Home » News Room » র‌্যাবের অভিযানে চট্টগ্রামের গভীর সমুদ্র এলাকা হতে ১০০ কোটি টাকা মূল্যের ২০ লক্ষ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার ॥ ০১টি ফিশিং ট্রলারসহ ০৯ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার।

র‌্যাবের অভিযানে চট্টগ্রামের গভীর সমুদ্র এলাকা হতে ১০০ কোটি টাকা মূল্যের ২০ লক্ষ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার ॥ ০১টি ফিশিং ট্রলারসহ ০৯ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার।

১। দেশের যুব সমাজ তথা নতুন প্রজন্ম’কে মাদকের নীল দংশন হতে পরিত্রান এবং সমাজে মাদকের ভয়াল থাবার বিস্তার রোধকল্পে মাদক বিরোধী অভিযানে র‌্যাব কঠোর অবস্থান নিয়ে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। সন্ত্রাস, চরমপন্থী ও ধর্মীয় জঙ্গিবাদ নির্মূলের পাশাপাশি মাদক বিরোধী অভিযানে র‌্যাব বলিষ্ঠ পদক্ষেপ রেখে চলেছে। গোয়েন্দা ও নিয়মিত আভিযানিক কার্যক্রমের মাধ্যমে মাদকের চোরাচালান, চোরাকারবারী, চোরাচালানের রুট, মাদকস্পট, মাদকদ্রব্য মজুদকারী ও বাজারজাতকারীদের চিহ্নিত করে তাদের গ্রেফতারসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ২০০৭ সালে র‌্যাবের অভিযানেই আবিস্কৃত হয় ভয়াল নেশা দ্রব্য ‘ইয়াবা’ যা সমাজকে আলোড়িত ও উদ্বিগ্ন করেছিল। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এটি ‘ক্রেজি ড্রাগ’ নামে পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে চাঞ্চল্যকর কিছু ঘটনার মূল কারণ হিসাবে মাদককে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে র‌্যাব সারাদেশ ব্যাপী মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে এবং এই অভিযানে র‌্যাব পূর্বের তুলনায় কয়েকগুন বেশী হারে মাদক উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম গত ১লা জানুয়ারি ২০১৬ হতে অদ্য ১৬ এপ্রিল ২০১৭ পর্যন্ত ০১ কোটি ০১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এর পাশাপাশি ২৬ হাজার ৩৩৮ বোতল ফেন্সিডিল, ০২ হাজার ২৯০ বোতল বিদেশী মদ ও বিয়ার, ০৩ লক্ষ ৫৬ হাজার ৭৮২ লিটার দেশীয় তৈরী মদ, ২১১ কেজি গাঁজা, ০১ কেজি ২০০ গ্রাম হেরোইন এবং ০২ কেজি ৪০০ গ্রাম আফিম উদ্ধার করেছে।

২। দীর্ঘদিনের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও গোয়েন্দা অনুসন্ধানের ফলশ্রুতিতে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম জানতে পারে যে, মায়ানমার এবং এ দেশীয় চোরাচালানীদের “আনোয়ারা-গহিরা” ভিত্তিক বেশ কয়েকটি সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ী চক্র মাছের ব্যবসার আড়ালে ইয়াবার চালান মায়ানমার হতে বাংলাদেশে নিয়ে আসে। উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিক সময়ে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম সমুদ্রে টহল জোরদার করে টেকনাফ থেকে চট্টগ্রাম রুটে অভিযান চালিয়ে ইয়াবার বেশ কয়েকটি বড় বড় চালান আটক করে। এজন্য মাদক ব্যবসায়ীরা বর্তমানে তাদের রুট পরিবর্তন করে ইয়াবার চালান চট্টগ্রামে না নিয়ে এসে টেকনাফ থেকে সরাসরি গভীর সমুদ্রের মাঝ দিয়ে বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী এবং হাতিয়াসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে দেশের সর্বত্র সরবরাহ করছে। এরই প্রেক্ষিতে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, আনোয়ারা-গহিরার সবচেয়ে বড় মাদক সিন্ডিকেট (যা মোজাহার মাদক সিন্ডিকেট নামে পরিচিত) ফিশিং ট্রলারের অন্তরালে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে মায়ানমার হতে হাতিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করছে পরবর্তীতে সেখান থেকে আরেকটি ট্রলারের মাধ্যমে উক্ত ইয়াবা আনোয়ারার-গহিরায় খালাস করবে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে অদ্য ১৬ এপ্রিল ২০১৭ ইং তারিখ ০৫০০ ঘটিকার সময় লেঃ কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমদ, অধিনায়ক, র‌্যাব-৭ এর নেতৃত্বে একটি চৌকষ আভিযানিক দল চট্টগ্রামের গভীর সমুদ্রে একটি মাছ ধরার ট্রলারকে ধাওয়া করে আটক করে। পরবর্তীতে আটককৃত ট্রলারটি (এফ ভি “মোহছেন আউলিয়া”) তল্লাশী করে ২০ লক্ষ পিস ইয়াবাসহ ০৮ জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে উক্ত ইয়াবার মালিক মোঃ মোজাহার, পিতাঃ চান মিয়া, বাড়ী নং-৫৬, সুগন্ধা আবাসিক এলাকা, চকবাজার, থানাঃ পাঁচলাইশ, জেলাঃ চট্টগ্রাম’কে তার বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের ঠিকানা নিমèরুপ ঃ

