Home » News Room » র‌্যাবের অভিযানে অভিনব পন্থায় প্রতারণার দায়ে আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের ০৩ জন বিদেশী নাগরিক গ্রেফতার ॥ মাদক ও ইউরো উদ্ধার।

র‌্যাবের অভিযানে অভিনব পন্থায় প্রতারণার দায়ে আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের ০৩ জন বিদেশী নাগরিক গ্রেফতার ॥ মাদক ও ইউরো উদ্ধার।

১।    র‌্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ডাকাত, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, জঙ্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেফতারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। গোয়েন্দা নজরদারী ও আভিযানিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে র‌্যাব ইতিমধ্যেই বিশেষ সফলতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশীরা বিভিন্ন অপরাধের সাথে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে (জাল ডলারের ব্যবসা, সোনা চোরাচালান, অবৈধ ভিওআইপি’র ব্যবসা ও প্রতারণার মতো অপরাধ ইত্যাদি)। এরই পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাবের ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির সাথে সাথে অভিযানও পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠা হতে অদ্যাবধি র‌্যাব প্রায় দুই শত বিদেশী নাগরিককে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

২।    গত ০৭ নভেম্বর ২০১৭ তারিখ জনাব জিয়া উদ্দিন আহমেদ নামীয় একজন ব্যাংক কর্মকর্তা লিখিতভাবে র‌্যাব-১ এ অভিযোগ করেন যে, একটি প্রতারক চক্রের কতিপয় সদস্য তার সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং বিশ্বস্ততা অর্জন করে। বন্ধুত্বের সূত্র ধরে তারা তার কাছ থেকে প্রায় আড়াই কোটি দেশীয় টাকার সমপরিমান ২ লক্ষ ৫০ হাজার ইউরো সুকৌশলে হাতিয়ে নিয়েছে। এ বিষয়ে জিয়া উদ্দিন আহমেদ গুলশান থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন যার নং ১৩৯ তারিখ ০২ নভেম্বর ২০১৭।

৩।    এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব বিষয়টি গোয়েন্দা নজরদারী করে গত ০৯ নভেম্বর ২০১৭ ইং তারিখ ১৭০০ ঘটিকা হতে ২৩০০ ঘটিকা পর্যন্ত র‌্যাব-১, উত্তরা, ঢাকা এর একটি আভিযানিক দল কর্তৃক ঢাকা মহানগরের উত্তরা ও বসুন্ধরা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত প্রতারক চক্রের সদস্য (১) কটঅঞঊ ঋঙঞঝঙ ঞঐঊঙউঙজঊ খঊউঙঊঢ@ ঊউডঅজউ, ঋঅঞঐঊজ: ঋঙঞঝঙ, ণঅঙটঘউঊ, জঙঅউ ঘঙ-১১/অঠঊঘঊড ইওণঅ, ঈঅগঊজঙঙঘ, বর্তমান ঠিকানাঃ বাড়ি নং-৩০, রোড নং-৫/এ সেক্টর নং-৫, উত্তরা, ঢাকা’কে উত্তরা হতে গ্রেফতার করা হয়। অতপর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে (২) অগঊখওঊ গঅডঅইঙ, ঋঅঞঐঊজ: ঋঊটঊ কটঅঞঊ জজঅঘঈঙওঝ, জটঊ গঅঘএঊজ ঈঅজঊঋঙটজ, ঈঅগঊজঙঙঘ এবং (৩) গইওউঅ ঊকঅঘও ঐঊজগঅঘঘ গঅজঞওঘ, ঋঅঞঐঊজ: ঊকঅঘও ঔঙঝঊঈঐ ইঊঘঔঅঘওঘ, ঊঝঝঙঐ ঠট ঘঙ-১৬৪, ণঅঙটঘউঊ ঈঅগঊজঙঙঘ উভয়ই বর্তমান ঠিকানা- চৌধূরী প্যালেস বাড়ী নং ২৬৩, রোড-০৮, ব্লক-বি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ঢাকা’কে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের নিকট থেকে সর্বমোট ১১ টি মোবাইল ফোন, ০২টি পাসপোর্ট, ০১টি ভূয়া আমেরিকান আইডি কার্ড, ৫০০ (পাঁচশত) মূল্যমানের ১২৪ টি ইউরো নোট সমপরিমাণ ৬২ লক্ষ টাকা, বাংলাদেশী সর্বমোট ২১,১০০/- (একুশ হাজার একশত) টাকা, ২০০ পিস ইয়াবা এবং ০৩ বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার করা হয়।

