Home » News Room » র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন ইদারকান্দী গ্রামের চাঞ্চল্যকর রুবেল হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন এবং হত্যার সাথে জড়িত ০২ জন গ্রেফতার

র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন ইদারকান্দী গ্রামের চাঞ্চল্যকর রুবেল হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন এবং হত্যার সাথে জড়িত ০২ জন গ্রেফতার

Press - 1 (RAB-3) Pic (2)

১। র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সবসময় বিভিন্ন ধরণের অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। র‌্যাবের সৃষ্টিকাল থেকে এ পর্যন্ত জঙ্গি, মাদক, ধর্ষণকারী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীসহ চাঞ্চল্যকর অভিযানে আসামীদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও সময়ে সময়ে বিভিন্ন সংগঠিত উল্লখযোগ্য অপরাধে জড়িত আসামীদের আইনের আওতায় এনে সাধারণ জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে র‌্যাব সদা তৎপর রয়েছে।

২। গত ১১ মার্চ ২০১৯ তারিখ ০৩৩৫ ঘটিকায় মোঃ রুবেল (২৯), পিতা- মোঃ নাজিম উদ্দিন, সাং-ইদারকান্দী, থানা-খিলগাঁও এর মৃত দেহ ইদারকান্দী বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদের পশ্চিম পার্শ্বে পাওয়া যায়। উক্ত ঘটনায় রুবেলের পিতা বাদী হয়ে একই দিনে খিলগাঁও থানার অপমৃত্যু মামলা নং-১১/১৯ রুজু করেন। উক্ত হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য র‌্যাব-৩ গোয়েন্দা নজরদারী অব্যাহত রাখে।

৩। উক্ত মামলার প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় যে, ভিকটিম রুবেল এর মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ বিষয়ে রুবেল এর পিতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। রুবেল এর পিতা জানান যে, তার সন্তানকে প্রকৃত পক্ষে হত্যা করা হয়েছে। রুবেল এর লাশ প্রকৃত পক্ষে ইদারকান্দী গ্রামের রুবেল এর প্রতিবেশী এবং দূর সম্পর্কের আত্মীয় শামীম এর নির্মাণাধীন রান্না ঘরের ভিতরে ঘটনার দিন আনুমানিক রাত ০১১৫ ঘটিকায় পাওয়া যায়। ঘটনার পরপর শামীম এবং তার পরিবারের লোকজন রুবেল এর পিতাকে জানায় যে, রুবেল বিদ্যুৎ স্পৃষ্ঠ হয়ে তাদের রান্না ঘরের ভিতর পড়ে আছে। পরবর্তীতে রুবেল এর মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেলে আল আমিন রুবেল এর পিতাকে ২,০০,০০০/- টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার প্রস্তাব দেয়। রুবেল এর পিতা লোভে পড়ে উক্ত প্রস্তাবে রাজি হয়। পরবর্তীতে রুবেল এর পিতা পুলিশের কাছে প্রকৃত তথ্য গোপন করে মামলার ঘটনাস্থল পরিবর্তন করে অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন। কিন্তু পরবর্তীতে আল আমিন রুবেল এর পিতাকে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে।

৪। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য র‌্যাব-৩ এর একটি আভিযানিক দল অদ্য ১৩ মার্চ ২০১৯ তারিখ ০৪০০ ঘটিকায় খিলগাঁও থানাধীন ইদারকান্দী গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে আসামী ১। আল আমিন (৩৮) এবং ২। শামীম (৩৫), উভয় পিতা-আমির উদ্দিন, সাং- ইদারকান্দী, থানা-খিলগাঁও’দ্বয়কে আটক করতে সক্ষম হয়। আল আমিন ও শামীম আপন দুই ভাই। আল আমিন এবং শামীমকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে রুবেল হত্যার মূল রহস্য উদঘাটিত হয়।

