সাম্প্রতিক কার্যক্রম :
কথিত মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এন্ড গার্ড সার্ভিস লিমিটেড এর ব্যাবস্থাপনা পরিচালক পরিচয়ে শীর্ষ প্রতারক শাহীরুল ইসলাম সিকদার (৪৮)’কে বিপুল পরিমান দেশী-বিদেশী অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৪। ✱ র‌্যাব-৯ এর অভিযানে হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানাধীন এলাকা হইতে সাইবার বুলিং ও পর্ণোগ্রাফী মামলার একজন ভন্ড কবিরাজ আহাদুর রহমান (৩৫) গ্রেফতার। ✱ র‌্যাব-৯ এর অভিযানে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানাধীন এলাকা হইতে ওয়ারেন্টভূক্ত একজন পলাতক আসামী গ্রেফতার । ✱ র‌্যাব-৯, সিলেট এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, সিলেট এর যৌথ অভিযান এসএমপি সিলেট এর দক্ষিণ সুরমা থানাধীন এলাকায় পণ্যের মূল্যে তালিকা না প্রকাশ করে অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রয়সহ অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বিক্রয় করাসহ পণ্যের মোড়ক ব্যবহার না করায় “জরিমানা”। ✱ র‌্যাব-৭ এর অভিযানে চট্টগ্রাম মহানগরীর লালখান বাজার এলাকায় চাঁদা আদায়কালে ০৫ জন কিশোর গ্যাং এর সক্রিয় সদস্যকে চাঁদা আদায়ের নগদ অর্থ ও দেশীয় অস্ত্রসহ হাতে নাতে আটক। ✱ র‌্যাব-৯, সিলেট এর অভিযানে সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট থানাধীন এলাকা হতে ১৭১ বোতল ফেন্সিডিল সহ একজন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। ✱ র‌্যাব-৭ এর অভিযানে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী মোড় এলাকা হতে রাজধানী পল্লবীর “সাহিনুদ্দীন” হত্যাকান্ডের নৃশংস ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নোয়াখালীর “যতন সাহা” হত্যাকান্ড বলে প্রচার করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচারের অভিযোগে ০১ জন আটক। ✱ র‌্যাব-৭ এর অভিযানে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানাধীন নোয়াপাড়া এলাকা হতে জীনের বাদশা সেজে সকল সমস্যার সমাধান করার নামে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায়ের প্রতারক চক্রের ০৫ জন সক্রিয় সদস্য আটক। ✱ র‌্যাব-৯, সিলেট এর অভিযানে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানাধীন এলাকা হতে ৩০ কেজি গাঁজা ও ০৩ বোতল বিয়ার এবং একটি প্রাইভেটকারসহ একজন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। ✱ রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে র‌্যাবের অভিযানে ১৭ কেজি গাঁজাসহ ০২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার; মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস জব্দ । ✱

সাম্প্রতিক কার্যক্রম

র‌্যাবের অভিযানের চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড থানাধীন এলাকা হতে ৯১৩ বোতল ফেন্সিডিল এবং ০১টি কাভার্ড ভ্যানসহ ০২ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ।

১।    বর্তমানে আমাদের দেশের যুব সমাজের অধঃপতনের অন্যতম প্রধান কারণ মাদকাসক্তি। দেশের যুবসমাজের একটি বড় অংশ আশংকাজনকভাবে ফেন্সিডিল ও মাদক হিসেবে ব্যবহৃত ইয়াবা ট্যাবলেটের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। মাদকের টাকা জোগাড়ের জন্য মাদকাসক্ত যুব সমাজ বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক ও অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। যুব সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষার জন্য র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশব্যাপী বিভিন্ন মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছে যা দেশের সর্বস্তরের জনসাধারন কর্তৃক ইতোমধ্যেই বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। ২।     এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী একটি কাভার্ড ভ্যানযোগে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য নিয়ে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামের দিকে আসছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে অদ্য ১৪ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ ০৪০০ ঘটিকার সময় র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুন্ড থানাধীন উত্তর রহমত নগর বড় দারোগারহাট বাজারের কাছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে স্থাপিত ওজন স্কেল কন্ট্রোল স্টেশনের সামনে পাকা রাস্তার উপর একটি বিশেষ চেকপোষ্ট স্থাপন করে গাড়ি তল্লাশী করতে থাকে। এ সময় কুমিল্লা হতে চট্টগ্রামগামী ০১টি কাভার্ড ভ্যান এর গতিবিধি সন্দেহজনক হলে র‌্যাব সদস্যরা কাভার্ড ভ্যানটিকে থামানোর সংকেত দিলে কাভার্ড ভ্যানটি থামিয়ে ০২ জন ব্যক্তি বের হয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে র‌্যাব সদস্যরা ধাওয়া করে মাদক ব্যবসায়ী ১। মোঃ ইসমাইল @ সাদ্দাম (২৭), পিতা- মোঃ আব্দুল ছাত্তার, গ্রাম- আমতলী, থানা- বাঘাইছড়ি, জেলা- রাঙ্গামাটি এবং ২। মোঃ সোহেল সিকদার (৩০), পিতা- মৃত বারেক সিকদার, গ্রাম- আমড়াগাছি বাজার, থানা- আমতলী, জেলা- বরগুনা’দেরকে আটক করে। পরবর্তীতে উপস্থিতি সাক্ষীদের সম্মুখে কাভার্ড ভ্যানটি (ঢাকা মেট্রো-ট-১৩-২৫৯৩) তল্লাশী করে কাভার্ড ভ্যানের ভিতরে সুকৌশলে লুকানো অবস্থায় ৯১৩ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধারসহ উক্ত কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের তাৎক্ষনিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায, তারা দীর্ঘদিন যাবত পণ্য পরিবহনের আড়ালে কাভার্ড ভ্যানের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ে এসে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রয় করছে। উদ্ধারকৃত ফেন্সিডিলের আনুমানিক মূল্য ০৭ লক্ষ ৩০ হাজার ৪০০ টাকা। ৩।    উপরোক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

র‌্যাবের অভিযানে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানাধীন জালিয়াপাড়া এলাকা হতে ১০,০০০ পিস ইয়াবাসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ।