৪।    ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে, গত ০৭ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ জঙতঊজঝ নামধারী একজন ব্যক্তি নিজেকে জার্মান নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে টেলিফোনে জিয়া উদ্দিন আহমেদকে জানায় যে, তারা বাংলাদেশে বিভিন্ন বানিজ্যিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে ইচ্ছুক। তারা কৃষি, ওষুধ, গার্মেন্টস এবং রিয়েল এস্টেট খাতে টাকা বিনিয়োগ করবে এবং জিয়া উদ্দিন আহমেদের কর্মরত ব্যাংকে প্রায় তিন শত কোটি টাকা ডিপোজিট করবে মর্মে তাকে আশ¡স্থ করে। এ লক্ষ্যে তার একজন প্রতিনিধি এটঝঞঅঠঙ ঋজঅওঘকঊণ বাংলাদেশে জিয়া উদ্দিন আহমেদ এর সঙ্গে সাক্ষাত করবেন । পরবর্তীতে এটঝঞঅঠঙ ঋজঅওঘকঊণ বাংলাদেশে জিয়া উদ্দিন আহমেদের সাথে দেখা করেন। অতঃপর বিভিন্ন সময়ে জিয়া উদ্দিন আহমেদ এর সাথে সাক্ষাত করে তাদের ব্যবসা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে। এর মধ্যে উভয়েই বেশ ঘনিষ্ঠ হয়ে যায়। সুসম্পর্কের সুবাদে এটঝঞঅঠঙ ঋজঅওঘকঊণ জিয়া উদ্দিন আহমেদ এর কাছে বিভিন্ন সময়ে দেশীয় টাকা এবং ৪ হাজার ডলার প্রদান করে। এতে তাদের মধ্যে একটি লেনদেনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের এক পর্যায়ে এটঝঞঅঠঙ ঋজঅওঘকঊণ জিয়া উদ্দিন আহমেদ কে ডলারের বিপরীতে ইউরো পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়ে প্রলুব্ধ করে।

৫।    উক্ত ডলারের পরিবর্তে ইউরো পরিবর্তন প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে গত ৩১ অক্টোবর ২০১৭ ইং তারিখ ১৮০০ ঘটিকায় জিয়া উদ্দিন আহমেদকে এটঝঞঅঠঙ ঋজঅওঘকঊণ ২,৫০,০০০/- ইউরো নিয়ে গুলশানস্থ একটি ফার্নিচার শো-রুমের সামনে আসতে বলেন। এটঝঞঅঠঙ ঋজঅওঘকঊণ ও তার সঙ্গীদের নিয়ে উল্লেখিত দিনে উক্ত স্থানে জিয়া উদ্দিন আহমেদের সাথে সাক্ষাত করে। আলোচনার প্রেক্ষিতে তারা জিয়া উদ্দিনের বাসায় লেনদেন করবে বলে স্থির করেন। এ উদ্দেশ্যে তারা জিয়া উদ্দিন আহমেদের মাইক্রোবাস যোগে জিয়া উদ্দিনের সাথে তার বাসার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তারা জিয়া উদ্দিন আহমেদের বাসায় পৌঁছায়। বাসায় প্রবেশের সময় কটঅঞঊ ঋঙঞঝঙ ঞঐঊঙউঙজঊ খঊউঙঊঢ এর হাতে একটি বোতল ছিল। উক্ত বাসায় আলাপ আলোচনার এক পর্যায়ে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কটঅঞঊ ঋঙঞঝঙ ঞঐঊঙউঙজঊ খঊউঙঊঢ তার হাতে থাকা বোতল নিচে ফেলে দেয় এবং তা থেকে ঝাঁঝাঁলো তরল পদার্থ জিয়া উদ্দিন আহমেদ এর চোখে-মুখে ও গায়ে এসে পরে। তখন উক্ত ঝাঁঝঁলো তরল পদার্থ পরিষ্কার করার জন্য জিয়া উদ্দিন আহমেদকে নিয়ে তারা বাথরুমে প্রবেশ করিয়ে সুকৌশলে তারা উক্ত ইউরোগুলো সমপরিমাপের সাদা কাগজ দ্বারা প্রতিস্থাপন করে ফেলে। অর্থাৎ জিয়া উদ্দিন আহমেদ এর ইউরোগুলো তার হস্তগত করে ফেলে। বর্ণিত ডলার-ইউরো পরিবর্তনের বিষয়ে প্রতারকরা অজুহাত দাড় করিয়ে লেনদেনের বিষয়টি স্থগিত করে ফেলে। ফলে উক্ত দিনে বর্ণিত লেনদেনটি সংঘঠিত হয় নি। অতঃপর একই গাড়ীতে জিয়া উদ্দিন আহমেদ তাদেরকে গুলশানস্থ একটি কফি সপের সামনে নামিয়ে দেন। ঘটে যাওয়া প্রতারনার বিষয়ে তাৎক্ষনিকভাবে জিয়া উদ্দিন আহমেদ কিছুই বুঝতে পারেননি। পরবর্তীতে জিয়া উদ্দিন আহমেদ তাদের সাথে মুদ্রা বিনিময়ের জন্য যোগাযোগ করতে চেষ্টা করলে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পান। এক পর্যায়ে যোগাযোগ হলে তারা জানায় যে, পুলিশ তাদেরকে খুঁজছে। তখন জিয়া উদ্দিন আহমেদ এর মনে সন্দেহের উদ্রেগ হলে, তিনি তার কাছে থাকা ইউরোগুলো পরীক্ষা করে দেখেন যে, তার ২,৫০,০০০ ইউরোগুলোর পরিবর্তে সমান মাপের সমপরিমান সাদা কাগজের বান্ডিল রয়েছে।

