Home » News Room » র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর হাজারীবাগ থানাধীন পশ্চিম ধানমন্ডি এলাকা থেকে ইয়াবা স¤্রাট আলমসহ চারজন ইয়াবা ব্যবাসায়ী একলক্ষ তেইশ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার।

র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর হাজারীবাগ থানাধীন পশ্চিম ধানমন্ডি এলাকা থেকে ইয়াবা স¤্রাট আলমসহ চারজন ইয়াবা ব্যবাসায়ী একলক্ষ তেইশ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার।

১। বাংলাদেশ আমার অহংকার এই শ্লোগান নিয়ে র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মাদক দ্রব্য উদ্ধারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশের যুব সমাজ তথা নতুন প্রজন্ম’কে মাদকের নীল দংশন হতে পরিত্রান এবং সমাজে মাদকের ভয়াল থাবার বিস্তার রোধকল্পে মাদক বিরোধী অভিযানে অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি র‌্যাবও কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছে এবং নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। সন্ত্রাস, চরমপন্থী ও ধর্মীয় জঙ্গিবাদ নির্মূলের পাশাপাশি মাদক বিরোধী অভিযানে র‌্যাব বলিষ্ঠ পদক্ষেপ রেখে চলেছে। গোয়েন্দা ও নিয়মিত আভিযানিক কার্যক্রমের মাধ্যমে মাদকের চোরাচালান, চোরাকারবারী, চোরাচালানের রুট, মাদকস্পট, মাদকদ্রব্য মজুদকারী ও বাজারজাতকারীদের চিহ্নিত করে তাদের গ্রেফতারসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

২। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-২ এর আভিযানিক দল গত ১৪ মার্চ ২০১৮ তারিখ আনুমানিক ১৬.৩৫ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, রাজধানীর হাজারীবাগ থানাধীন ১৯ নং রোডের, পশ্চিম ধানমন্ডি মধুরবাজারস্থ, বাসা নং-১৫৩/এ, স্বপ্ননীড় ভবনের ২য় তলার, বি-১ ফ্লাটের কক্ষে নিষিদ্ধ নেশা জাতীয় ট্যাবলেট (ইয়াবা) এর বড় একটি চালান সরবরাহ করার জন্য অবস্থান করছে। গোয়েন্দাসূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাবের আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে (১) মোঃ আলম (৪০), পিতাÑমোঃ শামসুল আলম, সাং-কলাতলী (হোটেল অর্কিড এর গলির ভিতরে), থানা ও জেলা-কক্সবাজার, অ/চ বাসা নং-১৫৩/এ, স্বপ্ননীড়, ২য় তলা (বি-১), রোড নং-১৯ পশ্চিম ধানমন্ডি (মধুরবাজার), থানা- হাজারীবাগ, ডিএমপি, ঢাকা, ২। মোঃ জসিম উদ্দিন@আরমান(২৩), পিতা- মোঃ শামসুল আলম, সাং-মহা শফির বিল, থানা-উখিয়া, জেলা- কক্সবাজার, অ/চ বাসা নং-২০৮/এ, রোড নং-১৯ পশ্চিম ধানমন্ডি (মধুরবাজার), থানা- হাজারীবাগ, ডিএমপি, ঢাকা, ৩। মোঃ সালাউদ্দিন (২৭), পিতা-মৃত-গোলাম মোস্তফা, সাং-রাজারপুর, থানা-রামু, জেলা-কক্সবাজার (পূর্ব সাং-পাহাড়তলী পাড়া, ঠাকুরতলা, থানা-মহেশখালী, জেলা- কক্সবাজার), ৪। মোঃ মিজানুর রহমান (৩৩), পিতা- আলী আহম্মদ, সাং-পাগলিরবিল, থানা- উখিয়া, জেলা-কক্সবাজারদেরকে ১,২৩,০০০ (একলক্ষ তেইশ হাজার) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, নগদ টাকা ৮১,০০০/-টাকা, ০৭টি সিমসহ মোবাইল,  ০১টি ট্রলি ব্যাগ, ০৩ টালি খাতা,ডায়রী, নোট বুক, ০১টি ক্যালকুলেটর, ০২টি ভিজিটিং কার্ড বক্স সহ গ্রেফতার করে।

