সাম্প্রতিক কার্যক্রম :
কথিত মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এন্ড গার্ড সার্ভিস লিমিটেড এর ব্যাবস্থাপনা পরিচালক পরিচয়ে শীর্ষ প্রতারক শাহীরুল ইসলাম সিকদার (৪৮)’কে বিপুল পরিমান দেশী-বিদেশী অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৪। ✱ র‌্যাব-৯ এর অভিযানে হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানাধীন এলাকা হইতে সাইবার বুলিং ও পর্ণোগ্রাফী মামলার একজন ভন্ড কবিরাজ আহাদুর রহমান (৩৫) গ্রেফতার। ✱ র‌্যাব-৯ এর অভিযানে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানাধীন এলাকা হইতে ওয়ারেন্টভূক্ত একজন পলাতক আসামী গ্রেফতার । ✱ র‌্যাব-৯, সিলেট এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, সিলেট এর যৌথ অভিযান এসএমপি সিলেট এর দক্ষিণ সুরমা থানাধীন এলাকায় পণ্যের মূল্যে তালিকা না প্রকাশ করে অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রয়সহ অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বিক্রয় করাসহ পণ্যের মোড়ক ব্যবহার না করায় “জরিমানা”। ✱ র‌্যাব-৭ এর অভিযানে চট্টগ্রাম মহানগরীর লালখান বাজার এলাকায় চাঁদা আদায়কালে ০৫ জন কিশোর গ্যাং এর সক্রিয় সদস্যকে চাঁদা আদায়ের নগদ অর্থ ও দেশীয় অস্ত্রসহ হাতে নাতে আটক। ✱ র‌্যাব-৯, সিলেট এর অভিযানে সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট থানাধীন এলাকা হতে ১৭১ বোতল ফেন্সিডিল সহ একজন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। ✱ র‌্যাব-৭ এর অভিযানে চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী মোড় এলাকা হতে রাজধানী পল্লবীর “সাহিনুদ্দীন” হত্যাকান্ডের নৃশংস ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নোয়াখালীর “যতন সাহা” হত্যাকান্ড বলে প্রচার করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচারের অভিযোগে ০১ জন আটক। ✱ র‌্যাব-৭ এর অভিযানে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানাধীন নোয়াপাড়া এলাকা হতে জীনের বাদশা সেজে সকল সমস্যার সমাধান করার নামে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায়ের প্রতারক চক্রের ০৫ জন সক্রিয় সদস্য আটক। ✱ র‌্যাব-৯, সিলেট এর অভিযানে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানাধীন এলাকা হতে ৩০ কেজি গাঁজা ও ০৩ বোতল বিয়ার এবং একটি প্রাইভেটকারসহ একজন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার। ✱ রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে র‌্যাবের অভিযানে ১৭ কেজি গাঁজাসহ ০২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার; মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মাইক্রোবাস জব্দ । ✱

ঢাকা হতে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জগামী কমিউটার ট্রেনে চাঞ্চল্যকর খুনসহ ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ০৫ জন পেশাদার ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৪।

প্রকাশের তারিখ : ২৬-০৯-২০২১

গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রিঃ রাত অনুমান ০৯.৫০ ঘটিকার সময় ঢাকা হতে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জগামী কমিউটার ট্রেন জামালপুর স্টেশনে পৌঁছালে ট্রেনের যাত্রীরা ট্রেনের ছাদ থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়তে দেখেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে ট্রেনের ছাদ থেকে গুরুতর আহত তিনজনকে উদ্ধার করা হয়। আহতদের তাৎক্ষণিক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার দুজনকে মৃত ঘোষণা করে। যাত্রীদের ভাষ্যমতে, ডাকাতির মাধ্যমে তাদের হত্যা করা হয়। উক্ত ঘটনায় ময়মনসিংহ জেলার রেলওয়ে থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু হয় যার মামলা নং-০৫/১৩ তারিখ- ২৪/০৯/২০২১খ্রিঃ ধারা- ৩৯৬ পেনাল কোড। এই ঘটনা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার হলে তা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। 

উক্ত চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক ঘটনা সংঘটনের সাথে সাথেই র‌্যাব-১৪, ময়মনসিংহ গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন, পারিপার্শ্বিকতার বিচার ও নিহতের বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে নিবিড় তদন্তপূর্বক র‌্যাব-১৪ ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১৪ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুনসহ ডাকাতির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১। আশরাফুল ইসলাম স্বাধীন (২৬)-কে ময়মনসিংহের শিকারীকান্দা এলাকা থেকে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে অদ্য ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রিঃ তারিখ রাত আনুমানিক ০১.০০ ঘটিকার সময় গ্রেফতার করা হয় এবং তার কাছ থেকে লুন্ঠন হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চেইন অপারেশনের মাধ্যমে ঘটনার সাথে জড়িত অপর আসামী ২। মাকসুদুল হক রিশাদ (২৮), পিতা-মন্জু, সাং-বাঘমারা, ৩। মোঃ হাসান (২২), পিতা-সাব্বির খান, সাং-বাঘমারা, ৪। রুবেল মিয়া (৩১),  পিতা-মৃত আশরাফ আলী সাং-ধামাই, ৫। মোহাম্মদ (২৫), পিতা- সাব্বির খান, সাং-বাগমারা, সর্ব থানা-কোতোয়ালী, জেলা-ময়মনসিংহদের গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে লুন্ঠিত মোবাইল উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে, তাদের দেখানো জায়গা থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

