতারকৃত আসামী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে যে, সে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জেএমবি এর একজন সক্রিয় সদস্য। ধৃত আসামীসহ তার সঙ্গীরা ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে ছদ¥নাম ব্যবহার করে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে বিভিন্ন মর্মস্পর্শী ভাষায় পোষ্ট করতে থাকে এবং সদস্য সংগ্রহের মাধ্যমে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। উল্লেখ্য যে, গ্রেফতারকৃত আসামী জসিম উদ্দীন রহমানীর মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে জেএমবির কার্যক্রমের সাথে জড়িয়ে পড়ে বলে জানায়। ৪। উপরোক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।