সাম্প্রতিক কার্যক্রম :
ঢাকা মহানগরীর পল্লবী থানাধীন এলাকা হতে অপহরনের ৩৬ ঘন্টার মধ্যে ভিকটিম উদ্ধারসহ অপহরনকারী ০৪ জন গ্রেফতার। ✱ রাজধানীর পল্লবী এলাকা হতে মেট্রো রেল প্রকল্পের মালামাল চুরির সংঘবদ্ধ চোর চক্রের ২ সদস্য’কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৪ঃ চোরাইকৃত মালামালসহ একটি পিকআপ ও সিএনজি জব্দ। ✱ র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর শ্যামপুর থানা এলাকা হতে ০২ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতারসহ ০১ টি বিদেশী পিস্তল, ০১ টি বিদেশী রিভলবার, ০১ টি ম্যাগাজিন, ০৪ রাউন্ড গুলি এবং ১৬৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার। ✱ র‌্যাব-৭ এর অভিযানে চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা এলাকা হতে চোরাইকৃত ১১,৩১০ লিটার ডিজেল উদ্ধারসহ ০১ জন চোরাকারবারী আটক। ✱ র‌্যাব-৭ এর অভিযানে চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী এলাকা হতে ০১ টি থ্রি কোয়ার্টার এলজি, ০১ রাউন্ড গুলি, ০১ টি চাকু এবং ০১ টি দা’সহ ০১ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী আটক ✱ র‌্যাব-৭ এর অভিযানে চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী এলাকা হতে ০১ টি থ্রি কোয়ার্টার এলজি, ০১ রাউন্ড গুলি, ০১ টি চাকু এবং ০১ টি দা’সহ ০১ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী আটক। ✱ র‌্যাব-১১ এর অভিযানে নারায়ণগঞ্জের বন্দর হতে ০১ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার, ০৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার। ✱ র‌্যাব-৯, সলিটে এর অভযিানে মৌলভীবাজার জলোর সদর থানা এলাকা হতে ৫৮৬ পসি ইয়াবা’সহ একজন মাদক ব্যবসায়ী গ্রফেতার। ✱ র‌্যাব-৮ সিপিসি-২ ফরিদপুর ক্যাম্প কর্তৃক ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানা হতে ইয়াবাসহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ী আটক ✱ র‌্যাব-১১ এর অভিযানে সিদ্ধিরগঞ্জ হতে ০১ চাঁদাবাজ গ্রেফতার ✱

সাম্প্রতিক কার্যক্রম

আবারও নিজ গাড়ীতে জাতীয় সংসদের মনোগ্রাম ব্যবহার করল চিহ্নিত অপরাধী সালেহ আহমেদ @ কার্লোস

১।     গত ৩০/০৬/২০১৭ তারিখ রাতে রহিমা আক্তার (৩০) নামক গৃহ পরিচালিকাকে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে চিহ্নিত অপরাধী সালেহ আহমেদ @ কার্লোস গৃহ পরিচালিকাকে দিগন্ত টাওয়ার এর ৭ম তলা হতে ফেলে দিলে মারাত্মক আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ খবর প্রাপ্তির সাথে সাথে র‌্যাব-৩ এর একটি টিম সেখানে গিয়ে জানতে পারে তার ঘরে স্ত্রী পরিচয়দানকারী আরো ০১ জন আহত অবস্থায় পড়ে আছে। তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। ঘটনার সাথে সাথে অপরাধী সালেহ আহমেদ @ কার্লোস (৪০) পালিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদের জানা যায় যে, সালেহ আহমেদ @ কার্লোস ২০১৪ সালে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। সে সময় অবৈধ মূদ্রা ও হুন্ডি ব্যবসা, মাদক ব্যবসা এবং নিজ গাড়ীতে জাতীয় সংসদের মনোগ্রাম ব্যবহার করার অপরাধে তাকে র‌্যাব গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনেছিল। এ তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে জানা যায় যে, বর্তমানেও সে তার কর্তৃক ব্যবহƒত একটি বিলাসবহুল গাড়ীতে জাতীয় সংসদের মনোগ্রাম ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রকার অবৈধ এবং অসামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পরবর্তীতে র‌্যাব-৩, সিপিসি-২ এর একটি আভিযানিক দল গত ০১/০৭/২০১৭ তারিখ ঢাকা মহানগরস্থ শাহবাগ থানাধীন ৩/৩এ, পরীবাগ (দিগন্ত টাওয়ার) এর পার্কিং-২ হতে একটি নতুন মডেলের ঐণটঘউঅও-ঐ১ মাইক্রোবাস (যার রেজিঃ নং-ঢাকা মেট্রো-চ-১৫-৫৫০৬) উদ্ধার করে। সেখানে গাড়ীটিতে জাতীয় সংসদের মনোগ্রাম লাগানো ছিল। র‌্যাব-৩ তথ্যানুসন্ধান করে জানতে পারে যে, গাড়ীটি চিহ্নিত অপরাধী সালেহ আহমেদ @ কার্লোস (৪০), পিতা-মোঃ আবুল হোসেন, ৭এম, দিগন্ত টাওয়ার, ৩/৩এ, পরীবাগ, শাহবাগ, ঢাকা কর্তৃক হুন্ডি ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের জন্য ব্যবহার করে। উল্লেখ্য যে, গত ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালে র‌্যাব কর্তৃক শাহবাগ এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করার সময় তার নিকট থেকে ৩০০০ ইউরো, ৭৮৭৬ ইউএস ডলার, ৭৫০০ সৌদি রিয়াল, নগদ ৮,০০,০০০/- টাকা, ২৩ পিস ইয়াবা এবং জাতীয় সংসদের মনোগ্রাম খচিত নম্বর প্লেট বিহীন ০১টি নতুন মার্সিটিজ বেঞ্জ জীপ গাড়ী উদ্ধারপূর্বক তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তথ্য সংগ্রহে জানা যায় যে, সালেহ আহমেদ @ কার্লোস  দীর্ঘদিন যাবৎ পরীবাগে তার নিজস্ব ফ্ল্যাটে ইয়াবা সেবন, বিকৃত যৌনচার, হুন্ডি ও মাদক ব্যবসাসহ অন্যান্য অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত। ২।    বর্তমানে উক্ত অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

র‌্যাবের অভিযানে আশুলিয়া থানার নয়ারহাট এলাকা হতে আন্তঃজেলা বাস ডাকাত দলের ০৩ জন সদস্য গ্রেফতার।