১।    বর্তমানে আমাদের দেশের যুব সমাজের অধঃপতনের অন্যতম প্রধান কারণ মাদকাসক্তি। দেশের যুবসমাজের একটি বড় অংশ আশংকাজনকভাবে ফেন্সিডিল ও মাদক হিসেবে ব্যবহৃত ইয়াবা ট্যাবলেটের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। মাদকের টাকা জোগাড়ের জন্য মাদকাসক্ত যুব সমাজ বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক ও অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। যুব সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষার জন্য র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশব্যাপী বিভিন্ন মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছে যা দেশের সর্বস্তরের জনসাধারন কর্তৃক ইতোমধ্যেই বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। ২।     এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে যে, কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানাধীন জালিয়াপাড়া আনোয়ার এর চা দোকানে ইয়াবা ট্যাবলেট ক্রয়-বিক্রয় করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৩ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ ২২০০ ঘটিকার সময় র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল বর্ণিত স্থানে অভিযান পরিচালনা করলে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে মাদক ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন (৫৫), পিতা-মৃত আলী আহম্মদ, গ্রাম- উত্তর জালিয়াপাড়া (উচু বাজার পূর্ব দিকের গলি), ওয়াড নং ৭, থানা- টেকনাফ, জেলা- কক্সবাজার’কে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে ঘটনাস্থল এবং গ্রেফতারকৃত আসামীর দেহ তল্লাশী করে ১০,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটের আনুমানিক মূল্য ৫০ লক্ষ টাকা। ৩।    উপরোক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর সবুজবাগ থানা এলাকা হতে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী কার্যক্রমে জড়িত থাকায় বিদেশ ফেরত দুই জেএমবি সদস্য গ্রেফতার।

১।    এলিট ফোর্স র‌্যাব সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ এর বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থানে থেকে নিরলস ভাবে কাজ করে আসছে। র‌্যাবের কর্ম তৎপরতার কারণেই সারাদেশে একযোগে বোমা বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন সময়ে নাশকতা সৃষ্টিকারী জঙ্গি সংগঠন সমূহের শীর্ষ সারির নেতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদেরকেও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভবপর হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে কারো কারো মৃত্যুদন্ড, যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়েছে, কেউ কেউ বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছে এবং বেশ কিছু মামলা এখানো বিচারাধীন। তবে, যে সকল জঙ্গি এখনো আত্মগোপন করে আছে তাদের তৎপরতা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। র‌্যাবের কঠোর গোয়েন্দা নজরদারী ও অভিযানের ফলে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন গুলোর নেতাকর্মীরা পূনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে বারবার ব্যর্থ হয়েছে এবং বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে আটক হয়েছে। ২।    সাম্প্রতিক জঙ্গি বিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় বেশকিছু সন্দেহভাজন দেশী ও প্রবাসী উগ্রপন্থী ও জঙ্গিবাদে উদ্ধুদ্ধ সদস্য র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারীর আওতায় ছিল। র‌্যাব তাদের নিজস্ব গোয়েন্দা কার্যক্রমের মাধ্যমে জানতে পারে যে, ২০১৫ সাল হতে সিংঙ্গাপুর প্রবাসী মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তি সিংঙ্গাপুুরে অবস্থানরত বাংলাদেশী শ্রমিকদের  গোপনে দাওয়াতি কার্যক্রমের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করে আসছিল। মূলত কর্মী সংগ্রহ ও অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী কার্যক্রম পরিচালনা করাই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য। র‌্যাব গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে জানতে পারে যে, মিজানুর রহমানের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ কিছু উগ্রবাদী সদস্য ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ফেরত এসেছে এবং গোপনে সংগঠিত হচ্ছে। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় এনে র‌্যাব এর গোয়েন্দা দল ব্যাপক অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে র‌্যাব-৩ এর আভিযানিক দল অদ্য ১৫/১০/২০১৭ ইং তারিখ আনুমানিক রাত ০০৩০ ঘটিকায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর সবুজবাগ থানাধীন পুর্ব রাজারবাগ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জঙ্গিবাদী গোপন বৈঠকের সময় আসামী ১। মোঃ দৌলত জামান @ মোয়াজ আল বাঙ্গালী (৩৫), পিতা- মৃত সোলায়মান আলী, সাং-মালিয়ানডাঙ্গা, পোঃ বালিয়া দিঘী, থানা-গাবতলী, জেলা-বগুড়া এবং ২। মোঃ সোহেল হাওলাদার @ বেলাল হাফসী আল বাঙ্গালী (২৭), পিতা- ইসমাইল হোসেন হাওলাদার, সাং-বাগদী, থানা-পলাশ, উপজেলা-ঘোড়াশাল, জেলা- নরসিংদীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তাদের নিকট হতে ০২টি পাসপোর্ট, ০৯টি উগ্রবাদী বই, ০৪টি মোবাইল ফোন এবং ০৭টি মেমোরী কার্ড উদ্ধার করা হয়। ৩।    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আসামী দৌলত জামান ২০০৪ সাল হতে এবং আসামী সোহেল ২০০৯ সাল হতে সিংঙ্গাপুর প্রবাসী। সিংঙ্গাপুরে র্নিমাণ শ্রমিক হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে ২০১৫ সালে মিজানুর রহমান এর মাধ্যমে তারা জেএমবি এর মতাদর্শে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে ২০১৬ সালে মিজানুর রহমান এর নেতৃত্বে প্রবাসী ৮জন সদস্য সিংঙ্গাপুরে ০৪টি গোপন বৈঠকে মিলিত হয়। এ বৈঠকে তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন  করে জঙ্গিবাদ কার্যক্রম শুরু করবে। তাদের প্রাথমিক টার্গেট হবে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচারক, নাস্তিক, পীরগোষ্ঠী। সে লক্ষ্যে ২৫শে মার্চ ২০১৬ সালে তারা মিজানুর রহমান এর নেতৃত্বে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিংঙ্গাপুরে ডধঃবৎ ঋৎড়হঃ চধৎশ এ শপথ (বাইয়্যাত) গ্রহণ করে। এ সময়ে স্বঘোষিত জঙ্গি নেতা মিজানুর রহমান আসামী মোঃ দৌলত জামান @ মোয়াজ আল বাঙ্গালীকে বাংলাদেশে উগ্রবাদী কার্যক্রমের পরিকল্পনা কাউন্সিলর হিসেবে এবং মোঃ সোহেল হাওলাদার @ বেলাল হাফসী আল বাঙ্গালীকে মোহাজির (ফাইটার) হিসেবে মনোনীত করে। বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করে জঙ্গিবাদ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তারা মিজানুর রহমানকে নিয়মিত মাসিক চাঁদা/ইয়ানত প্রদান করত। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় যে, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে সিংঙ্গাপুরে জঙ্গিবাদী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিংঙ্গাপুর পুলিশ জঙ্গি নেতা মিজানুর রহমানকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে সে সিংঙ্গাপুরের কারাগারে রয়েছে। এ সময়ে সিংঙ্গাপুর পুলিশ আসামী দৌলত জামান এবং সোহেল মিয়াকে গ্রেফতার করে। সিঙ্গাপুর জেল থেকে মুক্ত হয়ে তারা গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করে। পরবর্তীতে তারা বাংলাদেশে এসে আতœগোপনে চলে যায় এবং পুনরায় জঙ্গিবাদী কার্যক্রমে সংগঠিত হওয়ার জন্য বিভিন্ন স্থানে গোপন বৈঠকে মিলিত হচ্ছিল বলে স্বীকার করে। ৪।    ধৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

