Home » News Room » র‌্যাবের অভিযানে সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু/ডাকাত “মানজু বাহিনীর” প্রধান মোঃ মানজু সরদার এবং “মজিদ বাহিনীর” প্রধান মোঃ তাকবির কাগচী @ মজিদসহ ২০ (বিশ) জন সক্রিয় সদস্য বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ র‌্যাবের নিকট আত্মসমর্পণ।

র‌্যাবের অভিযানে সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু/ডাকাত “মানজু বাহিনীর” প্রধান মোঃ মানজু সরদার এবং “মজিদ বাহিনীর” প্রধান মোঃ তাকবির কাগচী @ মজিদসহ ২০ (বিশ) জন সক্রিয় সদস্য বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ র‌্যাবের নিকট আত্মসমর্পণ।

১। ঐশ্বর্যময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য আর জীব বৈচিত্রের স্বমহিমায় বিশাল সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল হাজার হাজার উপকূলবর্তী মানুষ প্রতি নিয়তই বনদস্যু/জলদস্যুদের আক্রমনের শিকার হয়। সুন্দরবন সহ বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় বনদস্যু, জলদস্যুদের দমনের লক্ষ্যে র‌্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ড, বিজিবি ও বন বিভাগের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স কাজ করছে, যার প্রধান সমন্বয়কারী র‌্যাব মহাপরিচালক। র‌্যাব সুন্দরবন এলাকায় জলদস্যু ও বনদস্যুদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। র‌্যাব প্রতিষ্ঠা হতে এ পর্যন্ত সফল অভিযানে ১৪০১টি অস্ত্র, ২৬,২৯০ রাউন্ড গুলি উদ্ধারসহ ৩৯৫ জন জলদস্যু/বনদস্যুকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসে। ফলে সুন্দরবন কেন্দ্রিক বনদস্যু/জলদস্যু বাহিনীর অপতৎপরতা বহুলাংশে কমে আসে। সাধারনত ইলিশ ও শুটকি মৌসুমকে কেন্দ্র করে জলদস্যু/ডাকাতরা তাদের ডাকাতি, জেলে অপহরণ এবং অপহরণের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়ের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। সে কারনে ইলিশ মাছ আহরণ ও শুটকি প্রক্রিয়াকরণ মৌসুমে সুন্দরবন এলাকায় যাতে মৎস্য আহরনকারী জেলেদের জলদস্যু কর্তৃক অপহরণ/ডাকাতির কবলে না পড়তে হয় সে লক্ষ্যে র‌্যাব সুন্দরবন এলাকায় জলদস্যু/ডাকাত দমনে বিশেষ আভিযানিক কার্যক্রম জোরদার করে।

২। র‌্যাবের এই কঠোর তৎপরতার কারনে গত ৩১ মে ২০১৬ তারিখ সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু “মাষ্টার বাহিনীর” ১০ জন জলদস্যু ৫২টি দেশী-বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র এবং প্রায় ৩৯০৪ রাউন্ড গোলাবারুদ, গত ১৪ জুলাই ২০১৬ তারিখ সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু “মজনু ও ইলিয়াস বাহিনীর” ১১ জন জলদস্যু ২৫ টি দেশী-বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১০২০ রাউন্ড গোলাবারুদ, গত ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখ সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু “আলম ও শান্ত বাহিনীর” ১৪ জন জলদস্যু ২০ টি দেশী-বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র এবং সর্বমোট ১০০৮ রাউন্ড গোলাবারুদ, গত ১৯ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু “সাগর বাহিনীর” ১৩ জন জলদস্যু ২০টি দেশী-বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৯৬ রাউন্ড গোলাবারুদ, গত ২৭ নভেম্বর ২০১৬ তারিখ সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু “খোকাবাবু বাহিনী” ১২জন জলদস্যু ২২টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১০০৩ রাউন্ড গোলাবারুদ, গত ০৬ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখ সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু “নোয়া বাহিনী” ১২জন জলদস্যু ২৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১১০৫ রাউন্ড গোলাবারুদ, গত ২৯ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখ সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু “জাহাঙ্গীর বাহিনী” ২০জন জলদস্যু ৩১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৫০৭ রাউন্ড গোলাবারুদ, “ছোট রাজু বাহিনী” ১৫জন জলদস্যু ২১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১২৩৭ রাউন্ড গোলাবারুদ সর্বশেষ গত ২৮ এপ্রিল ২০১৭ তারিখ সুন্দরবনের কুখ্যাত জলদস্যু “আলিফ ও কবিরাজ বাহিনী” ২৫ জন এবং জলদস্যু ৩১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১১১০ রাউন্ড বিভিন্ন প্রকার গোলাবারুদ’সহ র‌্যাব-৮ এর নিকট আতœসমর্পন করে। (এখন পর্যন্ত বিগত ১৫ মাসে সর্বমোট ১২টি বাহিনীর ১৩২ জন জলদস্যু, ২৪৭ টি অস্ত্র ও ১২,৪৯০ রাউন্ড গোলাবারুদ সহ র‌্যাব-৮ এর নিকট আতœসমর্পণ করে) এ ঘটনা সমুহের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় অন্যান্য জলদস্যু বাহিনী সমূহের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। তারই ধারাবাহিকতায়, সম্প্রতি পশ্চিম সুন্দরবনের জলদস্যু বাহিনী (ক)‘‘মানজু বাহিনী ও (খ) মজিদ বাহিনী’’ উৎসাহিত হয়ে একই পথ অনুসরন করার সুযোগ খুঁজতে থাকে।

