সাম্প্রতিক কার্যক্রম :
র‌্যাবের অভিযানে আইন-শৃংঙ্খলা বাহিনীর ভূয়া পরিচয়ে স্কয়ার ফার্মার ২ কোটি টাকা মূল্যের কাঁচামাল ডাকাতির ঘটনায় দুর্ধর্ষ ডাকাত দলের মূল হোতাসহ ০৩ সদস্যকে ঢাকা ও রাজশাহী হতে গ্রেফতার। ডাকাতির মালামাল উদ্ধার। ✱ র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর গুলশান ও বাড্ডা এলাকা হতে জাল শিক্ষা সনদ তৈরী চক্রের ০৪ জন অভিযুক্ত গ্রেফতার। ✱ র‌্যাবের অভিযানে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত কনস্টেবল শরীফ (৩৩) হত্যার লোমহর্ষক রহস্য উদঘাটন এবং হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত মূলহোতাসহ ০৩ জনকে গ্রেফতার\ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা চাকু ও বাসের হুইল রেঞ্জ উদ্ধার এবং রক্তমাখা বাসটি জব্দ। ✱ র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হতে গোপনে দেশত্যাগের প্রাক্কালে ধৃত ০৪ জন অবৈধ অর্থ পাচারকারী নিকট হতে চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন এবং বিদেশী পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলিসহ বিপুল পরিমান নগদ টাকা উদ্ধার। ✱ র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে ঢাকার আন্ডার ওয়াল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের অন্যতম সহযোগী মাজহারুল ইসলাম @ শাকিল গ্রেফতার ✱ র‌্যাবের অভিযানে দেহের অভ্যন্তরে মাদক দ্রব্য বহনকারী ০৩ নারীসহ ০৮ মাদক ব্যবসায়ী আটক ॥ ১৫,০৮০ পিস ইয়াবা উদ্ধার। ✱ র‌্যাবের অভিযানে ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন চুনকুটিয়া এলাকা হতে অস্ত্র ও র‌্যাবের পোশাকসহ ০২ জন ভুয়া র‌্যাব আটক ✱ র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হতে গোপনে দেশত্যাগের প্রাক্কালে ০৪ জন অবৈধ অর্থ পাচারকারী ও জাল টাকা সরবরাহকারী গ্রেফতার \ বিপুল পরিমান দেশী-বিদেশী মুদ্রাসহ জাল টাকা উদ্ধার। ✱ র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর আশুলিয়া থানাধীন কাঠগড়া পালোয়ানপাড়া এলাকায় চাঞ্চল্যকর পাঠাও রাইড চালককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় জড়িত সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী দলের ০৩ জন গ্রেফতার এবং ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল উদ্ধার। ✱ র‌্যাবের অভিযানে নারায়ণঞ্জের সোনারগাঁ হতে কাভার্ড ভ্যানে ফেনসিডিল পাচারকালে ০৩ জন গ্রেফতার। ৪৭০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার ও কাভার্ড ভ্যান জব্দ। ✱

সাম্প্রতিক কার্যক্রম

র‌্যাবের অভিযানে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত কনস্টেবল শরীফ (৩৩) হত্যার লোমহর্ষক রহস্য উদঘাটন এবং হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত মূলহোতাসহ ০৩ জনকে গ্রেফতার\ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা চাকু ও বাসের হুইল রেঞ্জ উদ্ধার এবং রক্তমাখা বাসটি জব্দ।

