Home » News Room » র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর মিরপুরে দারুস সালাম এলাকা হতে নিহত জঙ্গি আব্দুল্লাহর সহযোগী জেএমবি সদস্য এবং বিমান নিয়ে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে পাইলট সাব্বির (বাংলাদেশ বিমানের ফার্স্ট অফিসার) সহ ০৪ জঙ্গি সদস্য গ্রেফতার।

র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর মিরপুরে দারুস সালাম এলাকা হতে নিহত জঙ্গি আব্দুল্লাহর সহযোগী জেএমবি সদস্য এবং বিমান নিয়ে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে পাইলট সাব্বির (বাংলাদেশ বিমানের ফার্স্ট অফিসার) সহ ০৪ জঙ্গি সদস্য গ্রেফতার।

১।    গত ০৪ সেপ্টে¤¦র ২০১৭ তারিখ হতে ০৮ সেপ্টে¤¦র ২০১৭ তারিখ পর্যন্ত মিরপুর দারুস সালাম এলাকায় কমল প্রভা নামক বাড়ীর ৫ম তলায় জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাব অভিযান (উদ্ধার অভিযানসহ) পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে জঙ্গিদের দ্বারা সৃষ্ট বোমা বিস্ফোরণে জেএমবির সদস্য মীর আকরাবুল করিম @ উপল @ আব্দুল্লাহ, তার দুই স্ত্রী, দুই পুত্র সন্তান এবং তার দুই সহযোগীসহ নিহত হয়।

২।    এরপর বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে র‌্যাব এর গোয়েন্দা দল ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু  করে। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৬ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ র‌্যাব-৪ এর অভিযানে নারায়াণঞ্জ ফতুল্লাহ হতে  আব্দুল্লাহর অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী জেএমবি সদস্য মোঃ বিল্লাল হোসেন (২৩)’ কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। উক্ত গ্রেফতারকৃত মোঃ বিল্লাল হোসেন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। পরবর্তীতে র‌্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতায় আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটিত হয়। উক্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে র‌্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল অদ্য ৩১ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ ০২:০০ হতে সকাল ১১:০০ ঘটিকায় মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নিহত জঙ্গি আব্দুল্লাহর সহযোগী ও জেএমবি’র নি¤œ বর্ণিত সদস্যদের গ্রেফতার করেঃ

ক। সাব্বির এমাম সাব্বির (৩১) -(আব্দুল্লাহর ভাড়াকৃত ফ্ল্যাট বাড়ির মালিকের সন্তান)
খ। মোসাঃ সুলতানা পারভীন (৫৫) -(আব্দুল্লাহর ভাড়াকৃত ফ্ল্যাট বাড়ীর মালিকের স্ত্রী)
গ। মোঃ আসিফুর রহমান আসিফ (২৫) -(বাড়ীর মালিকের স্ত্রীর নিকট আত্মীয়)
ঘ। মোঃ আলম (৩০) -(চা দোকানদার)

৩।    গ্রেফতারকৃত মোসাঃ সুলতানা পারভীন (৫৫), স্বামী- হাবিবুল্লাহ বাহার আজাদ, সাং- বিত্তিপাড়া, থানা-শৈলকুপা, জেলা-ঝিনাইদহ; এ/পি-২/৩ বি, বর্ধণবাড়ী, দারুস সালাম, ঢাকা। সে আব্দুল্লাহ যে বাসায় ভাড়া থাকত সেই বাসার মালিক হাবিবুল্লাহ বাহার আজাদের স্ত্রী। সে আব্দুল্লাহর ভাড়াকৃত ফ্ল্যাটে যেয়ে এবং ছাদে উঠে প্রায়শঃ জঙ্গি সংগঠনের বিষয়ে আব্দুল্লাহর সাথে আলোচনা করত। সে আব্দুল্লাহর বাসায় মানিক @ ফরহাদ @ সারোয়ার জাহান এর নিকট হতে বায়াত গ্রহণ করে। এছাড়াও সে আব্দুল্লাহকে সংগঠনের জন্য বিভিন্ন সময় আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়।