র‌্যাবের অভিযানে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানাধীন এলাকা হতে বিদেশী পিস্তল, রিভলবার, বিপুল পরিমান গোলাবারুদ ও মাদকদ্রব্যসহ ০২ (দুই) অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রেফতার।

১।    র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সবসময়ই অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, খুনি, মাদক ও মাদক ব্যবসায়ী, বিভিন্ন সদস্যদের গ্রেফতার পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। র‌্যাবের সৃষ্টিকাল থেকে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, খুনি, বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার, ছিনতাইকারী, চোরাকারবারী, অপহরণ ও প্রতারকদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে সংগঠিত চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে র‌্যাব জনগনের সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ২।    এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১২ এর একটি আভিযানিক দল ১৫ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ অপরাহ্নে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে  পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানাধীন মধ্য অরনকোলা সাকিনে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও অস্ত্র ব্যবসায়ী মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন @ আব্দুল্লাহকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে (১) মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন @ আব্দুল্লাহ (৩৫), পিতা- মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, সাং- মধ্য অরনকোলা আলহাজ্ব ক্যাম্প, থানা- ঈশ্বরদী, জেলা-পাবনাকে তার নিজ বসত বাড়ী হতে ০১টি বিদেশী পিস্তল, ০১ টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ০৬ রাউন্ড গুলি এবং ০১টি ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার পূর্বক গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে তারই দেওয়া তথ্য মতে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানাধীন আরজু মার্কেটের ৩য় তলার একটি কক্ষ হতে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য ব্যবসায়ী (২) মোঃ মফিকুল ইসলাম @ মুকুল (৪২), পিতা- মৃত নুরুল ইসলাম, সাং- পূর্ব টেংরিটারী, থানা- ঈশ্বরদী, জেলা- পাবনাকে ০৩ টি বিদেশী পিস্তল, ০১টি বিদেশী রিভলবার, ০৪ টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ০৩ রাউন্ড গুলি,  ০৩ বোতল বিদেশী মদ, ১৫ পিস ইয়াব্,া ০১ টি টুলবক্স এবং ০২ টি মোবাইল উদ্ধার পূর্বক গ্রেফতার করা হয়। ৩।    উপরোক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকা হতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি “সারোয়ার-তামিম গ্রুপ” এর ‘ব্রিগেড আদ্Ñদার-ই-কুতনী’র সক্রিয় সদস্য রিয়াসাত এলাহী চৌধুরী @ আবু হুরায়রা গ্রেফতার।

১।    এলিট ফোর্স র‌্যাব সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ এর বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থানে থেকে নিরলস ভাবে কাজ করে আসছে। র‌্যাবের কর্ম তৎপরতার কারণেই সারাদেশে একযোগে বোমা বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন সময়ে নাশকতা সৃষ্টিকারী জঙ্গি সংগঠন সমূহের শীর্ষ সারির নেতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদেরকেও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভবপর হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে কারো কারো মৃত্যুদন্ড, যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়েছে, কেউ কেউ বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছে এবং বেশ কিছু মামলা এখানো বিচারাধীন। তবে, যে সকল জঙ্গি এখনো আত্মগোপন করে আছে তাদের তৎপরতা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। র‌্যাবের কঠোর গোয়েন্দা নজরদারী ও অভিযানের ফলে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন গুলোর নেতাকর্মীরা পূনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে বারবার ব্যর্থ হয়েছে এবং বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে আটক হয়েছে। ২।    সাম্প্রতিক জঙ্গি বিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় সন্দেহভাজন বেশ কিছু উগ্রপন্থী ও জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ সদস্য র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারীর মধ্যে ছিল। এরই প্রেক্ষিতে গত ২১/০৯/২০১৭ তারিখে খিলগাঁও থানাধীন দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে  জেএমবি “সারোয়ার তামিম গ্রুপ” এর ‘ব্রিগেড আদ্-দার-ই-কুতনী’র কমান্ডার ইমাম মেহেদী হাসান @ আবু জিব্রিলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব-৩। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ইমাম মেহেদী জঙ্গিবাদে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজন সদস্য সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেছিল। ৩।    এরই ধারাবাহিকতায় ইমাম মেহেদী হাসান @ আবু জিব্রিল এর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গত ১৫ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ ১০৩০ ঘটিকায় রাজধানীর তেজগাঁও এলাকা হতে তার অন্যতম সহযোগী এবং সক্রিয় জঙ্গি সদস্য রিয়াসাত এলাহী চৌধুরী @ আবু হুরায়রা (২৮), পিতা-মৃত মাহবুব উল আলম চৌধুরী, বাসা নং-৫৫, হুন্ডার গলি, তেজগাঁও, ডিএমপি, ঢাকাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিয়াসাত জানায় যে, ২০১৫ সালে উগ্র মতবাদে বিশ্বাসী যুবক রাশেদের মাধ্যমে তার ‘ব্রিগেড আদ্-দার-ই-কুতনী’র কমান্ডার ইমাম মেহেদী হাসান @ আবু জিব্রিল এর সাথে পরিচয় হয়। ইমাম মেহেদী হাসান এর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে সে জঙ্গিবাদী কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ে। ইমাম মেহেদী তার সাংগঠনিক নাম আবু হুরায়রা প্রদান করে। পরবর্তীতে ইমাম মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে ‘ব্রিগেড আদ্-দার-ই-কুতনী’র বেশ কয়েকজন সদস্য রিয়াসাতের ফার্মগেটের বাসায় সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার জন্য গোপন বৈঠকে মিলিত হয়। একপর্যায়ে রিয়াসাত তার পরিচিত অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী উগ্র মতাদর্শে বিশ্বাসী যুবক আবু আ’তার @ নওরোজ রাইয়াত আমিনের সাথে ইমাম মেহেদী হাসানের পরিচয় করিয়ে দেয়। আবু আ’তার বাংলাদেশে থাকাকালীন সময় বেশ কয়েকবার রিয়াসাতের মাধ্যমে রাজধানীর চকবাজারস্থ শ্বশুর বাড়ীর ছাদে ইমাম মেহেদী হাসান সহ অনেকের সাথে গোপন বৈঠকে মিলিত হয়। ৪।    আসামীকে আদালতে উপস্থাপন করা হলে বিজ্ঞ আদালত ০৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। ৫।    উপরোক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ‘নব্য’ বুটিকস্ এর বিক্রয়কর্মী রোকসানা আক্তার টুম্পা হত্যার ঘাতক স্বামী সবুজকে যশোর থেকে গ্রেফতার।

