Home » News Room » র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর আশুলিয়া এবং গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর হতে অভিনব কায়দায় মাদক পরিবহনকালে আন্তঃ জেলা মাদক ব্যবসায়ী চক্রের ০৫ সদস্যকে গ্রেফতার \ ৯৯৪ বোতল ফেন্সিডিল, ০১টি মিনি ট্রাক ও ০১ টি পিকআপ জব্দ।

র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর আশুলিয়া এবং গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর হতে অভিনব কায়দায় মাদক পরিবহনকালে আন্তঃ জেলা মাদক ব্যবসায়ী চক্রের ০৫ সদস্যকে গ্রেফতার \ ৯৯৪ বোতল ফেন্সিডিল, ০১টি মিনি ট্রাক ও ০১ টি পিকআপ জব্দ।

Press - 1 (RAB-1) Pic (3)

র‌্যাব-১, উত্তরা, ঢাকা গোয়েন্দাসূত্রে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সক্রিয় তেমনি দুটি মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সনাক্ত করে, যারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থান হতে পঁচনশীল ও মৌসুমী শাক-সবজির আড়ালে কৌশলে মাদক দ্রব্য রাজধানীতে নিয়ে আসছিল।

গোয়েন্দা অনুসন্ধানে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে পেয়ারা ও কলা বোঝাই দুটি ট্রাকে করে মাদকদ্রব্য ফেন্সিডিলের দুইটি বড় চালান রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে আসছে। এ প্রেক্ষিতে মাদক ব্যবসায়ী চক্রটিকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে র‌্যাব-১ গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে এবং ট্রাক দুটির গতিবিধি অনুসরণ করে অবস্থান নেয়।

এরই ধারাবাহিকতায় অদ্য ০৩ নভেম্বর ২০১৯ ইং তারিখ আনুমানিক ০২৩০ ঘটিকায় র‌্যাব-১, উত্তরা, ঢাকা এর আভিযানিক দলটি রাজধানীর আশুলিয়া থানাধীন বাইপাইল মোড়ের নাভানা সিএনজি স্টেশনের বিপরীত পার্শ্বে নবীনগর চন্দ্রা মহাসড়কস্থ মায়ের দোয়া স্টোরের সামনে অভিযান পরিচালনা করে মাদক ব্যবসায়ী ১) মোঃ জিয়াউর রহমান (২৮), পিতা- মোঃ সেন্টু মিয়া, সাং- দূর্গাপুর, পোষ্ট- বড়গাছিয়া, থানা- ভোলার হাট, জেলা- চাঁপাইনবাবগ”, ২) মোঃ হাবিব (২৪), পিতা- মোঃ সাহাব উদ্দিন, সাং- দোসির মানি কাঁঠাল, পোষ্ট- বালুগ্রাম, থানা- গোমস্তাপুর, জেলা- চাঁপাইনবাবগ” এবং ৩) মোঃ নয়ন আলী (২০), পিতা- মোঃ সেন্টু আলী, সাং- নিমতলা কাঁঠাল, পোষ্ট- বালুগ্রাম, থানা- গোমস্তাপুর, জেলা- চাঁপাইনবাবগ”’দেরকে গ্রেফতার করে। এসময় ধৃত আসামী ও তাদের দখলে থাকা গাড়ি তল­¬াশী করে ৫২৪ বোতল ফেন্সিডিল, ০৩ টি মোবাইল ফোন ও ৮০০ কেজি পেয়ারা উদ্ধার করা হয় এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মিনি ট্রাকটি জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে ধৃত আসামীদের দেয়া তথ্যমতে অদ্য ০৩ নভেম্বর ২০১৯ ইং তারিখ ০৪৩০ ঘটিকায় র‌্যাব-১, উত্তরা, ঢাকা এর আরেকটি আভিযানিক দল গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানাধীন শ্রীফলতলী সাকিনস্থ যমুনা বহুমুখী সেতু সংযোগ সড়কের পূর্ব পার্শ্বে অবস্থিত মায়ের দোয়া হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট এর সামনে অভিযান পরিচালনা করে মাদক ব্যবসায়ী ৪) মোঃ বাবুল (৪৫), পিতা- মৃত আয়েস উদ্দিন, সাং- হরিরামপুর, থানা- পতœীতলা, জেলা- নওঁগা এবং মোঃ জাহাঙ্গীর আলম লেবু (২৮), পিতা- মোঃ জহিরুল ইসলাম, সাং- গাঁহন, থানা- পতœীতলা, জেলা- নওঁগা’দ্বয়কে গ্রেফতার করে। এসময় ধৃত আসামীদের দখলে থাকা পিকআপ হতে ৪৭০ বোতল ফে›িসডিল, ০২ টি মোবাইল ফোন ও ৭০ ঝুড়ি কলা উদ্ধার করা হয় এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপটি জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা একটি সংঘবদ্ধ মাদক চোরাচালানকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা ভারত হতে অবৈধভাবে চোরাচালানের মাধ্যমে ফে›িসডিল নিয়ে আসে এবং সেই চালান পণ্যবাহী ট্রাকে ও পিকআপে করে ঢাকায় নিয়ে আসে। এই চক্রের অন্যতম সদস্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার জনৈক মাদক ব্যবসায়ী। তার নির্দেশেই চোরাচালানের মাধ্যমে নিয়ে আসা ফেন্সিডিল ধৃত আসামী জিয়াউর রহমান ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাক/পিকআপে করে ঢাকায় নিয়ে আসে এবং ঢাকাস্থ সিন্ডিকেটের অন্যান্যদের নিকট হস্তান্তর করে।

