Home » Uncategorized » র‌্যাবের অভিযানে পল্লবী থানার চাঞ্চল্যকর সুমি হত্যা মামলার রহস্য উদ্্ঘাটন ও আসামী গ্রেফতার।

র‌্যাবের অভিযানে পল্লবী থানার চাঞ্চল্যকর সুমি হত্যা মামলার রহস্য উদ্্ঘাটন ও আসামী গ্রেফতার।

১।    এলিট ফোর্স হিসেবে র‌্যাব আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন থেকেই বিভিন্ন ধরণের নৃশংস অপরাধ নির্মূলের লক্ষ্যে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে আসছে। খুন, ডাকাতি, দস্যুতা, ধর্ষণ, অপহরণ, চাঁদাবাজী ও জঙ্গীবাদের মত ঘৃণ্যতম অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এবং অস্ত্র ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারে র‌্যাবের তৎপরতা জোড়ালোভাবে অব্যাহত আছে। এরকমই একটি ঘৃণ্য হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছিল গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখ রাত আনুমানিক ০১.০০ ঘটিকা হতে ০২:০০ ঘটিকার মধ্যে। উক্ত ঘটনাটি রাজধানীর পল্ল¬বী থানাধীন ব্লক-ডি, ২৯/১২ এ ২৫ নং বাসার মালিক মোসাঃ আছিয়া আক্তার জুলি’র ০৪ তলা ভবনের ২য় তলার বসবাসরত কক্ষে হত্যাকান্ডটি সংঘটিত হয়েছিল। হত্যাকান্ডের পর হতেই র‌্যাব-৪ এর বিশেষ আভিযানিক দল রহস্য উদ্্ঘাটনের কাজ শুরু করে এবং সফলতার সাথে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনসহ জড়িত অপরাধীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

২।    পল্ল¬বী থানাধীন ব্ল¬ক-ডি, ২৯/১২ এর ২য় তলায় ভিকটিম মোছাঃ সুমি আক্তার এর বড় বোন রানু বেগম বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছিল। রানু বেগম মিরপুর এলাকায় পোষাক শ্রমিক হিসাবে কাজ করে। প্রায় ০৩ বছর পূর্বে ভিকটিম মোসাঃ সুমি আক্তার (২২), পিতাঃ আব্দুস ছোবহান, মাতাঃ রিনা বেগম, সাং- হারিয়াকলি, থানাঃ ইশ্বরগঞ্জ, জেলাঃ ময়মনসিংহ এর সহিত মোঃ সোহেল (২৫), পিতাঃ আব্দুল বারেক, ইশ্বরগঞ্জ, ময়মনসিংহ এর সাথে পারিবারিকভাবে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে সোহনা নামক ০৮ মাসের একটি কন্যা সন্তান আছে। বিবাহের পর থেকে সুমি ও সোহেলের মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য চলতে থাকে। উভয় পক্ষের অভিভাবকগণ একাধিকবার তাদের মধ্যকার বিরোধ মিমাংসা করে দিলেও কিছুদিন অতিবাহিত হলেই সোহেল সুমিকে পুনরায় শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। প্রায় ০২ মাস পূর্বে তাদের মধ্যে বিরোধের চরম পর্যায়ে সুমির পিতা আব্দুস ছোবহান সুমিকে ঢাকায় নিয়ে আসে এবং সুমির বড় বোন রিনার সাথে একই রুমে রাখে। কিছুদিন পর সোহেল ঢাকায় এসে সুমির বাবা, মা ও অন্যান্য আতœীয় স্বজনদেরর কাছে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চায়। সুমির অভিভাবক সোহেল এর কথা বিশ্বাস করে সুমির সাথে বসবাস করার অনুমতি দেয়। প্রায় মাস খানেক সুমি ও সোহেল ভাল ভাবে ঘর সংসার করে আসছিল। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখ সন্ধ্যার সময় পারিবারিক বিষয় নিয়ে সুমি ও সোহেলের মধ্যে পুনরায় তর্ক-বির্তক হয়। রাত আনুমানি ১১.০০ ঘটিকার সময় সুমির পিতা ভিকটিমের বাসায় রাতের খাওয়া দাওয়া করে মেয়ে জামাইকে ঝগড়া বিবাদ না করার জন্য বলে যায়। সুমির বড় বোনের রাত্রিকালীন ডিউটি থাকায় ঐ দিন সন্ধ্যায় সে তার ডিউটিতে চলে যায়। ভিকটিম সুমি, তার স্বামী সোহেল ও তাদের ০৮ মাস বয়সী একটি কন্যা সন্তানসহ ঘুমিয়ে পড়ে। পরের দিন অর্থাৎ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখ রোজ মঙ্গল বার সকাল অনুমান ০৭.০০ ঘটিকার সময় ভিকটিমের মা রিনা বেগম সুমির ঘরের দরজা খোলা দেখতে পেয়ে তার কক্ষে প্রবেশ করে এবং সুমির কন্যা সোহানাকে সুমির বুকের দুধ পান করার চেষ্টা করতে দেখে। তখন রিনা বেগম তার মেয়েকে একাধিকবার ডাক দেয়। কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে মেয়ের মুখের দিক ভাল করে লক্ষ্য করে দেখতে পায় ভিকটিমের নাক দিয়ে রক্তাক্ত তরল পদার্থ বের হচ্ছে। তাৎক্ষণিক সে পাশের রুমের মোসাঃ তানিয়া বেগম (৩৫)’কে ডাক দিলে তানিয়া বেগম এসে সুমির কপাল এবং শরীর স্পর্শ করে সুমি মারা গেছে বলে ধারণা করে এবং তাদের চিৎকারে আশে পাশের লোকজন চলে আসে। পরবর্তীতে সংবাদ পেয়ে পল্লবী থানার এসআই মোঃ ফারুকুজ্জামান সংগীয় ফোর্স ও নারী কনষ্টেবলসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিকটিম সুমি আক্তার এর লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে লাশ ময়না তদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন।  খানে ময়না তদন্ত শেষে মঙ্গলবার বিকেলে লাশ দাফনের জন্য ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার হারিয়াকলি নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর স্বামী পলাতক থাকায় প্রাথমিক ভাবে সন্দেহ করা হচ্ছিল যে, সুমি আক্তারকে হত্যার পর তার স্বামী সোহেল পালিয়ে গেছে। পরবর্তীতে ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে পল্ল¬বী থানার মামলা নং-০৭, তারিখঃ ০২ মার্চ ২০১৮, ধারাঃ ৩০২ দঃ বিঃ রুজু করেন। পাশাপাশি র‌্যাব-৪ এর বিশেষ আভিযানিক দল মৃত্যুর ঘটনাটিতে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখে।

