র্যাব-১, ঢাকা কর্তৃক অভিযানে রাজধানীর উত্তরা অভিজাত এলাকা হতে সাথী নামে নির্যাতিত ৮ বছরের শিশু গৃহপরিচারিকা উদ্ধার ॥ সন্দেহভাজন গৃহকর্ত্রী আটক
ঘটনার বিবরণঃ ১। জাতীয় ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাসা বাড়ির গৃহপরিচারিকা/গৃহকর্মী নির্যাতনের সংবাদ মাঝে মধ্যে দেখা যায়। র্যাব নারী ও শিশু নির্যাতন রোধকল্পে বিশেষ করে শিশুদের উপর অমানবিক অপরাধ রোধকল্পে প্রতিনিয়ত গোয়েন্দা নজরদারী ও আভিযানিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানী ঢাকার উত্তরা থানাধীন ১৩ নং সেক্টরের ফ্লাট/এ-৪, ১২ নং বাসার একটি শিশু গৃহপরিচারিকা নির্যাতনের তথ্য পাওয়া যায়। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১, ঢাকার একটি অভিযানিক দল কৌশলে বিষয়টি যাচাই করে গত ১৮ জুন ২০১২ তারিখ আনুমানিক ১৩০০ ঘটিকার সময় উক্ত বাসায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে বর্ণিত বাসা হতে নির্যাতিত মোছাঃ সাথী (৮)’কে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় ঐ বাসার গৃহকর্তা মোস্তফা জামান (৩৮) পেশায় রাজউকের একজন ঠিকাদার। ৪ সন্তানসহ স্ত্রী সালমা আক্তার এবং ৮ বছরের গৃহপরিচারিকা নিয়ে তিনি উক্ত বাসায় বসবাস করছেন। গৃহকর্ত্রীর ভাষ্যমতে প্রায় ৯/১০ মাস আগে এই শিশুটিকে তার মা উক্ত বাসায় রেখে যায়। তার মা গার্মেন্টস্ এ চাকুরী করে বলে জানা যায়। গৃহকর্ত্রী বা নির্যাতিত শিশুটি কেহই তার প্রকৃত ঠিকানা বলতে পারে নাই। শিশুটি জানায় যে, গৃহকর্ত্রী তাকে প্রায়ই নির্যাতন করত এবং গত কয়েক সপ্তাহ পূর্বে লোহা এবং গরম খুমিত্ম দিয়ে ছ্যাঁকা দিয়ে অমানবিকভাবে নির্যাতন করেছিল। গৃহকর্ত্রী (সালমা আক্তার) জানায় শিশুটি গ্রামবাসী দ্বারা নির্যাতিত হওয়ার পর তার বাসায় গৃহপরিচারিকা হিসেবে এসেছিল। তবে শিশুটির দেহের বিভিন্ন অঙ্গে ক্ষতগুলোর ধরণ দেখে অনুমিত হয় যে, তার উপর কৃত নির্যাতন মাত্র কয়েক সপ্তাহ পূর্বের। অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত ঘটনা উদঘটনের আইনী প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। ২।এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।