Home » News Room » র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর কাকরাইলের চাঞ্চল্যকর জোড়া খুন ঘটনার মূল হত্যাকারী আল-আমিন @ জনি গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার, হত্যার দায় স্বীকার।

র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর কাকরাইলের চাঞ্চল্যকর জোড়া খুন ঘটনার মূল হত্যাকারী আল-আমিন @ জনি গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার, হত্যার দায় স্বীকার।

১।    গত ০১/১১/২০১৭ তারিখ আনুমানিক ১৮০০ ঘটিকায় রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় শামসুন্নাহার (৪৬) ও ছেলে  শাওন (১৮) খুন হয়। উক্ত জোড়া খুনের ঘটনাটি সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

২।    উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে নিহত শামসুন্নাহার এর ভাই মোঃ আশরাফ আলী (৩৬) বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার এফআইআর নং-০১, তারিখ ০২/১১/২০১৭। উক্ত মামলায় বর্ণিত ০৩ জন নামীয় আসামী যথাক্রমে ১। মোঃ আবদুল করিম (৫৫) (নিহত শামসুন্নাহার এর স্বামী), ২। শারমিন আক্তার মুক্তা (২৫) (আবদুল করিমের ৩য় স্ত্রী) এবং ৩। আল আমিন @ জনি (৩২) (আবদুল করিমের ৩য় স্ত্রীর ভাই)সহ আরো কয়েক জন অজ্ঞাতনামার উল্লেখ রয়েছে। ইতিমধ্যে আবদুল করিম এবং শারমিন আক্তার মুক্তাকে পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার করা হয়েছে।

৩।    উক্ত চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের প্রেক্ষিতে র‌্যাব তার গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে এবং বর্ণিত ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৩ এর একটি আভিযানিক দল কর্তৃক অদ্য ০৪/১১/২০১৭ তারিখ আনুমানিক ভোর ০৩৩০ ঘটিকার সময় আসামী মোঃ আল আমিন @ জনি (৩২), পিতা-মৃত মুজিবুর রহমান, সাং-মালাদিয়া, থানা-মকসুদপুর, জেলা-গোপালগঞ্জকে গোপালগঞ্জের মকসুদপুর হতে গ্রেফতার করা হয়।

৪।    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আল আমিন হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে।  হত্যাকান্ড সম্পর্কে সে জানায় যে, উক্ত হত্যাকান্ডের উদ্দেশ্যে গত ৩১/১০/২০১৭ তারিখে অর্থাৎ ঘটনার একদিন আগে নিউমার্কেটের একটি দোকান হতে ০১টি ধারালো অস্ত্র ১১০০ টাকা দিয়ে ক্রয় করে। উক্ত ধারালো অস্ত্রটি ক্রয় করার পর তার বাসায় নিয়ে আসে। অতঃপর ঘটনার দিন ০১/১১/২০১৭ আনুমানিক ১৬৩০ ঘটিকায় (সন্ধ্যার আগে) সে একটি ব্যাগে উক্ত ধরালো অস্ত্র, লুঙ্গি ও গেঞ্জি নিয়ে বাসা হতে বরে হয়। উক্ত ব্যাগটি নয়াপল্টনের একটি নির্মাণাধীন বিল্ডিং এ রেখে ধারালো অস্ত্র¿টি কোমরে নিয়ে শামসুন্নাহারের ফ্ল্যাটের উদ্দেশ্যে বের হয়।