১।    র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সবসময়ই অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, খুনি, মাদক ও মাদক ব্যবসায়ী, বিভিন্ন সদস্যদের গ্রেফতার পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। র‌্যাবের সৃষ্টিকাল থেকে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, খুনি, বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার, ছিনতাইকারী, চোরাকারবারী, অপহরণ ও প্রতারকদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে সংগঠিত চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে র‌্যাব জনগনের সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ২।    র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে খুন, গুম, অপহরণ, চাঁদাবাজী ও বিভিন্ন সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে উলে¬খযোগ্য ভূমিকা পালন করে আসছে এবং এই ব্যাপারে র‌্যাব ব্যাপকভাবে সফলতা অর্জন করেছে। গত ১৫ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০.৩০ ঘটিকায় রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন এক্স-২৩, রাজিয়া সুলতানা রোডস্থ ‘নব্য’ নামক বুটিক্স্ হাউজের বিক্রয়কর্মী মোছাঃ রোকসানা আক্তার টুম্পা (২৬), পিতা- আবুল বাশার হাজারী, সাং- কাঠালী, থানা ও জেলা- ভোলা’কে তার নিজ কর্মস্থল ‘নব্য’তে ঘাতক স্বামী মোঃ সবুজ শেখ (২৯), পিতা- মৃত মুনসুর আলী শেখ, সাং- বরইবুনিয়া, থানা- নাজিরপুর, জেলা- পিরোজপুর ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। পরবর্তীতে ভিকটিমকে তার সহকর্মীরা রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। উক্ত হত্যাকান্ডের বিষয়ে মৃতের বাবা আবুল বাশার হাজারী বাদী হয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় ঘাতক স্বামী সবুজকে আসামীকে করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।  মামলা নং- ৪৪, তারিখ- ১৬ অক্টোবর ২০১৭ খ্রিঃ, ধারাঃ ৪৪৮/৩০২/ ৩৪ দন্ড বিধি। উক্ত হত্যাকান্ড প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ায় দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ফলশ্রুতিতে ঘটনার পর থেকেই র‌্যাব এই নির্মম হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন ও অপরাধীকে গ্রেফতারের জন্য ছায়া তদন্তে নামে এবং গোয়েন্দা নজরদারী শুরু করে। ৩।    এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল ১৭ অক্টোবর ২০১৭ খ্রিঃ তারিখ ২০১০ ঘটিকার সময় এসআর হোটেল, যশোর হতে আসামী মোঃ সবুজ শেখ (২৯), পিতা- মৃত মুনসুর আলী শেখ, সাং- বরইবুনিয়া, থানা- নাজিরপুর, জেলা- পিরোজপুরকে আটক করে। আটককৃত আসামীকে উক্ত খুনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মৃত রোকসানা আক্তার টুম্পা তার ২য় স্ত্রী। টুম্পার সাথে তার ১ম বিয়ের পূর্বে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক থাকে, কিন্তু টুম্পার পরিবার এ সম্পর্ক মেনে না নিয়ে তার এক ফুফাতো ভাই এর সাথে বিবাহ ঠিক করে। পরবর্তীতে আসামী তার পরিবারের পছন্দে ১ম বিবাহ করে। কিন্তু উক্ত বিবাহ বিদ্যমান থাকলেও টুম্পার সাথে সবুজের পূর্ববর্তী সম্পর্ক বজায় রাখে। এক পর্যায়ে ১ম বিয়ের ৬ মাস পরে টুম্পা নিজের পিতামাতার অমতে ঘাতক সবুজ এর ১ম স্ত্রীকে মেনে নিয়ে বিয়ে করার জন্য নিজ বাড়ী হতে পালিয়ে বিবাহ করে। বিবাহের বছর খানেক পর হতে তাদের দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হয়। তারা একে অপরের সাথে বিভিন্ন ছোটখাট বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য, বাকবিতন্ডা ও বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। ফলে টুম্পা সবুজকে ২ বছর পরে ডিভোর্স দেয়। ডিভোর্স হওয়ার কিছুদিন পরে তারা আবার মান-অভিমান ভুলে গিয়ে পুনরায় সাভারের একটি কাজী অফিসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় বলে ধৃত আসামী জানায়। সবুজ শপার্স ওয়ার্ল্ডে এবং টুম্পা মিরপুর বুটিকস ফ্যাশনে বিক্রয়কর্মী হিসাবে যোগদান করে এবং তারা উভয়ে মিরপুরের একটি ভাড়া বাসায় দাম্পত্য জীবন অব্যাহত রাখে। সবুজের সন্দেহমুলক মনোভাব এর কারণে পুণরায় তাদের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ সবুজের চাচাতো ভাই নাসির এর দোকানে টুম্পা বিক্রয়কর্মী হিসাবে যোগদান করলে সেখানেও সবুজ নাসিরের সাথে টুম্পার সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলে তাদের দাম্পত্য জীবন মারাত্মক খারাপ রুপ ধারণ করে। ঘটনার দিন সকালে সবুজ ‘নব্য’ বুটিকসে গিয়ে এ সমস্ত বিষয় সমাধান করার জন্য টুম্পার সাথে ‘নব্য’ বুটিকসের ভিতরেই বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এরই ফলশ্রুতিতে পুর্বে ক্রয়কৃত একটি চাকু দিয়ে সবুজ টুম্পার গলায় ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় বলে জানায়। ৪।    ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক সবুজ আরো জানায় যে, নিজেকে আত্মগোপন করার জন্য সে প্রথমে পল্টন, যাত্রাবাড়ী হয়ে চট্টগ্রাম পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে সে ভারত পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘাতক সবুজ যশোরে অবস্থান করতে থাকে। এমতাবস্থায় তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে র‌্যাব-২ এর আভিযানিক দল যশোরের এস আর হোটেল (আবাসিক) হতে গ্রেফতার করে। ৫।    উপরোক্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর পল্টন থানাধীন পুরানা পল্টন এলাকা হতে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের ০২ জন সদস্যকে গ্রেফতার।