৩। “মানজু বাহিনী” সম্পর্কে জানা যায় যে, বাগেরহাট জেলায় মংলা থানায় সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের মংলা, শ্যালাগাং, হারবাড়িয়া, ভদ্রা, সুন্দরবনের পশুর নদী এবং বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন উপকূলবর্তী অঞ্চলে সর্বাপেক্ষা সক্রিয় একটি জলদস্যু বাহিনী। পশুর নদী সংলগ্ন বিভিন্ন খাল ও চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালাগাং সংলগ্ন অঞ্চলের বনজীবি ও জলজীবি সাধারণ মানুষ তাদের প্রধান লক্ষ্য। মোঃ মানজু সরদার (৪৪), পিতাঃ জিন্নাত সরদার দীর্ঘদিন যাবত উক্ত বাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছে। সে ২০১১ সাল থেকে সুন্দরবনে জলদস্যুবৃত্তি করে আসছে।

৪। “মজিদ বাহিনী” সম্পর্কে জানা যায়, এই বাহিনী পূর্ব সুন্দরবনের মংলা, হারবাড়িয়া, ভদ্রা এবং বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন উপকূলবর্তী অঞ্চলে সক্রিয় অপর একটি জলদস্যু বাহিনী। পশুর নদী সংলগ্ন বিভিন্ন খাল ও চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালাগাং সংলগ্ন অঞ্চলের বনজীবি ও জলজীবি সাধারণ মানুষ তাদের প্রধান লক্ষ্য। মোঃ তাকবির কাগচী @মজিদ (৩৮), পিতাঃ মোঃ মমিন আলী কাগচী দীর্ঘদিন ধরে এ বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। সে ২০১২ সাল থেকে সুন্দরবনে জলদস্যুবৃত্তি করে আসছে।

৫। “মানজু বাহিনী” এবং “ মজিদ বাহিনীর’’ প্রায় সকল শীর্ষস্থানীয় জলদস্যু অতি অভিজ্ঞ এবং দূর্ধর্ষ প্রকৃতির অপরাধী। খুলনা এবং বাগেরহাট জেলার সুন্দরবন সংলগ্ন বিভিন্ন থানায় তাদের প্রত্যেকের নামে/বেনামে একাধিক মামলা রয়েছে। র‌্যাব-৮ কর্তৃক সকল গোয়েন্দা তথ্যের যোগসূত্র নির্ণয়ের পর পরই সুন্দরবনের পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চলে জলদস্যু বিরোধী অভিযানের মাত্রা আরও উল্লেখযোগ্য হারে জোরদার করা হয়। সুন্দরবনের প্রতিটি নদী ও শাখা জুড়ে র‌্যাবসহ অন্যান্য আইন শৃংখলা বাহিনীর অবিরাম টহল এবং দৃঢ় মনোভাবের ফলে জলদস্যু/ডাকাত দলগুলোর কার্যক্রম কোনঠাসা হয়ে পড়ে এবং তাদের অপরাধসীমা প্রায় শূণ্যের কোটায় চলে আসে। বিভিন্ন জলদস্যু/ডাকাত বাহিনী র‌্যাব এর হাতে নিস্ক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি র‌্যাব-৮ এর ক্রমাগত একাধিক কঠোর অভিযান, অতি সক্রিয় গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক এবং কৌশলগত পদক্ষেপের কারণে কোনঠাসা হয়ে ভীত হয়ে পড়ে। তারা অনুধাবন করে অধিক অর্থ উপার্জন ও কুপ্ররোচনার স্বীকার হয়ে তারা ভুল পথে পরিচালিত হয়েছিল। তাদের নিজ অপরাধ বুঝতে পেরে স্বপ্রণোদিত হয়ে তাদের কাছে থাকা সমস্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আইনের কাছে নিজেদেরকে সোপর্দ করতে ইচ্ছা পোষণ করে।

