Home » News Room » র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকা হতে আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের ০৩ জন সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার ॥ অপহৃত জাহাঙ্গীর মালয়েশিয়া থেকে অবমুক্ত।

র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকা হতে আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্রের ০৩ জন সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার ॥ অপহৃত জাহাঙ্গীর মালয়েশিয়া থেকে অবমুক্ত।

১।   র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সবসময় বিভিন্ন ধরণের অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। র‌্যাবের সৃষ্টিকাল থেকে এ পর্যন্ত সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ, সন্দিগ্ধ আসামী গ্রেফতার এবং সাধারন নাগরিকদের মানব পাচারকারী চক্রের হাত থেকে রক্ষা করতে অসংখ্য অভিযান পরিচালনা করে সাধারণ জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

২।    একটি সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্রের অভিযোগ র‌্যাব-১ এর নিকট আসলে, ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই ২০১৭ ইং মোঃ সজ্জব আলী(৫০), পিতা-মৃত কাসেম আলী, সাং-পূর্ব বাকুম, থানা-সিংগাইর, জোলা-মানিকগঞ্জ এর ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর(২৫) কে মালয়শিয়া পাঠায়। পরে তাকে বিদেশী দালাল এর মাধ্যমে মালয়শিয়ায় আটক রেখে তার বাবা মোঃ সজ্জব আলীকে দক্ষিনখান ঢাকায়  ২,৩০,০০০/- (দুই লক্ষ ত্রিশ হাজার) টাকা নিয়ে আসতে বলে। পরবর্তীতে ভিকটিমের বাবা বিষয়টি র‌্যাব-১ এর বরাবর মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন এবং সহযোগীতা চান।

৩। উক্ত ভিকটিমের বাবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‌্যাব-১, উত্তরা, ঢাকার একটি অভিযানিক দল গত ১০ আগস্ট ২০১৭ ইং তারিখ সময় আনুমানিক ১৮৩০ ঘটিকায় দক্ষিণখান থানা এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে।  আভিযানিক দলটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, কতিপয় সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্যরা উক্ত ভিকটিম এর পিতার নিকট হতে আর্থিক লেনদেনের জন্য উক্ত স্থানে একত্রিত হয়েছে। বর্ণিত সংবাদের ভিত্তিতে আভিযানিক দলটি দক্ষিণখান থানাধীন জয়নাল মার্কেট এর মোল্লা ইলেকট্রনিক্স দোকানের সামনে উপস্থিত হলে মানব পাচারকারী (১) মোঃ জুলফিকার আলী সাজু (২৮), (২) মোঃ মোকসেদুল হাসান সোহাগ(৩৭), (৩) মোঃ আব্দুল বাতেন(৩৪) কে দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের দেহ তল্লাশী করে ০৬ টি মোবাইল সেট উদ্ধার করে।

৪।     গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায় যে, মালয়শিয়ায় আটককৃত ভিকটিম মোঃ জাহাঙ্গীর মানব পাচারকারী চক্রের অন্য সদস্যদের নিকট আটক রয়েছে এবং ২,৩০,০০০/-( দুই লক্ষ ত্রিশ হাজার) টাকা প্রদান না করিলে তাকে মুক্ত করা যাবে না। ভিকটিম মোঃ জাহাঙ্গীরসহ মোট কতজন মালয়শিয়ার বিভিন্ন স্থানে আটক রয়েছে তার সঠিক তথ্য জানা     যায়নি। তবে আসামী মোঃ জুলফিকার আলী সাজু(২৮) এর মতে তারা এভাবে ভিকটিমদের আটক করে অর্থ আদায়ের জন্য বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন চালায় এবং ইতোপূর্বে অনেকে মারাত্বক আহত হয়ে দেশে ফিরে আসেন ও অনেকে মৃত্যুবরণও করেছেন। আরো জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তারা নৌ-পথে ট্রলার ও ছোট ছোট নৌ-যানে মালয়শিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে মানব পাচার করে থাকে। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ বেশি বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে সহজ সাধারন লোকদেরকে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে দেশের বিভিন্ন স্থান হতে লোক সংগ্রহ করে বিদেশ পাঠাত এবং তাদের বিদেশ পাঠিয়ে বিদেশী দালালদের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা আদায়ের নিমিত্তে বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় আটকে রেখে নির্যাতন করে ভিকটিমের অভিভাবকের নিকট হতে আর্থিক সুবিধা আদায় করতো। গ্রেপ্তারকৃত আসামী মোঃ জুলফিকার আলী সাজু  আরো জানায় যে, মানব পাচারকারী দলের মূল হোতা পলাতক আসামী মোঃ তাজুল ইসলাম (৩৫) এর মাধ্যমে তারা বিদেশে লোক পাঠায়।

