Home » News Room » র‌্যাবের অভিযানে সাভার ও টাঙ্গাইল হতে টাঙ্গাইলের উত্তর হুগড়া এলাকায় রুবেল হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত ॥ মূল পরিকল্পনাকারীসহ উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ০৩ জন চরমপন্থী গ্রেফতার।

র‌্যাবের অভিযানে সাভার ও টাঙ্গাইল হতে টাঙ্গাইলের উত্তর হুগড়া এলাকায় রুবেল হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত ॥ মূল পরিকল্পনাকারীসহ উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ০৩ জন চরমপন্থী গ্রেফতার।

১।    র‌্যাব তার প্রতিষ্ঠালগ্ন হতেই খুন, অপহরণ, জঙ্গি দমন, ছিনতাই, চাঁদাবাজী, চুরি ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করাসহ দুঃষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে অপরাধ নির্মূলে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে আসছে এবং র‌্যাব ব্যাপকভাবে সফলতা অর্জন করেছে। গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধিসহ সার্বক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব ইতোমধ্যে জনগনের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে দেশের সাম্প্রতিক জঙ্গিবাদ উত্থানরোধে র‌্যাব তার আভিযানিক কার্যক্রম আরো জোরদার করেছে।

২।    এরই ধারাবাহিকতায় গত ০৮ জুলাই ২০১৭ তারিখ আনুমানিক ১৭০০ ঘটিকায় র‌্যাব-১২, টাঙ্গাইল ক্যাম্পের অভিযানে টাঙ্গাইল জেলার সদর থানাধীন উত্তর হুগরার মৃত দুখুর উদ্দিনের ছেলে মোঃ রুবেল মিয়া (১৯) হত্যা কান্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হয়েছে এবং উক্ত হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মোস্তফাসহ ০৩ চরমপন্থী গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ধৃত (১) মোঃ মোস্তফা (৬২), পিতা-মৃত আবুল হোসেন, (২) মাসুদ (৩০), পিতা-মৃত মান্নান, (৩) মোঃ সেলিম (৩৫), পিতা-মোঃ আব্দুল কুদ্দুস এবং পলাতক আসামী (৪) মোঃ ময়নাল (৩৫), পিতা-মৃত হোসেন আলী, (৫) মোঃ সাইফুল (২৮), পিতা-মোঃ সায়েদ আলী, সর্বসাং-উত্তর হুগড়া, থানা ও জেলা-টাঙ্গাইলগণ সকলেই অক্টোবর/২০১৫ সালে র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত চরমপন্থী আকবর আলী ও মনু মিয়া গ্রুপের সদস্য। ধৃত আসামী মোস্তফা ও সেলিমকে উত্তর হুগড়া ও মাসুদকে শ্রীপুর, সাভার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