৬। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৮, সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে ৩১ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ হতে বিশেষ অভিযান আরম্ভ করে। ৩১ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ সুন্দরবন এর আওতাভুক্ত চাঁদপাই রেঞ্জের অন্তর্গত শ্যালা নদীতে আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনাকালে জলদস্যু/ডাকাত “মানজু বাহিনীর’’ সদস্যগণ তথ্যদাতা এর মাধ্যমে আভিযানিক দলের কমান্ডারের সাথে যোগাযোগ করে এবং মৃর্গামারির শ্যালাগাং এর পশ্চিম পাড়ে গহীন জংগলে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে। আভিযানিক দলটি ৩১ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ বিকাল আনুমানিক ১৪০০ ঘটিকায় মৃর্গামারির শ্যালাগাং এর নিকট পৌঁছালে খালের প্রবেশ মুখ হতে অনুমান ১০০ গজ পশ্চিম পাড়ে কয়েকজন লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে এগিয়ে যায়। দঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁাঁড়িয়ে থাকা লোকদের নিকট পৌঁছালে তারা বনের ভিতর থেকে বেরিয়ে এসে আভিযানিক দলের সামনে হাত উঁচু করে করে দাঁড়িয়ে থাকে এবং নিজেদেরকে বনদস্যু/ডাকাত কথিত “মানজু বাহিনীর’’ জলদস্যু (১) মোঃ মানজু সরদার (৪৪), পিতাঃ জিন্নাত সরদার, সাং-রমজায়পুর, থানাঃ রামপাল, জেলাঃ বাগেরহাট (২) জুলফিকার ইজারদার (৪৬), পিতাঃ মৃত মোসলেম ইজারদার, সাং-প্রসাদনগর, থানাঃ রামপাল, জেলাঃ বাগেরহাট, (৩) মোঃ বাচ্চু মল্লিক (৩২), পিতাঃ মোঃ রুহুল আমিন মল্লিক, সাং-বর্ণিছায়রাবাদ, থানাঃ রামপাল, জেলাঃ বাগেরহাট, (৪) মোঃ তৌহিদুর রহমান শেখ (৫০), পিতাঃ মৃত সফির উদ্দিন শেখ, সাং-কালিকাপ্রসাদ, থানাঃ রামপাল, জেলাঃ বাগেরহাট (৫) মোঃ রেজাউল ইসলাম (২৫), পিতাঃ মোঃ ইদ্রিস আলী, সাং-খারদার, থানাঃ সদর, জেলাঃ বাগেরহাট, (৬) মোঃ পলাশ খাঁন (৩৪), পিতাঃ মোঃ গোলামরসুল খাঁন, সাং-বড়কাটাখালী, থানাঃ রামপাল, জেলাঃ বাগেরহাট (৭) মোঃ সুমায়ন ফকির (২৫) পিতাঃ মোঃ রজব আলী ফকির, সাং কালীকাপ্রসাদ, থানাঃ রামপাল, জেলাঃ বাগেরহাট (৮) মোঃ জামরুল শেখ (৩০), পিতাঃ মৃত ইজার উদ্দিন শেখ, সাং-বড়দূর্গাপুর, থানাঃ রামপাল, জেলাঃ বাগেরহাট, (৯) মোঃ মজিব ইজারদার (৩২) পিতা মোঃ আয়ুব আলী ইজাদ্দার, সাং-প্রসাদনগর থানাঃ রামপাল, জেলাঃ বাগেরহাট, (১০) মোঃ হাওলাদার আলমগীর (৩৮), পিতাঃ মৃত মোজাহের হাওলাদার, সাং-জিগির মোল্লা, থানাঃ রামপাল, জেলাঃ বাগেরহাট (১১) মোঃ হানিফ শেখ (৩২) পিতাঃ তাইফ শেখ, সাং-বর্দাসকাঠি, থানাঃ রামপাল, জেলাঃ বাগেরহাট বলে পরিচয় প্রদান করে। তারা আভিযানিক দলকে আরো জানায় যে, তাদের ব্যবহৃত কিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদ বনের ভিতর বিভিন্ন স্থানে লুকানো আছে যা তারা হস্তান্তর করতে চায়।