১। মোঃ মোজাহার (৫৫)-মালের মালিক (মোজাহার সিন্ডিকেটের প্রধান), পিতাঃ চান মিয়া, বাড়ী নং-৫৬, সুগন্ধা আবাসিক এলাকা, চকবাজার, থানাঃ পাঁচলাইশ, জেলাঃ চট্টগ্রাম।
২। মোঃ মকতুল হোসেন (৫০)-চলনদার/ম্যানেজার, পিতাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান, গ্রামঃ শাহপুরীদ্বীপ ডেইল পাড়া, পোঃ টেকনাফ, থানাঃ টেকনাফ, জেলাঃ কক্সবাজার।
৩। মোঃ নূর (৩৭), পিতাঃ মৃত আবু শামা, গ্রামঃ রায়পুর, পোঃ চুন্নাপাড়া, থানাঃ আনোয়ারা, জেলাঃ চট্টগ্রাম।
৪। মোঃ হেলাল (২১), পিতাঃ মোঃ ইউছুফ, গ্রামঃ রায়পুর, পোঃ চুন্নাপাড়া, থানাঃ আনোয়ারা, জেলাঃ চট্টগ্রাম।
৫। মোঃ আব্দুল খালেদ (৬০), পিতাঃ মৃত মোঃ মুছা, গ্রামঃ পূর্ব রায়পুর, পোঃ চুন্না পাড়া, থানাঃ আনোয়ারা, জেলাঃ চট্টগ্রাম।
৬। মোঃ জানে আলম (৩২), পিতাঃ মৃত মোঃ আলতাফ মিয়া, গ্রামঃ টেলিপাড়া, পোঃ দোভাষী বাজার, থানাঃ আনোয়ারা, জেলাঃ চট্টগ্রাম।
৭। মোঃ লোকমান (৫৯), পিতাঃ মৃত মোঃ আহমেদুর রহমান, গ্রামঃ পশ্চিম রায়পুর, পোঃ চুন্নাপাড়া, থানাঃ আনোয়ারা, জেলাঃ চট্টগ্রাম।
৮। মোঃ এনায়েত উল্লাহ (৭২), পিতাঃ মৃত মোঃ আব্দুস ছালাম, গ্রামঃ হাসানপুর, পোঃ দানামিয়া বাজার, থানাঃ নোয়াখালী সদর, জেলাঃ নোয়াখালী।
৯। মোঃ নুরুল মোস্তফা (২৬), পিতাঃ মৃত মোঃ খায়ের আহমদ, গ্রামঃ দক্ষিণ সরংগা, পোঃ চুন্নাপাড়া, থানাঃ আনোয়ারা, জেলাঃ চট্টগ্রাম।