৫।    পরবর্তীতে র‌্যাব-১ এর তৎপরতায় এবং বিভিন্ন অভিযানের ফলে দেশে অবস্থানরত সংঘবদ্ধ চক্রটি ভীত হয় এবং জাহাঙ্গীরের পরিবারের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে ও জাহাঙ্গীরকে কোন প্রকার আর্থিক সুবিধা ছাড়াই ছেড়ে দিতে সম্মত হয়। পরবর্তীতে জাহাঙ্গীর তার পিতা মোঃ সজ্জব আলীকে ১০ আগষ্ট ২০১৭ তারিখ রাত আনুমানিক ২৩.০০ ঘটিকার সময় জানায় যে, তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে সে মালয়শিয়ায় অবস্থানরত তার চাচাতো ভাই মোঃ রাজীব হোসেন এর কাছে অবস্থান করছে এবং নিরাপদে রয়েছে।

১।   র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সবসময় বিভিন্ন ধরণের অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। র‌্যাবের সৃষ্টিকাল থেকে এ পর্যন্ত সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ, সন্দিগ্ধ আসামী গ্রেফতার এবং সাধারন নাগরিকদের মানব পাচারকারী চক্রের হাত থেকে রক্ষা করতে অসংখ্য অভিযান পরিচালনা করে সাধারণ জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

২।    একটি সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্রের অভিযোগ র‌্যাব-১ এর নিকট আসলে, ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই ২০১৭ ইং মোঃ সজ্জব আলী(৫০), পিতা-মৃত কাসেম আলী, সাং-পূর্ব বাকুম, থানা-সিংগাইর, জোলা-মানিকগঞ্জ এর ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর(২৫) কে মালয়শিয়া পাঠায়। পরে তাকে বিদেশী দালাল এর মাধ্যমে মালয়শিয়ায় আটক রেখে তার বাবা মোঃ সজ্জব আলীকে দক্ষিনখান ঢাকায়  ২,৩০,০০০/- (দুই লক্ষ ত্রিশ হাজার) টাকা নিয়ে আসতে বলে। পরবর্তীতে ভিকটিমের বাবা বিষয়টি র‌্যাব-১ এর বরাবর মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন এবং সহযোগীতা চান।

৩। উক্ত ভিকটিমের বাবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‌্যাব-১, উত্তরা, ঢাকার একটি অভিযানিক দল গত ১০ আগস্ট ২০১৭ ইং তারিখ সময় আনুমানিক ১৮৩০ ঘটিকায় দক্ষিণখান থানা এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে।  আভিযানিক দলটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, কতিপয় সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্যরা উক্ত ভিকটিম এর পিতার নিকট হতে আর্থিক লেনদেনের জন্য উক্ত স্থানে একত্রিত হয়েছে। বর্ণিত সংবাদের ভিত্তিতে আভিযানিক দলটি দক্ষিণখান থানাধীন জয়নাল মার্কেট এর মোল্লা ইলেকট্রনিক্স দোকানের সামনে উপস্থিত হলে মানব পাচারকারী (১) মোঃ জুলফিকার আলী সাজু (২৮), (২) মোঃ মোকসেদুল হাসান সোহাগ(৩৭), (৩) মোঃ আব্দুল বাতেন(৩৪) কে দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের দেহ তল্লাশী করে ০৬ টি মোবাইল সেট উদ্ধার করে।