৬।    গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, কটঅঞঊ ঋঙঞঝঙ ঞঐঊঙউঙজঊ খঊউঙঊঢ@ ঊউডঅজউ গত মার্চ ২০১৭ ইং মাস হতে এবং অগঊখওঊ গঅডঅইঙ এবং গইওউঅ ঊকঅঘও ঐঊজগঅঘঘ গঅজঞওঘ গত আগস্ট ২০১৭ ইং তারিখ হতে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। গ্রেফতারকৃতদের মধে গইওউঅ ঊকঅঘও ঐঊজগঅঘঘ গঅজঞওঘ এবং অগঊখওঊ গঅডঅইঙ দের পাসপোর্ট পাওয়া যায়। কিন্তু কটঅঞঊ ঋঙঞঝঙ ঞঐঊঙউঙজঊ খঊউঙঊঢ এর বাংলাদেশে অবস্থানে বৈধ কোন পাসপোর্ট পাওয়া যায় নাই, তবে সে খঅইঙজঅঞঙজণ ঙঋ ঞঐঊ টঘওঞঊউ ঝঞঅঞঊ অগঊজওঈঅ শিরোনামে তার ছবি সম্বলিত একটি ভূয়া আইডি কার্ড উপস্থাপন করে। গ্রেফতারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে বর্ণিত প্রতারণার বিষয়ে তাদের সংশ্লিষ্টতার স্বীকারোক্তি দিয়েছে। এছাড়া তারা আরও জানা যায় যে,  বাংলাদেশে তাদের বেশ কয়েকজন জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে যারা এই ধরণের প্রতারণার সাথে জড়িত।

৭।    উল্লেখিত ঘটনায় বাংলাদেশী কোন নাগরিকের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

৮।    উপরোক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

র‌্যাব কর্তৃক প্রদত্ত পরামর্শ

***জমি জমা বা টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোন অভিযোগ র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোন সমস্যা র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***কোন অভিযোগ করার পূর্বে আপনার এলাকার জন্য দায়িত্বপূর্ন র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্প সম্পর্কে জানুন ও যথাযথ র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্পে অভিযোগ করুন ।
***আপনার এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে র‌্যাব কে তথ্য প্রদান করে র‌্যাবকে সহযোগীতা করুন । আপনার পরিচয় সম্প‍ুর্ন্ন গোপন রাখা হবে । ***বেশী করে গাছ লাগান অক্সিজেনের অভাব তাড়ান
***ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের আগুন নিয়ে খেলতে দিবেন না ।
***যাত্রা পথে অপরিচিত লোকের দেওয়া বিছু খাবেন না । ভ্রমণকালে সহযোগী বা অন্য কাহারো নিকট হইতে পান, বিড়ি, সিগারেট, চা বা অন্য কোন পানীয় খাওয়া/গ্রহন করা হইতে বিরত ‍থাকা আবশ্যক ।

সাম্প্রতিক ভিডিও