১।    গত ০৪ মার্চ ২০২০ তারিখ সকাল আনুমানিক ০৭৩০ ঘটিকায় গাজীপুর মহানগরীর ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ০৪ নং গেইটের সামনে থেকে অজ্ঞতনামা এক যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে নিহত যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায়, পুলিশের সকল আইনি কার্যক্রম শেষে গত ০৮ মার্চ ২০২০ তারিখ বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে গাজীপুর মহানগরীর পূর্ব চান্দনা কবরস্থানে দাফন করা হয়। বর্ণিত হত্যাকান্ডের ঘটনাটি সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হয়। ক্লুলেস এই নির্মম হত্যাকান্ডের প্রেক্ষিতে র‌্যাব-১ তাৎক্ষনিকভাবে হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে দ্রুততার সাথে ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে। ২।    পরবর্তীতে গত ১২ মার্চ ২০২০ তারিখে পিবিআই কর্তৃক লাশের ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে নিহত যুবকের পরিচয় সনাক্ত করে জানা যায় নিহত ব্যক্তির নাম মোঃ শরীফ আহামেদ (৩৩)। তিনি ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার ঝিলকি এলাকার মোঃ আলাউদ্দিন ফকিরের ছেলে। নিহত শরীফ আহমেদ গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগে প্রায় ৬ মাস যাবত কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন। নিহতের বাবা মোঃ আলাউদ্দিন হোসেন একজন পুলিশ সদস্য। তিনি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা শহর ফাঁড়িতে কনস্টেবল পদে কর্মরত আছেন। নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর গাজীপুরসহ সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। গত ১২ মার্চ ২০২০ ইং  তারিখ গাজীপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কবর থেকে লাশ উত্তোলনের জন্য আবেদন করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে সনাক্তের পর তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।  ৩।    এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ মার্চ ২০২০ তারিখ আনুমানিক ১৭৩০ ঘটিকায় র‌্যাব-১, উত্তরা, ঢাকা এর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যে গোপন সংবাদেও ভিত্তিতে জানতে পারে যে, বর্ণিত হত্যাকান্ডের মূলহোতা গাজীপুর মহানগরীর শ্রীপুর থানাধীন গড়গড়িয়া মাষ্টারবাড়ী এলাকায় আত্মগোপন করে আছে। প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে আভিযানিক দলটি গত ১৪ মার্চ ২০২০ তারিখ রাত ২১৩০ ঘটিকায় বর্ণিত স্থানে অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকান্ডের প্রধান পরিকল্পনাকারী এবং হত্যাকারী ১) মোঃ মোফাজ্জল হোসেন (২৮), পিতা- মোঃ আব্দুল মালেক, সাং-মোজাহাদী, থানা-তারাকান্দা, জেলা- ময়মনসিংহ, বর্তমান ঠিকানা- গড়গড়িয়া মাষ্টারবাড়ী, থানা- শ্রীপুর, জেলা-গাজীপুর’কে গ্রেফতার করে এবং তার দেওয়া তথ্য মতে ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ২) মোঃ মাসুদ মিয়া (২৫), পিতা- মৃত জবান আলী, সাং-মোজাহাদী, থানা-তারাকান্দা, জেলা-ময়মনসিংহ ও ৩) মোঃ মনির হোসেন (৩০), পিতা-মোঃ আব্দুল করিম, সাং-দরিয়াকোনা, থানা-কমলাকান্দা, জেলা-নেত্রকোনা, বর্তমান ঠিকানা- নাওজোর, থানা-বাসন, জিএমপি, গাজীপুর’দেরকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামীদের দেওয়া তথ্যমতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত তাকওয়া পরিবহনের ০১ টি বাস (যার রেজিঃ নম্বর-গাজীপুর-জ-১১-০১৭৫), রক্তমাখা গাড়ীর হুইল রেঞ্জ, ০১ টি চাকু এবং ভিকটিমের ০৩ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা বর্ণিত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। ৪।    ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নিহত শরীফ আহম্মেদ একজন পুলিশ কনস্টেবল। তিনি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত ছিলেন। নিহত পুলিশ কনস্টেবল শরীফ এর সাথে মোফাজ্জল ও গাজীপুরের তাকওয়া বাসের চালক মনির এর পূর্ব পরিচয় ছিল। কিছুদিন পূর্বে কনস্টেবল শরীফ এর সাথে তাদের দ্বন্দে¡র সৃষ্টি হয়। উক্ত দ্ব›েদ্বর জেরে মোফাজ্জল এবং মনির দুজনে শরীফকে হত্যার পরিকল্পনা করে। যার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে ছিল ধৃত আসামী মোফাজ্জল হোসেন। ধৃত আসামী মোফাজ্জলের পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ০১ মার্চ ২০২০ তারিখ তারা কনস্টেবল শরীফকে খুন করার জন্য মোফাজ্জল তার ময়মনসিংহের গ্রামের বাড়ীর দুঃসম্পর্কের আত্মীয় কুখ্যাত ভাড়াটে খুনী মাসুদকে ১০,০০০/- টাকার বিনিময়ে খুনের চুক্তিতে ভাড়া করে এবং এই তাকে অগ্রীম ৫,০০০/- টাকা প্রদান করে। গত ০২ মার্চ ২০২০ তারিখ খুনের চুক্তি অনুযায়ী তারা মাসুদকে গাজীপুরে নিয়ে আসে এবং ধৃত আসামী মনিরের বাসায় বসে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ০৩ মার্চ ২০২০ তারিখ দুপুরে তাকওয়া বাসের ড্রাইভার মনির ৯৯ টাকার মার্কেট থেকে একটি চাকু ক্রয় করে মাসুদকে দেয় শরীফকে খুন করার উদ্দেশ্যে।  ৫।    পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ০৩ মার্চ ২০২০ তারিখ রাত আনুমানিক ১১৩০ ঘটিকার সময় ধৃত আসামী মোফাজ্জল কৌশলে নিহত কনস্টেবল শরীফকে ভোগড়া বাইপাস এলাকায় নিয়ে আসার পর তাকে তাকওয়া পরিবহনে উঠায়। পরবর্তীতে ড্রাইভার মনির হোসেন বাসটিকে চালিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডে শ্রীপুরের মাওনার উদ্দেশ্যে রওনা হয় এবং জয়দেবপুরের ভবানীপুর বাজার থেকে ইউটার্ন নিয়ে পুনরায় চান্দনা চৌরাস্তার দিকে যেতে থাকে। পথিমধ্যে চলন্ত বাসের ভিতর আসামীদের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা উক্ত বাসের দরজা-জানালা বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে ০৪ মার্চ ২০২০ তারিখ রাত আনুমানিক ০১৩০ ঘটিকার সময় বাসটি গাজীপুর হোতাপাড়া আসার পর আসামীদের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মাসুদ বাসটিতে থাকা বাসের লোহার হুইল রেঞ্জ দ্বারা পিছন থেকে শরীফের মাথায় পর পর বেদম আঘাত করে। ফলে শরীফের মাথা ফেটে রক্ত পড়তে থাকলে সে অজ্ঞান হয়ে গাড়ির মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ধৃত আসামী মোফাজ্জল ও মাসুদ ০২ জনে মিলে নাইলনের রশি দ্বারা প্রথমে শরীফের দুই হাত বেঁধে গাড়ির পিছনের দিকে নিয়ে যায় এবং মোফাজ্জল শরীফের বুকের উপর বসে এবং ভাড়াটে খুনী মাসুদের সাথে থাকা ধারালো চাকু দ্বারা ভিকটিমকে গলাকেটে জবাই করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর নিহত শরীফের সাথে থাকা মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা ০৩ জনে ভাগাভাগি করে নেয়। রাত আনুমানিক ০২০০ ঘটিকার সময় বাসটি ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডের ন্যাশনাল পার্কের ৪নং গেইটের সামনে পৌঁছালে বাসটি থামিয়ে ড্রাইভার মনিরসহ ০৩ জনে মিলে লাশটি  রাস্তার পার্শ্বে ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় ধৃত আসামী মাসুদ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা চাকুটি রাস্তার পার্শ্বে ন্যাশনাল পার্কের ঝোপের দিকে ছুড়ে ফেলে দেয়।  ৬।    তারপর তারা তিনজন বাসন এলাকায় মাম সিএনজি পাম্পের সামনে রাত আনুমানিক ০২৩০ ঘটিকার সময় পাম্পের পানি দিয়ে গাড়ির রক্ত ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে। তাদের রক্ত মাখা জামা-কাপড় পলিথিন ব্যাগে করে গাড়ির টুলবক্সের ভিতর রেখে দেয়। ধৃত আসামী মনির তার নাওজোরস্থ ভাড়া বাসা থেকে মোফাজ্জল ও মাসুদের জন্য পরিষ্কার লুঙ্গি গেঞ্জি নিয়ে আসে এবং তারা তিন জন গোসল করে রাতের খাবার খেয়ে একত্রে মনিরের বাসায় রাত্রিযাপন করে। গত ০৪ মার্চ ২০২০ তারিখ সকাল আনুমানিক ০৬০০ ঘটিকার সময় ড্রাইভার মনিরসহ তিন জন উক্ত গাড়িটি নিয়ে কোনাবাড়ী সার্ভিসিং এ যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়। তাদের রক্তমাখা জামা-কাপড় গুলো গাড়ির টুলবক্স থেকে বের করে কড্ডা ব্রীজের নীচে গভীর পানিতে ফেলে দেয়। পরে মাসুদ তার বাড়ি ময়মনসিংহের তারাকান্দায় চলে যায়। ধৃত আসামী মোফাজ্জল ও মনির তাদের স্বাভাবিক কাজকর্মে যোগদান করে। উলে­খ্য, মাসুদ একজন থ্রি হুইলার ড্রাইভার, সে শম্ভুগঞ্জ-ময়মনসিংহ রোডে মাহেন্দ্র গাড়ী চালায়। র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামীরা উক্ত খুনের ঘটনার সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং ঘটনার মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়।

র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর গুলশান ও বাড্ডা এলাকা হতে জাল শিক্ষা সনদ তৈরী চক্রের ০৪ জন অভিযুক্ত গ্রেফতার।