৪।     গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায় যে, মালয়শিয়ায় আটককৃত ভিকটিম মোঃ জাহাঙ্গীর মানব পাচারকারী চক্রের অন্য সদস্যদের নিকট আটক রয়েছে এবং ২,৩০,০০০/-( দুই লক্ষ ত্রিশ হাজার) টাকা প্রদান না করিলে তাকে মুক্ত করা যাবে না। ভিকটিম মোঃ জাহাঙ্গীরসহ মোট কতজন মালয়শিয়ার বিভিন্ন স্থানে আটক রয়েছে তার সঠিক তথ্য জানা     যায়নি। তবে আসামী মোঃ জুলফিকার আলী সাজু(২৮) এর মতে তারা এভাবে ভিকটিমদের আটক করে অর্থ আদায়ের জন্য বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন চালায় এবং ইতোপূর্বে অনেকে মারাত্বক আহত হয়ে দেশে ফিরে আসেন ও অনেকে মৃত্যুবরণও করেছেন। আরো জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তারা নৌ-পথে ট্রলার ও ছোট ছোট নৌ-যানে মালয়শিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে মানব পাচার করে থাকে। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ বেশি বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে সহজ সাধারন লোকদেরকে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে দেশের বিভিন্ন স্থান হতে লোক সংগ্রহ করে বিদেশ পাঠাত এবং তাদের বিদেশ পাঠিয়ে বিদেশী দালালদের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা আদায়ের নিমিত্তে বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় আটকে রেখে নির্যাতন করে ভিকটিমের অভিভাবকের নিকট হতে আর্থিক সুবিধা আদায় করতো। গ্রেপ্তারকৃত আসামী মোঃ জুলফিকার আলী সাজু  আরো জানায় যে, মানব পাচারকারী দলের মূল হোতা পলাতক আসামী মোঃ তাজুল ইসলাম (৩৫) এর মাধ্যমে তারা বিদেশে লোক পাঠায়।

৫।    পরবর্তীতে র‌্যাব-১ এর তৎপরতায় এবং বিভিন্ন অভিযানের ফলে দেশে অবস্থানরত সংঘবদ্ধ চক্রটি ভীত হয় এবং জাহাঙ্গীরের পরিবারের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে ও জাহাঙ্গীরকে কোন প্রকার আর্থিক সুবিধা ছাড়াই ছেড়ে দিতে সম্মত হয়। পরবর্তীতে জাহাঙ্গীর তার পিতা মোঃ সজ্জব আলীকে ১০ আগষ্ট ২০১৭ তারিখ রাত আনুমানিক ২৩.০০ ঘটিকার সময় জানায় যে, তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে সে মালয়শিয়ায় অবস্থানরত তার চাচাতো ভাই মোঃ রাজীব হোসেন এর কাছে অবস্থান করছে এবং নিরাপদে রয়েছে।

র‌্যাব কর্তৃক প্রদত্ত পরামর্শ

***জমি জমা বা টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোন অভিযোগ র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোন সমস্যা র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***কোন অভিযোগ করার পূর্বে আপনার এলাকার জন্য দায়িত্বপূর্ন র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্প সম্পর্কে জানুন ও যথাযথ র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্পে অভিযোগ করুন ।
***আপনার এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে র‌্যাব কে তথ্য প্রদান করে র‌্যাবকে সহযোগীতা করুন । আপনার পরিচয় সম্প‍ুর্ন্ন গোপন রাখা হবে । ***বেশী করে গাছ লাগান অক্সিজেনের অভাব তাড়ান
***ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের আগুন নিয়ে খেলতে দিবেন না ।
***যাত্রা পথে অপরিচিত লোকের দেওয়া বিছু খাবেন না । ভ্রমণকালে সহযোগী বা অন্য কাহারো নিকট হইতে পান, বিড়ি, সিগারেট, চা বা অন্য কোন পানীয় খাওয়া/গ্রহন করা হইতে বিরত ‍থাকা আবশ্যক ।

সাম্প্রতিক ভিডিও