৪।    গ্রেফতারকৃত মোঃ আসিফুর রহমান আসিফ (২৫), পিতা- মোঃ আলমগীর হোসেন, সাং- ছোট শেখহাটি মাষ্টারবাড়ী, থানা-কতোয়ালী, জেলা-যশোর; এ/পি-২/৩ বি, বর্ধণবাড়ী, দারুস সালাম, ঢাকা। সে গ্রেফতারকৃত  মোসাঃ সুলতানা পারভীনের ভাই এর ছেলে। আব্দুল্লাহর সাথে আসিফ (গ্রেফতারকৃত) এর ঘনিষ্ঠতা ছিল বিধায়, প্রায়শঃ সে আব্দল্লাহর বাসায় যাতায়াত করত এবং জঙ্গি সংগঠনের বিভিন্ন বিষয়ে তারা আলোচনা করত। সেও আব্দুল্লাহর বাসায় বসে মানিক@ ফরহাদ @ সারোয়ার জাহান এর নিকট হতে বায়াত গ্রহণ করে। সে বিস্ফোরক তৈরীর জন্য আব্দুল্লাহর বাসায় বিভিন্ন ধরণের কেমিক্যাল সরবরাহ করত। এছাড়াও সে তার বন্ধুর কাছ থেকে একটা ৯ এমএম পিস্তল এনে আব্দুল্লাহর নিকট সরবরাহ করতে চেয়েছিল। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় আব্দুল্লাহ পিস্তলটি গ্রহণ করেনি। উল্লেখ্য যে, আসামী সুলতানা পারভীন উক্ত অস্ত্রটি ক্রয়ের জন্য আব্দুল্লাহকে টাকা দিতে সম্মত হয়ে ছিল।

৫।    গ্রেফতারকৃত মোঃ আলম (৩০), পিতা-মঞ্জু মিয়া, সাং-উজ্জ্বলপুর, থানা-কেন্দুয়া, জেলা-নেত্রকোনা; এ/পি-২/১ ভাঙ্গাদেয়াল (ভাঙ্গাওয়াল), দারুস সালাম, ঢাকা। সে একজন চায়ের দোকানদার। সে বিভিন্ন সময় সংগঠনের কাজে আব্দুল্লাহকে গাড়ি সরবরাহ করত। গত রমজান মাসের আগে গ্রেফতারকৃত মোঃ আলমের মাধ্যমে ট্রাক সংগ্রহ করে বিল্লাল সেই ট্রাক চালিয়ে তাদের নিকটবর্তী পুলিশি স্থাপনায় নাশকতার পরিকল্পনা করে আব্দুল্লাহ। সম্প্রতি ইউরোপে জঙ্গিদের গাড়ী হামলা কৌশলে অনুপ্রাণিত হয়ে গ্রেফতারকৃত আলমের সরবরাহকৃত গাড়ি দিয়ে সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা গাড়ি চালানোর অনুশীলন করে। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জার্মানীর ন্যায় এদেশে তাদের  উদ্দেশ্য ছিল গাড়ি চালানো শিখে বিভিন্ন স্থানে গাড়ি অথবা গাড়ী বোমা হামলা করা।