র‌্যাব-৩ গোয়েন্দা সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে যে, ঢাকা মহানগরীর গুলশান ও বাড্ডা থানাধীন বারিধারা জেনারেল হাসপাতালের ৮ম তলায় প্রাইভেট স্ট্যাডি একাডেমী নামক প্রতিষ্ঠান এবং প্রগতি টাওয়ার (৯ম তলা), খ-২১৪/ই, মেরুল বাড্ডা, থানা-বাড্ডা, ডিএমপি, ঢাকার মালিক মোঃ জিয়াউর রহমান কোচিং বানিজ্যের আড়ালে সার্টিফিকেট জালিয়াতির খোলামেলা ব্যবসা করে আসছে এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন যেকোন বছরের অনার্স, মাস্টার্স, ডিগ্রী পাশের সার্টিফিকেট, সকল বোর্ডের এসএসসি ও এইচএসসি পাশের সার্টিফিকেট উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট এবং সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ২/৩ মাসের মধ্যে সরবরাহ করে থাকে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য র‌্যাব-৩ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল ১৪/০৩/২০২০ তারিখ ১৭৪৫ ঘটিকার সময় ঢাকা মহানগরীর গুলশান থানাথীন বারিধারা জেনারেল হাসপাতালের ৮ম তলায় প্রাইভেট স্ট্যাডি একাডেমী নামক প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হলে, র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামীগণ এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করে পালানোর চেষ্টাকালে জাল শিক্ষা সনদ তৈরী চক্রের সদস্য ১। মোঃ আজিজুর রহমান (২৭), পিতা-মৃত আবু তালেব চৌধুরী, জেলা-গোপালগঞ্জ, ২। মোঃ রফিকুল ইসলাম (৩০), পিতা-মৃত বজলুর রহমান, জেলা-বরিশাল, ৩। মোঃ শরিফুল ইসলাম (১৮), পিতা-ওমর আলী, জেলা-ময়মনসিংহ এবং ৪। মোঃ হায়দার আলী (৩০), পিতা-মোঃ শামসুল হক, জেলা-কুমিল্লাদেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। উক্ত আসামীদের নিকট হতে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএসসি সার্টিফিকেট ০১ টি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচএসসি সার্টিফিকেট ০১ টি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কশীট ০৩ টি, প্রসংশাপত্র ০১ টি, প্রাইভেট স্ট্যাডি একডেমীতে ভর্তি ফরম প্যাড ০২ টি, বিভিন্ন সার্টিফিকেট প্রত্যাশী ব্যক্তিবর্গের তথ্যসম্বলিত রেজিষ্টার ০৩ টি, বিভিন্ন সার্টিফিকেট প্রত্যাশী ব্যক্তিবর্গের মোবাইল নম্বর সম্বলিত ডাইরি ০৪ টি, প্রাইভেট এক্সাম সেন্টার বিডি ভর্তির টাকার রশিদ বই ০১ টি, বিজ্ঞাপন সম্বলিত লিফলেট ৫০ টি, সীমকার্ডসহ মোবাইল ফোন ১৩ টি, পাসপোর্ট ০৫ টি, জিয়াউর রহমান নামীয় পরিচয়পত্র ০১ টি (যাতে রাজিয়া গ্রæপের চেয়ারম্যান লেখা আছে),  দুইটি কালো ক্লিপ বোর্ডে সংযুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তির মুল সার্টিফিকেট এবং সার্টিফিকেট ফটোকপি, বিভিন্ন ব্যক্তির তথ্যসম্বলিত রেজিষ্টার ০১ টি,  বিভিন্ন ব্যক্তির তথ্যসম্বলিত ডাইরি ০২টি,  গøাজগো কমার্স কলেজে ভর্তির রশিদ বই ০১ টি, বিজ্ঞাপন সম্বলিত লিফলেট ১০০ টি, উক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক জিয়াউর রহমান নামীয় টিআইএন সার্টিফিকেট ০১ টি, এ্যাডুকেশন হেল্পলাইন লিমিটেড মানি রশিদ বই ০১ টি, এবং টার্গেটকৃত ব্যক্তিবর্গের সাথে কথোপকথন কৌশলপত্র ০১ টি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, উপরোক্ত আসামীগণ একটি সংঘবদ্ধ জালজালিয়াত চক্র। দীর্ঘদিন যাবত কোচিং বানিজ্যের আড়ালে গ্রামের সহজ সরল সল্প শিক্ষিত ছাত্র/ছাত্রীদের টার্গেট করে তাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে তদের বানোয়াট/জাল শিক্ষা সনদ প্রদান করে আসছে যা আসল সনদ বলে সরবরাহ করছে।  

র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হতে গোপনে দেশত্যাগের প্রাক্কালে ধৃত ০৪ জন অবৈধ অর্থ পাচারকারী নিকট হতে চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন এবং বিদেশী পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলিসহ বিপুল পরিমান নগদ টাকা উদ্ধার।

গত ২২ ফেব্রæয়ারি ২০২০ ইং তারিখ আনুমানিক ১১৩০ ঘটিকায় র‌্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান পরিচালনা করে দেশ ত্যাগের প্রাক্কালে ১) শামিমা নূর পাপিয়া @ পিউ (২৮), তার স্বামী ২) মফিজুর রহমান @ সুমন চৌধুরী @ মতি সুমন (৩৮) এবং তাদের সহযোগী ৩) সাব্বির খন্দকার (২৯) ও ৪) শেখ তায়্যিবা (২২)’দেরকে আটক করে। ধৃত আসামীরা অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, নারী সংক্রান্ত অনৈতিক কর্মকান্ড, জাল নোট সরবারহ, রাজস্ব ফাঁকি, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত থাকায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। এসময় ধৃত আসামীদের নিকট হতে ০৭টি পাসপোর্ট, বাংলাদেশী নগদ ২,১২,২৭০/- টাকা, বাংলাদেশী জাল নোট ২৫,৬০০/-, ভারতীয় রুপি ৩১০, শ্রীলংকান মুদ্রা ৪২০, ইউএস ডলার ১১,০৯১ এবং ০৭ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।  ২।    পরবর্তীতে ধৃত আসামী শামিমা নূর পাপিয়া @ পিউ ও সুমন চৌধুরীর দেওয়া তথ্যমতে, অদ্য ২৩ ফেব্রæয়ারি ২০২০ ইং তারিখ আনুমানিক ০৪০০ ঘটিকার সময় হোটেল ওয়েস্টিনে তাদের নামে বুকিংকৃত বিলাসবহুল প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট রুম হতে এবং ফার্মগেট এলাকার ২৮নং ইন্দিরা রোডস্থ ‘রওশন’স ডমিনো রিলিভো’ নামক বিলাসবহুল ভবনে তাদের দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান পরিচালনা করে ০১ টি বিদেশী পিস্তল, ০২ টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ০৫ বোতল দামী বিদেশী মদ ও নগদ ৫৮,৪১,০০০/- টাকা, ০৫ টি পাসপোর্ট, ০৩ টি চেক, কিছু বিদেশী মুদ্রা, বিভিন্ন ব্যাংকের ভিসা/এটিএম কার্ড ১০ টি উদ্ধার করা হয়।  ৩।    ধৃত আসামীদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের বর্তমান সম্পদ ও বিলাসবহুল জীবন সমন্ধে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য উঠে আসে। সুনির্দিষ্ট পেশা না থাকা সত্তে¡ও তারা স্বল্প সময়ে বিপুল সম্পত্তি ও অর্থ বিত্তের মালিক হয়েছে। ফার্মগেট এলাকাস্থ ২৮ ইন্দিরা রোডে তাদের ০২ টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, নরসিংদী শহরে ০২ টি ফ্ল্যাট, বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়ি ও নরসিংদীর বাগদী এলাকায় ০২ কোটি টাকা মূল্যের ০২ টি প্লট আছে বলে জানায়। এছাড়াও তেজগাঁও এফডিসি গেট সংলগ্ন এলাকায় অংশীদারিত্বে তাদের ‘কার একচেঞ্জ’ নামক গাড়ির শো রুমে প্রায় ০১ কোটি টাকা বিনিয়োগ আছে এবং নরসিংদী জেলায় ‘কেএমসি কার ওয়াস এন্ড অটো সলিউশন’ নামক প্রতিষ্ঠানে ৪০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ আছে বলেও ধৃত আসামীরা জানায়। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে তাদের নামে-বেনামে অনেক এ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমান অর্থ গচ্ছিত আছে বলেও জানা যায়। এব্যাপারে র‌্যাবের অনুসন্ধান অব্যাহত আছে।  ৪।    অনুসন্ধানকালে ধৃত আসামীদের অধিকাংশ সময় রাজধানীর বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থান করতে দেখা যায়। সবশেষ গত ১২/১০/২০১৯ ইং হতে ১৩/০২/২০২০ ইং তারিখ পর্যন্ত তারা বিভিন্ন মেয়াদে মোট ৫৯ দিন হোটেল ওয়েস্টিনের কয়েকটি বিলাসবহুল রুমে অবস্থান করে এবং আনুষঙ্গিক খরচসহ সর্বমোট ৮১,৪২,৮৮৮.৩১ টাকা নগদ পরিশোধ করে। তাদের এই বিপুল পরিমান অর্থের প্রকৃত উৎস জানতে চাওয়া হলে ধৃত অসামীরা কোন সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি।  ৫।    প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় যে, ধৃত আসামী শামিমা নূর পাপিয়া @ পিউ ও তার স্বামী সুমন চৌধুরী নরসিংদী এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজী, চাকুরী দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারনা, জমির দালালি, সিএনজি পাম্পের লাইসেন্স প্রদান, গ্যাস লাইন সংযোগ ইত্যাদির নামে সাধারণ মানুষের নিকট হতে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে। এই পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে ধৃত আসামীরা পুলিশের এসআই ও বংলাদেশ রেলওয়েতে বিভিন্ন পদে চাকুরী দেওয়ার নামে মোট ১১ লক্ষ টাকা, একটি কারখানায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়ার কথা বলে ৩৫ লক্ষ টাকা, একটি সিএনজি পাম্পের লাইসেন্স করে দেওয়ার কথা বলে ২৯ লক্ষ টাকাসহ ঢাকা ও নরসিংদী এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছে বলে জানা যায়।  ৬।    তাদের আয়ের অরেকটি উৎস হচ্ছে নারীদের দিয়ে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজ করানো। তারা ঢাকাস্থ বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থান করে কম বয়সি মেয়েদের দিয়ে জোরপূর্বক অনৈতিক কাজে বাধ্য করে। যাদের অধিকাংশই নরসিংদী এলাকা হতে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে এবং বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। এসব অনৈতিক কাজে কেউ অস্বীকৃতি জানালে ধৃত আসামীরা তাদের বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। ৭।    এছাড়াও ধৃত আসামী শামিমা নূর পাপিয়া @ পিউ ও তার স্বামী সুমন চৌধুরী এর নরসিংদী এলাকায় ‘কিউ এন্ড সি’ নামক একটি ক্যাডার বাহিনী আছে। যাদের মাধ্যমে তারা নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজির, মাসোহারা আদায়, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসাসহ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য সকল প্রকার অন্যায় কাজের সাথে জড়িত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। তাদের এই ক্যাডার বাহিনীর অনেকের নাম ইতোমধ্যে জানা গেছে, যাদের গ্রেফতারের লক্ষে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত আছে।     

