Home » News Room » র‌্যাবের অভিযানে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন পত্র ফাঁস চক্রের ০৪ সদস্য তিন কোটি পঞ্চাশ লক্ষ টাকাসহ গ্রেফতার।

র‌্যাবের অভিযানে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন পত্র ফাঁস চক্রের ০৪ সদস্য তিন কোটি পঞ্চাশ লক্ষ টাকাসহ গ্রেফতার।

১।    র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জঙ্গী, অস্ত্র, নাশকতা, অপহরণ, ডাকাতি, দস্যুতা, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র, অর্থ জালিয়াতি ও বড় ধরণের মাদক চোরাচালান সহ চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ সকল অপরাধ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে উপরোক্ত সকল অপরাধ দমনে পারদর্শিতা প্রদর্শন করে জনমনে স্বস্তি আনয়ন ও আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

২।    র‌্যাব গোপন সূত্রে জানতে পারেন একটি অসাধু প্রতারক চক্র মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ২০১৭/১৮ সেশনের ০৬ অক্টোবর ২০১৭ ইং তারিখ অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের চেষ্টা, ভূয়া প্রশ্ন পত্র তৈরী করে ফাঁসকৃত প্রশ্ন পত্র হিসেবে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সরবরাহ করে প্রতারণার মাধ্যমে নগদ/অগ্রীম টাকা হাতিয়ে নেয়া এবং মোবাইল ফোন, ই-মেইল, ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার, ইমো, হোয়াটস্ অ্যাপ, ভাইবার ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথিত প্রশ্ন পত্র বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল গোপণ তথ্যের ভিত্তিতে গত ০৬ অক্টোবর ২০১৭ ইং তারিখ রাত ০১০০ ঘটিকা হতে অদ্য ০৮ অক্টোবর ২০১৭ ইং তারিখ রাত ০১৩০ ঘটিকা পর্যন্ত ঢাকা মহানগর এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা -২০১৭/১৮ এর প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অসাধু প্রতারক চক্রের ০৪ সদস্য যথাক্রমে ১। সাবিনা ইয়াসমিন তিন্নি (৩১), স্বামী-অপু হাওলাদার, পিতা-মোঃ আব্দুল মান্নান, সাং-দক্ষিণ দেবীপুর, রানীগঞ্জ বাজার, থানা-ঘোড়াঘাট, জেলা-দিনাজপুর, ২। মোঃ রাশেদুজ্জামান রিপন (২৬), পিতা-মোঃ জিয়াউর রহমান প্রধান, সাং-রামেশ্বরপুর, থানা-ঘোড়াঘাট, জেলা-দিনাজপুর, ৩। ডাঃ মোঃ সামছুর রশীদ দিপু (২৬), পিতা-মোঃ সালাউদ্দিন, সাং-হকপাড়া, থানা ও জেলা-চুয়াডাঙ্গা, ৪। ডাঃ মোঃ সোলায়মান হোসেন ওরফে মেহেদী (৩৩), পিতা-মোঃ আব্দুস সালাম, সাং-গৌরিপাড়া, থানা-ফুলবাড়ী, জেলা-দিনাজপুর’দের গ্রেফতার করে।

৩।    উক্ত প্রতারক চক্রটি মেডিকেল/ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার সময়ে অপরাপর সহযোগীদের সহায়তায় ভূয়া প্রশ্ন পত্র প্রণয়ন বা প্রশ্ন পত্র ফাঁস করার চেষ্টা বা প্রতারণার মাধ্যমে মেডিকেলে ভর্তিচ্ছুক ছাত্র/ছাত্রীদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগযোগ স্থাপন পূর্বক ভর্তি পরীক্ষার কথিত প্রশ্ন পত্র সরবরাহ করবে মর্মে আশ্বাস প্রদান করে তাদের নিকট হতে অগ্রীম চেক, নগদ টাকা গ্রহণ, ছাত্র/ছাত্রীদের একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, ভর্তিচ্ছুদের অভিভাবকদের ভোটার আইডি কার্ড নিজেদের জিম্মায় গ্রহণ করে ভর্তিচ্ছুদের কথিত প্রশ্ন দিয়ে অবৈধভাবে লাভবান হয়ে থাকে। তারা ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, আইএমও, হোয়াটসএ্যাপ, ভাইভার এ জাতীয় এ্যাপস্ ব্যবহার করে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত ও স্বল্পতম সময়ে পূর্ব থেকেই যোগযোগকৃত ব্যক্তিদের নিকট অর্থের বিনিময় প্রশ্ন পত্র সরবরাহ করে থাকে।

