Home » News Room » র‌্যাবের অভিযানে কুষ্টিয়া ও ঢাকা হতে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের ০২ সদস্য আটক, লিবিয়ায় জিম্মি অবস্থায় অপহরণকারীদের নৃশংসতার শিকার গুলিবিদ্ধ ০২জন সহ সর্বমোট ০৩ জন ভিকটিম উদ্ধার।

র‌্যাবের অভিযানে কুষ্টিয়া ও ঢাকা হতে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের ০২ সদস্য আটক, লিবিয়ায় জিম্মি অবস্থায় অপহরণকারীদের নৃশংসতার শিকার গুলিবিদ্ধ ০২জন সহ সর্বমোট ০৩ জন ভিকটিম উদ্ধার।

১। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশী শ্রমিকদের সুনাম ও চাহিদার ভিত্তিতে বিপুল্ পরিমাণ জনশক্তি বিদেশে গমন করছে। তাদের কষ্টার্জিত আয় আমাদের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এ সুযোগে বাংলাদেশের এক শ্রেনীর অসাধু দালাল চক্র স্বল্প আয়ের মানুষদের প্রলোভন দেখিয়ে আর্ন্তজাতিক মানবপাচার চক্রের যোগসাজসে বিদেশে প্রেরনের নামে মানব পাচার করছে। এ ধরনের পাচারের শিকার সাধারণ জনগণ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, বনে জঙ্গলে কিংবা কোথাও কোথাও জিম্মি অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে এবং মোটা অংকের মুক্তিপন প্রদান করে সর্বস্বান্ত হচ্ছে।

২। বিগত সময়ে মানবপাচার বিরোধী বিভিন্ন অভিযানের প্রেক্ষিতে র‌্যাব-৩ এর কাছে তথ্য ছিল যে, একশ্রেণীর আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্র উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে অসহায় স্বল্প আয়ের মানুষদের অবৈধভাবে লিবিয়ায় প্রেরণ করছে এবং পরবর্তীতে তাদেরকে এয়ারপোর্ট হতে জিম্মি করে অত্যাচারের মাধ্যমে বাংলাদেশ হতে মুক্তিপন আদায় করছে। সম্প্রতি র‌্যাব-৩ গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে জানতে পারে যে, অসাধু দালাল চক্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ হতে মানবপাচারের শিকার কয়েকজন ভিকটিম লিবিয়ায় জিম্মি অবস্থায় অপহরণকারীদের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে মূমুর্ষ অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছে। এ ব্যাপারে লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে দূতাবাস এ সংক্রান্তে ভিকটিম ১। এ এম এরশাদ মিয়া (৩০), পিতা-আবদুল মান্নান, সাং-২১৯/১ এ দক্ষিণ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা, ২। মোঃ এরশাদ খন্দকার(২৯), পিতা- মোঃ নুরুল ইসলাম খন্দকার, সাং-দক্ষিন টেংড়া,সারুলিয়া, ডেমরা, ঢাকার নাম জানায়। পরবর্তীতে ভিকটিমদ্বয় লিবিয়াস্থ বাংলাদেশী দূতাবাস ও ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব মাইগ্রেশন (ওঙগ) এর সহায়তায় বাংলাদেশে ফেরত আসে। পরবর্তীতে ভিকটিমরা র‌্যাব-৩ এর নিকট এ ঘটনা সংক্রান্তে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