গ্রেফতারকৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, ট্রেনে ডাকাতির উদ্দেশ্যে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ০৪(চার) জন পেশাদার ডাকাত দেওয়ানগঞ্জগামী কমিউটার ট্রেনে উঠে। রিশাদ, হাসান এবং স্বাধীন টঙ্গী স্টেশন থেকে তাদের সাথে যুক্ত হয়। ট্রেনটি ফাতেমা নগর স্টেশনে থামলে তাদের সাথে যোগ দেয় মোহাম্মদ ও তার একজন সহযোগী। ট্রেন স্টেশন ছেড়ে চলতে শুরু করলে তারা ইঞ্জিনের পরের বগি’র ছাদে বসে থাকা যাত্রীদের মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন লুট করা শুরু করে। ডাকাতির একপর্যায়ে ভিকটিম মৃত মোঃ সাগর মিয়া ও নাহিদ বাধা দিলে তাদের সাথে ধস্তাধস্তি শুরু হয় এবং ডাকাতরা তাদের হাতে থাকা অস্ত্র দিয়ে ভিকটিমদ্বয়ের মাথায় এলোপাথারীভাবে আঘাত করে।  মৃত সাগর ও নাহিদ যখন আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ট্রেনের ছাদে লুটিয়ে পড়ে তখন ডাকতরা ময়মনসিংহ রেলস্টেশনে ঢোকার পূর্বে সিগন্যালে ট্রেনের গতি কমলে ট্রেন হতে নেমে যায়। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি এরা একটি সংঘবদ্ধ চক্র এবং এই চক্র নিয়মিতভাবে ডাকাতি ও ছিনতাই করে আসছে। এরা ঢাকার কমলাপুর, এয়ারপোর্ট ও টঙ্গী রেলস্টেশন হতে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ট্রেনে উঠত এবং তাদের কিছু সহযোগী গফরগাঁও ফাতেমা নগর স্টেশন হতে ট্রেনে উঠে সম্মিলিতভাবে ডাকাতি ও ছিনতাই করে ময়মনসিংহ স্টেশনে নেমে যেত। ঘটনার দিন তারা ছিনতাইয়ের পরিবর্তে ডাকাতির পরিকল্পনা করে। তারা ছোট ছোট উপ-গ্রæপে বিভক্ত হয়ে ডাকাতি ও ছিনতাই করত। এই ছোট ছোট উপ-গ্রæপগুলো কেউ টার্গেট শনাক্ত করত, কেউ নিরাপত্তার বিষয় দেখত, কেউ লুন্ঠিত মোবাইল ও অন্যান্য লুন্ঠিত মালামাল সংগ্রহ করে বিক্রি করত আর বাকীরা সরাসরি ডাকাতির কাজে সম্পৃক্ত থাকত। এই চক্রটি তাদের ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন অস্ত্র ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের রেললাইনের বিভিন্ন স্থানে তাদের পূর্ব-নির্ধারিত জায়গায় লুকিয়ে রাখত। 

উক্ত ঘটনায় গ্রেফতারকৃত রিশাদ, স্বাধীন, মোহাম্মদ ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন সরাসরি ডাকাতির কাজে সম্পৃক্ত ছিল, হাসান টার্গেট শনাক্তের কাজে যুক্ত ছিল, রুবেল লুন্ঠিত মোবাইল ও অন্যান্য লুন্ঠিত মালামাল স্বল্পমূল্যে এই চক্রের কাছ থেকে সংগ্রহ করত এবং অন্যদের কাছে বেশী মূল্যে বিক্রি করে মুনাফা লাভ করত। পাশাপাশি সে এই চক্রের পৃষ্ঠপোষক বলে জানা যায়।
উল্লেখ্য, রিশাদ এই সংঘবদ্ধ চক্রের মূল হোতা। তার নামে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার মামলা নং-০২/৩০ তাং-০৯/১১/২০১৯খ্রিঃ ধারা-৩৯২ দন্ডবিধি ও ময়মনসিংহ সদর থানার মামলা নং-২২ তাং-০৫/১০/২০১২খ্রিঃ ধারা-১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) এর ১(ক) মামলা রয়েছে এবং বিভিন্ন মেয়াদে সে ০২ বছরের অধিক সময় কারাগারে ছিল।    
    ধৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।  

 

আরও সাম্প্রতিক কার্যক্রম