১।     এলিট ফোর্স হিসেবে র‌্যাব আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন থেকেই বিভিন্ন ধরণের নৃশংস ও ঘৃন্যতম অপরাধ নির্মূলের লক্ষ্যে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে আসছে। ডাকাতি বা সম্পত্তি সংক্রান্ত অপরাধ ফৌজদারী অপরাধ সমূহের মধ্যে সবচেয়ে ঘৃন্যতম অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। এহেন ঘৃণ্য অপরাধকে নির্মূলের জন্য র‌্যাবের প্রতিটি সদস্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে সমাজের সকল স্তরের সকল নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ বাসযোগ্য সমাজ তথা দেশ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ২।     গত ২২ মে ২০১৭ তারিখ রাত অনুমান ০৩.০০ ঘটিকায় গ্রেফতারকৃত আসামীরাসহ ১৫/১৬ জনের একটি ডাকাত দল গাজীপুর চৌরাস্তার চৌধুরী ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন রাস্তার পূর্বপাশে পার্ক করা ঢাকা মেট্রে – ব-১১-১৫০১ বাসটি ডাকাতি করে নিয়ে যায়। ঐ সময় বাসটির মালিক ও ড্রাইভার মোঃ শামীম এবং তার ভাই সুজন গাড়ীতে ঘুমিয়ে ছিল। ডাকাত সদস্যরা তাদেরকে মারধর করে হাত-পা, চোখ-মুখ বেঁধে গাড়ীর পেছনের সিটে ফেলে রাখে। এরপর ডাকাত দল বাসটি চালিয়ে কালিয়াকৈর চন্দ্রা,সাভার, নবীনগর মির্জাপুর সহ বিভিন্ন স্থান হতে ১/২ জন করে কৌশলে ১৫/১৬ জন যাত্রী গাড়ীর উপর উঠায় এবং যাত্রিদের মারধর করে সর্বমোট ৪৬,৮১০/-টাকা ও ৮টি মোবাইল সেট কেড়ে নিয়ে হাত,পা,চোখ, মুখ বেধে গাড়ীতে ফেলে রাখে। ২৩ মে ২০১৭ তারিখ ১০.৩০ মিনিটের সময় ঈশ্বরদী থানাধীন বড়ইচড়া পাকা রাস্তার উপর পৌঁছাইলে বাস মালিক ও ড্রাইভার কৌশলে বাসের জানালা খুলে ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার দিলে স্থানীয় জনতা ও ঈশ্বরদী থানা পুলিশের সহায়তায় ১। মোঃ বিপ্লব হোসেন (২৩), ২। ইলিয়াছ আলী (২৭), ৩। মোঃ জসিম উদ্দিন (২০), ৪। মোঃ জাহিদুল ইসলাম (২০), ৫। মোঃ সুমন (২১)’দের গ্রেফতার করে। অপরাপর আসামীগণ পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় বাস মালিক ও ড্রাইভার মোঃ শামীম এর অভিযোগের ভিওিতে ঈশ্বরদী থানার মামলা নং-৬২ তাং-২৩/০৫/১৭ ধারা-৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড রুজু হয়। উপরোক্ত মামলার পলাতক আসামীগণ র‌্যাব-৪ এর সিপিসি-২ এলাকায় অবস্থান করছে মর্মে তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাবকে অবহিত করেন। ৩।     পুলিশের নিকট হতে উপরোক্ত আসামীদের সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর র‌্যাবের গোয়েন্দা অনুসন্ধান ও আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় জানতে পারে যে, উল্লেখিত পলাতক আসামীগণ ঢাকা জেলাধীন আশুলিয়া থানার নয়ারহাট নামক স্থানে অবস্থান করছে। র‌্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল অদ্য ০৪ জুলাই ২০১৭ ইং তারিখ দিবাগত রাত্রি ০০.০৫ ঘটিকার সময় উক্ত স্থানে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে আসামী (১) মোঃ ফকরুল কবির শান্ত (২৩), পিতা-কাজী মোঃ জনিক মিয়া, সাং-আদিত্যপুর (তিমির পুর) থানা-নবীগঞ্জ জেলা-হবিগঞ্জ, এ/পি- তালুকদার ভিলা, শাহীবাগ আ/এ, ১নং গেইট, সাভার, ঢাকা, (২) মোঃ অনিক ইসলাম @ হৃদয় (২৩), পিতা- মোঃ আশরাফুল ইসলাম, সাং-কায়ামারিয়া, থানা- দৌলতপুর, জেলা- কুষ্টিয়া, এ/পি-জনৈক মুজিবরের বাড়ির ভাড়াটিয়া, রাজফুলবাড়িয়া, সাভার, ঢাকা, (৩) মোঃ দেলোয়ার হোসেন @ দেলু (১৯) পিতা-মোঃ হামিদ মিয়া সাং-রাজফুলবাড়ীয়া (নগর চর), থানা- সাভার, জেলা- ঢাকাদেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এ সময় তাদের নিকট হতে ০১ টি বিদেশী রিভলবার, ০৬ রাউন্ড গুলি, ১৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ০৩ টি মোবাইল সেট, মাদক বিক্রিত নগদ ৬৮৫/- (ছয়শত পঁচাশি) টাকা পাওয়া যায় এবং এদের সাথে থাকা অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন পালিয়ে যায়। ৪।     আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে এবং তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক জানা যায় যে, অত্র এলাকায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ২৫/৩০ জনের একটি চক্র আছে। তারা বিভিন্ন সময়ে সারা দিন গাড়ি চালানোর পর যে সব গাড়ি পার্ক করা থাকে সেই সব গাড়িকে টার্গেট করে। গাড়িতে ঘুমন্ত ড্রাইভার/হেলপারকে মারধর করে হাত-পা, চোখ-মুখ বেঁধে গাড়ির পিছনের সিটে ফেলে রেখে নিজেরাই গাড়ি চালিয়ে যাত্রী উঠিয়ে মারধর করে এবং সাথে থাকা টাকা-পয়সা, স্বর্নালংকার, মোবাইল ফোন সহ সব কিছু কেড়ে নেয়। ধৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায় যে, তারা বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাসে যাত্রী বেশে বিভিন্ন জায়গা থেকে ২/৩ জন করে উঠে এবং ঐ বাসেই ডাকাতি করে। এভাবে তারা ঢাকা, মানিকগঞ্জ, নারায়ানগঞ্জ, কুমিল্লা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, পাবনা, বগুড়া সহ আস-পাশের জেলা সমূহে এ পর্যন্ত ৮০/৯০ টি ডাকাতির ঘটনায় জড়িত মর্মে র‌্যাবের কাছে স্বীকার করে। ৫।    উপরোক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