১।    সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশে বাংলাদেশী শ্রমিকের সুনাম ও চাহিদার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ হতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ জনশক্তি রপ্তানি হচ্ছে। এই সুযোগে একশ্রেণীর অসাধু দালাল চক্র এদেশের সাধারণ জনগণকে উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাঠানোর নামে পাচার করে দিচ্ছে। পাচারের শিকার সাধারণ জনগণ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বনে-জঙ্গলে, অর্ধাহারে-অনাহারে কিংবা মানবপাচারকারী চক্রের কাছে জিম্মি অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করে। এদের অনেকেই নির্যাতিত হয়ে মৃত্যুর মুখে পতিত হয়। ভাগ্য প্রসন্ন হলে শারিরীক ও মানসিকভাবে অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফেরত আসে। র‌্যাব এ ধরনের অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে বদ্ধ পরিকর। ২।    মোঃ হেলাল আহমেদ (৩৫), পিতা-মোঃ ইয়াছিন উদ্দিন বিশ্বাস, গ্রাম-সোনাপুর, থানা-বালিয়াকান্দি, জেলা-রাজবাড়ী র‌্যাব-৩ এর নিকট অভিযোগ দায়েন করেন যে, কুখ্যাত মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা তার শ্যালক ১। মোঃ আজাদ মন্ডল (৩২) সহ ২। সুজা উদ্দিন (৩২), ৩। মুজাহার হোসেন (৩৭) দেরকে কর্মী ভিসায় ইরাকে পাঠানোর কথা বলে অবৈধভাবে জাল ভিসায় ইরাকে প্রেরণ করেছে। পরবর্তীতে ভিকটিমদেরকে ইরাকে পৌছানোর সঙ্গে সঙ্গে মানবপাচারকারী চক্রের ইরাকে অবস্থানকারী সদস্যরা ভিকটিমদের নিজ হেফাজতে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে মারধর, শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করেছে এবং বাংলাদেশে তাদের অভিভাবকদের নিকট ফোন করে প্রত্যেক ভিকটিমের জন্য ৩,০০,০০০/- টাকা মুক্তিপন দাবী করেছে। মুক্তিপনের টাকা না দিলে তাদের প্রাণ নাশের হুমকি দেয় হচ্ছে। ৩।    এরই প্রেক্ষিতে র‌্যাব-৩ গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও ছায়া তদন্ত শুরু করে। আসামীদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে র‌্যাব-৩, সিপিসি-১ এর একটি আভিযানিক দল ১৭/১০/২০১৭ তারিখ ১৮৩০ ঘটিকায় শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্বরণী, ৬ষ্ঠ তলা, সাবেক ৩/৩ বি, সোলেমান প্লাজা, পুরাতন পল্টন, ঢাকা, মেসার্স আল আরাফ ইন্টারন্যশনাল অফিসে অভিযান পরিচালনা করে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের ০২ জন সদস্য (১) মোকলেছুর রহমান (৩৮), পিতা- হাজী কালাই মিয়া, সাং-সাতানী সেনের চর থানা- মেঘনা, জেলা-কুমিল্লা এ/পি- বাচ্চু মিয়ার বাড়ী মাদ্রাসা রোড, পশ্চিম মিজমিজি, থানা- সিদ্দিরগঞ্জ, জেলা-নারায়নগঞ্জ এবং (২) মোঃ জয়দুল হোসেন (৪২), পিতা-মৃত সুলতান আহমেদ, সাং- দুয়রা, থানা-মুরাদ নগর, জেলা-কুমিল্লা, এ/পি- ব্লক-সি,রোড নং-০৯, বাসা নং-৩৪, বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের অফিস তল্লাশী করে ৩০টি পাসপোর্ট, ০৩টি মোবাইল ফোন, ০১টি সিপিইউ, ০২টি মনিটর, ০১টি কী-বোর্ড, ০১টি মাউস, পাসপোর্টের তালিকা ৬০ পাতা, ০২টি ইরাকি ভিসার ফটোকপি, ৩০ পাতা বহির্গমন কার্ড, ০১ কপি ইমিগ্রেশন নোটিশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। চক্রের মূল হোতা আসামী কামাল সরদার সহ দেশী বিদেশী আরো ৮/১০ জন অজ্ঞাতনামা আসামী পলাতক রয়েছে। ৪।    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীগণ জানায় যে, তারা আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। ধৃত আসামী (১) মোকলেছুর রহমান (৩৮), (২) মোঃ জয়দুল হোসেন (৪২) ও পলাতক অসামী (৩) মোঃ কামাল সরদার মানব পাচারকারী চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী। তাদের রিক্রুটিং এজেন্সী লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে অসহায় দরিদ্র লোকদের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধ কাগজপত্র ও জাল ভিসার মাধ্যমে ইরাকে পাচার করে ও চক্রের বিদেশী সদস্যদের সহায়তায় তাদেরকে সেখানে আটকে রেখে মারধর, নির্যাতন এবং প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশে অবস্থানরত আতœীয় স্বজনদের নিকট হতে মুক্তিপণ আদায় করে। ৫।    উপরোক্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর সবুজবাগ এবং ওয়ারী থানাধীন এলাকা হতে জেএমবির (সারোয়ার-তামিম গ্রুপের) ০২ জন সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার।