৩।    উক্ত ঘটনার পরদিন জাতীয় বিভিন্ন পত্রিকায় ‘‘পল্লবীতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু : স্বামী পলাতক, বুকের দুধ খাওয়ার চেষ্টা করছিল শিশু’’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। র‌্যাব-৪ ঘটনার অনুসন্ধানে উক্ত বাসায় এবং আশেপাশে বসবাসরত লোকজনের সাথে কথা বলে উক্ত ভবনে ঘটে যাওয়া সেদিনের হত্যাকান্ডের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে ভিকটিম মোছাঃ সুমি আক্তার এর স্বামী মোঃ সোহেলকে সন্দেহ হলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য তার গতিবিধি ও অবস্থান নির্ণয়ের জন্য নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখে। পরবর্তীতে র‌্যাব-৪ এর একটি চৌকষ আভিযানিক দল হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সোহেল (২৮)’কে নেত্রকোনা জেলার সদর থানার মদনপুর ইউনিয়নের নন্দীপুর গ্রাম থেকে ০৯ মার্চ ২০১৮ তারিখ রাত ০২:৪০ ঘটিকায় গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ভিকটিমের স্বামাী সোহেল একাই হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেন।

৩।    উপরোক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সাম্প্রতিক ভিডিও




র‌্যাব কর্তৃক প্রদত্ত পরামর্শ

***জমি জমা বা টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোন অভিযোগ র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোন সমস্যা র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***কোন অভিযোগ করার পূর্বে আপনার এলাকার জন্য দায়িত্বপূর্ন র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্প সম্পর্কে জানুন ও যথাযথ র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্পে অভিযোগ করুন ।
***আপনার এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে র‌্যাব কে তথ্য প্রদান করে র‌্যাবকে সহযোগীতা করুন । আপনার পরিচয় সম্প‍ুর্ন্ন গোপন রাখা হবে । ***বেশী করে গাছ লাগান অক্সিজেনের অভাব তাড়ান
***ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের আগুন নিয়ে খেলতে দিবেন না ।
***যাত্রা পথে অপরিচিত লোকের দেওয়া বিছু খাবেন না । ভ্রমণকালে সহযোগী বা অন্য কাহারো নিকট হইতে পান, বিড়ি, সিগারেট, চা বা অন্য কোন পানীয় খাওয়া/গ্রহন করা হইতে বিরত ‍থাকা আবশ্যক ।