ধৃত আসামী জিয়াউর রহমান’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে একটি ফলের আড়তের কর্মী। সে প্রায় ০৬ বছরের অধিক সময় ধরে একই ফলের আড়তে হিসাব রক্ষনাবক্ষেণের কাজ করে আসছে। এছাড়াও সে দীর্ঘদিন যাবৎ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ট্রাকে করে আড়তের ফল পরিবহনের আড়ালে মাদকদ্রব্য ফেন্সিডিল রাজধানীতে নিয়ে আসছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে এই সিন্ডিকেটের অন্যান্যদের সহযোগীতায় ভারত হতে চোরাচালানের মাধ্যমে নিয়ে আসা এসব মাদকদ্রব্য সে রাজধানীতে পৌছানোর কাজ করে বলে ধৃত আসামী স্বীকার করে। সে ইতিপূর্বে অসংখ্য ছোট-বড় মাদকের চালান ঢাকায় নিয়ে এসেছিল বলে জানায়। ধৃত অপর আসামী হবিব ও নয়ন আলী তার সহযোগী হিসেবে কাজ করে।

ধৃত আসামী হাবিব’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে পেশায় একজন ট্রাক ড্রাইভার। সে দীর্ঘদিন যাবৎ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ট্রাকে মৌসুমি ফল ও ফসল পরিবহনের আড়ালে মাদকদ্রব্য ফেন্সিডিল রাজধানীতে নিয়ে আসছে। সে মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট হতে চালানপ্রতি ২০-২৫ হাজার টাকা নিয়ে থাকে বলে ধৃত আসামী স্বীকার করে।

ধৃত আসামী নয়ন আলী’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে জব্দকৃত ট্রাকের হেলপার। সে ইতিপূর্বে রাজমিস্ত্রির কাজ করত। পরবর্তীতে সে এই সিন্ডিকেটের সাথে যুক্ত হয় এবং রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মাদক কারবারীদের নিকট মাদকদ্রব্য পাইকারী মূল্যে বিক্রয় করে। চালানপ্রতি সে ৮-১০ হাজার টাকা পায় বলে জানায়।

ধৃত আসামী বাবুল’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে পেশায় একজন পিকআপের চালক। সে দীর্ঘ ০৮/১০ বছর যাবত পিকআপ চালিয়ে আসছে। পিকআপ চালানোর পাশাপাশি সে মাদক ব্যবসায়ের সাথে জড়িত। সে দীর্ঘদিন যাবত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মৌসুমি ফল পরিবহনের আড়ালে মাদকদ্রব্য ফেন্সিডিল রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসছে। মাদক ব্যবসায়ীরা চালানপ্রতি তাকে ৩৫-৪০ হাজার টাকা দিত বলে ধৃত আসামী স্বীকার করে। সে ইতিপূর্বে ০৮/১০ টি মাদকের চালান রাজধানী ঢাকায় নিয়ে এসেছে বলে জানায়।

ধৃত আসামী জাহাঙ্গীর আলম’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে জব্দকৃত পিকআপের হেল্পার। সে ধৃত আসামী বাবুল এর সহযোগী। তারা দেশের বিভিন্ন স্থান হতে মৌসুমি ফলের আড়ালে মাদকদ্রব্য রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসত। পরবর্তীতে এই সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যদের নিকট পাইকারী মূল্যে বিক্রয় করে বলে জানায়। সে ইতিপূর্বে ০৬/০৮ টি মাদকের চালান ঢাকাসহ আশপাশের জেলাসমূহে সরবরাহ করেছে বলে স্বীকার করে।

সাম্প্রতিক ভিডিও




র‌্যাব কর্তৃক প্রদত্ত পরামর্শ

***জমি জমা বা টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোন অভিযোগ র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোন সমস্যা র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***কোন অভিযোগ করার পূর্বে আপনার এলাকার জন্য দায়িত্বপূর্ন র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্প সম্পর্কে জানুন ও যথাযথ র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্পে অভিযোগ করুন ।
***আপনার এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে র‌্যাব কে তথ্য প্রদান করে র‌্যাবকে সহযোগীতা করুন । আপনার পরিচয় সম্প‍ুর্ন্ন গোপন রাখা হবে । ***বেশী করে গাছ লাগান অক্সিজেনের অভাব তাড়ান
***ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের আগুন নিয়ে খেলতে দিবেন না ।
***যাত্রা পথে অপরিচিত লোকের দেওয়া কিছু খাবেন না । ভ্রমণকালে সহযোগী বা অন্য কাহারো নিকট হইতে পান, বিড়ি, সিগারেট, চা বা অন্য কোন পানীয় খাওয়া/গ্রহন করা হইতে বিরত ‍থাকা আবশ্যক ।