র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হতে গোপনে দেশত্যাগের প্রাক্কালে ০৪ জন অবৈধ অর্থ পাচারকারী ও জাল টাকা সরবরাহকারী গ্রেফতার \ বিপুল পরিমান দেশী-বিদেশী মুদ্রাসহ জাল টাকা উদ্ধার।

র‌্যাব-১ এর গোয়েন্দা অনুসন্ধানে ঢাকা ও আশেপাশের এলাকায় বেশ কয়েকটি গ্রæপের তথ্য পাওয়া যায়। এসকল গ্রæপ দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ গোপনে দেশের বাইরে পাচার করে আসছে বলে জানা যায়। অধিকতর গোয়েন্দা নজরদারী ও ছায়া তদন্তের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে র‌্যাব-১ রাজধানী ও পার্শ্ববতী জেলা নরসিংদীতে  সক্রিয় একটি গ্রæপের কতিপয় ব্যক্তির নাম উঠে আসে। জানা যায় যে, তারা নরসিংদী ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ নারী সংক্রান্ত অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে জানা যায় যে, এই গ্রæপের কতিপয় ব্যক্তি বিপুল পরিমান অবৈধ অর্থসহ দেশ ত্যাগের উদ্দেশ্যে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থান করছে।  ৩।    এরই ধারাবাহিকতায় অদ্য ২২ ফেব্রæয়ারি ২০২০ ইং তারিখ আনুমানিক ১১৩০ ঘটিকায় র‌্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশ ত্যাগের প্রাক্কালে ১) শামিমা নূর পাপিয়া @ পিউ (২৮), স্বামী- মফিজুর রহমান @ সুমন চৌধুরী @ মতি সুমন, পিতা- সাইফুল বারি, মাতা- সেলিনা বাড়ি, সাং- পশ্চিম ব্রাহ্মন্দী, থানা-নরসিংদী সদর, জেলা-নরসিংদী, ২) মফিজুর রহমান @ সুমন চৌধুরী @ মতি সুমন (৩৮), পিতা- মতিউর রহমান চৌধুরী, মাতা- হেলেনা চৌধুরী, সাং- পশ্চিম ব্রাহ্মন্দী, থানা-নরসিংদী সদর, জেলা-নরসিংদী, ৩) সাব্বির খন্দকার (২৯), পিতা- ইউসুফ খন্দকার, সাং- পশ্চিম ব্রাহ্মন্দী, থানা-নরসিংদী সদর, জেলা-নরসিংদী এবং ৪) শেখ তায়্যিবা (২২), পিতা- শেখ আশফাকুর রহমান, মাতা- সাবিনা ইয়াসমিন, সাং- বাদুন, থানা- পূবাইল, জিএমপি, গাজীপুর’দেরকে আটক করা হয়। এসময় ধৃত আসামীদের নিকট হতে পাসপোর্ট ০৭টি, বাংলাদেশী নগদ টাকা ২,১২,২৭০, বাংলাদেশী জাল নোট ২৫,৬০০, ভারতীয় রুপি ৩১০, শ্রীলংকান মুদ্রা ৪২০, ইউএস ডলার ১১,০৯১ এবং ০৭ টি মোবাইল ফোন  উদ্ধার করা হয়।  ৪।    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, অবৈধভাবে অর্থ পাচার ও জাল টাকা প্রস্তুতকারী এই গ্রæপের প্রধান ধৃত আসামী শামিমা নূর পাপিয়া @ পিউ এবং স্বামী মফিজুর রহমান @ সুমন চৌধুরী @ মতি সুমন তার সহযোগী। এছাড়াও ধৃত অপর আসামী সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়্যিবা  তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস)। তারা দীর্ঘ দিন যাবৎ নরসিংদী ও রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও নারী সংক্রান্ত অনৈতিক ব্যবসার সাথে জড়িত। এছাড়াও নরসিংদী জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে চাঁদাবাজির করে আসছে।  ৫।    ধৃত আসামী শামিমা নূর পাপিয়া @ পিউ’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, সে পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তেজগাঁও এফডিসি গেট সংলগ্ন এলাকায় অংশীদারিত্বে তার একটি ‘কার একচেঞ্জ’ নামক গাড়ির শো রুম আছে এবং নরসিংদী জেলায় তার ‘কেএমসি কার ওয়াস এন্ড অটো সলিউশন’ নামক একটি গাড়ি সার্ভিসিং সেন্টার আছে। এসব ব্যবসার আড়ালে তিনি অবৈধ অস্ত্র, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত বলে জানায়। তিনি সমাজ সেবার নামে নরসিংদী এলাকায় অসহায় নারীদের আর্থিক দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে সহযোগীতার নামে তাদের অনৈতিক কাজে লিপ্ত করে বলে জানায়। বছরের অধিকাংশ সময় সে নরসিংদী ও রাজধানীর বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থান করেন এবং সেখান থেকে তার ও তার স্বামীর ব্যবসায়ীক অংশীদারদের অনৈতিক কাজে নারী সবরবরাহ করেন। নরসিংদী এলাকায় চাঁদাবাজির জন্য তার একটি ক্যাডার বাহিনী আছে। এছাড়াও তার স্বামীর প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি নংসিংদী ও ঢাকায় একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লটসহ  বিপুল পরিমান নগদ অর্থের মালিক হয়েছেন বলে জানা যায়।  ৬।    ধৃত আসামী মফিজুর রহমান @ সুমন চৌধুরী @ মতি সুমন’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, সে পেশায় একজন ব্যবসায়ী। দেশে তার স্ত্রীর ব্যবসায় সহযোগীতার পাশাপাশ থাইল্যান্ডে তার বারের ব্যবসা আছে বলে জানা যায়। এছাড়াও সে দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধ অস্ত্র, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন আছে বলে জানা যায়। সে তার স্ত্রীর মাধ্যম প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় নারীদের অনৈতিক কাজে ব্যবহার করেন। অবৈধ অস্ত্র, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধকর্মের জন্য নরসিংদী এলাকায় তার কু-খ্যাতি রয়েছে বলে জানা যায়। নরসিংদীতে ‘কেএমসি কার ওয়াস এন্ড অটো সলিউশন’ নামক প্রতিষ্ঠানটি গাড়ি সার্ভিসিং এর আড়ালে তার প্রত্যক্ষ তত্ত¡াবধানে মাদক ব্যবসার কাজে ব্যবহার করা হয়। নরসিংদী এলাকায় তার একটি ক্যাডার বাহিনী আছে, যাদের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড করে থাকেন। জেলা শহরের বাহিরে গেলে তার ক্যাডার বহিনী তাকে বিশাল গাড়ি বহরের মাধ্যমে মহড়া দিয়ে থাকে বলে জানা যায়। সে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিপুল পরিমান নগদ অর্থের পাশাপশি নংসিংদী ও ঢাকায় তার একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট ও প্লট আছে বলে জানা যায়।   ৭।    ধৃত আসামী সাব্বির খন্দকার’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, সে ধৃত আসামী শামিমা নূর পাপিয়া @ পিউ এর ব্যক্তিগত সহকারী এবং তার দূর সম্পর্কের ভাই। সে সর্বদা ধৃত আসামী শামিমা নূর পাপিয়া এর সাথে অবস্থান করে। সে শামিমা নূর পাপিয়া @ পিউ এর ব্যক্তিগত সম্পত্তির হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখাশুনা করে। পাশাপাশি তার সকল অবৈধ ব্যবসায় প্রত্যক্ষ সহযোগীতা এবং অর্থ পাচার ও রাজস্ব ফাঁকি দিতে সহযোগীতা করে থাকে বলে জানায়। ৮।    ধৃত আসামী শেখ তায়্যিবা’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, সে ধৃত আসামী মফিজুর রহমান @ সুমন চৌধুরী @ মতি সুমন এর ব্যক্তিগত সহকারী। সে মফিজুর রহমান @ সুমন চৌধুরী @ মতি সুমন এর ব্যক্তিগত সম্পত্তির হিসাব রক্ষনাবেক্ষণ ও দেখাশুনা করে। পাশাপাশি তার সকল অবৈধ ব্যবসায় এবং অর্থ পাচার ও রাজস্ব ফাঁকি দিতে তাকে সহযোগীতা করে থাকে বলে জানায়।    

