Home » News Room » র‌্যাবের অভিযানে চাঞ্চল্যকর টেকনাফ আনসার ক্যাম্পের অস্ত্র লুটের ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও আনসার ক্যাম্প কমান্ডার পিসি আলী হোসেনকে গুলি করে হত্যাকারী নুরুল আলম গ্রেফতার। নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু পশ্চিমকুল এলাকা হতে লুটকৃত অবশিষ্ট ০৬টি অস্ত্র উদ্ধার (০১টি এসএমজি, ০১টি এম-২ রাইফেল এবং ০৪টি চাইনিজ রাইফেল)।

র‌্যাবের অভিযানে চাঞ্চল্যকর টেকনাফ আনসার ক্যাম্পের অস্ত্র লুটের ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও আনসার ক্যাম্প কমান্ডার পিসি আলী হোসেনকে গুলি করে হত্যাকারী নুরুল আলম গ্রেফতার। নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু পশ্চিমকুল এলাকা হতে লুটকৃত অবশিষ্ট ০৬টি অস্ত্র উদ্ধার (০১টি এসএমজি, ০১টি এম-২ রাইফেল এবং ০৪টি চাইনিজ রাইফেল)।

১।    র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সবসময়ই অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক ও মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। র‌্যাবের সৃষ্টিকাল থেকে এই পর্যন্ত র‌্যাব বিপুল পরিমান অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারসহ অসাধু দূস্কৃতিকারী ধৃত এবং অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ইতিপূর্বে র‌্যাব জলদস্যু, বনদস্যু এবং চাঞ্চল্যকর ব্যাংক ডাকাতির আসামীদেরকে লুন্ঠিত মালামালসহ গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

২।    গত ১২ মে ২০১৬ তারিখ গভীর রাতে কক্সবাজার টেকনাফ উপজেলার নয়াপাড়ায় রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরে আনসার বাহিনীর শালবন ক্যাম্পে দুর্বৃত্তরা হামলা করে। দুর্বৃত্তরা ক্যাম্প থেকে ১১টি অস্ত্র (২টি এসএমজি, ০৪টি এম-২ রাইফেল এবং ৫টি চায়না রাইফেল) ও ৬৭০ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় আনসার ক্যাম্পের দায়িত্বরত কমান্ডার পিসি আলী হোসেন (৫৫), পিতা-মৃত শুক্কুর আলী, গ্রাম-শফিপুর, থানা ও জেলা-টাঙ্গাইল দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়। পরবর্তীতে উক্ত ঘটনায় আনসারের প্লাটুন কমান্ডার আলমগীর হোসেন (রেজি নং-১২৩৫৭) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ডাকাতদের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় একটি মামলা (মামলা নং-২৪, তারিখঃ ১৩ মে ২০১৬, ধারাঃ ৩৯৬ দঃবিঃ) দায়ের করেন।

৩।    উক্ত ঘটনার পর র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, আনসার, পিবিআই ও কোষ্টগার্ড যৌথভাবে লুন্ঠিত অস্ত্র, গুলি উদ্ধার এবং হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৭ গত ৩০ জুন ২০১৬ তারিখ আনুমানিক ০২৩০ ঘটিকার সময় কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানাধীন কুতুপালং এলাকা হতে অস্ত্র লুটের ঘটনার সাথে জড়িত ০৫ জন যথাক্রমে রফিক ডাকাত @ মামুন মিয়া (৩০); আব্দুর রাজ্জাক (২৫); জয়নাল @ জানে আলম (৫০); মোঃ হারুন (৩০); আব্দুস সালাম (২৯)’কে গ্রেফতার করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিক কিছু তথ্য পাওয়া যায়। ফলশ্রুতিতে লুন্ঠিত অস্ত্রের ব্যাপারে র‌্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রাখে।