৫। ধৃত আসামীদ্বয় জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, রুবেল মাদক সেবী ছিল। নেশার টাকা যোগাড় করার জন্য সে বিভিন্ন সময় চুরি করত। ইতিপূর্বে চুরির ঘটনায় ধৃত হয়ে গ্রামে বিচার সালিশ হয়েছে। ঘটনার দিন রাতে রুবেল চুরি করার উদ্দেশ্যে শামীমের ঘরে ঢোকার চেষ্টা করে। শামীম শব্দ পেয়ে ঘরের দরজা খুলে চোর সন্দেহে রুবেলের সাথে ধস্তাধস্তি হয় এবং রুবেল পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সে লোহার রড দিয়ে রুবেলের মাথায় আঘাত করে। রুবেল মাটিতে পড়ে গেলে শামীম তার বড়ভাই আল আমিনকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে বিস্তারিত ঘটনা জানায়।
৬। তখন শামীম এবং আল আমিন উক্ত ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য শামীমের নির্মাণাধীন রান্না ঘরের টিনের বেড়ার নিচ দিয়ে রুবেলের লাশ বাড়ীর বাইরে ফেলার চেষ্টা করে। কিন্তু লাশ অর্ধেক বেড়ার বাইরে যাওয়ার পর আটকে যায়। তখন তারা উক্ত ঘটনাকে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ঠ হিসেবে রটনা করার ফন্দী আটে। এরপর তারা বাড়ীর আশেপাশের লোকজন ও রুবেলের চাচা, পিতা, মাতা, এবং ভাইকে ডেকে নিয়ে এসে রুবেল বিদ্যুৎ স্পৃষ্ঠ হয়ে তাদের বাড়ীতে পড়ে আছে মর্মে জানায়। তখন এলাকাবাসীর সহায়তায় শামীম বিদ্যুতের খুঁটি হতে তাদের বাড়ীর বিদ্যুৎ সংযোগের তারটি বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তাদের কথা বিশ্বাস করে ঘটনাস্থলে আগত সকল লোক রুবেলের হাতে পায়ে ম্যাসেজ করে জ্ঞান ফিরানোর চেষ্টা করে। পরবর্তীতে সবাই বুঝতে পারে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে রুবেলের মৃত্যু হয় নাই। তখন রুবেলের পিতা-মাতা রুবেল এর লাশ বাড়ীতে নিয়ে যায়। আল আমিন রুবেলের দূর সম্পর্কের আত্মীয় হওয়ায় তারা ২,০০,০০০/- টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য আল আমিন রুবেলের পিতাকে প্রস্তাব দেয়। রুবেলের পিতা লোভে পড়ে উক্ত প্রস্তাবে রাজি হয়। পরবর্তীতে রুবেল এর পিতা পুলিশের কাছে প্রকৃত তথ্য গোপন করে মামলার ঘটনাস্থল পরিবর্তন করে অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন।

৭। উপরোক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সাম্প্রতিক ভিডিও




র‌্যাব কর্তৃক প্রদত্ত পরামর্শ

***জমি জমা বা টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোন অভিযোগ র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোন সমস্যা র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***কোন অভিযোগ করার পূর্বে আপনার এলাকার জন্য দায়িত্বপূর্ন র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্প সম্পর্কে জানুন ও যথাযথ র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্পে অভিযোগ করুন ।
***আপনার এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে র‌্যাব কে তথ্য প্রদান করে র‌্যাবকে সহযোগীতা করুন । আপনার পরিচয় সম্প‍ুর্ন্ন গোপন রাখা হবে । ***বেশী করে গাছ লাগান অক্সিজেনের অভাব তাড়ান
***ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের আগুন নিয়ে খেলতে দিবেন না ।
***যাত্রা পথে অপরিচিত লোকের দেওয়া বিছু খাবেন না । ভ্রমণকালে সহযোগী বা অন্য কাহারো নিকট হইতে পান, বিড়ি, সিগারেট, চা বা অন্য কোন পানীয় খাওয়া/গ্রহন করা হইতে বিরত ‍থাকা আবশ্যক ।