Home » News Room » র‌্যাবের অভিযানে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ এলাকা হতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন আনসার আল ইসলাম (আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) এর ০৩ জন সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার। উগ্রবাদী বই, লিফলেট, বিদেশী অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার।

র‌্যাবের অভিযানে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ এলাকা হতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন আনসার আল ইসলাম (আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) এর ০৩ জন সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার। উগ্রবাদী বই, লিফলেট, বিদেশী অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার।

১।    এলিট ফোর্স র‌্যাব তার সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ এর বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থানে থেকে নিরলস কাজ করে আসছে। র‌্যাবের কর্ম তৎপরতার কারনেই সারাদেশে একযোগে বোমা বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন সময়ে নাশকতা সৃষ্টিকারী জঙ্গি সংগঠন সমূহের শীর্ষ সারির নেতা থেকে বিভিন্ন স্তরের সদস্যদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভবপর হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে কারো মৃত্যুদন্ড, কারো যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়েছে, কেউ কেউ বিভিন্ন মেয়াদের কারাভোগ করেছে এবং বেশকিছু মামলা এখনো বিচারাধীন। উল্লেখ্য যে, সাংগঠনিকভাবে পূর্বের মতো সারাদেশে একযোগে পরিকল্পিতভাবে নাশকতা সৃষ্টি করার সক্ষমতা না থাকলেও, সাম্প্রতিক কালে বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে আতœঘাতী বিস্ফোরণের মাধ্যমে নাশকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের সদস্যরা। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে অনেকেই গ্রেফতার হয়েছে, অভিযান এবং আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিহত হয়েছে। তদুপরি, যে সকল জঙ্গি এখনো আত্মগোপন করে আছে তাদের তৎপরতা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি বরং বিভিন্ন স্থানে হামলার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ভাবে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে র‌্যাবের কঠোর গোয়েন্দা নজরদারী ও অভিযানের ফলে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনগুলোর নেতা কর্মীরা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালিয়েও বার বার ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে।

২।    এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল গত ২৬ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখ ১৭০০ ঘটিকা হতে ২১০০ ঘটিকা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন জিন্দা গ্রামস্থ জিন্দা পার্ক  এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন আনসার আল ইসলাম (আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) এর সক্রিয় সদস্য (ক) মোঃ রেজাউর রহমান@শাওন@সোহেল@হাসান (২৭), থানা-মঠবাড়িয়া, জেলা-পিরোজপুর, (খ) মোঃ মোবারক হোসেন@মাসুদ(৩৩), থানা-সুজানগর, জেলা-পাবনা এ/পি থানা-সিদ্ধিরগঞ্জ, জেলা-নারায়ণগঞ্জ এবং (গ) মোঃ আবু রায়হান চৌধুরী (২৮), থানা-মুরাদনগর, জেলা-কুমিল্লাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের নিকট হতে ০১ টি বিদেশী পিস্তল, ৩ রাউন্ড গুলিসহ ০১ টি ম্যাগাজিন, উগ্রবাদী বই এবং জঙ্গীবাদী লিফলেট উদ্ধার করা হয়।

৩।     মোঃ রেজাউর রহমান@শাওন@সোহেল@হাসান (২৭), ২০০৫ সালে রাজধানীর মনিপুর স্কুল থেকে এসএসসি, ২০০৭ সালে মিরপুর কমার্স কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ২০১২ সালে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ পাশ করেছে। মূলতঃ ২০১৩ সালের শুরুর দিকে সে জসিম উদ্দিন রাহমানি ও আনোয়ার আওলাকীর বয়ান শুনে উগ্রবাদে আগ্রহী হতে থাকে। পরে তার ইউনিভার্সিটির বন্ধু জাবির@রনির সাথে বসিলায় জসিম উদ্দিন রাহমানির মসজিদে যাতায়াত শুরু করে। রনির মাধ্যমে তার পরিচয় হয় আবু রায়হান চৌধুরী, জুন্নুন শিকদার, সোহেল, এবং সিফাতের সাথে যারা সবাই জঙ্গী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিল। এদের মধ্যে জুন্নুন শিকদার সিরিয়ার গিয়ে মারা গিয়েছে বলে জানা যায়। এছাড়া সিফাত ও সোহেল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে।

৪।    ২০১৪ সালের মাঝামাঝিতে সিফাত ও সোহেলের মাধ্যমে শ্যামলীতে একটি বাসায় আনসার আল ইসলামের শীর্ষ নেতা মোয়াজ ভাই এর সাথে তার সাক্ষাৎ হয়। সেখানে তারা সাংগঠনিক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহন করে। মোয়াজ ভাই প্রশিক্ষণের সময় তাদেরকে চৎড়ঃবপঃবফ ঞবীঃ ওউ খুলে দেয় বলে সে জানায়। রেজাউর পর্যায়ক্রমে আনসার আল ইসলামের একজন মাসুল হিসেবে দায়িত্ব পায়। তার অধীনে মিঠু, তাউসিন, সাগর ও সাব্বির কাজ করত।