৪।    এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম এর একটি আভিযানিক দল গত ০৯-১০ জানুয়ারি ২০১৭ ইং তারিখ নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের পুরান পাড়া এলাকা হতে নয়াপাড়া আনসার ক্যাম্পের লুটকৃত ১১টি অস্ত্রের মধ্যে ০৫টি অস্ত্র (০১টি ৭.৬২ মিঃমিঃ এসএমজি বডি নম্বর-১৭১৩৮১৩৫, ০১টি ৭.৬২ মিঃমিঃ রাইফেল বডি নম্বর এ-১০১২৭২৫৩ এবং ০৩টি ৭.৬২ মিঃমিঃ এম-২ রাইফেল বডি নম্বর-০৩৬৭৭, ০২৫০৭, ০৫৭৮৩) এবং লুটকৃত ৬৭০ রাউন্ড গুলির মধ্যে ১৮৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। উক্ত অভিযানে অস্ত্র লুটের সঙ্গে জড়িত আরও ৩ জন যথাক্রমে খায়রুল আমীন @ বড় খায়রুল আমিন (৩২); মাস্টার আবুল কালাম আজাদ (৪৬); হাসান আহমদ (৩০)’দেরকে ০১ টি বিদেশী ৭.৬২ মিঃ মিঃ পিস্তল, ০১ টি বন্দুক, ০৩ টি ওয়ান শুটারগান এবং বিভিন্ন প্রকার ২৮ রাউন্ড গুলি সহ গ্রেফতার করা হয়।

৫।    পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আমাসীদের রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে নতুন আরও কিছু তথ্য উপাত্ত বের হয়ে আসে। একই সঙ্গে র‌্যাব তার গোয়েন্দা নজরদারী অব্যাহত রাখে। অন্যদিকে সম্প্রতি  কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প হতে প্রেরিত একটি বেনামী পত্রে আরো কিছু তথ্য উপাত্ত পাওয়া যায়। ফলে র‌্যাব অনুসন্ধান কার্যক্রম বেগবান করে।

৬।    এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব গোয়েন্দা সূত্রে জানতে পারে যে, আনসার ক্যাম্পের অস্ত্র লুটের মূল হোতা নুরুল আলম সম্ভাব্য কুতুপালং শরণার্থী শিবির এলাকায় আত্মগোপন করে আছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ইং তারিখ ১৮৩০ ঘটিকার সময় র‌্যাব উক্ত এলাকা হতে টেকনাফ আনসার ক্যাম্পের অস্ত্র লুটের ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও ঘটনার সময় আনসার ক্যাম্প কমান্ডার পিসি আলী হোসেনকে গুলি করে হত্যাকারী নুরুল আলম (২৮), পিতা- মোঃ হোসেনকে আটক করতে সক্ষম হয়। অতঃপর তাকে লুটকৃত অস্ত্র সম্পর্কে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে এক পর্যায়ে সে স্বীকারোক্তি প্রদান করে এবং অবশিষ্ট অস্ত্রের লুকায়িত স্থান সম্পর্কে তথ্য দেয়। পরবর্তীতে তাকে সঙ্গে নিয়ে অদ্য ০১ মার্চ ২০১৭ ইং তারিখ ভোর ০৪৩০ ঘটিকার সময় নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু এর পশ্চিমকুল এলাকা হতে তল্লাশীর মাধ্যমে লুটকৃত অবশিষ্ট ০৬টি অস্ত্র, ০২টি ম্যাগাজিন এবং ০৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয় ঃ

ক।    ০১টি ৭.৬২ মিঃমিঃ এসএমজি (বডি নং-১০১৩৬৫৬৮)।
খ।    ০১ টি ৭.৬২ মিঃমিঃ এম-২ রাইফেল (বডি নং-০১৩৩৯)।
গ।    ০১ টি ৭.৬২ মিঃমিঃ চায়না রাইফেল (বডি নং- এ ৩৩৩৭৪)।
ঘ।    ০১ টি ৭.৬২ মিঃমিঃ চায়না রাইফেল (বডি নং- ১০১২১৫৩২)।
ঙ।    ০১ টি ৭.৬২ মিঃমিঃ চায়না রাইফেল (বডি নং- এ১২০০৬)।
চ।    ০১ টি ৭.৬২ মিঃমিঃ চায়না রাইফেল (বডি নং- ২২০০৮২৭৯)।
ছ।    ০২ টি এসএমজি ম্যাগাজিন।
জ।    ০৬ টি ৭.৬২ ী ৩৯ মিঃমিঃ ঝগএ/রাইফেলের গুলি।

