১। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পর হতে র্যাব বিগত ২ বছর যাবৎ আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার মাধ্যমে দেশের আর্থ সামাজিক পরিস্থিতি উন্নয়নে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। মাদক চোরাচালান ও সন্ত্রাস দমন, জঙ্গি ও চরমপন্থী গ্রেফতার এবং সাধারণ জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা বিধানসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে র্যাব অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই বাহিনী জেএমবি ও বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের নেতা ও সদস্য গ্রেফতার এবং বিপুল পরিমান বিস্ফোরক, বোমা ও এ সক্রান্তে বিভিন্ন ধরণের সরঞ্জামাদি উদ্ধার এর মাধ্যমে জঙ্গীদের পরিকল্পিত নাশকতামূলক কার্যক্রম নস্যাৎ করেছে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিপথগামী চরমপন্থীদের অপতৎপরতা রোধে র্যাবের ক্রমাগত সাঁড়াশি অভিযান জনমনে স্বস্তি এনে দিয়েছে। বিপুল পরিমান মাদক দ্রব্য উদ্ধার এবং মাদক ব্যবসায়ীদেরকে গ্রেফতার এর মাধ্যমে র্যাব যুব সমাজকে অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষার মত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দক্ষতার সাথে পালন করে আসছে। তাছাড়া, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদেরকে গ্রেফতারের মাধ্যমে র্যাব আইন-শৃঙ্খলার সার্বিক উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। ভিডিও পাইরেসি রোধে র্যাবের কার্যকরী ভূমিকা চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশে প্রশংসনীয় অবদান রেখেছে। ভেজাল বিরোধী অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ ব্লাড ব্যাংকের কার্যক্রম রোধ, ভেজাল খাদ্য প্রস্তুতকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে জেল-জরিমানা করতঃ র্যাব দেশের স্বাস্থ্য সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। র্যাবের অবৈধ ভিওআইপি বিরোধী অভিযানের ফলে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সর্বোপরি র্যাবের সামগ্রীক আভিযানিক কর্মকান্ডের প্রেক্ষাপটে বর্তমানে দেশের আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি পূর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
২। র্যাব বিগত ২ বছর যাবৎ আভিযানিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠান সমূহ যেমনঃ বিশ্ব ইজতেমা, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, মহান স্বাধীনতা দিবস, পহেলা বৈশাখ, ঈদ ও পূঁজা উৎসব, এসএ গেমস-২০১০, শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস, মহান বিজয় দিবস এবং বড়দিনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিবস সমূহে নিরাপত্তার দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সহিত পালন করেছে। এছাড়া নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আইন শৃংখলা পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক রেখে একটি অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র পূণঃপ্রতিষ্ঠায় র্যাবের ভূমিকা প্রসংশার দাবীদার। তাছাড়া, পরবর্তিতে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভাবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, ভোলা-৩ আসনে উপ-নির্বাচন এবং চট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় র্যাব মূখ্য ভূমিকা পালন করেছে। এ বাহিনী দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার জন্য অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সার্বক্ষণিকভাবে পেশাদারিত্বের সাথে দেশপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ হয়ে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
৩। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর হতেই র্যাবের এই সাফল্যের ধারাকে অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে র্যাবকে আরও শক্তিশালী এবং আধুনিক ত্রিমাত্রিক ক্ষমতা সম্পন্ন বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। র্যাবের জনবল বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমান ১২টি ব্যাটালিয়ন এর সহিত আরও ২টি নতুন ব্যাটালিয়ন গঠনের বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার জন্য নতুন ও আধুনিক বম্ব ডিসপোজাল সরঞ্জাম ক্রয়ের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। র্যাবের আবাসন সমস্যা নিরসন এবং অফিস ভবন নির্মাণের জন্য ৭টি র্যাব কমপ্লেক্স নির্মাণ এর বিষয়টি ইতিমধ্যে একনেক বৈঠকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে যা বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন। র্যাবের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও যুযোপযোগী এবং আধুনিকি করণের জন্য উন্নত প্রযুক্তির বেতার সরঞ্জামাদি ক্রয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ সভা-সমাবেশে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে র্যাব ফোর্সেস’কে উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জামাদি সরবরাহ করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে র্যাবের ইনভেস্টিগেশন এন্ড ফরেনসিক উইং-এ একটি আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির ফরেনসিক ল্যাব প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে।