৩। গ্রেফতারকৃত আসামীদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, মায়ানমার হতে মায়ানমারের নাগরিক শুকুর, লাল মিয়া ও মগ @ সেন্সু এই ইয়াবার চালান প্রেরণ করে এবং আরও জানা যায় যে, অদ্য আটককৃত ইয়াবার মালিক ১। মোঃ মোজাহার, পিতাঃ চান মিয়া, বাড়ী নং-৫৬, সুগন্ধা আবাসিক এলাকা, চকবাজার, পাঁচলাইশ, চট্টগ্রাম, এবং তার পার্টনার ২। মোঃ জলিল প্রকাশ লবন জলিল, ৩। আব্দুর নুর, পিতাঃ মৃত আবু শামা উভয় গ্রামঃ রায়পুর, চুন্নাপাড়া, থানাঃ আনোয়ারা, জেলাঃ চট্টগ্রাম। ইতিপূর্বে তারা বেশ কয়েকটি চালান খালাস করেছে, এর মধ্যে গত ডিসেম্বর মাসে ১৬ লাখ, জানুয়ারি মাসে ২০ লাখ, ফেব্রুয়ারি মাসে ২০ লাখ এবং মার্চ মাসে ২০ লাখসহ ০৪ মাসে ০৪ বারে সর্বমোট ৭৬ লাখ ইয়াবা খালাস করে এবং ৫ম বারে ২০ লাখ ইয়াবা চালানের সময় র‌্যাব কর্তৃক ধৃত হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায় যে, তাদের সাথে চট্টগ্রামের আনোয়ারা/গহিরার সবুর, কালা মনু, ফয়েজ, সেলিম, জাহাঙ্গীর, জালাল, লেদু এবং মনুসহ আরও অনেকে রয়েছে। পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

৪। উল্লেখ্য যে, গত ০৭ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে আসামীগন মায়ানমারের নাগরিক মগ @ সেন্সু সহ এফ ভি “মোহছেন আউলিয়া” ট্রলারে বাজার, বরফ, তৈল নিয়ে রাত ২২০০ ঘটিকার সময় চট্টগ্রাম ফিশারী ঘাট হতে কর্ণফুলী নদী দিয়ে কুতুবদিয়া, কক্সবাজার, টেকনাফ, শাহপরীর দ্বীপ, সেন্টমার্টিন, ছেঁড়াদ্বীপের পশ্চিমে বার্মার পচাখালীর বাতির বাহিরে একটি মায়ানমার এর তেলের জাহাজ হতে মাল সংগ্রহ করে মায়ানমারের নাগরিক মগ @ সেন্সু উক্ত তেলের জাহাজে থেকে যায়। পরবর্তীতে বাকী আসামীগন ছেঁড়াদ্বীপের পশ্চিম দিক হতে মোবাইল নেটওয়ার্ক এর বাহির দিয়ে দক্ষিণ হাতিয়া দ্বীপের কাছে মোক্তারিয়া এলাকায় আসে এবং তারা কাটালিয়া দিয়ে আনোয়ারা-গহিরা আসার পথে গভীর সমুদ্রে র‌্যাব কর্তৃক আটক করা হয়।

৫। দেশের সকল আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক এ যাবৎকালের আটককৃত ইয়াবা চালানের মধ্যে এটিই দ্বিতীয় বৃহৎ চালান। উল্লেখ্য যে, দেশের সকল আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক এ যাবৎকালের আটককৃত ইয়াবা চালানের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বৃহৎ চালানটিও (২৮ লাখ) র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম কর্তৃক গত ১৬ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখে আটক করেছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেটের আনুমানিক মূল্য ১০০ কোটি টাকা।

৬। গ্রেফতারকৃত আসামী এবং উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেট সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

র‌্যাব কর্তৃক প্রদত্ত পরামর্শ

***জমি জমা বা টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোন অভিযোগ র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোন সমস্যা র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***কোন অভিযোগ করার পূর্বে আপনার এলাকার জন্য দায়িত্বপূর্ন র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্প সম্পর্কে জানুন ও যথাযথ র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্পে অভিযোগ করুন ।
***আপনার এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে র‌্যাব কে তথ্য প্রদান করে র‌্যাবকে সহযোগীতা করুন । আপনার পরিচয় সম্প‍ুর্ন্ন গোপন রাখা হবে ।
***বেশী করে গাছ লাগান অক্সিজেনের অভাব তাড়ান
***ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের আগুন নিয়ে খেলতে দিবেন না ।
***যাত্রা পথে অপরিচিত লোকের দেওয়া বিছু খাবেন না । ভ্রমণকালে সহযোগী বা অন্য কাহারো নিকট হইতে পান, বিড়ি, সিগারেট, চা বা অন্য কোন পানীয় খাওয়া/গ্রহন করা হইতে বিরত ‍থাকা আবশ্যক ।

সাম্প্রতিক ভিডিও