র‌্যাবের অভিযানে ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন চুনকুটিয়া এলাকা হতে অস্ত্র ও র‌্যাবের পোশাকসহ ০২ জন ভুয়া র‌্যাব আটক

২২/০২/২০২০ ইং তারিখ ০৪৩০ ঘটিকার সময় র‌্যাব-১০ এর সিপিসি-২, কেরানীগঞ্জ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার এএসপি মোঃ আবুল কালাম আজাদ এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন চুনকুটিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ০২ জন ভুয়া র‌্যাব সদস্যকে গ্রেফতার করেন। এসময় তাদের নিকট থেকে ০১ টি ওয়ান শুটারগান, .১২ বোর ০৬ রাউন্ড এ্যামুনিশন, ০১ টি খেলনা পিস্তল, ০১ টি র‌্যাব জ্যাকেট, ০১ জোড়া হ্যান্ডকাপ ও ০২ টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এছাড়া, র‌্যাব পরিচয় দিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জনৈক ০২ জন ব্যক্তির নিকট হতে ছিনিয়ে নেওয়া ০২ টি মোবাইল ফোন ও নগদ ৬,৫০০/- টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের নাম ১। মোঃ আলামিন (২২), পিতা- হাফেজ হাওলাদার, থানা-কালকিনি, জেলা-মাদারীপুর, ২। মোঃ রুমান মিয়া (২০), পিতা- মোঃ জাহাঙ্গীর, থানা- দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, জেলা- ঢাকা বলে জানা যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, ধৃত আসামীরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে র‌্যাব পরিচয় দিয়ে এবং অস্ত্র প্রদর্শন করে চাঁদাবাজি, ডাকাতি, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রম করে আসছে। ধৃত ব্যক্তিরা র‌্যাবের অনুরূপ জ্যাকেট পরিধান করে র‌্যাবের পরিচয় দিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সাধারণ জনগণকে জিম্মী করে তাদের নিকট হতে নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়াসহ পরিবারের নিকট হতে মুক্তিপণ দাবী করে। 

র‌্যাবের অভিযানে দেহের অভ্যন্তরে মাদক দ্রব্য বহনকারী ০৩ নারীসহ ০৮ মাদক ব্যবসায়ী আটক ॥ ১৫,০৮০ পিস ইয়াবা উদ্ধার।