১।    এলিট ফোর্স র‌্যাব সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ এর বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থানে থেকে নিরলস ভাবে কাজ করে আসছে। র‌্যাবের কর্ম তৎপরতার কারণেই সারাদেশে একযোগে বোমা বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন সময়ে নাশকতা সৃষ্টিকারী জঙ্গি সংগঠন সমূহের শীর্ষ সারির নেতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদেরকেও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভবপর হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে কারো কারো মৃত্যুদন্ড, যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়েছে, কেউ কেউ বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছে এবং বেশ কিছু মামলা এখানো বিচারাধীন। তবে, যে সকল জঙ্গি এখনো আত্মগোপন করে আছে তাদের তৎপরতা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। র‌্যাবের কঠোর গোয়েন্দা নজরদারী ও অভিযানের ফলে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন গুলোর নেতাকর্মীরা পূনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে বারবার ব্যর্থ হয়েছে এবং বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে আটক হয়েছে। ২।    এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল গত ১৮ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ ০২০০ ঘটিকা হতে ১১০০ ঘটিকা  পর্যন্ত  রাজধানীতে দুইটি পৃথক অভিযান পরিচালনা করে সবুজবাগ থানাধীন এলাকা হতে নারায়ণগঞ্জ জেলার রুপগঞ্জ থানার মামলা নং-২৭ তারিখ ১১ জুন ২০১৭ এর পলাতক আসামী ১। মোঃ গিয়াস উদ্দিন (৩৪), জেলা-কিশোরগঞ্জ এবং ওয়ারী থানাধীন এলাকা হতে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানার মামলা নং-৬৯ তারিখ ২২ আগষ্ট ২০১৭ এর পলাতক আসামী ২। মোঃ লিটন(৩৪), জেলা-নরসিংদী দ্বয়কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। ৩।     মোঃ গিয়াস উদ্দিন(৩৪), ২০০০ সাল থেকে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে রিক্সা চালায় এবং বার্বুচির কাজ করে। ২০১২ সালের মাঝামাঝি সে জসিম উদ্দিন রাহমানির বাবুর্চি হিসেবে কাজ শুরু করে। এ সময় সে জসিম উদ্দিন রাহমানির উগ্রবাদী বক্তব্য শোনার মধ্য দিয়ে জঙ্গিবাদে উদ্ধুদ্ধ হয়। পরবর্তীতে জসিম উদ্দিন রাহমানি গ্রেফতার হওয়ার পর কিছু দিন আত্মগোপনে থেকে ২০১৫ সাল থেকে ঢাকার নন্দী পাড়াস্থ কোরআন সুন্নাহ একাডেমী মসজিদে যাতায়াত শুরু করে এবং উক্ত মসজিদের ইমাম ও খতিব শায়েখ আরিফ হোসেন এর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরী করে। পরে আরিফ হোসেনের মাধ্যমে সে জেএমবির দাওয়াত প্রাপ্ত হয়ে জেএমবিতে (সারোয়ার-তামীম গ্রুপ) যোগদান করে এবং দাওয়াতী কাজ শুরু করে। সে পরবর্তীতে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে রিক্সা চালাতো এবং মাঝে মাঝে ঢাকার বিভিন্ন হোটেলে বার্বুচির কাজও করত। এই সকল কাজের অন্তরালে সে জেএমবির দাওয়াতী কাজ করে আসছিল। ৪।    মোঃ লিটন(৩৪), ২০০৫ সালে ঢাকায় এসে প্রথমে নাইট গার্ড এবং পরবর্তীতে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করে। সে ২০১২ সালে জসিম উদ্দিন রাহমানির মসজিদে যাতায়াত শুরু করে এবং জঙ্গীবাদে উদ্বুদ্ধ হয়। ২০১৩ সালে জনৈক মুনতাসির এর সাথে তার আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরী হয়। পরে ২০১৫ সালে মুনতাসির এর মাধ্যমে জেএমবির দাওয়াত প্রাপ্ত হয়ে জেএমবিতে (সারোয়ার-তামীম গ্রুপ) যোগদান করে দাওয়াতী কাজ শুরু করে। সে ছদ¥বেশ ধারন করত ঘন ঘন পেশা ও বাসস্থান পরিবর্তন করে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জেএমবির দাওয়াতী কাজ করে আসছিল। ৫।    উপরোক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকা হতে উগ্রবাদী ও রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারনায় জড়িত স্ব-ঘোষিত খলিফা ও ইমাম মাহাদী দাবীকারী আলক্বাযী মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন (৪৫) কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বিপুল সংখ্যক উগ্রবাদী লিফলেট উদ্ধার।

