Home » News Room » র‌্যাবের অভিযানে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা হতে জিহাদী বই ও বিষ্ফোরক উদ্ধারসহ জেএমবির ০৩ জন সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার।

র‌্যাবের অভিযানে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা হতে জিহাদী বই ও বিষ্ফোরক উদ্ধারসহ জেএমবির ০৩ জন সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার।

১।    এলিট ফোর্স র‌্যাব তার সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ এর বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থানে থেকে নিরলস ভাবে কাজ করে আসছে। র‌্যাবের কর্ম তৎপরতার কারণেই সারাদেশে একযোগে বোমা বিষ্ফোরণসহ বিভিন্ন সময়ে নাশকতা সৃষ্টিকারী জঙ্গি সংগঠন সমূহের শীর্ষ সারির নেতা থেকে বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মীদেরকেও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভবপর হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে কারো কারো মৃত্যুদন্ড, যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়েছে, কেউ কেউ বিভিন্ন মেয়াদের কারাভোগ করেছে এবং বেশকিছু মামলা এখনো বিচারাধীন। উল্লেখ্য যে, সাংগঠনিকভাবে পূর্বের মতো সারাদেশে একযোগে নাশকতা সৃষ্টি করাসহ পরিকল্পিতভাবে কোথাও বোমা বিষ্ফোরণের সক্ষমতা না থাকলেও, যে সকল জঙ্গি এখনো আত্মগোপন করে আছে তাদের তৎপরতা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। তবে র‌্যাবের কঠোর গোয়েন্দা নজরদারী ও অভিযানের ফলে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনগুলোর নেতা কর্মীরা পূনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে বার বার ব্যর্থ হয়েছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে আটক হয়েছে।

২।    র‌্যাবের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জ এর একটি আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে গত ২০ ফেব্র“য়ারি ২০১৭ তারিখে রাত আনুমানিক ০৪০০ ঘটিকা হতে ভোর ০৫৪৫ ঘটিকা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানাধীন কাঁচপুর ও মোগড়াপাড়া এলাকা হতে জেএমবির মূল ধারার ০৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে যার মধ্যে ০১ জন গায়রে এহসার সদস্য। উক্ত ০৩ জন সদস্য হলো ১। মোঃ মোস্তফা @ মোস্ত @ শামীম (২৫), থানা-মুক্তাগাছা, জেলা-ময়মনসিংহ, ২। আবু রায়হান @ হিমেল (২৪), থানা-ফুলবাড়ীয়া, জেলা-ময়মনসিংহ এবং ৩। মোঃ শরিফুল ইসলাম @ শাহীন (২১), থানা-ধামরাই, জেলা-ঢাকা। তাদের কাছ থেকে জিহাদী বই-০৭টি, লিফলেট-৪৬টি, দেশীয় অস্ত্র (চাপাতি ও চাকু)-০৫টি, ককটেল-০৫টি, বোমা তৈরীর সরঞ্জাম, স্কচটেপ-০২টি উদ্ধার করা হয়েছে।

৩।    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার স্বীকার করে তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমজি) এর সক্রিয় সদস্য এবং সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকান্ডের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। তারা এও স্বীকার করে যে, জেএমবির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন আমীর এবং মৃত্যুদন্ডে সাজাপ্রাপ্ত ও মৃত্যুদন্ড সাজা কার্যকর হওয়া শায়েখ আব্দুর রহমান এর পথ অনুস¥রনকারী। উক্ত ০৩ জন সদস্য নিজ নিজ এলাকা ও এলাকার বাহিরেও সাংগঠনিক বিভিন্ন ছদ¥ নাম ব্যবহার করে সংগঠনের কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিল।

৪।    আবু রায়হান @ হিমেল (২৪), থানা-ফুলবাড়ীয়া, জেলা-ময়মনসিংহ বর্তমানে সরকারি সহর আলী কলেজ নারায়ণগঞ্জ এ সমাজ কর্ম বিষয়ে অনার্স ৩য় বর্ষে অধ্যায়নরত। ২০১৪ সালের শেষের দিকে সে তৌহিদ (৩২) এর মাধ্যমে জেএমবিতে যোগদান করে। তৌহিদের মাধ্যমে তার জেএমবির অপর সদস্য সাকিবের (২৫) সাথে তার পরিচয় হয়। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া বাজারে সাকিব প্রায়শঃ তার সাথে দেখা করতে আসত এবং সাংগঠনিক বিষয়ে তারা আলোচনা করত। সে সাকিবকে ইয়ানত বাবদ ২০০/- টাকা মাসিক হারে চাঁদা দিত। সাকিব এর মাধ্যমে অন্যান্য জেএমবির সদস্য আকাশ, রোকন ও আমিনদের পরিচয় হয়। ২০১৫ সালের শেষের দিকে সে চট্টগ্রামে অস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। সে ২০১৬ সালের মার্চ মাস হতে টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায় সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাত।