২১ ফেব্রæয়ারি ২০২০ তারিখ রাত আনুমানিক  ০৩০০ ঘটিকার সময় র‌্যাব-১০ এর উপ-অধিনায়ক মেজর শাহরিয়ার জিয়াউর রহমান, পিএসসি এর নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন মদনপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে অভিনব কায়দায় পেটের ভিতরে এবং যোনীপথে ইয়াবা পাচারকালে ০৪ জনকে আটক করা হয়। ধৃত ব্যক্তিদের নাম ১। মোঃ বাচ্চু শেখ(২৪), ২। মোছাঃ মালা বেগম(৩৩), স্বামী - মোঃ পারভেজ, উভয় পিতা- মোঃ তসলিম শেখ, সাং- ঘোটটিয়া, থানা- কুমারখালি, জেলা- কুষ্টিয়া, ৩। মোঃ লিপি বেগম(৩৭), স্বামী - মোঃ ইসলাম, পিতা- মৃত আবুল শিকদার,সাং- কুশিয়ারা পশ্চিম পাড়া,থানা- বন্দর, জেলা- নারায়ণগঞ্জ, ৪। খাদিজা বেগম(৫৮), স্বামী - মৃত শহীদ হোসেন, পিতা- মোঃ সুলতান,  সাং - শহীদনগর, থানা+ জেলা- নারায়ণগঞ্জ বলে জানা যায়।  গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, কক্সবাজার হতে বাস যোগে ০৪ জন মাদক ব্যবসায়ী মাদক দ্রব্য “ইয়াবা ট্যাবলেট” নিয়ে ঢাকা আসবেন। তার ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন মদনপুর বাসস্ট্যান্ডে ০৩ জন মহিলাসহ মোট ০৪ জনকে আটক করা হয়। কিন্তু ধৃত ০৪ জন মাদক বহনের কথা অস্বীকার করলে তাদেরকে পার্শ্ববর্তী দি-বারাকাহ হাসপাতালে নিয়ে এক্সরে করার পর পেটে এবং গোপনাঙ্গে প্রচুর মাদক দ্রব্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এ পর্যায়ে আসামীগণ তাদের দেহের অভ্যন্তরে থাকা ইয়াবার কথা স্বীকার করেন। তাদের দেহ হতে মোট ৯,৭০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১। মোঃ বাচ্চু শেখ(২৪) এর পেট থেকে ৪,০০০ পিস, ২। মোছাঃ মালা বেগম(৩৩) এর পেট ও গোপনাঙ্গ থেকে ২২০০ পিস, ৩। মোছাঃ লিপি বেগম(৩৭) এর পেট ও গোপনাঙ্গ থেকে ১,৫০০ পিস এবং ৪। খাদিজা বেগম(৫৮) এর ভ্যানিটি ব্যাগ হতে ২,০০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এই চক্রটি কক্সবাজার হতে নিজেরা মাদকদ্রব্য আমদানী করে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী জেলা সমূহে মাদকের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করত।  পরবর্তীতে তাদের তথ্যের ভিত্তিতে মাদক বিক্রির শাখা-প্রশাখা সমূলে ধ্বংসের জন্য র‌্যাব-১০ ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন জায়াগায় অভিযান পরিচালনা করে। এরই প্রেক্ষিতে ১নং আসামি মোঃ বাচ্চু শেখ এর বাসা দক্ষিণ নলুয়া, নারায়ণগঞ্জ সদর এবং ২ নং আসামি মোছাঃ মালা বেগম এর আমিন আবাসিক এলাকা, থানা- বন্দর, জেলা - নারায়ণগঞ্জ এর বাসায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন মৌচাক বাসস্ট্যান্ড থেকে মোঃ বিল্লাল হোসেন (৩৩), পিতা - চাঁন মিয়া, মোহাম্মদপুর, থানা- ফতুল্লা, জেলা- নারায়ণগঞ্জ; রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন ধলপুর এলাকা থেকে মোঃ রিয়াজুল ইসলাম(৩১), পিতা- মোঃ নজরুল শেখ, সাং - রাজাপুর, থানা ও জেলা - রাজবাড়ি; চকবাজার থানাধীন পূর্ব ইসলামবাগ হতে মোঃ শামীম (৩৬), পিতা মোঃ শামসুল হক, ইসলামবাগ, থানা- চকবাজার এবং ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন কালীগঞ্জ এলাকা থেকে মোঃ জহিরুল ইসলাম (৪৮), পিতা- মোঃ ফজলুর রহমান, সাং- আসন্দি, থানা- লক্ষীপুর, জেলা- লক্ষীপুর’দেরকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়। এসকল অভিযান হতে ৫,৩৮০ পিস ইয়াবাসহ সর্বমোট ১৫,০৮০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় এবং মাদকের নিয়ন্ত্রনকারী ডিলার, মধ্যম ব্যবসায়ী এবং খুচরা বিক্রেতাদের আটক করে মাদক ব্যবসা সমূলে ধ্বংস করার প্রয়াস নেয়া হয়। এসময় তাদের নিকট থেকে ০৫টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। আটককৃত ব্যক্তিরা পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী, যাদের অনেকের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিনব কায়দায় পেটের ভিতর এবং গোপনাঙ্গে ইয়াবা ঢুকিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে বাসযোগে ঢাকায় নিয়ে আসত।   

র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে ঢাকার আন্ডার ওয়াল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের অন্যতম সহযোগী মাজহারুল ইসলাম @ শাকিল গ্রেফতার

র‌্যাব-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল অদ্য ২২ ফেব্রæয়ারি ২০২০ খ্রিঃ আনুমানিক ০৫.১০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের ডানহাত নামে পরিচিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ মোঃ মাজহারুল ইসলাম @ শাকিল @ শাকিল মাজাহার(৩৫) রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব সদস্যরা অত্র এলাকায় চেক-পোষ্ট স্থাপন করে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহন তল্লাশী করা কালে একটি সিএনজি থেকে মোঃ মাজহারুল ইসলাম @ শাকিল @ শাকিল মাজাহার (৩৫), পিতা- মৃত আব্দুল খালেক, গ্রাম-সাদেকপুর, থানা-দাগন ভুইয়া, জেলা-ফেনী’কে আটক করে। আটককৃত ব্যক্তির দেহ তল্লাশী করে কোমরে গোঁজা অবস্থায় ০২টি বিদেশী পিস্তল, ০২ টি ম্যাগাজিন ও ০৬ (ছয়) রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।  প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, সে র্দীঘদিন যাবৎ শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের পক্ষে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ সংক্রান্ত অপরাধ সংঘটিত করে আসছে। ২০০৫ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয় এর ছাত্র রাজনীতি শুরু করে। পরবর্তীতে ঢাকা মহানগর এর ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত হয়। ২০০৯ সাল থেকে যৌথভাবে টেন্ডার কাজে জড়িত হয়ে পড়ে। রেলওয়েতে ছোট ছোট কাজের টেন্ডার নিয়ে কাজ করত। এভাবে ২০১০-২০১২ সাল পর্যন্ত বই টেন্ডার নিয়ে কাজ করে। ২০১৩ সালে গ্রামের বাড়ী ফেনীতে চলে যায় এবং পারিবারিক দোকান এর কাজ এর পাশাপাশি গ্রাম্য রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে। ২০১৫ সালে পুনরায় ঢাকায় আসে এবং রাজনীতি শুরু করে কিন্তু যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূইয়ার সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে এবং রেলওয়ের টেন্ডার কাজ নিয়ে বিরোধ তৈরী হয়।  ২০১৬ সালের জুন মাসে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এর যুবলীগের সহ-সম্পাদক রাজিব হত্যার এজাহারে নাম আসার ৪ দিন পরে শাকিল চীনে চলে যায়। ২০১৭ সাল পর্যন্ত চীনে বসবাস করে এবং কার্গো সার্ভিস এর কাজ করে। ২০১৮ সালে চীন থেকে দুবাই চলে যায় এবং ২০২০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দুবাই ছিল। দুবাই থাকা অবস্থায় শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান এর সাথে পরিচিত হয় এবং পরবর্তীতে জিসান এর পক্ষে লেবার ব্রোকার এর কাজ করত। দুবাইতে জিসান এর সাথে লেবার আবাসিক ভবন ছিল সেই ভবনে থেকে তারা তাদের সন্ত্রাসী পরিকল্পনা এবং সেখান থেকেই তাদের বিভিন্ন সহযোগীর মাধ্যমে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করত। শাকিল ২০২০ সালের ১২ জানুয়ারিতে দেশে আসে। মূলত তার দেশে আসার উদ্দেশ্য হল জিসান এর নির্দেশ ও সহযোগীতায় বাংলাদেশে তার সন্ত্রাসী কার্যক্রম নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করে আন্ডার-ওয়ার্ড এর নেতৃত্ব দেওয়া। এ প্রেক্ষিতে শাকিল রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং ভর্তির উদ্দেশ্য ছিল হাসপাতালে কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা সৃষ্টি করে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া। র‌্যাবের অভিযানের ফলে তার এই হীন প্রচেষ্টা নসাৎ হয়েছে।   

র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর আশুলিয়া থানাধীন কাঠগড়া পালোয়ানপাড়া এলাকায় চাঞ্চল্যকর পাঠাও রাইড চালককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় জড়িত সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী দলের ০৩ জন গ্রেফতার এবং ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল উদ্ধার।

