Home » News Room » র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন দক্ষিণ বনশ্রী এলাকা হতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন (জেএমবি) “সারোয়ার তামিম গ্রুপ” এর ‘ব্রিগেড আদ্Ñদার-ই-কুতনী’র “কমান্ডার” ইমাম মেহেদী হাসান @ আবু জিব্রিল গ্রেফতার।

র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন দক্ষিণ বনশ্রী এলাকা হতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন (জেএমবি) “সারোয়ার তামিম গ্রুপ” এর ‘ব্রিগেড আদ্Ñদার-ই-কুতনী’র “কমান্ডার” ইমাম মেহেদী হাসান @ আবু জিব্রিল গ্রেফতার।

১।    এলিট ফোর্স র‌্যাব সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ এর বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থানে থেকে নিরলস ভাবে কাজ করে আসছে। র‌্যাবের কর্ম তৎপরতার কারণেই সারাদেশে একযোগে বোমা বিস্ফোরণসহ  বিভিন্ন সময়ে নাশকতা সৃষ্টিকারী জঙ্গি সংগঠন সমূহের শীর্ষ সারির নেতা থেকে শুরু করে বিভিন্নস্তরের নেতা কর্মীদেরকেও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভবপর হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে কারো কারো মৃত্যুদন্ড, যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়েছে, কেউ কেউ বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছে এবং বেশকিছু মামলা এখানো বিচারাধীন। তবে, যে সকল জঙ্গি এখনো আত্মগোপন করে আছে তাদের তৎপরতা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। র‌্যাবের কঠোর গোয়েন্দা নজরদারী ও অভিযানের ফলে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনগুলোর নেতা কর্মীরা পূনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে বার বার ব্যর্থ হয়েছে এবং বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে আটক হয়েছে।

২।    গত ০৮/১০/২০১৬ তারিখে র‌্যাবের অভিযানে পালাতে গিয়ে নিহত নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন (জেএমবি) “সারোয়ার তামিম গ্রুপ” এর তৎকালীন আমির সারোয়ার জাহান @ মানিক @ আবু ইব্রাহিম আল হানিফ এর বাসা হতে প্রাপ্ত আলামত হতে জানা যায় যে, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি (সারোয়ার-তামিম গ্রুপ) দুটি অপারেশনাল ব্রিগেড প্রতিষ্ঠা করে তাদের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। ‘বদর স্কোয়াড ব্রিগেড’ হলি আর্টিজানসহ অন্যান্য হামলায় সক্রিয় ভুমিকা পালন করে। অপর একটি ব্রিগেড ‘ব্রিগেড আদ্-দার-ই-কুতনী’ ব্যাকআপ/রিজার্ভ ব্রিগেড হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। এই ‘ব্রিগেড আদ্-দার-ই-কুতনী’ তথ্য প্রযুক্তিতে অত্যন্ত আধুনিক বলে জানা যায় এবং এ ব্রিগেড গোপনে কর্মী/সদস্য সংগ্রহে নিয়োজিত ছিল। দেশব্যাপী ব্যাপক জঙ্গি বিরোধী অভিযানে মূল অপারেশনাল কাজে অংশগ্রহণকারী ‘বদর স্কোয়াড ব্রিগেড’ এর বেশীরভাগ সদস্য নিহত ও আটক হওয়ায় ব্রিগেডটি দূর্বল হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ব্যাকআপ ব্রিগেড হিসেবে রক্ষিত ‘ব্রিগেড আদ্-দার-ই-কুতনী’ নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন (জেএমবি) র “সারোয়ার তামিম গ্রুপ” এর সদস্য সংগ্রহ করে ব্রিগেডকে শক্তিশালী করার জন্য কার্যক্রম শুরু করে।

৩।    সম্প্রতি র‌্যাব-৩ এর জঙ্গি বিরোধী অভিযানে বেশ কিছু সন্দেহভাজন উগ্রপন্থি জঙ্গি ধরা পড়ে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা ‘ব্রিগেড আদ্-দার-ই-কুতনী’র অস্তিত্ব স্বীকার করে এবং নতুনভাবে সংগঠিত হওয়ার বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করে। তারা জানায় যে, জেএমবি’র অন্যতম শীর্ষ নেতা ইমাম মেহেদী হাসান @ আবু জিব্রিল এর নেতৃত্বে ‘ব্রিগেড আদ্-দার-ই-কুতনী’ পুণরায় সংগঠিত হচ্ছে। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় এনে র‌্যাব-৩ এর গোয়েন্দা দল ব্যাপক অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে র‌্যাব-৩ এর আভিযানিক দল গত ২১/০৯/২০১৭ ইং তারিখ আনুমানিক ০০৩০ ঘটিকায় রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে “ব্রিগেড আদ্-দার-ই-কুতনী’’র কমান্ডার ১। ইমাম মেহেদী হাসান @ আবু জিব্রিল(২৯), পিতা- মোঃ খোরশেদ আলম, সাং-রাজাপুর, পোঃ রাজাপুর, থানা-বাউফল, জেলা-পটুয়াখালীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তার কাছ থেকে ০২টি ল্যাপটপ,  ০১টি মোবাইল, ০১টি পাসপোর্ট, উগ্রবাদী বইসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য যে, ইমাম মেহেদী হাসান বনানী থানার সন্ত্রাস দমন আইনের একটি মামলায় এজাহার নামীয় আসামী এবং উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাস দমনে আইনে দায়ের করা আরেকটি মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামী। এছাড়াও তার নামে আরো মামলা আছে বলে জানা যায়।