৫।    মোঃ মোস্তফা @ মোস্ত @ শামীম (২৫), থানা-মুক্তাগাছা, জেলা-ময়মনসিংহ ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করে তার এলাকার মাদ্রাসায় ভর্তি হয় এবং সংসারের অভাব অনটনের কারণে পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সে জীবিকা নির্বাহের জন্য বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকে। ২০১৩ সালের শেষের দিকে সে নব্য মুসলিম হাসমত (৩০) নামক একটি অপরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে ধর্মীয় বিষয়ে দীক্ষিত হয়। তখন থেকে নিয়মিত এলাকায় বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে যোগ এবং সে জিহাদে উদ্বুদ্ধ হয়। এরপর ২০১৪ সালের শেষের দিকে তার নিজ গ্রামের সাকিব (২৫) এর মাধ্যমে জেএমবিেিত যোগদান করে। ২০১৫ সালের ১ম দিকে সাকিবের মাধ্যমে গাজীপুর শালবাড়ী/শালনা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় সে সহ মোট ৬ জন মিলে ২৫ দিনের জিহাদী প্রশিক্ষণ নেয়। সাকিব এর মাধ্যমে সে মোবাইলে ধর্মীয় উগ্রবাদিতার ভিডিও ও লেকচার পেত। সে সাকিবের মাধ্যমে সংগঠনের জন্য প্রতি মাসে ইয়ানত বাবদ ৫০/১০০ টাকা দিত। ২০১৫ সালের শেষের দিকে সাকিবের মাধ্যমে সংগঠনের অপর এক সদস্যের সাথে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে সে ইয়ানত বাবদ টাকা সাকিবের পরিবর্তে ঐ সদস্যের কাছে দিত। প্রশিক্ষণ গ্রহণকালে আসাদ (২৫), শিমুল (২৬) এবং সাইদুল (২৬) তাদের প্রশিক্ষণ দিত। সংগঠনের জন্য সে এলাকার বাছেদ ও সিদ্দিক @ আকাশ ও সোহেল রানাকে প্রশিক্ষণের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে সাকিবের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকা পাঠায়। সে ২০১৫ সালের শেষের দিকে চট্টগ্রামে অস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে সে হিজরতের উদ্দেশ্যে বাড়ী থেকে পালিয়ে যায়।

৬।    মোঃ শরিফুল ইসলাম @ শাহীন (২১), থানা-ধামরাই, জেলা-ঢাকা। সে ধামরাই এর শরফ বাগ ইসলামিয়া কামেল মাদ্রাসা থেকে ৯ম শ্রেণী পাশ করে। সে ২০১৫ সালের প্রথম দিকে কাঠ মিস্ত্রির কাজ করার জন্য ঘাটাইলে একটি কাঠের দোকানে কাজ করে। ২০১৫ সালে মোস্তফা ও সাকিবের মাধ্যমে সংগঠনে যোগদান করে এবং সংগঠনের সিদ্ধান্তে সে ধৃত মোস্তফার শ্যালিকাকে বিয়ে করে। পরবর্তীতে সে বাটা জুতার কোম্পানীতে কিছুদিন কাজ করে। সে সংগঠনের জন্য নিয়মিত ইয়ানত দিত। সে অস্ত্র প্রশিক্ষণের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। আইন শৃংখলা বাহিনীর জঙ্গীবিরোধী অভিযানের কারণে সে নভে¤¦র মাসে বাড়ী থেকে পালিয়ে যায়।

৭।    আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

র‌্যাব কর্তৃক প্রদত্ত পরামর্শ

***জমি জমা বা টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোন অভিযোগ র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোন সমস্যা র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***কোন অভিযোগ করার পূর্বে আপনার এলাকার জন্য দায়িত্বপূর্ন র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্প সম্পর্কে জানুন ও যথাযথ র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্পে অভিযোগ করুন ।
***আপনার এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে র‌্যাব কে তথ্য প্রদান করে র‌্যাবকে সহযোগীতা করুন । আপনার পরিচয় সম্প‍ুর্ন্ন গোপন রাখা হবে ।
***বেশী করে গাছ লাগান অক্সিজেনের অভাব তাড়ান
***ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের আগুন নিয়ে খেলতে দিবেন না ।
***যাত্রা পথে অপরিচিত লোকের দেওয়া বিছু খাবেন না । ভ্রমণকালে সহযোগী বা অন্য কাহারো নিকট হইতে পান, বিড়ি, সিগারেট, চা বা অন্য কোন পানীয় খাওয়া/গ্রহন করা হইতে বিরত ‍থাকা আবশ্যক ।

সাম্প্রতিক ভিডিও