গত ১৩ ফেব্র“য়ারি ২০২০ ইং তারিখ আশুলিয়া থানাধীন কাঠগড়া পালোয়ান পাড়াস্থ মোল­া বাড়ির বাঁশ ঝাড়ের ভিতর মোঃ শামীম বেপারী বাবু (২৮) নামক একজন পাঠাও রাইড চালককে অজ্ঞাতনামা কতিপয় ছিনতাইকারী হত্যা করে তার মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। ছিনতাইকারীরা নিহত মোঃ শামীম বেপারী বাবু এর গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বর্ণিত হত্যাকান্ডের ঘটনায় ভিকটিমের পিতা মোঃ শাহিন বেপারী (৫৮) বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করে, যার নম্বর-৫২ তারিখ ১৫/০২/২০২০ ইং, ধারা ধারা- ৩০২/৩৯৪/২০১/৩৪ দঃ বিঃ।  ভিকটিমের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে, নিহত মোঃ শামীম বেপারী বাবু রাজশাহী জেলার বাঘা থানাধীন চৌমুধিয়া গ্রামের মোঃ শাহিন বেপারীর একমাত্র পুত্র সন্তান। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে বাকি চার বোন তার বড়। সে খিলগাঁও থানাধীন মেরাদিয়া মধ্যপাড়ায় তার স্ত্রীসহ বসবাস করত। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে সে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত গাড়ির ড্রাইভার হিসেবে কাজ করেছিল। পরবর্তীতে সে নিজে একটি মোটরসাইকেল ক্রয় করে পাঠাও এ্যাপ এর মাধ্যমে যাত্রী পরিবহনের কাজ শুরু করে। গত ১৩ ফেব্র“য়ারি ২০২০ ইং তারিখ আনুমানিক ১৫৩০ ঘটিকায় রামপুরাস্থ ফরাজি হাসপাতালের সামনে হতে একজন যাত্রী নিয়ে মোহাম্মদপুর এলাকায় যাওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেল নিয়ে সে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। গভীর রাতেও ভিকটিম বাসায় ফিরে না আসায় তার পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে ১৪ ফেব্র“য়ারি ২০২০ ইং তারিখ আনুমানিক ১১০০ ঘটিকায় ভিকটিমের পরিবার টেলিভিশন সংবাদের মাধ্যমে হত্যার বিষয়টি জানতে পারলে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ সনাক্ত করে। একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে ভিকটিমের অন্তঃসত্তা স্ত্রী ও পরিবারের লোকেরা শোকে হতবিহ¡ল হয়ে পড়ে। বর্ণিত হত্যাকান্ডের ঘটনাটি সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হয়। এই নির্মম হত্যাকান্ডের প্রেক্ষিতে র‌্যাব-১ তাৎক্ষনিকভাবে হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে দ্রুততার সাথে ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে র‌্যাব-১ অপরাধীদেরকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়।  এরই ধারাবাহিকতায় অদ্য ১৭ ফেব্র“য়ারি ২০২০ তারিখ আনুমানিক ০৬৩০ ঘটিকায় র‌্যাব-১, উত্তরা, ঢাকা এর একটি আভিযানিক দল রাজধানীর আশুলিয়া থানাধীন জামগড়াস্থ রুপায়ন মাঠ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বর্ণিত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ১)  মোঃ মামুনুর রশিদ (২২), পিতা- মোঃ আব্দুল কাদের, মাতা- সুফিয়া বেগম, সাং- জোড়বাড়িয়া কালাকান্দা, পোষ্ট- ফুল বাডিয়া, থানা- ফুলবাড়িয়া, জেলা- ময়মনসিংহ, বর্তমানে সাং- জামগড়া, সর্দার মার্কেট, নাঈম মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া, থানা- আশুলিয়া, ডিএমপি, ঢাকা, ২) মোঃ মাহবুবুর রহমান (২০), পিতা- মৃত সিদ্দিক মুন্সি, মাতা- বিবি মরিয়ম, সাং- চরটিটিয়া, পোষ্ট- তালুকদার বাড়ি, থানা- বোরহানউদ্দিন, জেলা- ভোলা, বর্তমানে সাং- জামগড়া, রুপায়ন মাঠ, হাসেম মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া, থানা- আশুলিয়া, ডিএমপি, ঢাকা এবং ৩) মোঃ মোমিন মিয়া (২০), পিতা- মৃত আছর উদ্দিন, মাতা- মমেনা বেগম, সাং-কুলাঘাট, পোষ্ট- শিবের কুঠি, থানা- লালমনিরহাট সদর, জেলা- লালমনিরহাট, বর্তমানে সাং- জামগড়া, রুপায়ন মাঠ, রানা মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া, থানা- আশুলিয়া, ডিএমপি, ঢাকা’দের গ্রেফতার করে। এসময় ধৃত আসামীদের নিকট হতে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং হত্যাকারীর রক্তমাখা প্যান্ট উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা বর্ণিত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। ধৃত আসামীদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, তারা একটি সংঘবদ্ধ পেশাদার ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। তারা অন্যান্য ছিনাতাইকারীর ন্যায় টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার ইত্যাদি ছিনতাই করে না। তারা শুধুমাত্র মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, সিএনজি, অটোরিকশার মত ছোট যানবাহন ছিনতাই করে থাকে। ছিনতাইয়ের জন্য তারা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে থাকে। কখনো তারা সাধারণ যাত্রীবেশে আবার কখনো বিয়ের জন্য গাড়ি ভাড়া করার কথা বলে ছিনতাই করে থাকে। টার্গেট নির্ধারনের পর তাদের একজন যাত্রীবেশে চালককে নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যায়। যেখানে পূর্বে থেকে তাদের অন্যান্য সহযোগীরা ওৎ পেতে থাকে। এক্ষেত্রে যাত্রীবেশে থাকা তাদের সহযোগী গাড়িতে উঠানোর পর মোবাইল ফোনে কথা বলার ফাঁকে কৌশলে তার অবস্থান ও গন্তব্য চক্রের অন্যান্যদের জানিয়ে দেয়। তারা দিনের বেলায় নামে মাত্র বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকলেও রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে তারা ভয়ঙ্কর ছিনতাইকারী হয়ে উঠে। তারা অধিকাংশ সময় ছিনতাই শেষে ভিকটিমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে যাতে নিরাপদে ফিরে যেতে পারে এবং পাল্টা আক্রমনের শিকার না হয়।  গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ মামুনুর রশিদ’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, সে পেশায় একজন গার্মেন্টস কর্মী। সে প্রায় ০৫ বছর ধরে এই পেশায় নিয়োজিত। সে দীর্ঘ দিন যাবৎ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। সে এই চক্রটির নেতৃত্ব দেয় বলে জানায়। তার দেওয়া তথ্য মতে, ঘটনার আগের দিন রাতে সে ভিকটিমের মোটরসাইকেলে করে গাবতলী থেকে আশুলিয়া যায় এবং তাকে টার্গেট করে। ঘটনার দিন আনুমানিক ১৭০০ ঘটিকায় আসামী আবার ভিকটিমের সাথে যোগাযোগ করে এবং তার মোটরসাইকেলযোগে গাবতলী হতে আশুলিয়ায় পৌঁছে দিতে বলে। আনুমানিক ২০০০ ঘটিকার সময় তারা গাবতলী হতে আশুলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করে। এরপর আনুমানিক ২১৩০ ঘটিকায় ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সে ভিকটিমকে সিগারেট খাওয়ার কথা বলে থামায় এবং তাকে কৌশলে রাস্তার পার্শ্বে বাশ ঝাড়ে নিয়ে যায়। এসময় সেখানে পূর্বে থেকে ওৎ পেতে থাকা অপর আসামী মাহবুব ও মোমিন ভিকটিমের উপর আকস্মাৎ আক্রমন করে। গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ মাহবুবুর রহমান’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, জামগড়া এলাকায় তার একটি চায়ের দোকান আছে। তার চায়ের দোকানে বসেই তারা সব ধরনের পরিকল্পনা করে থাকে। ঘটনার দিন ভিকটিমকে সে সর্বপ্রথম ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এসময় অপর আসামীরা ভিকটিমের হাত-পা চেপে ধরে এবং সে তার গলায় ছুরি চালায় বলে ধৃত আসামী স্বীকার করে।  গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ মোমিন মিয়া’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, সে পেশায় একজন গার্মেন্টস কর্মী। সে প্রায় ১১ বছর ধরে আশুলিয়া এলাকায় অবস্থান করছে। সে এই চক্রের হয়ে ছিনতাইকৃত গাড়ি বিক্রয়ের কাজ করে থাকে বলে জানায়। ছোট ছোট কাজের সুবিধার জন্য তারা তাদের সদস্য সংখ্যা তিন জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে বলে জানায়। ঘটনার দিন ভিকটিমের দুই পা চেপে ধরে বর্ণিত হত্যাকান্ডে সে সহায়তা করেছে বলে স্বীকার করে।  এই ছিনতাইকারী চক্রটি এতটাই পরিকল্পিতভাবে কাজ করে যে, ইতিপূর্বে তারা একাধিক ছিনতাই করেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি এড়াতে সক্ষম হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি এড়াতে ভিকটিম মোঃ শামীম কে হত্যার পর আলমত ধ¡ংস করার উদ্দেশ্যে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ভেঙ্গে ফেলে এবং নিজেদের মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়। এসময় আসামী মোঃ মাহবুবুর রহমান এর ব্যবহৃত জ্যাকেটে রক্ত লেগে যাওয়ায় ঘটনাস্থলে খুলে ফেলে দেয় এবং হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরিটিও ঘটনাস্থলে ফেলে দেয়। ভিকটিমকে হত্যার সময় ধস্তাধস্তির কারণে চাবি হারিয়ে যাওয়ায় ধৃত আসামীরা ঘটনাস্থলের পার্শ্বে  রাস্তার উপর মোটরসাইকেলটি ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায় বলে জানায়।   