র‌্যাবের অভিযানে লিবিয়া ফেরত ০১ জন ভিকটিম উদ্ধার

র‌্যাবের অভিযানে লিবিয়া ফেরত ০১ জন ভিকটিম উদ্ধার ১।    সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশে বাংলাদেশী শ্রমিকদের সুনাম ও চাহিদার ভিত্তিতে বিপুল পরিমাণ জনশক্তি বিদেশে গমন করছে। তাদের কষ্টার্জিত আয় আমাদের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এ সুযোগে বাংলাদেশের এক শ্রেনীর অসাধু দালাল চক্র স্বল্প আয়ের মানুষদের প্রলোভন দেখিয়ে আর্ন্তজাতিক মানবপাচার  চক্রের যোগসাজসে বিদেশে প্রেরনের নামে মানব পাচার করছে। এ ধরনের পাচারের শিকার সাধারণ জনগণ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, বনে জঙ্গলে কিংবা কোথাও কোথাও জিম্মি অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। এরুপ ঘটনার শিকার মোঃ ফজলুল হক (৩৬), পিতা- ওয়াজ আলী, সাং-বরজাপুর, থানা+জেলা-জামালপুর। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৩ এর একটি আভিযানিক দল অদ্য ০৪ জুলাই ২০১৭ তারিখে হযরত শাহজালাল (রঃ) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হতে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (ওঙগ) এবং লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় লিবিয়া ফেরত ভিকটিম মোঃ ফজলুল হক (৩৬), পিতা-মোঃ ওয়াজ আলী, সাং-বজরাপুর, থানা+জেলা-জামালপুরকে উদ্ধার  করে। ২।    গত বছর প্রতিবেশী লিবিয়ান প্রবাসী মোঃ রাসেল এর সাথে ভিকটিম ফজলুল এর পরিচয় হয়। পরিচয়ের এক পর্যায়ে তার সাথে ভিকটিমের কথা হয় এবং সে ভিকটিমকে লিবিয়া যাওয়া প্রস্তাব দেয়। এ প্রস্তাবে ভিকটিম ফজলুল হক রাজি হলে রাসেল বলে ৪,০০,০০০/- (চার লক্ষ) টাকা হলে লিবিয়ায় পাঠানো যাবে। রাসেল ভিকটিম ফজলুলকে প্রলোভন দেখায় যে, লিবিয়ায় সে ৫০ হতে ৬০ হাজার টাকা বেতনে চাকুির পাবে। উন্নত জীবনের আশায় ভিকটিম রাজী হয়ে প্রথমে রাসেলকে ৫৫,০০০/- টাকা প্রদান করে। পরবর্তীতে ভিকটিমের সাথে রাসেল আবু তালেব নামের এক ব্যক্তিকে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং তার কথা মতো ভিকটিম তালেবকে ১,৮০,০০০/- টাকা তার এ্যাকাউন্ট জমা দেয়। রাসেল ভিকটিমের টাকা নিয়ে তাকে লিবিয়া না পাঠিয়ে সে নিজে লিবিয়া চলে যায়। রাসেল লিবিয়া চলে গেলে ভিকটিম তালেবকে ফোন দিলে সে ফোন ধরে না। অনেক খোঁজাখুজির পর ভিকটিম তালেবকে খুঁজে বের করে। তালেব ভিকটিমকে ঢাকায় এসে তার সাথে দেখা করতে বলে। দেখা করার পর তালেব ভিকটিম ফজলুলকে বলে লিবিয়া যেতে আরও ৩,২০,০০০/- টাকা লাগবে। ভিকটিম তালেবের কথায় রাজি হয়ে ৩,২০,০০০/- টাকা প্রদান করে।  পরবর্তীতে তালেব, মোয়াজ্জেল নামক আরেক ব্যক্তির সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলে সে তোমাকে লিবিয়া পাঠাবে। মোয়াজ্জেল ভিকটিম ফজলুলকে কিছুদিন অপেক্ষা করতে বলে। পরবর্তীতে মোয়াজ্জেল ভিকটিককে বলে ১৩ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে তোমার ফ্লাইট তুমি ঢাকা এয়ারপোর্টে চলে এসো। সে মোতাবেক ভিকটিম ১৩ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে সকাল ১১.০০ ঘটিকায় ঢাকা হযরত শাহজালাল(রঃ) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আসলে মোয়াজ্জেল ভিকটিমকে কাতারের ভিসা লেখা একটা কাগজ দিয়ে বিমানবন্দর এলাকার একটি গাছ দেখিয়ে বলে ঐ গাছের নিচে চলে যাও। তোমার মত আরো ৬/৭ জনসহ কল্লোল ও কাইয়ুম সেখানে আছে। কল্লোল ও কাইয়ুম আমার লোক তারা তোমাকে কিছু দিন পর লিবিয়ায় পাঠানোর বাকি ব্যবস্থা করবে। কাইয়ুম ও কল্লোল আরো কিছু কাগজপত্র দিয়ে ভিকটিম ফজলুল হককে বিমানে উঠিয়ে দিলে ভিকটিম চট্রগ্রাম হয়ে দুবাই তারপর মিশর, মিশর থেকে তুর্কি, তুর্কি থেকে লিবিয়া এয়ারপোর্টে পৌঁছালে লিবিয়ান এয়ারপোর্ট থেকে একজন লিবিয়ান তাকে রিসিভ করে লিবিয়ান প্রবাসী নোয়াখালীর রাজ্জাকের বাসায় নিয়ে যায়। রাজ্জাক তাকে তার বাসায় আটকে রেখে মারপিট করে ও অনাহারে রেখে ভিকটিমের নিকট আরো ৪,০০,০০০/-  টাকা দাবি করে। উক্ত ৪,০০,০০০/- লক্ষ টাকা না দিলে তাকে প্রাণে মেরে লাশ মরুভূমিতে গুম করে ফেলবে বলে জানায়। তখন ভিকটিম জানতে পারে আসামী রাসেল, আবু তালেব, মোয়াজ্জেল, কল্লোল, কাইয়ুম@পলাশ তাকেসহ তার মতো আরো অনেক বাংলাদেশীকে ভূয়া ভিসার মাধ্যমে লিবিয়ায় পাচার করে রাজ্জাকের বাসায় আটক রাখে মারপিট করে এবং মুক্তিপণ দাবি করে। এর মধ্যে ভিকটিম ফজলুল হক তার বোনকে ফোন করে জানায় এবং ৪,০০,০০০/-টাকা দিতে বলে। ভিকটিমের বোন নিরুপায় হয়ে র‌্যাব-৩ এ একটি অভিযোগ দায়ের করে। মুক্তিপণ দাবিকৃত ৪,০০,০০০/-টাকা নিতে আসার সময় তালেব ও মোয়াজ্জেম র‌্যাবের হাতে ধার পড়ে এবং কল্লোল ও কাইয়ুম কৌশলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে র‌্যাব লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় ভিকটিম ফজলুল হককে জিম্মিদশা হতে উদ্ধার করে এবং যেখানে ৬ মাস দূতাবাসের হেফাজতে রাখে।

র‌্যাবের অভিযানে সুন্দরবনের নন্দবালা খাল এলাকা হতে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ০২জন জলদস্যু-বনদস্যু গ্রেফতার।