৩। ভিকটিম এরশাদ মিয়া জানায় যে, সে ২০১০ সালে উচ্চ শিক্ষার জন্য মালয়েশিয়া গমন করে এবং মালয়েশিয়ার সারওয়াক শহরের ইন্টি কলেজ হতে হোটেল ম্যানেজমেন্টে অনার্স সম্পন্ন করে। ২০১৫ সালে সে বাংলাদেশে ফেরত এসে ইউরোপে কর্মসংস্থানের চেষ্টা করতে থাকে। এ সময় তার সাথে স্থানীয় দালাল মোশাররফ হোসেনের পরিচয় হয়। মোশাররফ তাকে সম্পূর্ণ বৈধভাবে ০৮ লক্ষ টাকার বিনিময়ে গ্রীসে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিবে বলে আশ্বাস প্রদান করে এবং রেজওয়ান ওভারসীস এর মাধ্যমে ভিকটিম এরশাদ মিয়াসহ আরো ০২ জন ২। মোঃ রিয়াজুল হাসান রিফাত এবং ৩। মোঃ এরশাদ খন্দকার এর ভিসা প্রসেসিং এবং বিএমইটি কার্ড করা হয়। পরবর্তীতে গত ২৩/০৪/২০১৭ ইং তারিখে গ্রীসে প্রেরণের উদ্দেশ্যে ঢাকা হতে ইস্তাম্বুল বিমান টিকেট প্রদান করেন। মোশাররফ জানান, ইস্তাম্বুল পৌছানোর পর এয়ারপোর্টে ই-মেইলের মাধ্যমে পরবর্তী গন্তব্যের বিমান টিকেট প্রদান করা হবে। ইস্তাম্বুল এয়ারপোর্টে ০২ দিন অবস্থান করার পর তাদেরকে ইস্তাম্বুল হতে লিবিয়ার বিমান টিকেট প্রদান করা হয় এবং জানানো হয় তারা লিবিয়া হয়ে ইউরোপ প্রবেশ করবে। পরবর্তীতে তারা লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলীর মেতিকা এয়ারপোর্টে পৌছালে একদল লিবিয়ান অস্ত্রধারী গ্রুপ তাদেরকে জিম্মি করে। এসময় বিমান বন্দরের পার্কিং লটে পৌছালে অন্য একটি সশস্ত্র দল আটক জিম্মিদের মালিকানা দাবী করলে বিবাদমান ০২ গ্রুপের মধ্যে বন্ধুক যুদ্ধ শুরু হয় এবং ভিকটিম এরশাদ মিয়া ও এরশাদ খন্দকার গুলিবিদ্ধ হয়। পরবর্তীতে ভিকটিম এরশাদ মিয়াকে আবু সেলিম মুসলিম হাসপাতাল, মেতিকা ও ভিকটিম এরশাদ খন্দকারকে মেতিকা হাসপাতাল ত্রিপলীতে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ ০৪ মাস চিকিৎসা শেষে গত ০২ আগস্ট ২০১৭ তারিখে তারা লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (ওঙগ) সহায়তায় বাংলাদেশে ফেরত আসে এবং পুণরায় হাসপাতালে ভর্তি হয়।

৪। উপরোক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‌্যাব ব্যাপক অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে। এরই প্রেক্ষিতে গত ৩০/১০/২০১৭ তারিখ ২১১০ ঘটিকায় কুষ্টিয়া হতে আসামী ১। মোঃ মোশারফ হোসেন খালাসী (৫৫), পিতা-মৃত আব্দুল হালিম খালাসী, সাং-দুড়াইল খালাসী বাড়ী, থানা+জেলা-মাদারীপুর এবং ঢাকা হতে রেজওয়ান ওভারসীসের মালিক ২। মোঃ দেলোয়ার হোসাইন জসিম (৫০), পিতা- মৃত হাজী আবুল হোসেন, সাং-দক্ষিণ বাটা মাড়া, থানা-বোরহান উদ্দিন, জেলা-ভোলা, বর্তমানে বাসা নং-১৭, ৫ম তলা, হরনাথ ঘোষ রোড, চকবাজার, ডিএমপি ঢাকাদ্বয়কে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় যে, দীর্ঘদিন যাবৎ তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অভিবাসন প্রত্যাশী মানুষদের সরলতার সুযোগ নিয়ে মানবপাচারের মতো অপরাধ করে আসছে। আসামীদের নিকট হতে ৭০টি পাসপোর্ট এবং নগদ ১ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়।
৫। উপরোক্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

র‌্যাব কর্তৃক প্রদত্ত পরামর্শ

***জমি জমা বা টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোন অভিযোগ র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোন সমস্যা র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***কোন অভিযোগ করার পূর্বে আপনার এলাকার জন্য দায়িত্বপূর্ন র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্প সম্পর্কে জানুন ও যথাযথ র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্পে অভিযোগ করুন ।
***আপনার এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে র‌্যাব কে তথ্য প্রদান করে র‌্যাবকে সহযোগীতা করুন । আপনার পরিচয় সম্প‍ুর্ন্ন গোপন রাখা হবে । ***বেশী করে গাছ লাগান অক্সিজেনের অভাব তাড়ান
***ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের আগুন নিয়ে খেলতে দিবেন না ।
***যাত্রা পথে অপরিচিত লোকের দেওয়া বিছু খাবেন না । ভ্রমণকালে সহযোগী বা অন্য কাহারো নিকট হইতে পান, বিড়ি, সিগারেট, চা বা অন্য কোন পানীয় খাওয়া/গ্রহন করা হইতে বিরত ‍থাকা আবশ্যক ।

সাম্প্রতিক ভিডিও