৭। অতঃপর আভিযানিক দলটি জলদস্যুদের গ্রেফতার করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত মাঝিদের নিয়ে অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধারের লক্ষ্যে বনের মধ্যে তল্লাশী শুরু করে। তল্লাশীর এক পর্যায়ে খালের পাড় হতে বনের মধ্যে অনুমান ১০০-১৫০ গজ ভিতরে লুকানো অবস্থায় একাধিক বস্তা, চটের ব্যাগ ও প্লাস্টিকের কন্টেইনারের ভিতরে ভরা অবস্থায় অস্ত্র-গুলি পাওয়া যায়। সকল ব্যাগ ও কন্টেইনার থেকে সর্বমোট ১৯টি দেশী-বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র এবং সকল প্রকার অস্ত্রের প্রায় ৮৫৩ রাউন্ড তাঁজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

৮। একই দিন কুখ্যাত ‘‘মজিদ বাহিনী’’ প্রধান মোঃ তাকবির কাগচী@মজিদ (৩৮) বিশ্বস্ত তথ্যদাতা মারফত চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারিয়া নামার চরে আনুমানিক ২০০ গজ বনের ভিতরে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করে। এ তথ্যের ভিত্তিতে শ্যালা নদীতে আটক এবং উদ্ধার অভিযান শেষ করে পশুর নদীর উদ্দেশ্যে র‌্যাব-৮ এর আভিযানিক দল রওনা করে। বিকাল আনুমানিক ১৫৩০ ঘটিকায় আন্ধারিয়া নামা চরের প্রবেশ মুখে গহীন জঙ্গলের মধ্যে আকষ্মিক ভাবে ০৯ জন ব্যক্তিকে র‌্যাবের টহল নৌযান দেখে পলায়ন করতে লক্ষ্য করা যায়। এ সময় হ্যান্ড মাইকে তাদের আশ্বস্ত করা হলে তারা জঙ্গল থেকে হাত উঁচু করে বের হয়ে আসে এবং নিজেদেরকে “মজিদ বাহিনীর’’ সদস্য (১) মোঃ তাকবির কাগচী@মজিদ (৩৮), পিতাঃ মোঃ মমিন আলী কাগচী, সাং-কালিঞ্চী, থানাঃ শ্যামনগর, জেলাঃ সাতক্ষীরা, (২) মোঃ হাসান বিশ্বাস (৩৯), পিতাঃ মোঃ রজত আলী বিশ্বাস, সাং-গোপিনাথপুর, থানাঃ কলারোয়া, জেলাঃ সাতক্ষীরা(৩) মোঃ আব্দুল মজিদ (৩০), পিতাঃ আকবর গাজী, সাং ভেটখালী, থানাঃ শ্যামনগর, জেলাঃ সাতক্ষীরা, (৪) মোঃ ইউনুছ শেখ (২৪), পিতাঃ মোঃ আহাদুর শেখ, সাং- বংশিপুর, থানাঃ শ্যামনগর, জেলাঃ সাতক্ষীরা(৫) মোঃ হাফিজুল ইসলাম (৩২), পিতাঃ মোঃ ইনতাজ আলী গাজী, সাং-তেতুলতলা, থানাঃ কয়রা, জেলাঃ খুলনা, (৬) মোঃ আফজাল খাঁন (৩৫), পিতাঃ মোঃ আফছার খাঁন, সাং-কালীকাপ্রসাদ, থানাঃ রামপাল, জেলাঃ বাগেরহাট, (৭) মোঃ এসকেন খাঁন (৪০), পিতাঃ মোঃ জোব্বার খাঁন, সাং-কুমারখালী, থানাঃ রামপাল, জেলাঃ বাগেরহাট, (৮) মোঃ হাসান আলী ইজারদার (৩২), পিতাঃ মৃত মোসলেম ইজারদার, সাং-প্রসাদনগর, থানাঃ রামপাল, জেলাঃ বাগেরহাট, (৯) মোঃ মোসা ইজাদ্দার (৩৩), পিতাঃ মৃত নেচার ইজাদ্দার, সাং-প্রসাদনগর, থানাঃ রামপাল, জেলাঃ বাগেরহাট বলে জানায়। তারা জানায় যে, তাদের ব্যবহৃত কিছু অস্ত্র ও গোলাবারুদ বনের ভিতর লুকানো আছে সেগুলো আভিযানিক দলের নিকট হস্তান্তর করতে চায়।