১।    ঐশ্বর্যময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য আর জীব বৈচিত্রের স্বমহিমায় বিশাল সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল হাজার হাজার উপকূলবর্তী মানুষ প্রতি নিয়তই বনদস্যু/জলদস্যুদের আক্রমনের শিকার হয়। সুন্দরবন সহ বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় বনদস্যু, জলদস্যুদের দমনের লক্ষ্যে র‌্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ড, বিজিবি ও বন বিভাগের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স কাজ করছে, যার প্রধান সমন্বয়কারী র‌্যাব মহাপরিচালক। র‌্যাব সুন্দরবন এলাকায় জলদস্যু ও বনদস্যুদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। র‌্যাবের এই কঠোর তৎপরতার কারনে গত ৩১ মে ২০১৬ তারিখ হতে ২৯ এপ্রিল ২০১৭ তারিখ পর্যন্ত বিগত ১ বছরে সর্বমোট ১২টি বাহিনীর ১৩২জন জলদস্যু, ২৪৯টি অস্ত্র ও ১২,৫৯২ রাউন্ড গোলাবারুদ’সহ র‌্যাব-৮ এর নিকট আতœসমর্পণ করে)। ২।    সুন্দরবন ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলে জলদস্যুদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ভেঙ্গে যাওয়ায় বর্তমানে শূণ্যতা বিরাজ করছে। একাধিক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র্র্র বাহিনী এ সুযোগে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করলেও র‌্যাব ও বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অভিযানে পর্যদূস্ত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে পূর্ব সুন্দরবনের “গুরু বাহিনী” নামে নতুন এক জলদস্যু বাহিনীর আতœপ্রকাশ ঘটেছে। ৫/৭ জনের ওই দস্যু দল তাদের ক্ষমতার জানান দিতে আড়পাঙ্গাসিয়া, ছোটকলাগাছিয়া নদী এবং নদী সংলগ্ন বিভিন্ন খাল, চাঁদপাই ও সাতক্ষীরা রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় নিরীহ জেলেকে অপহরণ ও মাছ ধরার ট্রলারে লুটপাট চালায়। দস্যুরা মোবাইলের মাধ্যমে জেলে মহাজনদের কাছে মোটা অংকের মুক্তিপণ দাবি করার পাশাপাশি তাদের বিষয়ে কারো কাছে কোন তথ্য দিলে চরম মূল্য দিতে হবে হুশিয়ারি করে দিয়েছে মহাজনদের। ‘‘গুরু বাহিনী’’ কর্তৃক জেলেদের প্রতি নৃশংতা ও ডাকাতি কার্যক্রমের ক্রমাগত ঘটনা অত্র ব্যাটালিয়নের গোচরে আসে। বর্তমান সময়ে উক্ত বাহিনী সুন্দরবনের শিবসা, আড়পাঙ্গাসিয়া, ছোটকলাগাছিয়া নদী, চাঁদপাই, খুলনা এবং সাতক্ষীরা রেঞ্জের বিভিন্ন চর অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জেলে অপহরণ করে মুক্তিপন আদায়সহ নৃশংস ডাকাতী কাজ করছে বলে বিভিন্ন জাতীয় পত্র পত্রিকা ও মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। ৩।    বর্ণিত ‘‘গুরু ’’ বাহিনীর অবস্থান সনাক্তের ব্যাপারে র‌্যাব-৮ তার গোয়েন্দা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকে। গোয়েন্দা তথ্য, বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় এবং স্থানীয়দের তথ্য মতে জ্ঞাত হওয়া যায় যে, ‘‘গুরু’’ বাহিনী সুন্দরবনের আড়পাঙ্গাসিয়া, ছোটকলাগাছিয়া নদী এবং নদী সংলগ্ন বিভিন্ন খাল, চাঁদপাই, খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় নিরীহ জেলেকে অপহরণ ও মাছ ধরার ট্রলারে লুটপাট চালায়। ১ অপহরণ পরবর্তী কৌশলে জেলেদের পরিবারকে ফোন করে জন প্রতি বিপুল অংকের টাকা মুক্তিপন দাবি করে। মুক্তিপন দিয়ে কতিপয় জেলে ছাড়া পায় এবং মুক্তিপণ দিতে অপারগ জেলেদের অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। এমন সংবাদের ভিত্তিতে ডাকাতী প্রবণ এলাকা সমূহে র‌্যাব-৮ তার গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করে। এরই ফলশ্রুতিতে অদ্য ০৫ জুলাই ২০১৭ তারিখ ‘‘গুরু’’ বাহিনীর সম্ভাব্য আস্তানা সনাক্ত হবার সাথে সাথেই উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে  র‌্যাব-৮, বরিশাল, সদর কোম্পানী একটি আভিযানিক দল পশুর নদীর ধরে গোয়েন্দা দ্বারা চিহ্নিত এলাকার দিকে অগ্রসর হতে থাকে। অদ্য ০৫ জুলাই ২০১৭ তারিখ সকাল আনুমানিক ১১০০ ঘটিকায় নন্দবালা  খাল নামক স্থানের কাছাকাছি পৌছালে স্থানীয় জেলেদের দেয়া তথ্য মতে নন্দবালা খালের গভীরে একটি হাতে বাওয়া নৌকাকে কেন্দ্র করে বনের ভিতর কয়েকজন লোককে সন্দেহজনক ভাবে অবস্থান করতে দেখা যায়। আভিযানিক দলটি কৌশলগত ভাবে সাবধানতার সাথে তাদের দিকে লক্ষ্য করে এগিয়ে যেতে থাকে। র‌্যাব সদস্যগন কৌশল অবলম্বন করে তাদের কাছাকাছি পৌছালে সন্দেহভাজন দস্যুরা র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে দেখে র‌্যাবের আভিযানিক দল তাদেরকে ধাওয়া করে অস্ত্র ও গুলিসহ ০২জন জলদস্যু/বনদস্যুদেরকে আটক করে। আটককৃত জলদস্যু/বনদস্যুদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা কুখ্যাত জলদস্যু/বনদস্যু ‘‘গুরু বাহিনীর’’ বাহিনী প্রধান/সক্রীয় সদস্য বলে নিুেবর্নিত নাম ও পরিচয় প্রদান করেঃ (১) মোঃ আনিস শেখ (৪৩), পিতাঃ মৃতঃ ইসরাফিল, সাং-বরনি, থানাঃ রামপাল, জেলাঃ বাগেরহাট এবং (২) মোঃ আকরাম সানা (৩২), পিতাঃ মোঃ ইদ্রিস আলী সানা, সাং-কাপাসডাঙ্গা, থানাঃ রামপাল, জেলাঃ বাগেরহাট উল্লেখিত জলদস্যু/বনদস্যু’সহ এবং ঘটনার আকস্মিকতায় উক্ত স্থান ও আশেপাশে জড়ো হওয়া বনজীবি জেলে, বাওয়ালী ও মাওয়ালীদের সহযোগীতায় ঘটনাস্থলে ব্যাপক তল্লাশী করে বনের মধ্য হতে জলদস্যুদের ব্যবহৃত (১) ০২টি বিদেশী একনালা বন্দুক (২) ০২টি বিদেশী দোনালা বন্দুক (৩) ০১টি ওয়ান শুটারগান (৪) বিভিন্ন অস্ত্রের ৬৩ রাউন্ড গুলি (৫) জলদস্যুদের ব্যবহৃত বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রী উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য উদ্ধারকৃত আলামত ও সরঞ্জামাদি পর্যবেক্ষন করে সেখানে ৫ থেকে ৭ জন জলদস্যুর অবস্থান সম্পর্কে প্রাথমিক ভাবে ধারনা লাভ করা যায়। অনুমেয় যে, বিরুপ আবহাওয়ায় নন্দবালা খালের গভীরে ডাকাতির সকল প্রকার প্রস্তুুতি সমেত গুরু বাহিনীর ডাকাতদল অপেক্ষমান ছিল। ৪।    উপরোক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

র‌্যাবের অভিযানে গাজীপুরের মাস্টারবাড়ী এলাকা হতে ০৩ জন সক্রিয় জেএমবির সদস্য গ্রেফতার।