৬।    সর্বোপরি সবথেকে সংবেদনশীল ব্যাপার হচ্ছে বাংলাদেশ বিমানের ফাস্ট অফিসার গ্রেফতারকৃত পাইলট সাব্বির এমাম সাব্বির (৩১), পিতা-হাবিবুল্লাহ বাহার আজাদ, সাং-২/৩, কমলপ্রভা, বর্ধণবাড়ী, দারুস সালাম, ঢাকা; এ/পি-ফ্ল্যাট# ৪(৫ম তলা), বাড়ী # ৪৩, রোড # ৩, ব্লক বি, সেকশন ১২, পল্লবী, ঢাকা  এর জঙ্গি কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টতা। সে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমী হতে বিমান চালনার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। এরপর সে ২০১০ সাল হতে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জবমবহঃ অরৎধিুং তে চাকুরী করে এবং এ সময় স্পেন থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। ২০১৪ সালে হতে অদ্যাবধি সাব্বির বাংলাদেশ বিমানের পাইলট হিসেবে চাকুরীরত। তিনি বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং-৭৩৭ পরিচালনা করে থাকেন। তিনি সর্বশেষ গত ৩০ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ    ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা (১৯:৫০-২৩:০০) ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন। গ্রেফতারকৃত সাব্বির তুর্কি থেকেও বিমান চালনার উপর প্রশিক্ষণ গ্রহন করে। সে দুবাই, কাতার, মাসকাট, সিংগাপুর, মালেয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ছাড়াও অন্যান্য আরো অনেক দেশে বাংলাদেশ বিমানের পাইলট হিসেবে কাজ করেছে। আব্দুল্লাহর সাথে তারও ঘনিষ্ঠতা ছিল এবং সেও মানিক @ ফরহাদ @ সারোয়ার জাহান এর নিকট হতে বায়াত গ্রহণ করে। গুলশান হামলার আগে ও পরে আব্দুল্লাহ, গ্রেফতারকৃত পাইলট সাব্বির, সারোয়ার একত্রে নাশকতার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গ্রেফতারকৃত পাইলট সাব্বির বিমান চালিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের বাসভবনে আঘাত করা অথবা বিমানের যাত্রীদের জিম্মি করে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করে। তার চাকুরীর ভাতা বাবদ ১০ লক্ষ টাকা পাওয়ার কথা ছিল এবং উক্ত টাকাগুলো পেলেই আব্দুল্লাহর মাধ্যমে সংগঠনে দান করবে বলে আব্দুল্লাহকে কথা দিয়েছিল।

৭।    গ্রেফতারকৃত সাব্বির এমাম সাব্বির (৩১) এর মত একজন দুর্ধর্ষ ব্যক্তি বাংলাদেশ বিমানের মত সংবেদনশীল স্থানে চাকুরীরত, যেখানে সর্বদা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের যাতায়াত। এ ধরনের একজন উগ্রবাদী জঙ্গিকে গ্রেফতার করে র‌্যাব বাংলাদেশকে নিকট ভবিষ্যতে আরো একটি নতুন অনাকাঙ্খিত/ভায়াবহ ঘটনা থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে। আগামীতে এ ধরনের সাফলতা ধরে রাখতে র‌্যাব দৃঢ় হস্তে বদ্ধপরিকর।

৮।    উপরোক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

র‌্যাব কর্তৃক প্রদত্ত পরামর্শ

***জমি জমা বা টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোন অভিযোগ র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোন সমস্যা র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***কোন অভিযোগ করার পূর্বে আপনার এলাকার জন্য দায়িত্বপূর্ন র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্প সম্পর্কে জানুন ও যথাযথ র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্পে অভিযোগ করুন ।
***আপনার এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে র‌্যাব কে তথ্য প্রদান করে র‌্যাবকে সহযোগীতা করুন । আপনার পরিচয় সম্প‍ুর্ন্ন গোপন রাখা হবে । ***বেশী করে গাছ লাগান অক্সিজেনের অভাব তাড়ান
***ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের আগুন নিয়ে খেলতে দিবেন না ।
***যাত্রা পথে অপরিচিত লোকের দেওয়া বিছু খাবেন না । ভ্রমণকালে সহযোগী বা অন্য কাহারো নিকট হইতে পান, বিড়ি, সিগারেট, চা বা অন্য কোন পানীয় খাওয়া/গ্রহন করা হইতে বিরত ‍থাকা আবশ্যক ।

সাম্প্রতিক ভিডিও