Home » News Room » র‌্যাবের অভিযানে জেএমবি এর IED তৈরীর রাসায়নিক পদার্থ সরবরাহকারী জঙ্গি সদস্য ইমরান এবং তার সহযোগী রফিক সহ সর্বমোট ০২ জন গ্রেফতার ॥ বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক ও IED তৈরীর সরঞ্জামাদি উদ্ধার।

র‌্যাবের অভিযানে জেএমবি এর IED তৈরীর রাসায়নিক পদার্থ সরবরাহকারী জঙ্গি সদস্য ইমরান এবং তার সহযোগী রফিক সহ সর্বমোট ০২ জন গ্রেফতার ॥ বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক ও IED তৈরীর সরঞ্জামাদি উদ্ধার।

১। এলিট ফোর্স র‌্যাব তার সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ এর বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থানে থেকে নিরলস কাজ করে আসছে। র‌্যাবের কর্ম তৎপরতার কারনেই সারাদেশে একযোগে বোমা বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন সময়ে নাশকতা সৃষ্টিকারী জঙ্গি সংগঠন সমূহের শীর্ষ সারির নেতা থেকে বিভিন্ন স্তরের সদস্যদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভবপর হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে কারো মৃত্যুদন্ড, কারো যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়েছে, কেউ কেউ বিভিন্ন মেয়াদের কারাভোগ করেছে এবং বেশকিছু মামলা এখনো বিচারাধীন। উল্লেখ্য যে, সাংগঠনিকভাবে পূর্বের মতো সারাদেশে একযোগে পরিকল্পিতভাবে নাশকতা সৃষ্টি করার সক্ষমতা না থাকলেও, সাম্প্রতিক কালে বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে নাশকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে অনেকেই গ্রেফতার বা নিহত হয়েছে। তদুপরি, যে সকল জঙ্গি এখনো আত্মগোপন করে আছে তাদের তৎপরতা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি বরং বিভিন্ন স্থানে হামলার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ভাবে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে র‌্যাবের কঠোর গোয়েন্দা নজরদারী ও অভিযানের ফলে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনগুলোর নেতা কর্মীরা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালিয়েও বার বার ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে।

২। গত ১০ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে র‌্যাব-১৪ এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া অভিযানে জেএমবি এর এক নারী সদস্য গ্রেফতার হয়। উক্ত জঙ্গি নারী সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদে জেএমবি’র বিস্ফোরক সংগ্রহ ও সরবরাহের কিছু তথ্য উপাত্ত পাওয়া যায়। এ লক্ষ্যে র‌্যাব তার গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

৩। এরই ধারাবাহিকতায় গত ০৭ মে ২০১৭ তারিখ রাত ১০১৫ ঘটিকার সময় আশুলিয়া এলাকা হতে (১) মোঃ ইমরান হোসেন @ ইমরান @ এমরান (৩৪), ময়মনসিংহ এবং (২) মোঃ রফিকুল ইসলাম @ জুনায়েদ @ রফিক (৪০), নেত্রকোনাদ্বয়কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ০২ বোতল সালফিউরিক এসিড, বিভিন্ন ধরনের স্পিøন্টার উপযোগী বল ০৫ প্যাকেট এবং বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক তৈরীর উপযোগী রাসায়নিক পদার্থ (সালফার সদৃশ্য পাউডার, পটাসিয়াম সদৃশ্য পাউডার, পটাসিয়াম ক্লোরেট সদৃশ্য পাউডার) ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম সহ অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার তথ্য প্রদান করেছে। তারা উপরোক্ত বিস্ফোরক দ্রব্যাদি সমূহ সংগঠনের চাহিদার ভিত্তিতে সংগ্রহ করেছিল কিন্তু সরবরাহ করার পূর্বেই ধৃত হয়।
৪। আটককৃত মোঃ ইমরান হোসেন @ ইমরান @ এমরান মূলত বিস্ফোরক তৈরীতে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থগুলো বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য বিক্রেতার নিকট হতে সংগ্রহ করে থাকে এবং রফিক তার সহযোগী/বিতরণকারী হিসেবে কাজ করে থাকে। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের নিকট হতে কয়েকজন বিস্ফোরক বিক্রেতার তথ্যসহ তাদের দলের আরও কয়েকজন সংগ্রাহক ও বিতরণকারীদের তথ্য পাওয়া গিয়েছে।