১।    এলিট ফোর্স র‌্যাব তার সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই জঙ্গি ও সন্ত্রাস বাদ এর বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থানে থেকে নিরলস কাজ করে আসছে। র‌্যাবের কর্ম তৎপরতার কারনেই সারাদেশে একযোগে বোমা বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন সময়ে নাশকতা সৃষ্টিকারী জঙ্গি সংগঠন সমূহের শীর্ষ সারির নেতা থেকে বিভিন্ন স্তরের সদস্যদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভবপর হয়েছে। জঙ্গিরা যাতে পুনরায় সংগঠিত হয়ে কোনরূপ নাশকতা করতে না পারে এ জন্য র‌্যাবের কঠোর গোয়েন্দা নজরদারী ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ফলশ্রুতিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনগুলোর নেতা কর্মীরা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালিয়েও বার বার ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। ২।    এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ‘‘জামায়েত মুজাহিদিন বাংলাদেশ’’ এর বেশ কয়েকজন সদস্য পুনরায় সংগঠিত হয়ে আইন শৃংখলার অবনতি ঘটানোর পরিকল্পনা তৈরি করছে। গোয়েন্দা তথ্য  ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে মাধ্যমে জানা যায় যে, এই সংগঠনটি ০৪ জুলাই ২০১৭ তারিখ রাত অনুমান ০৩০০ ঘটিকার সময় জয়দেবপুর থানাধীন নান্দাইন গ্রামস্থ একটি বাড়ীতে একত্রিত হয়ে দেশের আঈব হ্র´গস¡ষ ভ¢ষ¢দ্মন্ড¢ধষ ল¡ষ¡ধণ্টখ অযব¢ধ ঙঠ¡­ব¡ষ ঊ­Ÿ­হণ্ঠ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের গোপন সভায় মিলিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১, ঢাকা এর একটি আভিযানিক দল গ¡ঝ£ভ¤ষ ®ঝস¡র জয়­পযভ¤র থানাধীন নান্দাইন এলাকায় অ¢রশ¡ব পরিচালনা করে (১) মোঃ আজিজুল হাকিম (৩৪), (২) মোঃ হাসান আলী (৩৬) এবং (৩) মোঃ কামরুল হাসান (৪২) দেরকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে উক্ত বাড়ী তল্লাশী করে সংগঠনের রাষ্ট্রবিরোধী নীতিমালা সম্বলিত পুস্তক, বেশ কিছু বেআইনী বই, তাদের নিজ হাতে লেখা কিছু নোট খাতা উদ্ধার করা হয়। ৩।    আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ হাসান আলী দীর্ঘদিন ধরে জয়দেবপুরে হকারি পেশার পাশে মানুষকে নিজেদের সংগঠনে আসার জন্য দাওয়াত দিয়ে আসছিল এবং দলের বিভিন্ন পরিকল্পনার জন্য ইয়ানত (চাঁদা) সংগ্রহ করত। সম্প্রতিকালে আইন- শৃঙ্খলা বাহিনীর জঙ্গী বিরোধী অভিযানের ফলে সে গাঢাকা দিয়ে তাদের দলের অপর সদস্য মোঃ আজিজুল হাকিমের বাসায় আশ্রয় গ্রহণ করে। তারা মাঝে মাঝে স্বল্প পরিসরে তাদের অপর নেতা মোঃ কামরুলের নির্দেশনা অনুযায়ী মোঃ আজিজুল হাকিমের বাসায় একত্রে গোপন বৈঠকে মিলিত হত। আটককৃত আসামীরা বিভিন্ন পেশায় জড়িত থাকলেও তারা মূলত এলাকা হতে বিভিন্ন পন্থায় ইয়ানত (চাঁদা) সংগ্রহ করা এবং নির্দেশনা অনুযায়ী তা তাদের উর্ধ্বতন নেতার কাছে বিভিন্ন মারফতে প্রেরণ করত। গ্রেফতারকৃত আসামীদের নিকট হতে তাদের সংগঠনের আরো অনেকের নাম  প্রকাশ পায় যাদের গ্রেফতার করে আইনের হাতে সোপর্দ করার জন্য আভিযানিক কার্যক্রম চলমান আছে। ৪।    উপরোক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

র‌্যাবের অভিযানে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকা হতে বঙ্গোপসাগরে উপকূলীয় এলাকা ও মেঘনার মোহনার কুখ্যাত জলদস্যু কালাম বাহিনীর প্রধান কালাম ডাকাত গ্রেফতার। ০৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৫ রাউন্ড গুলি, নগদ-১৬,০০,০০০- টাকা এবং বিপুল পরিমান মাদক ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি উদ্ধার।