৭।    প্রাথমিকভাবে উদ্ধারকৃত অস্ত্রের বডি নং মিলিয়ে আনসার ক্যাম্পের লুটকৃত অস্ত্রের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়। র‌্যাব-৭ কর্তৃক আজকের অভিযান এবং বিগত ৯-১০ জানুয়ারি ২০১৭ এর  অভিযান এর ফলে আনসার ক্যাম্পের লুটকৃত সকল অস্ত্রসমূহ (১১টি) উদ্ধার করা সম্ভব হলো। অবশিষ্ট (৬৭০-১৯৫)=৪৭৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধারে র‌্যাবের গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সকল আসামীদের আরও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে এ সম্পর্কে আরো তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

৮।    আসামী নুরুল আলমকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে উক্ত সংঘবদ্ধ চক্রটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছে যারা বিগত ৫/৬ বছর যাবৎ টেকনাফের শাপলাপুর, বাহারছড়া, লেদা ও কক্সবাজারে উখিয়া, কুতুপালং এলাকায় ডাকাতি এবং অপহরণ করে আসছিল। ঘটনার দিন নুরুল আলম ও বড় খায়রুল আমিন দা দিয়ে আনসার ক্যাম্পের বেষ্টনি কেটে আনসার ক্যাম্পে প্রবেশ করে এবং বাকীরা তাদের অনুসরণ করে। তারা আনসার ক্যাম্পের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার পর ডিউটিরত আনসার সদস্য অজিত বড়ুয়া’কে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। তারপর তারা আনসার ক্যাম্পের ভিতরে ঢুকে ঘুমন্ত অন্যান্য আনসার সদস্যদেরকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। আনসার ক্যাম্প কমান্ডার পিসি আলী হোসেন অস্ত্রাগারের চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দৌড়ে পালাতে চাইলে নুরুল আলম তাকে গুলি করে। অতঃপর তারা  অস্ত্র ও গুলি লুট করে ক্যাম্প ত্যাগ করে। অস্ত্র ও গুলি নিয়ে যাওয়ার পর প্রথমে তারা বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের গহিন জঙ্গলে লুকিয়ে রেখে আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে তারা উক্ত অস্ত্রগুলো বিভিন্ন জায়গায় স্থানান্তর করে। উক্ত লুটকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের একাংশ (০১টি এসএমজি, ০৩টি এম-২ রাইফেল, ০১টি চাইনিজ রাইফেল এবং ১৮৯ রাউন্ড গুলি) গত ০৯-১০ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে র‌্যাব কর্তৃক উদ্ধার করা হয়। অবশিষ্ট লুটকৃত ০৬টি অস্ত্র নুরুল আলমের জিম্মায় ছিল, যা আজ উদ্ধার হলো। এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত মোট ০৯ জন’কে এখন পর্যন্ত র‌্যাব আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

৯।    নুরুল আলম জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, মূলত অস্ত্র লুট করার উদ্দ্যেশে তারা আনসার ক্যাম্পে হামলা করেছিল। তাদের পরিকল্পনা ছিল লুট করা অস্ত্রের মাধ্যমে তাদের অস্ত্র ভান্ডার বৃদ্ধি করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করা এবং অন্যান্য সন্ত্রাসী দলের কাছে অস্ত্র ও গুলি সরবরাহ করা।

১০।    গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

র‌্যাব কর্তৃক প্রদত্ত পরামর্শ

***জমি জমা বা টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোন অভিযোগ র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোন সমস্যা র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***কোন অভিযোগ করার পূর্বে আপনার এলাকার জন্য দায়িত্বপূর্ন র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্প সম্পর্কে জানুন ও যথাযথ র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্পে অভিযোগ করুন ।
***আপনার এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে র‌্যাব কে তথ্য প্রদান করে র‌্যাবকে সহযোগীতা করুন । আপনার পরিচয় সম্প‍ুর্ন্ন গোপন রাখা হবে । ***বেশী করে গাছ লাগান অক্সিজেনের অভাব তাড়ান
***ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের আগুন নিয়ে খেলতে দিবেন না ।
***যাত্রা পথে অপরিচিত লোকের দেওয়া বিছু খাবেন না । ভ্রমণকালে সহযোগী বা অন্য কাহারো নিকট হইতে পান, বিড়ি, সিগারেট, চা বা অন্য কোন পানীয় খাওয়া/গ্রহন করা হইতে বিরত ‍থাকা আবশ্যক ।

সাম্প্রতিক ভিডিও