১।    এলিট ফোর্স র‌্যাব সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ এর বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থানে থেকে নিরলস ভাবে কাজ করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে র‌্যাব-১১ কর্তৃক উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জঙ্গী বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সকল অভিযানে গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদকালে কয়েক জন শিক্ষিত অপপ্রচারকারীদের তথ্য পাওয়া যায়, যারা উগ্রবাদী মতবাদ প্রচারের মাধ্যমে রাষ্ট্র বিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। প্রাপ্ত সে সকল তথ্যাদি যাচাই বাচাইয়ের পর তাদেরকেও আইনের আওতায় আনার জন্য র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরধারী বৃদ্ধি করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল গত ১৮ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ ০৩০০ ঘটিকা হতে ০৯০০ ঘটিকা পর্যন্ত রাজধানীর শাহজাহানপুর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে       স্ব-ঘোষিত খলিফা ও ইমাম মাহাদী দাবীকারী আলক্বাযী মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন(৪৫), জেলা- ফেনী’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। এই সময় তার নিজ কক্ষ থেকে বিপুল সংখ্যক উগ্রবাদী ও রাষ্ট্র বিরোধী প্রচারণা লিফলেট এবং এগুলো তৈরীর কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার ও প্রিন্টার জব্দ করা হয়। ২। গ্রেফতারকৃত আলক্বাযী মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন(৪৫), ১৯৮৬ সালে ফেনী আলীয়া মাদ্রাসা হতে আলিম পাশ করে এবং পরে মাদ্রাসা-ই-আলীয়া, ঢাকা হতে ফাযিল ও কামিল পাশ করে। এরপর সে ১৯৮৮-১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে ভর্তি হয়ে ১৯৯৩ সালে বিএ অনার্স এবং ১৯৯৫ সালে একই বিষয়ে মাষ্টার্স সম্পন্ন করে। পরবর্তীতে সে নজরুল সাহিত্যে ইসলামী ভাবধারা এবং আরবী ভাষা ও সাহিত্যের প্রভাব বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে এমফিল এর ১ম পর্ব শেষ করে। ৩।    গ্রেফতারকৃত আলক্বাযী মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন নিজেকে মহান আল্লাহ কর্তৃক মনোনীত বিশেষ দূত, অনুগত দাস, ইসলামের খলিফা এবং ইমাম মাহাদী হিসেবে দাবী করে দীর্ঘদিন যাবত অপপ্রচার চালিয়ে আসছিল। ইতিমধ্যে সে ৩০-৪০ জনের একটি অনুসারী দল তৈরী করেছে। তার নিজ বাসায় সে তার অনুসারীদেরকে উগ্রবাদী ও রাষ্ট্র বিরোধী বিষয়ে দীক্ষা দিত বলে জানা যায়। এই ধরনের বৈঠক বা আলোচনায় প্রায় সময়ই ১০-১৫ জন অনুসারী উপস্থিত থাকত। অনুসারীদের মধ্যে তার নেতৃত্বে দেশে ধর্মীয় শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভ্রান্ত মতবাদ প্রচার করে যাচ্ছিল। সে বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের নিকট ও প্রতিষ্ঠানে/সংস্থায় নামে/বেনামে অপপ্রচার স¤¦লিত লিফলেট প্রেরণ করে আসছিল। এই সকল লিফলেটে গণতন্ত্র, রাষ্ট্র বিরোধী অসংখ্য উগ্রবাদী মতামত সম্বলিত রয়েছে। ৪।    গ্রেফতারকৃত আলক্বাযী মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন ধর্মকে পুজি করে তার রাষ্ট্র বিরোধী উগ্রবাদের বীজ বপন করে চলছিল, যা যেকোন মুহুর্তে সামাজিক ও ধর্মীয় বিশৃঙ্খলা এবং নাশকতা তৈরীর সহায়ক। সে উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীকেও লক্ষ্য করে অপপ্রচার চালাতো। সে মদিনা সনদের ন্যায় ঢাকা সনদও প্রস্তুত করেছে বলে দাবী করে। তার মতে বাংলাদেশে বর্তমানে প্রাপ্ত পবিত্র কোরআনের বাংলা অনুবাদসমূহ সঠিক নয়। এই কারনে সে নিজে পবিত্র কোরআনের একটি পূর্ণাঙ্গ অনুবাদের খসড়া তৈরীর কাজ করছিল বলে জানায়। ৫।    গ্রেফতারকৃত আলক্বাযী মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন এর পৈত্রিক সম্পত্তি হতে প্রাপ্ত আয় ব্যতিত তার তেমন উল্লেখযোগ্য কোন আয়ের উৎস জানা যায়নি। কিন্তু সে দীর্ঘদিন যাবত একটি তথাকথিত মুসাফিরখানা চালাচ্ছে। সেখানে সে বিনামূল্যে তার অনুসারীদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা ছাড়াও তার অনুসারীদের প্রতিদিন ৫০-১০০ টাকা করে হাত খরচ দেয় যার বিনিময়ে অনুসারীরা তার প্রতি অনুগত থাকে। তার আয়ের সাথে ব্যয়ের অসংগতির বিষয়ে যথাযথ আয়ের উৎস দেখাতে পারেনি। এছাড়াও নিজের উগ্র, রাষ্ট্র বিরোধী ও ভ্রান্ত ধর্মীয় মতবাদসমূহ সে নিজেই প্রণয়ন করে থাকতো এবং এগুলো প্রচারের জন্য তার অনুসারীদের ব্যবহার করে থাকে। ৬।     গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

র‌্যাবের অভিযানে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী ও চাঁদাবাজ চক্রের ০৫ সদস্য গ্রেফতার। মালয়েশিয়াগামী যাত্রীর ছিনতাইকৃত পাসপোর্টসহ ৭ টি পাসপোর্ট ও জিম্মি করে আদায়কৃত ব্যাংক চেক জব্দ।