৫।    গত ০১/১১/২০১৭ তারিখ আনুমানিক ১৮০০ ঘটিকার সময় শামসুন্নাহার (৪২) কে হত্যার উদ্দেশ্যে ৭৯/১, কাকরাইল, রমনা, ডিএমপি ঢাকার বাসায় গমন করে। বাসার কলিং বেলে চাপ দিলে বাসার গৃহকর্মী দরজা খুলে দেয় এবং সে রান্না ঘরে ঢোকা মাত্র, আল আমিন @ জনি বাইরে থেকে দরজা লক করে দেয়। এর পরই সে শামসুন্নাহার এর রুমে হত্যাকান্ডের জন্য অগ্রসর হলে তার সন্তান শাওন তা দেখে ফেলে। শাওনকে দেখা মাত্র আল আমিন @ জনি ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কয়েকবার আঘাত করে। তারপর সে শামসুন্নাহার এর রুমে প্রবেশ করে তাকে উপর্যুপরি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে থাকে। ধারালো অস্ত্রের মাধ্যমে আঘাত করার সময় শাওন তার মাকে রক্ষা করার জন্য কাছে আসলে আল আমিন @ জনি তাকে উক্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করে। এরপরও সে আরও কয়েকবার শামসুন্নাহারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার সময় আল আমিন @ জনির দুইটি আঙ্গুলে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সে খেয়াল করে যে শাওন নেই এবং সে বাসা থেকে বের হয়ে শাওনকে সিড়িতে দেখতে পায় এবং তাকে থামতে বলে।  এর একটু পরেই শাওন সিড়িতে পড়ে যায়। হত্যাকান্ড ঘটানোর পর সে পূর্বে রক্ষিত উক্ত জায়গায় গিয়ে তার পোষাক পরিবর্তন করে। এরপর সে একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যায়। চিকিৎসার টাকা না থাকায় রাত আনুমানিক ০৯০০ ঘটিকায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে গমন করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরী বিভাগে ভুয়া নাম ‘মাসুদ’ ব্যবহার করে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়। অতঃপর ঢাকায় তার এক নিকট আত্মীয়ের বাসায় যায়। গত ০২ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে সে সকালে আত্মগোপনের জন্য গোপালগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

৬।    হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে গ্রেফতারকৃত আল আমিন স্বীকারোক্তি দিয়ে জানায় যে, তার বোন শারমিন আক্তার মুক্তা আবদুল করিম এর ৩য় স্ত্রী এবং নিহত শামসুন্নাহার আবদুল করিম এর ১ম স্ত্রী। বিগত প্রায় ০৪ বছর পূর্বে আবদুল করিম শারমিন আক্তার মুক্তাকে বিবাহ করার পর তার বোনকে নরসিংদি হতে ঢাকার ৩৬/এ, নয়াপল্টনে নিয়ে এসে একটি ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া করে দেয়। উক্ত ফ্ল্যাটে আল আমিন এর মা, আল আমিন ও তার ০৭ বছরের মেয়েসহ শারমিন আক্তার মুক্তা বসবাস করত। ৩য় বিবাহের বিষয়টি ১ম স্ত্রী জানতে পারলে পারিবারিক কোন্দল ও অশান্তির সৃষ্টি হয়। বিয়ের পর থেকেই ৩য় স্ত্রীর সাথে নিহত প্রথম স্ত্রীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ ছিল। কারণ আব্দুল করিম এর অধিকাংশ সম্পত্তি তার প্রথম স্ত্রী নিহত শামসুন্নাহারের নামে ছিল। ৩/৪ মাস  পূর্বে প্রথম স্ত্রীর চাপে আবদুল করিম তার ৩য় স্ত্রীকে তালাক প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। এধরণের ক্রমাগত মানসিক চাপে ঘটনার ৪/৫ দিন পূর্বে ৩য় স্ত্রী শারমিন আক্তার মুক্তা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। ঐদিন আব্দুল করিম ও তার ভাই আল আমিন @ জনি তাকে আত্মহত্যা থেকে রক্ষা করে। বর্ণিত প্রেক্ষাপটে আল আমিন @ জনি শামসুন্নাহারকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে জানায়।

৭।    উপরোক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

র‌্যাব কর্তৃক প্রদত্ত পরামর্শ

***জমি জমা বা টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোন অভিযোগ র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোন সমস্যা র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***কোন অভিযোগ করার পূর্বে আপনার এলাকার জন্য দায়িত্বপূর্ন র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্প সম্পর্কে জানুন ও যথাযথ র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্পে অভিযোগ করুন ।
***আপনার এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে র‌্যাব কে তথ্য প্রদান করে র‌্যাবকে সহযোগীতা করুন । আপনার পরিচয় সম্প‍ুর্ন্ন গোপন রাখা হবে । ***বেশী করে গাছ লাগান অক্সিজেনের অভাব তাড়ান
***ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের আগুন নিয়ে খেলতে দিবেন না ।
***যাত্রা পথে অপরিচিত লোকের দেওয়া বিছু খাবেন না । ভ্রমণকালে সহযোগী বা অন্য কাহারো নিকট হইতে পান, বিড়ি, সিগারেট, চা বা অন্য কোন পানীয় খাওয়া/গ্রহন করা হইতে বিরত ‍থাকা আবশ্যক ।

সাম্প্রতিক ভিডিও