৪।    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমাম মেহেদী হাসান স্বীকার করে যে, সে ২০১৫ সাল হতে জেএমবি’র সারোয়ার তামিম গ্রুপের সাথে সম্পৃক্ত। হলি আটিজানে নিহত জঙ্গি নিবরাসসহ বেশ কিছু শীর্ষ স্থানীয় জঙ্গির সাথে তার প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিল। ইমাম মেহেদী হাসান মূলত জেএমবি’র সারোয়ার তামিম গ্রুপের কর্মী সংগ্রহ, অর্থ সংগ্রহ, জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধকরণ ও হিজরতের পূর্ব প্রস্তুতিমূলক পর্বসমূহ সম্পন্ন করার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। পরবর্তীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অব্যাহত অভিযানে জঙ্গিরা কোণঠাসা হয়ে পড়লে সে জেএমবি’র সারোয়ার তামিম গ্রুপের রিজার্ভ হিসেবে রক্ষিত ‘ব্রিগেড আদ দার-ই-কুতনী’র কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং কর্মী সংগ্রহে নিয়োজিত হয়। সংগৃহীত কর্মীদের আনুগত্য পরীক্ষার পর কিছু অংশকে শপথ (বাইয়্যাত) এর মাধ্যমে উগ্রবাদী কর্মকান্ডে উদ্বুদ্ধ করে সে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা গ্রহন করছিল। ইমাম মেহেদী হাসান @ আবু জিব্রিল ঢাকা, টাঙ্গাইল ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলায় উদ্বুদ্ধ সদস্যদের মাঝে শপথ (বাইয়্যাত) প্রদান করে। উক্ত শপথ (বাইয়্যাত) এর ভিডিও চিত্র ধারণ করে বিভিন্ন এ্যাপসের মাধ্যমে উগ্রবাদী চ্যানেলে প্রচার করে সে অন্যান্যদের উদ্বুদ্ধ করত। “ব্রিগেড আদ্-দার-ই-কুতনী’তে আনসার (সাহায্যকারী), মুহাজির (যোদ্ধা), সালাফি আলেম বোর্ড এবং অর্থ প্রদানকারী বিভিন্ন ব্যক্তি রয়েছে বলে ইমাম মেহেদী হাসান @ আবু জিব্রিল প্রাথমিকভাবে স্বীকার করে। সে জানায় “ব্রিগেড আদ্-দার-ই-কুতনী’কে শক্তিশালী করতে তার মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ সদস্যরা নিয়মিতভাবে তাকে ইয়ানত (অর্থ) প্রদান করত এবং উক্ত টাকা সে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতাদের নির্দেশে জঙ্গি কার্যক্রমে ব্যয় করত। এছাড়াও ইমাম মেহেদী হাসান @ আবু জিব্রিল জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ সদস্যদের মধ্যে সাংগঠনিক বিয়ের ব্যবস্থা দেখভাল করত। তার মাধ্যমে হিজরত করা ০২ জন জঙ্গি ইতিমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত হয়েছে বলে সে স্বীকার করেছে। তার নিকট হতে উদ্ধারকৃত আলামত হতে জানা যায় যে, ব্রিগেড ‘আদ্-দার-ই-কুতনী’ অপারেশনাল সক্ষমতা অর্জন করেছে এবং যে কোন স্থানে নাশকতা করার জন্য সক্ষম।

৫।    ‘ব্রিগেড আদ্-দার-ই-কুতনীর’ বিভিন্ন পর্যায়ে বেশ কিছু সদস্য রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে। ধৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

র‌্যাব কর্তৃক প্রদত্ত পরামর্শ

***জমি জমা বা টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোন অভিযোগ র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোন সমস্যা র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***কোন অভিযোগ করার পূর্বে আপনার এলাকার জন্য দায়িত্বপূর্ন র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্প সম্পর্কে জানুন ও যথাযথ র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্পে অভিযোগ করুন ।
***আপনার এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে র‌্যাব কে তথ্য প্রদান করে র‌্যাবকে সহযোগীতা করুন । আপনার পরিচয় সম্প‍ুর্ন্ন গোপন রাখা হবে । ***বেশী করে গাছ লাগান অক্সিজেনের অভাব তাড়ান
***ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের আগুন নিয়ে খেলতে দিবেন না ।
***যাত্রা পথে অপরিচিত লোকের দেওয়া বিছু খাবেন না । ভ্রমণকালে সহযোগী বা অন্য কাহারো নিকট হইতে পান, বিড়ি, সিগারেট, চা বা অন্য কোন পানীয় খাওয়া/গ্রহন করা হইতে বিরত ‍থাকা আবশ্যক ।

সাম্প্রতিক ভিডিও