৪। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের শাসনামল ২০০৯ এবং ২০১০ সালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় র্যাব দেশব্যাপী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশপাশি র্যাব বিভিন্ন সন্ত্রাসী, ধর্মীয় জঙ্গী, চরমপন্থীসহ অন্যান্য বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেফতার, অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার, মাদক বিরোধী অভিযান, ভেজাল বিরোধী অভিযান, অশ্লীলতা বিরোধী অভিযান, অবৈধ ভিওআইপি, অসামাজিক কার্যকলাপ বিরোধী অভিযান এবং ইভটিজিং বিরোধী অভিযানসহ নানা ধরণের অভিযান সফলতার সাথে পরিচালনা করেছে। বিগত ২ বছরে র্যাবের সফলতার কিছু তথ্য নিম্নে দেয়া হলোঃ
ক। সন্ত্রাসী গ্রেফতার অভিযানঃ বিগত ২ বছরে বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ডাকাত, অপহরণকারী, জঙ্গী ও অন্যান্য অপরাধীসহ মোট ৪৪,২৪১ জন অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
খ। অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারঃ বিভিন্ন ধরণের ২,৮২১টি দেশী-বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র, ১৬,৪৫৮ রাউন্ড বিভিন্ন ধরণের গুলি, ১২৭৩টি বোমা/গ্রেনেড/ককটেলসহ প্রায় ৫৫ কেজি বিস্ফোরক এবং বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক তৈরীর বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করেছে যা র্যাব সৃষ্টির পর থেকে যে কোন সময়ের চেয়ে বেশী ।
গ। বিভিন্ন জঙ্গীবাদ বিরোধী অভিযানঃ বিগত ২ বছরে র্যাব সফল অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের ১৬২ জন সদস্যকে গ্রেফতারসহ তাদের নিকট হতে উদ্ধার করা হয়েছে ৩৪টি বোমা/ককটেল ১০টি বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র, ২৭ রাউন্ড গোলাবারুদসহ বিপুল পরিমান সাংগঠনিক বই ও সিডি এবং বিভিন্ন বিসেফারক দ্রব্যাদি ও অন্যান্য সরঞ্জাম।
ঘ। মাদক বিরোধী অভিযানঃ বিগত ২ বছরে মাদক দ্রব্য চোরাচালান, বিক্রয় ও অপব্যবহার সংক্রান্তে ১২,৭৩২ জনকে গ্রেফতারসহ প্রায় ৮ লক্ষ বোতল ও ৪ হাজার লিটার ফেন্সিডিল, ১ লক্ষ ২০ হাজার ইয়াবা ও ভায়াগ্রা ট্যাবলেট, ১৪০ কেজি হেরোইন ও কোকেন, ১০ হাজার কেজি গাঁজা, ৮০ হাজার বোতল ও ৪২ হাজার লিটার দেশী মদ, ২৫ হাজার বোতল বিদেশী মদ, ৭৯ হাজার ক্যান বিয়ার, এবং প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজারটি বিভিন্ন ধরণের নেশা জাতীয় ইনজেকশন উদ্ধার করেছে।
ঙ। জালনোট/জাল স্ট্যাম্প প্রস্তুতকারী এবং ব্যবসায়ী ঃ বিগত ২ বছরে জালনোট/জাল স্ট্যাম্প ব্যবসায়ী চক্রের ৩৯৭ জন’কে আটক করেছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমান জাল টাকা/জাল স্ট্যাম্প ও জাল টাকা/ষ্ট্যাম্প তৈরীর সরঞ্জামাদি।
চ। চাঁদাবাজ গ্রেফতারঃ বিগত ২ বছরে ৪৭১ জন বিভিন্ন ধরণের চাঁদাবাজ’কে গ্রেফতারসহ উদ্ধার করেছে চাঁদাবাজীর অর্থ এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি।
ছ। র্যাব পরিচয়ে প্রতারণাঃ গত ২ বছরে বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়দানকারী মোট ৫৫ জন প্রতারকদের গ্রেফতারসহ উদ্ধার করা হয়েছে ওয়াকিটকি সেট, হ্যান্ডকাফ, বিভিন্ন বাহিনীর পোশাক/জ্যাকেটসহ বিভিন্ন সামগ্রী।
জ। অবৈধ ভিওআইপি বিরোধী অভিযানঃ বিগত ২ বছরে ৫১ জন অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারসহ বিপুল পরিমান বিভিন্ন ধরণের অবৈধ ভিওআইপি সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে উল্লেখ্যযোগ্য ভাবে বেড়েছে জাতীয় রাজস্ব আয় ।
ঝ। অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যকলাপ বিরোধী অভিযানঃ বিগত ২ বছরে রাজধানী ঢাকার নামী-দামী বিভিন্ন হোটেল/ক্লাব/বার/ফ্ল্যাটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ৯১৫১ জন নারী ও পুরুষকে অসামাজিক কার্যকলাপের সহিত জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ঞ। প্রত্নতত্ত্বসম্পদ পাচার বিরোধী অভিযানঃ বিগত ২ বছরে বিভিন্ন মূর্তি পাচারকারী ১০৪ জন সদস্যকে গ্রেফতারসহ উদ্ধার করা হয়েছে ১৬১টি বিভিন্ন ধরণের মূর্তি।
ট। চলচিত্রে অশ্লীলতা ও ভিডিও পাইরেসী বিরোধী অভিযানঃ বিগত ২ বছরে অশ্লীলতা ও ভিডিও পাইরেসী বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ৭৮৪ জন অসাধু ব্যবসায়ী’কে গ্রেফতারসহ উদ্ধার করা হয়েছে ৯ লক্ষ ৪৪ হাজারের অধিক অশ্লীল/পাইরেটেড/পর্ণো/নকল সিডি ও সিডি তৈরীর বিভিন্ন সরঞ্জামাদি।
ঠ। ভেজাল বিরোধী অভিযানঃ বিগত ২ বছরে ২,৫৪৭টি ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ১২ কোটি টাকা জরিমানাসহ উদ্ধার/ধ্বংস করা হয়েছে বিপুল পরিমান বিভিন্ন ভেজাল খাদ্য-দ্রব্য ও অন্যান্য ভেজাল পণ্য-সামগ্রী যা র্যাব সৃষ্টির পর থেকে যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশী।
ড। ইভটিজিং বিরোধী অভিযানঃ সমপ্রতিক সময়ের আলোচিত ইভটিজিং বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ২০৪জন ইভটিজার’কে (বখাটে যুবক) গ্রেফতারসহ তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় ৬৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও সমপ্রতি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২৭ জন ইভটিজার’কে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড প্রদান করে জেলে প্রেরণ করা হয়েছে।
|