৯। অতঃপর আভিযানিক দলটি তাদেরকে গ্রেফতার পূর্বক ঘটনাস্থলে উপস্থিত মাঝিদের নিয়ে অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধারে বনের মধ্যে তল্লাশী শুরু করে। তল্লাশীর এক পর্যায়ে আন্ধারিয়া নামার চরের পাড় হতে বনের মধ্যে অনুমান ২০০-২৫০ গজ ভিতরে জলদস্যু/ডাকাতদের দেখানো ও সনাক্ত মতে লুকানো অবস্থায় একাধিক বস্তা, চটের ব্যাগ, প্লাষ্টিকের কন্টেইনারের ভিতরে ভরা অবস্থায় অস্ত্র-গুলি পাওয়া যায়। সকল ব্যাগ ও কন্টেইনার থেকে সর্বমোট ১৪ টি দেশী-বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র এবং সকল প্রকার অস্ত্রের প্রায় ৪৭৬ রাউন্ড তাঁজা গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

১০। ৩১ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ সন্ধ্যা ১৬৩০ ঘটিকা নাগাদ অভিযানের সমাপ্তি ঘোষনা করা হয় এবং রাত ২০০০ ঘটিকায় আতœসমর্পণকারী দস্যু ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র সরঞ্জামসহ বাগেরহাট জেলার মংলা থানার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা হয়। ৩১ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ সকাল ০৫০০ ঘটিকা হতে ০১ নভেম্বর রাত ২০০০ ঘটিকা পর্যন্ত অভিযানে “মানজু বাহিনীর” ১১ জন জলদস্যু এবং “মজিদ বাহিনীর” ০৯ জনসহ সর্বমোট ২০ জন জলদস্যু র‌্যাব-৮ এর নিকট আতœসমর্পণ করে এবং ১০টি বিদেশী একনালা বন্দুক, ০৭টি বিদেশী দোনালা বন্দুক, ০৬ টি .২২ বোর বিদেশী এয়ার রাইফেল, ০৬ টি ওয়ান শ্যুটারগান এবং ০৪ টি কাটা রাইফেলসহ সর্বমোট ৩৩ টি দেশী-বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র এবং সর্বমোট ১৩২৯ রাউন্ড বিভিন্ন প্রকার গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

১১। “মানজু বাহিনী” এবং “মজিদ বাহিনী” সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনের অন্যতম সংগঠিত এবং সক্রিয় জলদস্যু বাহিনী। বাহিনী দুটি সকল অস্ত্র-গোলাবারুদসহ সদলবলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ এর ফলে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন ও তৎসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে সাধারণ মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে ও নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে মৎস্য আহরণ করতে পারবে। বনজীবি এবং মৎস্যজীবি সাধারণ মানুষের মধ্যে এর ফলে ব্যাপক আশার সঞ্চার হবে এবং দস্যুবৃত্তিতে নিয়োজিত অন্যান্য বনদস্যু/জলদস্যুরাও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে দারুনভাবে উৎসাহিত হবে।

১২। উপরোক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সাম্প্রতিক ভিডিও




র‌্যাব কর্তৃক প্রদত্ত পরামর্শ

***জমি জমা বা টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোন অভিযোগ র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোন সমস্যা র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***কোন অভিযোগ করার পূর্বে আপনার এলাকার জন্য দায়িত্বপূর্ন র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্প সম্পর্কে জানুন ও যথাযথ র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্পে অভিযোগ করুন ।
***আপনার এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে র‌্যাব কে তথ্য প্রদান করে র‌্যাবকে সহযোগীতা করুন । আপনার পরিচয় সম্প‍ুর্ন্ন গোপন রাখা হবে । ***বেশী করে গাছ লাগান অক্সিজেনের অভাব তাড়ান
***ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের আগুন নিয়ে খেলতে দিবেন না ।
***যাত্রা পথে অপরিচিত লোকের দেওয়া বিছু খাবেন না । ভ্রমণকালে সহযোগী বা অন্য কাহারো নিকট হইতে পান, বিড়ি, সিগারেট, চা বা অন্য কোন পানীয় খাওয়া/গ্রহন করা হইতে বিরত ‍থাকা আবশ্যক ।