১।    বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় এলাকা এবং মেঘনার মোহনায় জলদস্যূতা দমনে র‌্যাব বরাবরই সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। বঙ্গোপসাগরের পূর্ব অংশের উপকূলীয় এলাকা অর্থ্যাৎ চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ¥ীপুর ও ভোলার উপকূলীয় এলাকা এবং মেঘনা নদীর মোহনায় যে কয়েকটি জলদস্যূ বাহিনী জেলেদের অপহরণ, হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও ধর্ষণের মত জঘন্য অপরাধের মাধ্যমে এলাকায় রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা করছে তার মধ্যে জলদস্যূ ‘কালাম বাহিনী’ সবচেয়ে সক্রিয় এবং দূর্ধর্ষ। এ বাহিনীর প্রধান মোঃ আবুল কালাম @ কালাম চৌধুরী @ কালাম ডাকাত (৫৫)। কালাম চৌধুরীর বর্তমান নিবাস ভোলার মনপুরায় হলেও তার বাহিনীর প্রায় ২০-২৫ জন জলদস্যূর তথ্য পাওয়া যায়, যাদের মধ্যে নোয়াখালী, লক্ষ¥ীপুর ও ভোলা ছাড়াও চট্টগ্রামের মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া ও বাঁশখালীর অনেক জলদস্যু রয়েছে। জলদস্যু কালাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানা ও ভোলার মনপুরা থানায় ১১ টি মামলা রয়েছে যার মধ্যে ০২ টি হত্যা, ০৩ টি অস্ত্র, ০৪ টি ডাকাতি ও ০১ টি চুরির মামলা। এর মধ্যে ০৮ (আট)টি মামলায় বিজ্ঞ আদালত হতে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী রয়েছে। বিগত কয়েক মাসে বঙ্গোপসাগরের পূর্ব অংশে এই কালাম বাহিনী তার দলের দুই জন সদস্যকে খুন করে লাশ গুম করে এবং অনেক জেলেদের অপহরণসহ মাছ ধরার ট্রলার ছিনতাই ও মোবাইলের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজী করে আসছে। ২।    বেশকিছুদিন যাবৎ র‌্যাব-১১ এর একটি বিশেষ দল কালাম বাহিনীর উপর গোয়েন্দা নজরদারী অব্যাহত রেখেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ই জুন ২০১৭ তারিখে র‌্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল নোয়াখালী জেলার হাতিয়ার উপকূলে ডাকাতির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেওয়ার প্রস্তুতি কালে জলদস্যু কালাম বাহিনীর অবস্থানে অভিযান পরিচালনা করে কালাম বাহিনীর ‘নদীর কমান্ডার’ হিসেবে পরিচিত কুখ্যাত জলদস্যু আমির (২৬) সহ ০৫ জন জলদস্যূকে ০৭ (সাত) টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৩ রাউন্ড কার্তুজ, ২৩টি রকেট ফ্লেয়ার এবং ০১ টি বন্দুকের অতিরিক্ত ব্যারেলসহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। উক্ত অভিযানের সময় জলদস্যু কালাম বাহিনীর প্রধান কালাম চৌধুরী ও তার কয়েকজন সক্রিয় সদস্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ১ ৩।    এই অভিযানের পর মোঃ আবুল কালাম @ কালাম চৌধুরী @ কালাম ডাকাত (৫৫) এবং তার বেশ কিছু সহযোগী চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে, যাদের নামেও বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। জলদস্যূ কালাম বাহিনীর প্রধান কালাম চৌধুরী ও তার  সহযোগীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে বিগত ০১ মাস ধরে নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, ভোলা ও লক্ষ¥ীপুরে র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারী আরো বৃদ্ধি করা হয়। এরই একপর্যায়ে র‌্যাব-১১ এবং র‌্যাব-৭ এর একটি আভিযানিক দল ০৫ জুলাই ২০১৭ তারিখে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানাধীন ৯১৯ গ্রীনভিউ আবাসিক এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জনৈক মোঃ মিনহাজ (৪৫), পিতা-মৃত সামসুল আলম এর ৩য়তলা বিশিষ্ট বিল্ডিং এ অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানকালে আবুল কালাম@কালাম ডাকাতকে ০২ টি আগ্নেয়াস্ত্র, ০৫ রাউন্ড গুলি, ২০০০ পিস  ইয়াবা, নগদ-১৬,৩৯,৩০০/- টাকা এবং ২৬ টি মোবাইল ফোনসহ গ্রেফতার করেছে। এসময় তার কয়েক জন সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে কালাম ডাকাতের দেয়া তথ্য মতে চট্টগ্রামের হালিশহরস্থ সমুদ্র সৈকত তীরবর্তী পোর্ট লিংক রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরো ০৬ টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড গুলি এবং বিপুল পরিমান রকেট ফ্লেয়ার ও বাঁশি (যা ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত হয়) উদ্ধার করা হয়। ৪।    কালাম ডাকাত @ কালাম চৌধুরীর আদিনিবাস ছিল নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানার জাহাজমারা ইউনিয়নের সুখচর গ্রামে। কালাম ডাকাতের বাবা ‘মাহে আলম’ এলাকার কুখ্যাত চোর ছিল। ‘মাহে আলমের’ অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে স্থানীয় লোকজন তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান আসাদের নেতৃত্বে একত্রিত হয়ে তার বাড়িঘর ভেঙ্গে তাকে হাতিয়া থেকে বিতাড়িত করেছিল। ‘মাহে আলম’ হাতিয়া থেকে পালিয়ে পরিবারসহ ভোলার মনপুরা থানার কালকিনিতে বসতি শুরু করে। পরবর্তীতে কালাম চৌধুরী বড় হয়ে পিতার মত ভোলার মনপুরায় চুরি-ডাকাতিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে উঠলে স্থানীয় লোকজন তাকে ভোলার মনপুরা থেকেও বিতাড়িত করেছিল। ২০১১ সালের জুন মাসে মেঘনার মোহনায় কুখ্যাত জলদস্যূ ‘মু›িসয়া ডাকাত’ কালামচরে নিজের আস্তানায় আভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিহত হলে, কালাম চৌধুরী তার নিজের নামে নতুন বাহিনী সংগঠিত করে কালাম চরে আস্তানা গড়ে তোলে। ‘কালাম বাহিনীর’ মূল উদ্দেশ্যে ছিল বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় এলাকা, মেঘনার মোহনায় এবং মেঘনা নদীতে ডাকাতি করা। কিন্তু কালাম বাহিনী নৌ-ডাকাতি ছাড়াও জেলেদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, চাঁদাবাজি, খুন এমনকি নারীদের অপহরণ করে তাদের আস্তানায় নিয়ে গণধর্ষণের মত জঘন্য অপরাধ করত। ৫।    র‌্যাবের অব্যাহত অভিযানের কারনে প্রায় তিন বছর আত্মগোপনে থাকার পর চলতি বছর ইলিশ মৌসুমকে কেন্দ্র করে কালাম চৌধুরী তার বাহিনীকে নতুন করে সংগঠিত করে সাগরে ও মোহনায় ডাকাতি শুরু করে এবং জেলে ও মৎস্যজীবীদের কাছ থেকে ফোন করে চাঁদা তুলতে থাকে। সে বিভিন্ন ভাবে জেলেদেরকে তার টোকেন নেয়ার জন্য হুমকি দিত যার প্রতিটি টোকেনের মূল্য মাস প্রতি ২০-৫০ হাজার টাকা। জেলে ও মৎস্যজীবীরা টোকেন সংগ্রহ ও টাকা প্রদান না করলে তাদেরকে অপহরণপূর্বক জিম্মি করে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করত বলে সে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। ৬।    সাম্প্রতি গত ২৯ মে ২০১৭ তারিখে কালাম বাহিনী সাগরে ডাকাতি করতে গেলে ডাকাতির অর্থ ভাগ বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে আভ্যন্তরীণ কোন্দলে জুনায়েত @ রুবেল (চরচেঙ্গা, হাতিয়া) নিজের দলের এক সদস্যকে কালাম চৌধুরীর নির্দেশে গুলি করে হত্যা করে এবং তার লাশ সাগরে ডুবিয়ে দেয় বলে জানা যায়। কালাম বাহিনী থেকে পালিয়ে আসা দুইজন জলদস্যূ এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। ২ গত ১৩ জুন ২০১৭ তারিখ র‌্যাব-১১ কর্তৃক কালাম বাহিনীর নদীর কমান্ডার আমিরসহ ০৫ জন জলদস্যূকে ০৭ টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হলেও কালাম চৌধুরী তার কর্মকান্ড আরো বাড়িয়ে দেয়। নিঝুম দ্বীপের জনৈক কুদ্দুসের ছেলে রাসেলকে কমান্ডার বাানিয়ে পুনরায় তার কার্যক্রম শুরু করে এবং বেশ কয়েকজন জেলে ও মৎস্যজীবীদের অপহরণ করে এবং নৌকা জিম্মি করে মুক্তিপণ বাবদ মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে। গত ২০ জুন ২০১৭ তারিখে বঙ্গোপসাগরের মেঘনার মোহনায় টোকেন না নিয়ে মাছ ধরার অপরাধে ০৩ টি ট্রলার কালাম বাহিনীর দ্বারা আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে প্রথমে বাবর মাঝির ট্রলারে কালাম বাহিনীর সশস্ত্র জলদস্যূরা হানা দেয়। ঐ ট্রলারে থাকা ১৬ জন জেলের মধ্যে দুজন জেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তারপর একই এলাকার আকবর মাঝি ও হাসান মাঝির ট্রলারে কালাম বাহিনীর সদস্যরা ডাকাতি করে। তারা জেলেদের ট্রলার থেকে বিপুল পরিমান মাছ ও ০৫ জন জেলেকে অপহরণ করে একটি ট্রলারে তুলে নিয়ে যায়। এই তিন ট্রলার থেকে অপহৃত ০৫ জন জেলে হচ্ছে হাতিয়ার জাহাজমারা ইউনিয়নের (১) সমির উদ্দিন @ সমির মাঝি, (২) মোঃ সালাউদ্দিন, (৩) ইসমাইল, (৪) ইমরান হোসেন এবং (৫) মোঃ শরীফ হোসেন। ইতিপূর্বে নোয়াখালীর বুড়িরচর নতুন বেড়ির সুইজ বাজার এলাকায় জলদস্যূ কালাম ও তার বাহিনীর জলদস্যূরা মিলে গুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ০৩ জন গৃহ বধূকে অপহরণ করে নিয়ে যায় ও তাদেরকে পর্যায়ক্রমে গণধর্ষণ করে। এছাড়া হাতিয়ার রেহানিয়া গ্রামের এক গৃহবধূকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করে। উল্লেখ্য, রেহানিয়া গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের কাছে দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে তার স্ত্রী ও ছেলেকে অপহরণ করে ও তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং  নগদ ৩০,০০০/- টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ ২,০০,০০০/- টাকার মালামাল লুণ্ঠন করে নিয়ে যায়। ৭।    জলদস্যূতার পাশাপাশি কালাম চৌধুরী মাদক ব্যবসার সাথেও জড়িত ছিল। সাগরে ডাকাতির পাশাপাশি মাদকের বড় ডিলারদের কাছে ইয়াবার চালান টাকার বিনিময়ে পৌঁছে দেওয়া এবং ইয়াবা বিক্রির সাথেও তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। ৮।    উপরোক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