৩।    ঘটনার পারিপার্শি¦কতা, ধৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় যে, রুবেলের পিতা দুখুর উদ্দিন আনুমানিক ৯/১০ বছর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেন। বাবার মৃত্যুর পরে রুবেল সংসারের হাল ধরার জন্য ঢাকা শহরে রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। রুবেলের বাবার মৃত্যুর পর তার সৎ মা মোছাঃ জুলেখা বেগম (৪০) এর সাথে ০১নং আসামি মোঃ মোস্তফা সম্পর্ক করতে চায় এবং তার মাকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করতে থাকে। এক পর্যায়ে মোস্তফা গোপনে রুবেলের মা’কে জোড়পূর্বক নিকাহ করে। উক্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে রুবেলের সাথে ধৃত ০১ নং আসামী মোঃ মোস্তফার মনমালিন্যের সৃষ্টি হয় এবং রুবেল মোস্তফাকে বাড়ী ছেড়ে চলে যেতে বলে। তখন ধৃত ০১ নং আসামী সকলের সামনে ভিকটিম রুবেলকে হুমকি দেয় যে, “আমার এবং জুলেখার মাঝে যে বাধাঁ হয়ে দাড়াঁবে, তাকে আমি এ পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেব।” এরপর ধৃত ০১ নং  আসামি মোস্তফা তার পথের কাঁটা রুবেলকে মেরে ফেলার জন্য বিভিন্ন উপায় খুঁজতে থাকে। এদিকে গত রমজান মাসে রুবেল বাড়ীতে আসে এবং গত ঈদ উল ফিতরের কিছুদিন আগে রাতে উত্তর হুগড়া গ্রামে জনৈক মোঃ খলিল মিয়া (৩৭) এর চায়ের দোকানের সামনে কেরাম বোর্ড খেলাকে কেন্দ্র করে রুবেল এর সাথে একই গ্রামের মাসুদ, সেলিম, ময়নাল ও সাইফুলদের সাথে ঝগড়া হয়। উক্ত ঘটনা জানার পর ধৃত ০১ নং আসামী মোঃ মোস্তফা ২,৩,৪ ও ৫ নং আসামী মাসুদ, সেলিম, ময়নাল ও সাইফুলকে উসকানি দিতে থাকে, যেভাবেই হোক রুবেলকে শায়েস্থা করতে হবে। এরই ধারাবাহকতায় ধৃত ০১ নং আসামী মোঃ মোস্তফার নেতৃত্বে ২,৩,৪ ও ৫ নং আসামী মাসুদ, সেলিম, ময়নাল ও সাইফুলগণ মিলে গত ২৭ জুন ২০১৭ তারিখে উত্তর হুগড়া গ্রামের জনৈক নুর ইসলাম এর পোলট্রি ফার্মের সামনে সন্ধ্যার সময় রুবেলকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে। এসময় রুবেল হুগড়া মৌজাস্থ কাজী বাজারে অবস্থান করছিল। তখন আসামী মাসুদ, ময়নাল ও সাইফুল গত ২৭ জুন ২০১৭ তারিখ রাত্র আনুমানিক ০৯৩০ ঘটিকার সময় রুবেলকে কৌশলে টাঙ্গাইল জেলার সদর থানাধীন উত্তর হুগড়া গ্রামের ঢোলবাড়ী ইরিদাগ এলাকায় চকের মধ্যে নিয়ে আসে। সেখানে আগে থেকেই ধৃত ০১ নং আসামী মোস্তফা ও ০৩ নং আসামী সেলিম অবস্থান করছিল।

৪।    রুবেলকে চকে নিয়ে আসারপর আসামী মোস্তফা, সেলিম, ময়নাল ও সাইফুল রুবেলকে হাত- পা চেপে ধরে এবং আসামী মাসুদ চাপাতি দিয়ে রুবেল এর দুই হাতে ও গলা কোপ মারে। রুবেল এর মৃত্যু নিশ্চিত করে আসামিগণ ঢোলবাড়ী ইরিদাগের পাশে অবস্থিত সেলুমেশিনের ঘর হতে পুরাতন বস্তা এনে সেখানে রুবেলকে বস্তায় ভরে চর হুগড়া গ্রামের কাঁচা রাস্তার পশ্চিমে রাস্তার ধারে মাটি খুঁড়ে পুতে রেখে আসামিগণ পালিয়ে যায়। আসামিগণ ধারণা করেছিল মাটিতে পুঁতে রাখলে কেউ কোনদিন আসামিদের সন্ধান পাবেনা। উপরোক্ত হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মোস্তফা ভিকটিমের মা ও ভাই বোনকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। ফলে অদ্যাবধি ভিকটিমের স্বজনগণ মামলা দায়ের করেননি।

৬।    ধৃত আসামিগণ র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে উক্ত হত্যাকান্ড কিভাবে সংঘটিত হয়েছে তার বর্ণনা দিয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সত্যতা স্বীকার করেছে। পলাতক অপরাপর আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। ধৃত আসামীদের বিরুদ্ধে ভিকটিমের ভাই বাদী হয়ে টাঙ্গাইল জেলার সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

র‌্যাব কর্তৃক প্রদত্ত পরামর্শ

***জমি জমা বা টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোন অভিযোগ র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোন সমস্যা র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***কোন অভিযোগ করার পূর্বে আপনার এলাকার জন্য দায়িত্বপূর্ন র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্প সম্পর্কে জানুন ও যথাযথ র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্পে অভিযোগ করুন ।
***আপনার এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে র‌্যাব কে তথ্য প্রদান করে র‌্যাবকে সহযোগীতা করুন । আপনার পরিচয় সম্প‍ুর্ন্ন গোপন রাখা হবে । ***বেশী করে গাছ লাগান অক্সিজেনের অভাব তাড়ান
***ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের আগুন নিয়ে খেলতে দিবেন না ।
***যাত্রা পথে অপরিচিত লোকের দেওয়া বিছু খাবেন না । ভ্রমণকালে সহযোগী বা অন্য কাহারো নিকট হইতে পান, বিড়ি, সিগারেট, চা বা অন্য কোন পানীয় খাওয়া/গ্রহন করা হইতে বিরত ‍থাকা আবশ্যক ।

সাম্প্রতিক ভিডিও