২০১৭ সালের মে মাসে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের প্রেক্ষিতে সাংগঠনিক নির্দেশে রেজাউর বাংলাদেশ ত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যায়। তার ভারতে অবস্থানকালে দেশে তার সঙ্গী মিঠু, তাউসিন, সাগর ও সাব্বির আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার হয়। সে গত নভে¤¦র ২০১৭ পর্যন্ত ভারতের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থাকে। এসময় কলকাতা পুলিশ ভারতে রেজাউর রহমান@শাওনের সহযোগী আনসার আল ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ওমর ফারুক, সাদাত হোসেন, রিয়াজুল ইসলাম ও শামসুদ মিয়াকে গ্রেফতার করলে, সে পূনরায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। দেশে ফেরত আসার পর সে নিজ বাসায় না গিয়ে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থেকে সংগঠনের জন্য কর্মী সংগ্রহ করাসহ সাংগঠনিক অন্যান্য কাজ করে আসছিল। সংগঠনে যোগদানের প্রথম দিকে টেলিগ্রাম আইডির মাধ্যমে তারা যোগাযোগ করত। পরে চৎড়ঃবপঃবফ ঞবীঃ এর মাধ্যমে তাদের যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।

৫।     মোঃ মোবারক হোসেন@মাসুদ(৩৩), ২০০৮ সালে জনৈক শরীফের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে উগ্রবাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়। ২০০৮-২০১২ সাল পর্যন্ত সে কথিত জিহাদের পথে বিভিন্ন জনকে দাওয়াত দিয়ে আসছিল। ২০১৩ সালে জসিম উদ্দীন জসিম উদ্দিন রাহমানির মসজিদে যাতায়াতের মাধ্যমে সে পুরোপুরি উগ্রবাদে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে। এসময় তার সাথে রেজাউর রহমান@শাওন এর পরিচয় হয়। জসিম উদ্দীন রাহমানি গ্রেফতার হলে সিরিয়ায় হিযরতকৃত জুন্নুন শিকদার এর অধীনে সে দাওয়াতী কাজ করতে থাকে। পরে জুন্নুন শিকদার সিরিয়ার হিযরত করলে মোবারক জসিম উদ্দীন রাহমানির একান্ত আস্থাভাজন মাওলানা ইসহাকের সাথে কিছুদিন কাজ করে। মাওলানা ইসহাক গ্রেফতার হলে সে নারায়ণগঞ্জের একটি গার্মেন্টসে চাকুরী নিয়ে পুনরায় আনসার আল ইসলামের জন্য দাওয়াতী কাজ করতে থাকে।

৬।    মোঃ আবু রায়হান চৌধুরী(২৮), ২০১৫ সালে তিতুমীর কলেজ থেকে বিবিএ ও ২০১৭ সালে একই কলেজ হতে এমবিএ পাশ করে। ২০১২ সালের শেষ দিকে জসিম উদ্দীন রাহমানির মসজিদে যাতায়াতের মাধ্যমে সে উগ্রবাদী চিন্তা চেতনা ও কথিত জিহাদের দিকে ধাবিত হয়। ২০১৬ সালে সে আনসার আল ইসলামের সদস্য আহমেদ উল্লাহ পাটোয়ারী@ইমরান@শ্যামল এবং সৈয়দ রায়হানুল কবির@বাবু এর মাধ্যমে সংগঠনে যোগদান করে বলে জানায়। পরে সংগঠনের মাসুল হোসেন আহমেদ এর অধীনে থেকে আনসার আল ইসলামের দাওয়াতী শাখায় একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করতে থাকে। সে গুলশান এলাকায় একটি দোকানে কাজ করত। সে মুলতঃ গুলশান এলাকায় আনসার আল ইসলামের একজন মাসুল।

৭।    উপরোক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সাম্প্রতিক ভিডিও




র‌্যাব কর্তৃক প্রদত্ত পরামর্শ

***জমি জমা বা টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোন অভিযোগ র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোন সমস্যা র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***কোন অভিযোগ করার পূর্বে আপনার এলাকার জন্য দায়িত্বপূর্ন র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্প সম্পর্কে জানুন ও যথাযথ র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্পে অভিযোগ করুন ।
***আপনার এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে র‌্যাব কে তথ্য প্রদান করে র‌্যাবকে সহযোগীতা করুন । আপনার পরিচয় সম্প‍ুর্ন্ন গোপন রাখা হবে । ***বেশী করে গাছ লাগান অক্সিজেনের অভাব তাড়ান
***ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের আগুন নিয়ে খেলতে দিবেন না ।
***যাত্রা পথে অপরিচিত লোকের দেওয়া বিছু খাবেন না । ভ্রমণকালে সহযোগী বা অন্য কাহারো নিকট হইতে পান, বিড়ি, সিগারেট, চা বা অন্য কোন পানীয় খাওয়া/গ্রহন করা হইতে বিরত ‍থাকা আবশ্যক ।