Home » News Room » র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর উত্তরা ও মোহাম্মদপুর থানা হতে একজন নারী জঙ্গি ও জঙ্গি আর্টিকেল অনুবাদকসহ জেএমবির (সারোয়ার-তামিম গ্রুপ) ০২ জন সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার।

র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর উত্তরা ও মোহাম্মদপুর থানা হতে একজন নারী জঙ্গি ও জঙ্গি আর্টিকেল অনুবাদকসহ জেএমবির (সারোয়ার-তামিম গ্রুপ) ০২ জন সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার।

১। এলিট ফোর্স র‌্যাব সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ এর বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থানে থেকে নিরলস ভাবে কাজ করে আসছে। র‌্যাবের কর্ম তৎপরতার কারণেই সারাদেশে একযোগে বোমা বিষ্ফোরণসহ বিভিন্ন সময়ে নাশকতা সৃষ্টিকারী জঙ্গি সংগঠন সমূহের শীর্ষ সারির নেতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মীদেরকেও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভবপর হয়েছে। তবে যে সকল জঙ্গি এখনো আত্মগোপন করে আছে তাদের তৎপরতা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। র‌্যাবের কঠোর গোয়েন্দা নজরদারী ও অভিযানের ফলে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনগুলোর নেতা কর্মীরা পূনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে বার বার ব্যর্থ হয়েছে এবং বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে আটক হয়েছে।

২। র‌্যাবের জঙ্গি বিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় বেশ কিছু সন্দেহভাজন উগ্রপন্থী ও জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ সদস্য আমাদের গোয়েন্দা নজরদারীর মধ্যে ছিল। ইতিমধ্যে গাজীপুর এ একটি জঙ্গি বিরোধী অভিযানে নিহত জঙ্গিদের সাথে ফাতেমা আক্তার রুমা (২০) নামের একজন উগ্রবাদী ও জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ সদস্যের সাথে সম্পর্ক ছিল। এরই প্রেক্ষিতে তার উপর গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়। ক্রমাগত অনুসন্ধান ও প্রযুক্তির সহায়তায় র‌্যাবের একটি অভিযানিক দল ১০ এপ্রিল ২০১৭ তারিখ ২২৩০ ঘটিকায় মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ফাতেমা আক্তার রুমা (২০) কে উগ্রবাদী জঙ্গি বইসহ গ্রেফতার করা হয়।

৩। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে, তার নাম ফাতেমা আক্তার রুমা (২০), পিতা-মোহাম্মদ আলী মোল্লা, সাং-আলম দন্ডা, থানা-রাজর, জেলা-মাদারীপুর, বর্তমানে বাসা নং-টি/২৭, নুরজাহান রোড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা এবং তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন (জেএমবি) এর সারোয়ার-তামিম গ্রুপ এর একজন সক্রিয় সদস্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টেলিগ্রাম, থ্রিমার মাধ্যমে জিহান ও সারোয়ার-তামিম গ্রুপ এর অন্যান্য সদস্যের সাথে তার পরিচয় ও নিয়মিত যোগাযোগ হয়। এর মধ্যে কয়েকজন গত বছর গাজীপুরে জঙ্গি বিরোধী অভিযানে নিহত হয়। পরবর্তীতে সে জিহানের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে কর্মী সংগ্রহ ও বিভিন্ন বিষয়ে তালিম নিয়ে জঙ্গিবাদে নিজে উদ্বুদ্ধ ও কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করে। এছাড়াও জিহানের সাথে মোবাইলে বিভিন্ন এ্যাপস্ এর মাধ্যমে জঙ্গি সংশ্লিষ্ট আর্টিকেল দেয়া নেয়া করে।

৪। পরবর্তীতে ফাতেমা আক্তার রুমার কাছ থেকে তথ্য প্রাপ্তি সাপেক্ষে র‌্যাবের আভিযানিক দল ১০ এপ্রিল ২০১৭ তারিখ মধ্যরাতে উত্তরা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মোঃ জাইদুল হক জিহান (২৪), পিতা-মোঃ আব্দুল হক, সাং-পূর্ব চিনিশপুর, থানা ও জেলা-নরসিংদী, বর্তমানে বাড়ী নং-০৯, রোড নং-১০/এ, সেক্টর-১১, উত্তরা পশ্চিম, ঢাকাকে বিভিন্ন উগ্রবাদী জঙ্গি বইসহ গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় যে, সে নিষিদ্ধ সংগঠন জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের একজন সক্রিয় সদস্য। এক সময় তামিমের সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সে বিভিন্ন জঙ্গি আর্টিকেল ইংরেজী হতে বাংলায় অনুবাদ করে তা বিভিন্ন সদস্যের জন্য বিশেষ এ্যাপস্ যেমন-টেলিগ্রাম, থ্রিমা ইত্যাদিতে শেয়ার করত। সে গত অক্টোবরে জঙ্গি অভিযানে নিহত কয়েকজন সদস্যের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল এবং জঙ্গি অভিযানে তারা নিহত হওয়ার পর তার পূর্ব পরিচিত ফাতেমা আক্তার রুমাকে সে এই পথে উদ্বুদ্ধ করে এবং সংগঠনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। সর্বশেষে সিলেটের আতিয়া মহল, মৌলভীবাজারের ফতেহপুর ও বড়হাটে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জঙ্গি বিরোধী অভিযানের ফলে জঙ্গিরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা আবার সংগঠনের কার্যক্রম পুনরায় শুরুকরবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়।

৫। তার সাথে এ সংগঠনের সক্রিয় অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

৬। উপরোক্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন

র‌্যাব কর্তৃক প্রদত্ত পরামর্শ

***জমি জমা বা টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোন অভিযোগ র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোন সমস্যা র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***কোন অভিযোগ করার পূর্বে আপনার এলাকার জন্য দায়িত্বপূর্ন র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্প সম্পর্কে জানুন ও যথাযথ র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্পে অভিযোগ করুন ।
***আপনার এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে র‌্যাব কে তথ্য প্রদান করে র‌্যাবকে সহযোগীতা করুন । আপনার পরিচয় সম্প‍ুর্ন্ন গোপন রাখা হবে । ***বেশী করে গাছ লাগান অক্সিজেনের অভাব তাড়ান
***ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের আগুন নিয়ে খেলতে দিবেন না ।
***যাত্রা পথে অপরিচিত লোকের দেওয়া বিছু খাবেন না । ভ্রমণকালে সহযোগী বা অন্য কাহারো নিকট হইতে পান, বিড়ি, সিগারেট, চা বা অন্য কোন পানীয় খাওয়া/গ্রহন করা হইতে বিরত ‍থাকা আবশ্যক ।

সাম্প্রতিক ভিডিও