১।    র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জঙ্গি, সন্ত্রাসী, সংঘবদ্ধ অপরাধী, অস্ত্রধারী ও ছিনতাইকারী গ্রেফতারের ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালিয়ে আসছে। অপরাধীরা নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন সহ জনগণকে জিম্মি করে বিভিন্নভাবে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে থাকে। এসকল অপরাধীদের আইন আমলে আনার জন্য র‌্যাব দ্রুত ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে অপরাধ দমনে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে আসছে। ¬২।    গত ১৯ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে র‌্যাব-১০, ধলপুর, যাত্রাবাড়ী, ঢাকার অধিনায়ক বরাবর জনৈক মোঃ শাহ আলী, পিতা-আব্দুস সামাদ, সাং-মশুলদি, থানা-সোনারগাঁও, জেলা- নারায়ণগঞ্জ এক অভিযোগের মাধ্যমে জানান, ১৯ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ সকাল অনুমান ০৭.১৫ ঘটিকায় অভিযোগকারী ও তার ভাই মালয়েশিয়াগামী যাত্রী মোঃ শাহ জালাল সহ সিএনজি যোগে রাজধানী সুপার মার্কেটের সামনে দিয়ে টিকাটুলি-মতিঝিল অভিমুখে যাওয়ার সময় রাজধানী সুপার মার্কেট সংলগ্ন খেলনা বাজার দোকানের কাছাকাছি আসলে ৪ জন লোক সিএনজির গতিরোধ করে দাড়ায়। ২ জন লোক পিস্তল ও ২ জন লোক ধারালো অস্ত্র তাদের দুই ভাইয়ের গলায় ঠেকিয়ে মালয়েশিয়ার ভিসা যুক্ত মোঃ শাহ জালাল এর ১ টি পাসপোর্ট, যার নং- ইই ০১৭৬০৩৭, ঊীঢ়: ১৪/০৫/২০১৯, নগদ ৩৫,০০০/- টাকা ও ১ টি মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার বিষয়ে ডিএমপি ঢাকার ওয়ারী থানার মামলা নং-২২ তারিখ ১৯/১০/২০১৭ ধারা ঃ ৩৯২ দঃ বিঃ রুজু হয়। ৩।    এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১০ এর একটি অভিযানিক দল ছিনতাইকারী চক্রকে আইনের আওতায় আনার জন্য সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেন। গত ২১ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ সন্ধ্যা ৬ টায় মামলার বাদী র‌্যাবকে জানান, তার ভাইয়ের ছিনতাইকৃত পাসপোর্ট ১ লক্ষ টাকা দিলে ছিনতাইকারীরা ফেরত দিবে। র‌্যাব অভিযোগকারীকে ছিনতাইকারীদের প্রস্তাব গ্রহণের কথা বলে ফাঁদ পেতে আসামীদের ধৃত করার লক্ষে অভিযান পরিচালনা করে। আসামীরা মতিঝিল, ওয়ারী সহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি পরখ করেন। এক পর্যায়ে ২১ অক্টোবর রাত অনুমান ৯ টায় ইত্তেফাক মোড়ে ফুটপাতে ভিকটিমের নিকট হতে টাকা গ্রহণ করার সময় উপস্থিত জনগণের সম্মূখে ছিনতাইকৃত পাসপোর্ট সহ অপর ৬ ব্যক্তির ৬ টি পাসপোর্ট, বিভিন্ন যাত্রীদের জিম্মি করে আদায়কৃত অগ্রীম চেক সহ মোট ৫,১৩,০০০/- টাকার চেক, ৮ টি মোবাইল ফোন সহ ঘটনার দিন ছিনতাই কাজে জড়িত ৩ জন যথাক্রমে (১) মোঃ সালাউদ্দিন (৩৯), পিতা-মৃত আমির উদ্দিন, সাং-৪০/১ ফকিরাপুল, কমর গলি, থানা-মতিঝিল, ঢাকা; (২) মোঃ শামসুল আলম (৩৮), পিতা-মৃত মনতাজ উদ্দিন, সাং-জগতপুর, থানা-লাকসাম, জেলা-কুমিল্লা, বর্তমান সাং-বাড়ী নং-২৫৫ (দিলদারের বাড়ীর ভাড়াটিয়া) ফকিরাপুল, গরম পানির গলি, থানা-মতিঝিল, ঢাকা; (৩) ফরিদ আহাম্মেদ স্বপন (৩৫), পিতা-মোঃ আবুল কালাম, সাং-ইসলামপুর, থানা-মনোহরগঞ্জ, জেলা-কুমিল্লা এবং পাসপোর্ট জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগে ২ জন যথাক্রমে (৪) মোঃ জামাল হোসেন (৫৫), পিতা-আলী নওয়াব, সাং-বাউপুর, থানা-মনোহরগঞ্জ, জেলা-কুমিল্লা, বর্তমান সাং-বাড়ী নং-৪৬৬ জাহিদ মন্ডলের ভাড়াটিয়া, আশকোনা মেডিকেল রোড, থানা-দক্ষিণ খান, ঢাকা; (৫)  নুর ইসলাম (৪৬), পিতা-মৃত নুরনবী, সাং-খাইলকুর দক্ষিণ, থানা-সদর, জেলা-গাজীপুর সহ মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করে। র‌্যাব এর উপস্থিতি টের পেয়ে চাঁদাবাজ চক্রের অপর আসামী হানিফ, দুলাল, সেলিম সহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন আসামী পালিয়ে যায়। আসামীরা অভিনব কায়দায় বিদেশগামী যাত্রীদের ছিনতাইকৃত পাসপোর্ট জিম্মি করে বড় অংকের টাকা গ্রহণের মাধ্যমে ফেরত প্রদান করে। ক্ষেত্র বিশেষে নিরীহ যাত্রীদের নিকট হতে অগ্রীম চেক গ্রহণ সহ মুক্তিপণ আদায়ের মাধ্যমে বড় অংকের টাকা গ্রহণ করে থাকে। ৪।     ছিনতাইয়ের শিকার যাত্রী/জনগণ/পথচারীরা ২ ভাবে হয়রানীর শিকার হয়ে থাকে। প্রথমতঃ অভিযোগকারীরা প্রাথমিকভাবে ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে নগদ টাকা, পাসপোর্ট, টিকেট, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার সহ অনেক মূল্যবান সম্পদ খুইয়ে থাকে। দ্বিতীয়তঃ ছিনতাই পরবর্তীতে পাসপোর্ট, মোবাইল সহ ছিনতাইকৃত মূল্যবান ডকুমেন্ট ফেরত প্রদানের আশ্বাস দিয়ে অনেকটা জিম্মি করে নগদ টাকা গ্রহণ করে। কখনো কখনো ছিনতাইকৃত মালামাল ফেরত প্রদানের প্রলোভন দেখিয়ে নিভৃত স্থানে নিয়ে বড় ধরণের মুক্তিপণ আদায় করে থাকে। ৫।     উপরোক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।