র‌্যাবের অভিযানে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী থানার চম্পক নগর হতে ০১টি এলজি, ০১টি একনলা বন্দুক ও ০২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ সহ ০২ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রেফতার

১।    অদ্য ০৫ জুলাই ২০১৭ তারিখ রাত ০৩.৫০ ঘটিকার সময় র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লা এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ০১টি এলজি, ০১টি একনলা বন্দুকও ০২ রাউন্ড তাঁজা কার্তুজসহ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী (১) মোঃ রাজু (২৪), পিতা-মৃত শামসু মিয়া, সাং-ধর্মপুর কলেজ রোড (হাজী আলী মিয়ার বাড়ী), থানা-কোতয়ালী মডেল, জেলা-কুমিল্লা ও (২) মোঃ সুজন মিয়া (২৩), পিতা-মোঃ আলম মিয়া, সাং-নোয়াপাড়া (সালদানদী), থানা-কস্বা, জেলা-বি-বাড়ীয়া, এ/পি-ধর্মপুর কলেজ রোড (হাজী আলী মিয়ার বাড়ী), থানা- কোতয়ালী মডেল, জেলা-কুমিল্লাদ্বয়কে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানাধীন চ¤পকনগর এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন ধর্মপুর সাতরা চ¤পকনগর গ্রামের জনৈক ফারুক হোসেন এর ভাড়াবাসায় ধর্তব্য অপরাধ সংঘটনের জন্য অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আসামীদ্বয় অবস্থান করছে। র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লার সদস্যরা গোয়েন্দা নজরদারীতে সত্যতা যাচাই পূর্বক অভিযান পরিচালনা করে ঘটনাস্থল থেকে উল্লেখিত অস্ত্রগুলিসহ উক্ত আসামীদের হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসীরা ধর্মপুরের হ£ড়Ñ ঢ়¿গ্ধ¡ঢ়£ আশিক ও সালাহ উদ্দিন কালু গ্রুপের সদস্য। গত জানুয়ারি ২০১৭ মাসে এই চক্রের শীর্ষ সন্ত্রাসী আশিক ও সালাহ উদ্দিন কালুকে তাদের গ্রুপের ০৭ সদস্যসহ মোট ০৯ জন সন্ত্রাসীকে র‌্যাব-১১, কুমিল্লা ০৭টি অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে নিয়মিত মামলা দায়ের পূর্বক জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। ২।    ধৃত আসামী (১) মোঃ রাজু (২৪) ও (২) মোঃ সুজন মিয়া (২৩) এলাকার চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। তারা বর্তমানে জেল হাজতে ন¡খ¡ তাদের লিডার আশিক ও সালাহ উদ্দিন কালুর নির্দেশে এলাক্বঁ অস্ত্র ব্যবসা, চাঁদাবাজী, দখলদার, ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছিল। র্দীঘ দিন যাবৎ র‌্যাব তাদের উপর নজরদারী করে আসছিল। ৩।    উপরোক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ফেসবুকে এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট পরিবর্তনের ১০০% নিশ্চয়তা দেওয়া প্রতারক চক্রের ২ সদস্যকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার।

১।    র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক। বিভিন্ন ধরণের চাঞ্চল্যকর অপরাধের স¦রূপ উদ্ঘাটন করে অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার কারনেই এই প্রতিষ্ঠান মানুষের কাছে আস্থা ও নিরাপত্তার অন্য নাম হিসাবে গ্রহণ যোগ্যতা পেয়েছে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে অপরাধীরা নিত্য নতুন অপরাধ করছে, এর মধ্যে প্রতারণা অন্যতম। বিভিন্ন প্রতারক চক্র নানা কৌশলে সাধারন মানুষের বিশ্বাস আওতায় আনা হয়েছে। সম্প্রতি গোয়েন্দা সুত্রে জানা যায় যে, পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় যে সকল পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা মানসম্মত হয়নি তাদেরকে শতভাগ পাশ এবং গ্রেড পরিবর্তনের গ্যারান্টি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে প্রতারণার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন এমন একটি চক্রকে দীর্ঘদিন যাবৎ গোয়েন্দা নজরদারী এবং পর্যবেক্ষনে কাজ করে আসছিল। ২।    এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-২ এর একটি আভিযানিক দল অদ্য ০৬ জুলাই ২০১৭ তারিখ আনুমানিক ১২.৪৫ ঘটিকায় মোহাম্মদপুর থানাধীন ৩১/৯ শেরশাহ শুরী রোডস্থ মায়ের দোয়া জেনারেল স্টোর এর সামনে পাকা রাস্তার উপর অভিযান পরিচালনা করে (১) মোঃ সুজন মিয়া (২০), পিতা-আব্দুল করিম, সাং-চরহাট বাড়ী, থানা-সরিষাবাড়ী, জেলা-জামালপুর, (২) মোঃ ইমরান হোসেন (২২), পিতা-মোঃ শফিউল্লাহ, সাং-বাসা নং-৩০/৬ (৪র্থ তলা)  চকবাজার (কামাল বাগ) থানা-চকবাজার ডিএমপি ঢাকাদেরকে আটক করা হয়। আটককৃত আসামীদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, তারা প্রতারনার মাধ্যমে বিভিন্ন পরীক্ষার পরীক্ষার্থীদের নিকট হতে বিরাট অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিনব কৌশল হিসাবে মোঃ সুজন মিয়া (২০) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভুয়া (গফ গড়ঃরঁৎ জধযসধহ, ০১৭৮৯৯৩৭২৩৬) আইডি খুলেন। তাতে যে সকল পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা মানসন্মত হয়নি সে সকল পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে রেজাল্ট পরিবর্তনের জন্য ১০০% নিশ্চয়তা দিয়ে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। বিজ্ঞাপনে এড়ষফবহ অ+ এর জন্য ২০,০০০/- হাজার, অ+ এর জন্য ১৮,০০০/- হাজার, অ এর জন্য ১৫,০০০/- হাজার এবং অ- এর জন্য ১২,০০০/- হাজার টাকার বিনিময়ে তাদের কাংখিত ফলাফল এনে দেবে বলে ১০০% নিশ্চয়তা দিয়ে যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নাম¦ার দিয়ে থাকে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায় , যে সকল পরীক্ষার্থীরা তাদের আহবানে সাড়া দেয়, তারা নিজেরা একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে বিজ্ঞাপন দেওয়া ভুয়া ফেসবুক আইডির গ্রুপে যোগদান করেন। এক্ষেত্রে যিনি প্রতারনার জন্য ফেসবুক আইডিতে প্রথমে বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকেন তিনি উক্ত গ্রপের এ্যাডমিন হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এ্যাডমিন ছাড়া উক্ত গ্রুপে এ্যাডমিনের আরও একজন নিজস্ব লোক থাকে যে তার আইডিতে ১০০% উপকার পেয়েছেন মর্মে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অন্যদের আকৃষ্ট করেন। তখন গ্রুপের অন্য সদস্যরা বিশ্বাস অর্জন করে রেজাল্ট পরিবর্তনের সুযোগ নিতে গ্রুপ এ্যাডমিনের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন। এ সুযোগে এ্যাডমিন তাদের নিকট হতে প্রাথমিক ভাবে চুক্তিকৃত টাকার ৫০% অগ্রীম হিসেবে নিয়ে থাকেন। জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানায় যে, তারা টাকা আদায়ের জন্য নিজস্ব বিকাশ নাম্বার ব্যবহার করে থাকেন । পরবর্তীতে টাকা হাতে পাওয়ার পর গ্রুপের  যে সকল সদস্যদের নিকট হতে এ্যাডমিন প্রতারনার মাধ্যমে টাকা নিয়েছে তাদেরকে ব্লক করে দেয়। এছাড়া আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই বাছাই করে ভবিষ্যতে র‌্যাব-২ কর্তৃক এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ৩।    উপরোক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন ।

অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদানকারী মোঃ শামসুল ইসলাম (৪৮) কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৩

১। র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সমাজের বিভিন্ন অপরাধ এর উৎস উদ্ঘাটন, জঙ্গিবাদ দমন, অপরাধীদের গ্রেফতারসহ আইন শৃংখলার সামগ্রিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। র‌্যাব শুরু থেকে যে কোন ধরনের অপরাধী, অপহরণ, প্রতারক, জালিয়াতি ও অপহরণ চক্রকে সনাক্তকরণ, অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারসহ দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে সার্বক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে থাকে। ২। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৩, রংপুর কর্তৃক অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স প্রদান করার অভিযোগে রংপুর জেলার কোতয়ালী থানার মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামী রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জেএম শাখার অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ শামসুল ইসলাম (৪৮), পিতা-মোঃ ছপিল উদ্দিন, সাং-খোর্দ্দ তামপাট, ডাকঘর-নগর মীরগঞ্জ, থানা-কোতয়ালী, জেলা-রংপুরকে গত ০৫/০৭/২০১৭ ইং তারিখ ২৩৩০ ঘটিকার সময় নিউ মার্কেট এলাকা, ঢাকা হতে গ্রেফতার করা হয়। ৩। ঘটনার বিবরণ প্রকাশ পায় যে, দেশের বিভিন্ন জেলাধীন ব্যক্তিবর্গের ভূয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করে রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেএম শাখার মাধ্যমে বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্রের ভূয়া লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে মর্মে সংবাদের ভিত্তিতে বেসরকারী টিভি চ্যানেল ৭১ টিভি কর্তৃক ধারাবাহিক ভাবে “অস্ত্রের হোম ডেলিভারী” সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর অন্যান্য বেশ কিছু প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত হলে তা দেশের সর্ব মহলে চা’ল্যের সৃষ্টি করে। অনুসন্ধানকালে ৭১ টিভি কর্তৃক রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের জেএম শাখায় (অস্ত্রের লাইসেন্স ইস্যু শাখা) গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান। বিষয়টি জানাজানি হলে ঐদিন রংপর জেলার প্রশাসক কার্যালয়ের জেএম শাখার সহকারী কমিশনার মিন্টু বিশ্বাস ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টরেট খালেদা খাতুন রেখাদ্বয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার উপস্থিতিতে উল্লেখিত মোঃ শামসুল ইসলামের অফিসে তল্লাশি চালিয়ে ১৫টি আগ্নেয়াস্ত্রের ভূয়া লাইসেন্স, ১১টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের ভলিয়ম, নগদ ৭ লক্ষ টাকা, ১১ লক্ষ টাকার এফডিআর ও ২ লক্ষ টাকার সঞ্চয়পত্র উদ্ধার করেন। এছাড়াও উল্লেখিত আসামী বিভিন্ন সময়ে শতাধিক অস্ত্রের লাইসেন্স অবৈধভাবে ভূয়া নাম ঠিকানা ও কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর জাল করে প্রদান করে বলে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত প্রতিবেদন হতে জানা যায়। এ সংক্রান্তে উল্লেখিত মামলাটি রুজু করা হয় যা দুদক কর্তৃক তদন্তাধীন রয়েছে। এছাড়াও র‌্যাব কর্তৃক এ মামলাটির ছায়া তদন্ত অব্যাহত ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক র‌্যাব কে আলোচিত এই মামলার আসামী গ্রেফতারের জন্য অনুরোধ করা হয় । মোঃ শামসুল ইসলাম রংপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেএম শাখায় ১৭/০৫/২০১১ ইং তারিখ পর্যন্ত কর্মরত ছিল। ঘটনা প্রকাশিত হবার পর সে সুকৌশলে পলায়ন করে। র‌্যাব-১৩, রংপুর এর একটি আভিযানিক দল র‌্যাব-২ ও র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার সহযোগীতায় গত ০৫/০৭/২০১৭ ইং তারিখ ২৩৩০ ঘটিকার সময় নিউ মার্কেট এলাকা, ঢাকা হতে উক্ত আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। ৪। উপরোক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যাবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

র‌্যাবের অভিযানে গাজীপুরের টঙ্গী থানার চাঞ্চল্যকর যুবলীগ নেতা কামাল হত্যার প্রধান আসামী মোঃ ফাহিম গ্রেফতার।

১। র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সবসময়ই অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, খুনী, মাদক ও মাদক ব্যবসায়ী, বিভিন্ন সদস্যদের গ্রেফতার পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। র‌্যাবের সৃষ্টিকাল থেকে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, খুনি, বিপুল পরিমান অবৈধ অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার, ছিনতাইকারী, অপহরণ ও প্রতারকদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে সংগঠিত চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে র‌্যাব জনগনের সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ২। গত ০১ জুলাই ২০১৭ তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ০৬৫৫ ঘটিকার সময় টঙ্গী থানাধীন টঙ্গী রেল ষ্টেশনের গোল চত্ত্বর এলাকার রেলওয়ের পরিত্যাক্ত কোয়ার্টারের ভিতরে টঙ্গী থানার যুবলীগ নেতা কামাল উদ্দিন’কে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। উক্ত ঘটনার বিষয়ে টঙ্গী মডেল থানার মামলা নং-০৪(৭)১৭ ইং ধারা-৩০২/৩৪ দঃ বিঃ তদন্তাধীন রয়েছে। ঘটনার তদন্তকালে জানা যায়, যুবলীগ নেতা কামালের সাথে ফাহিম ও তার স্থানীয় কয়েকজন বন্ধু দীর্ঘ দিন যাবৎ উক্ত পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে মাদক দ্রব্য সেবন ও জুয়া খেলে আসছিল। ঘটনার দিন ০১/০৭/১৭ইং তারিখে জুয়ার টাকার ভাগাভাগি নিয়ে কামাল এর সাথে জুয়া খেলতে আসা ফাহিম ও অন্যান্য জুয়াড়িদের ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে ফাহিম ও তার সহযোগীরা চাকু দিয়ে কামালের তলপেটে আঘাত করে হত্যা করে। পরবর্তীতে র‌্যাবের পক্ষ থেকে এই মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের ছায়া তদন্ত শুরু হয় এবং আসামী গ্রেফতারে র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারী অব্যাহত রাখে। ৩। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার পরপরই র‌্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিউল ইসলাম এর নেতৃত্বে পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের নিমিত্তে আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার ও সোর্স নিয়োগের মাধ্যমে অদ্য ০৬/০৭/২০১৭খ্রিঃ সকাল ১১৩০ ঘটিকার সময় উত্তরা ১০নং সেক্টর হতে মামলার প্রধান আসামী মোঃ ফাহিম (৪৫) কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে টঙ্গী থানার যুবলীগ নেতা কামালকে চাকু দ্বারা হত্যা করেছে বলে স্বীকার করে। ৪। উপরোক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যাবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।