৪।    উক্ত আসামীদের দখল হইতে বিভিন্ন ব্যাংকের ৪৬ টি টাকার অংক বসানো চেক যাতে সর্বমোট ৩,৫০,২৫,০০০/- (তিন কোটি পঞ্চাশ লক্ষ পঁচিশ হাজার) টাকা এবং ৬ টি টাকার অংক বসানো বিহীন (ব্ল্যাঙ্ক) চেক সহ সর্বমোট ৫২ টি চেক, মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষা-২০১৭-১৮ সেশনের পরীক্ষার্থীদের ২২ টি এডমিট কার্ড, ২২ টি একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট/প্রসংশা পত্র, ৫ সেট কথিত প্রশ্ন পত্র, ৬ টি মোবাইল ফোন ও ১ টি পেনড্রাইভ উদ্ধার করা হয়।  উদ্ধারকৃত আলামত পর্যালোচনায় দেখা যায় প্রশ্ন পত্র ফাঁসে জড়িত ধৃত ও পলাতক আসামীরা পরষ্পর যোগসাজশে মেডিকেল ভর্তিচ্ছু অভিভাবকগণের নিকট হতে বিভিন্ন অংকের অগ্রীম চেক, জাতীয় পরিচয় পত্র ও পরীক্ষার্থীদের একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টের মূল কপি আসামীদের নিজ নিজ হেফাজতে রেখে গৃহীত চেকের বিপরীতে নগদ টাকা আদায়ের কৌশল অবলম্বন করে থাকে। আসামীদের নিকট হতে প্রাপ্ত মেডিকেল ভর্তিচ্ছু ছাত্রছাত্রীদের একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট এবং  মেডিকেল ভর্তিচ্ছু অভিভাবকগণের জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি পরিচয় পত্র যাচাই বাছাই কালে দেখা যায়, ধৃত ও পলাতক আসামীরা পরষ্পর যোগসাজশে এমবিবিএস/বিডিএস ভর্তি পরীক্ষা, সেশন ২০১৭-১৮ শুরু হওয়ার প্রাক্কালে অসৎ উদ্দেশ্যে অর্থের বিনিময়ে সম্ভাব্য প্রশ্ন পত্র তৈরী করে ভর্তিচ্ছুক পরীক্ষার্থী  ও তাদের পরিবারবর্গ/নিকট আত্মীয়গণের ই-মেইল, ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, আইএমও, হোয়াটসএ্যাপ, ভাইভার এ জাতীয় এ্যাপস্ এ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় প্রেরণ করে আর্থিক ভাবে লাভবান হয়েছে এবং অগ্রীম চেক গ্রহণ করে অধিকতর লাভবান হবার পথ উন্মুক্ত করেছে।

৫।    উপরোক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

র‌্যাব কর্তৃক প্রদত্ত পরামর্শ

***জমি জমা বা টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোন অভিযোগ র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোন সমস্যা র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***কোন অভিযোগ করার পূর্বে আপনার এলাকার জন্য দায়িত্বপূর্ন র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্প সম্পর্কে জানুন ও যথাযথ র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্পে অভিযোগ করুন ।
***আপনার এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে র‌্যাব কে তথ্য প্রদান করে র‌্যাবকে সহযোগীতা করুন । আপনার পরিচয় সম্প‍ুর্ন্ন গোপন রাখা হবে । ***বেশী করে গাছ লাগান অক্সিজেনের অভাব তাড়ান
***ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের আগুন নিয়ে খেলতে দিবেন না ।
***যাত্রা পথে অপরিচিত লোকের দেওয়া বিছু খাবেন না । ভ্রমণকালে সহযোগী বা অন্য কাহারো নিকট হইতে পান, বিড়ি, সিগারেট, চা বা অন্য কোন পানীয় খাওয়া/গ্রহন করা হইতে বিরত ‍থাকা আবশ্যক ।

সাম্প্রতিক ভিডিও