র‌্যাবের অভিযানে নারায়ণঞ্জের সোনারগাঁ হতে কাভার্ড ভ্যানে ফেনসিডিল পাচারকালে ০৩ জন গ্রেফতার। ৪৭০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার ও কাভার্ড ভ্যান জব্দ।

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ খ্রিষ্টাব্দে ভোরে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ থানাধীন  ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আষারিয়ার চর মেঘনা ঘাটস্থ এলাকায় গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত র‌্যাব-১১ এর চেকপোস্টে সন্ধিগ্ধ পণ্য বোঝাই চট্টগ্রাম হতে ঢাকাগামী একটি হলুদ রংয়ের কাভার্ড ভান এ তল­াশী করে ৪৭০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারসহ ০৩ জন মাদক ব্যবসায়ী’কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলোঃ ১। মোঃ জহিরুল আলম (৩২), ২। মোঃ জামাল হোসেন (২৮) ও ৩। মোঃ আকাশ (১৯)। তল­াশীকালে মাদক ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত কাভার্ড ভ্যানটিও জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীরা চট্টগ্রাম হতে কাভার্ড ভ্যানে তুলা বোঝাই করে ঢাকা যাচ্ছিল। তারা কাভার্ড ভ্যানের ভিতরে পণ্য পরিবহনের আড়ালে অভিনব কৌশলে চালকের পিছনের সীটের নিচে ০২টি ট্রাভেল ব্যাগের ভিতর লুকিয়ে ফেনসিডিল নিয়ে এসে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করার জন্য আসছিল।    গ্রেফতারকৃতদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় যে, আসামী মোঃ জহিরুল আলম এর বাড়ী চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানাধীন খরনা এলাকায়, মোঃ জামাল হোসেন এর বাড়ী কুমিল­া জেলার চৌদ্দগ্রাম থানাধীন নোয়াপাড়া এলাকায় এবং মোঃ আকাশ এর বাড়ী গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানাধীন লক্ষীপুর আদর্শগ্রাম এলাকায়। গ্রেফতারকৃত আসামীরা পরস্পর যোগসাজসে দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় অভিনব পন্থায় নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য ফেনসিডিল ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ করে আসছিল। মাদক ব্যবসা ছিল তাদের একমাত্র পেশা। জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরোও স্বীকার করে যে, দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধভাবে সীমান্ত এলাকা দিয়ে অভিনব কায়দায় নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য ফেনসিডিল বাংলাদেশে প্রবেশ করায় এবং কাভার্ড ভ্যানে বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের আড়ালে বিশেষ কৌশলে নিয়ে এসে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছে।   

র‌্যাবের অভিযানে রাঙ্গামাটি জেলার কোতোয়ালি থানাধীন ভেদভেদী পশ্চিম মুসলিমপাড়া এলাকা থেকে ৩৮০ রাউন্ড ৭.৬৫ এমএম পিস্তলের গুলি, ৫ রাউন্ড শটগানের গুলি ও ১০৯টি সীসাবলসহ মোহাম্মদ হোসেন (৫৪) ও মমতাজ আহমেদ(৬০) নামে দুই অস্ত্র ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে যে, রাঙ্গামাটি জেলার কোতয়ালী থানাধীন রাঙ্গামাটি বাসস্ট্যান্ড হতে কতিপয় অবৈধ অস্ত্রব্যবসায়ী ভাড়াকৃত প্রাইভেটকার যোগে বিভিন্ন অস্ত্রের অবৈধ গোলাবারুদ বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামের দিকে আসছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে অদ্য ০১ ফেব্রæয়ারি ২০২০ ইং তারিখ ০১৪৫ ঘটিকার সময় র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল রাঙ্গামাটি জেলার কোতোয়ালী থানাধীন ভেদভেদীস্থ মুসলিম পাড়ার সিরাজ স্টোরের সামনে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কের উপর একটি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করে প্রাইভেটকার তল্লাশি করতে থাকে। এ সময় র‌্যাবের চেকপোস্টের দিকে আসা ০১ টি প্রাইভেটকারকে তল্লাশীর জন্য থামানোর সংকেত দিলে ড্রাইভার র‌্যাবের চেকপোস্টের সামনে এসে থেমে যায়। উক্ত সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রাইভেটকার হতে ০২ জন ব্যাক্তি পালিয়ে যাওয়ার চেস্টা কালে আসামী ১। মোঃ হোসেন (৫৫), পিতা- মৃত মফিজুর রহমান, গ্রাম- এক কিলোমিটার, বহদ্দারহাট (বন্দুকওয়ালা মফিজ সওদাগরের বাড়ি), থানা- চান্দগাঁও, চট্টগ্রাম মহানগর এবং ২। মোঃ মমতাজ আহম্মেদ (৬২) (সাবেক মেম্বার), পিতা- মৃত কালা মিয়া, গ্রাম- মনুপাড়া (খুরুশকুল), থানা- কক্সবাজার সদর, জেলা- কক্সবাজারদের’কে আটক করে। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে আটককৃত আসামীদের দেহ তল্লাশি করে তাদের হাতে থাকা শপিং ব্যাগের ভিতর লুকানো অবস্থায় ৩৮০ রাউন্ড ৭.৬৫ এমএম পিস্তলের গুলি, ৫ রাউন্ড শটগানের গুলি এবং ১০৯টি সীসাবল উদ্ধারসহ গ্রেফতার করা হয়। আসামীদেরকে আরো ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন যাবত রাঙ্গামাটি জেলার বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে যোগসাজশে অস্ত্র ব্যবসা করে আসছে।