৩। গ্রেফতারকৃত (ক) মোঃ আলম (৪০) জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, সে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। সে তার এলাকার বন্ধুদের সহযোগিতায় চিংড়ি মাছের পোনার ব্যবসা, কটেজ ব্যবসা, জমি-জমা ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা করে কিছুটা উন্নতি হলে সে ইয়াবা নেশায় আসক্ত হয়। একপর্যায়ে মিয়ানমার হতে আগত অজ্ঞাতনামা মাদক ব্যবসায়ীর সাথে তার পরিচয়ের সূত্রধরে ধ্বংসাত্মক নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবা ব্যবসার সহিত জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে মাদক ব্যবসাকে বড় পরিসরে রুপান্তরের লক্ষ্যে নতুন পুরাতন গাড়ী ক্রয়-বিক্রয় ব্যবসার অন্তরালে সীমন্তবর্তী দেশ মিয়ানমার হতে ক্রয়কৃত ইয়াবা তার কক্সবাজারের কলাতলী, শামীম গেষ্ট হাউজে মজুদ করে কখনো প্রাইভেট কারে, কখনো পিকআপে, বিভিন্ন ট্রান্সপোর্টে, পরিবহন বাসে, বডি পরিবর্তন করে ঢাকায় নিয়ে আসে। সে দীর্ঘদিন থেকে ভদ্রবেশী মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত হওয়ায় আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সুকৌশলে ইয়াবা ট্যাবলেট (মাদক) রাজধানীসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করে আসছে।  (খ) গ্রেফতারকৃত মোঃ জসিম উদ্দিন (২৩) জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, আসামী মোঃ আলম তার আপন বড় ভাই। সে বর্তমানে ঢাকা কলেজ, ঢাকায় সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স ৩য় বর্ষে অধ্যয়নরত। লেখাপড়ার খরচ চালাতে মাদক ব্যবসায়ী বড় ভাইয়ের পরামর্শে সে তার স্কুল, কলেজ পড়–য়া মাদকসেবী বন্ধুদের সাথে সক্ষতা গড়ে নিয়মিতভাবে ইয়াবা সরবরাহ করত এবং মাদকের আসর বসানোর জন্য আলাদা ফ্লাট ভাড়া নিয়ে বসবাস করত। (গ) গ্রেফতারকৃত মোঃ সালাউদ্দিন (২৭) কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে কক্সবাজার পৌর প্রিপারেটরি উচ্চ বিদ্যালয় হতে ৬ষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। সে মোটর গাড়ীর গ্যারেজে মিস্ত্রী হিসেবে কাজ করার সুবাদে মাদক ব্যবসায়ী আলমের সহিত পরিচয় হয় ও তার সহযোগী হিসেবে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে।

(ঘ) গ্রেফতারকৃত মোঃ মিজানুর রহমান (৩৩) জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, সে রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসা, রামু চেকপোষ্ট হতে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। সে উখিয়া হতে কক্সবাজার পর্যন্ত যাত্রীবাহীবাসের ড্রাইভার হিসেবে কাজ করার সুবাদে মাদক ব্যবসায়ী আলমের সহিত পরিচয় হয় বাড়তি আয়ের নেশায় মাদক ব্যবসায়ী আলম কর্তৃক প্রলুব্ধ হয়ে মাদক পরিবহন ও ব্যবসার কাজে জড়িয়ে পড়ে।

৪।    গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

সাম্প্রতিক ভিডিও




র‌্যাব কর্তৃক প্রদত্ত পরামর্শ

***জমি জমা বা টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোন অভিযোগ র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোন সমস্যা র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***কোন অভিযোগ করার পূর্বে আপনার এলাকার জন্য দায়িত্বপূর্ন র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্প সম্পর্কে জানুন ও যথাযথ র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্পে অভিযোগ করুন ।
***আপনার এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে র‌্যাব কে তথ্য প্রদান করে র‌্যাবকে সহযোগীতা করুন । আপনার পরিচয় সম্প‍ুর্ন্ন গোপন রাখা হবে । ***বেশী করে গাছ লাগান অক্সিজেনের অভাব তাড়ান
***ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের আগুন নিয়ে খেলতে দিবেন না ।
***যাত্রা পথে অপরিচিত লোকের দেওয়া বিছু খাবেন না । ভ্রমণকালে সহযোগী বা অন্য কাহারো নিকট হইতে পান, বিড়ি, সিগারেট, চা বা অন্য কোন পানীয় খাওয়া/গ্রহন করা হইতে বিরত ‍থাকা আবশ্যক ।