৫। আটককৃত মোঃ ইমরান হোসেন @ ইমরান @ এমরান বিভিন্ন কেমিক্যাল নির্ভর শিল্প প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকের কাজ করে বলে জানায়। সে ২০০১ সালে জনৈক ফরিদ দ্বারা প্ররোচিত হয়ে হুজি(বি)’তে যোগদান করে। সে হুজি(বি)’র একজন সক্রিয় সদস্য ছিল। ২০০১ সালে বুড়িরচরে তার মতো ২০-২৫ জন যুবক বয়সীদের নিয়ে একটি প্রাথমিক জঙ্গি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ হওয়ার পর সে চট্টগ্রামে অস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। ময়মনসিংহ এর বুড়িরচরের প্রশিক্ষণ সম্পর্কে সে জানায়, শহিদুল্লাহ এবং রুম্মন নামে দুইজন প্রশিক্ষক তাদেরকে শারীরিক ও জঙ্গি মতাদর্শের উপরে প্রশিক্ষণ দিত। সে সংগঠনের জন্য নিয়মিত ইয়ানত সংগ্রহ করে ময়মনসিংহ জেলার সংগঠনের কোষাদক্ষ জনৈক তারিক @ আব্দুল্লাহ এর নিকট প্রেরণ করত। অতপর ২০১৪ সালের শুরুর দিকে সে জেএমবির প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়ে ।
৬। মোঃ ইমরান হোসেন @ ইমরান @ এমরান ২০১১ সাল হতে জয়দেবপুরের কয়েকটি কেমিক্যাল নির্ভর শিল্প কারখানায় চাকুরী সুবাধে বৈধ কেমিক্যাল সংগ্রহ ও সরাবরাহ চেইন সম্পর্কীয় তার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সংগঠনের জন্য বিস্ফোরক তৈরীতে রাসায়নিক দ্রব্যাদি সংগ্রহ করত এবং বাহক/কুরিয়ারের মাধ্যমে চাহিদা মোতাবেক চট্টগ্রাম এলাকায় জঙ্গিদের নিকট প্রেরণ করত। মূলত তার সরবরাহকৃত রাসায়নিক দ্রব্যাদির মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠনের প্রশিক্ষনার্থীদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হত। এ লক্ষ্যে সে ঢাকা হতে কেমিক্যাল দ্রব্যাদি সংগ্রহ করে রফিকের নিকট প্রেরন করত। রফিক উক্ত কেমিক্যাল গুলো চাহিদা মোতাবেক চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে পৌছে দিত।

৭। আটককৃত মোঃ রফিকুল ইসলাম @ জুনায়েদ @ রফিক চট্টগ্রামের একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। রফিক এবং ইমরান একই সমসাময়িক সময় হতে হুজি(বি)’তে অন্তর্ভূক্ত হয়। উক্ত সংগঠনে থাকাকালীন তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরী হয়। সে বোমা তৈরীতে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। ইমরান কর্তৃক রফিক প্ররোচিত হয়ে ২০১৫ সালের শেষের দিকে জেএমবি এর অনুসারী হয়ে পড়ে। সে প্রতিনিয়ত সংগ্রহকৃত রাসায়নিক দ্রব্যাদি সংগ্রহ পূর্বক চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রশিক্ষণ এলাকাতে প্রেরণ করত। সে মূলত কুরিয়ার বা বাহকের কাজে নারী সদস্যদের ব্যবহার করত। তার দুইজন স্ত্রীও বর্ণিত কাজের সাথে সম্পৃক্ত বলে রফিক স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তার প্রথম স্ত্রী জয়নাব বিবি আত্মগোপনে রয়েছে এবং ২য় স্ত্রী তহুরা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি এড়াতে নিখোঁজ হয়ে রফিককে বিবাহ করার পর বাড়ীতে ফেরত আসে এবং পরবর্তীতে র‌্যাব কর্তৃক গ্রেফতার হয়েছে। এছাড়া বিস্ফোরক বাহক হিসেবে আরো কয়েকজন নারী জঙ্গি সদস্য সম্পর্কে রফিকুল তথ্য দিয়েছে।

৮। জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরও জানায় যে, আরাকান এর রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে ।

৯। আটককৃতদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে জঙ্গি সংগঠনের বিস্ফোরক তৈরীতে ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্যাদির সরবরাহ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

র‌্যাব কর্তৃক প্রদত্ত পরামর্শ

***জমি জমা বা টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোন অভিযোগ র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোন সমস্যা র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***কোন অভিযোগ করার পূর্বে আপনার এলাকার জন্য দায়িত্বপূর্ন র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্প সম্পর্কে জানুন ও যথাযথ র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্পে অভিযোগ করুন ।
***আপনার এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে র‌্যাব কে তথ্য প্রদান করে র‌্যাবকে সহযোগীতা করুন । আপনার পরিচয় সম্প‍ুর্ন্ন গোপন রাখা হবে । ***বেশী করে গাছ লাগান অক্সিজেনের অভাব তাড়ান
***ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের আগুন নিয়ে খেলতে দিবেন না ।
***যাত্রা পথে অপরিচিত লোকের দেওয়া বিছু খাবেন না । ভ্রমণকালে সহযোগী বা অন্য কাহারো নিকট হইতে পান, বিড়ি, সিগারেট, চা বা অন্য কোন পানীয় খাওয়া/গ্রহন করা হইতে বিরত ‍থাকা আবশ্যক ।

সাম্প্রতিক ভিডিও