Home » News Room » গত ২রা মার্চ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা হতে গ্রেফতারকৃত ২২ জন প্রতারক চক্রের মূলহোতা বারেক সরকারসহ ০৫ প্রতারক আটক

গত ২রা মার্চ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা হতে গ্রেফতারকৃত ২২ জন প্রতারক চক্রের মূলহোতা বারেক সরকারসহ ০৫ প্রতারক আটক

IMG_1052

১। এলিট ফোর্স হিসেবে র‌্যাব আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন থেকেই আইনের শাসন সমুন্নত রেখে দেশের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে অপরাধ চিহ্নিতকরণ, প্রতিরোধ, শান্তি ও জনশৃংখলা রক্ষায় কাজ করে আসছে। সাম্প্রতিক কালে প্রতারণার নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করে সাধারণ জনগনের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এক শ্রেণীর প্রতারক চক্র। জঙ্গীবাদ, খুন, ধর্ষণ, নাশকতা এবং অন্যান্য অপরাধের পাশাপাশি সাম্প্রতিক এসব প্রতারক চক্রের সাথে সম্পৃক্ত অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য র‌্যাব সদা সচেষ্ট।

২। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ০২ মার্চ ২০১৯ তারিখে র‌্যাবের অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা হতে প্রতারকচক্রের ২২ জনকে গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, বারেক সরকার@বারেক হাজী তাদের প্রতারকচক্রের গুরু এবং মূলহোতা এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অফিস ভাড়া করে প্রতারণার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব বারেক হাজীকে গ্রেফতার করার জন্য মাঠে নামে এবং অবশেষে গত ২৫ মে ২০১৯ তারিখ বিকাল ১৭.০০ ঘটিকা হতে ২৬ মে ২০১৯ তারিখ গভীর রাত ০২.০০ ঘটিকা পর্যন্ত র‌্যাব-৪ এর চৌকস আভিযানিক দল রাজধানীর দারুসসালাম থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে প্রতারকচক্রের মূলহোতা মোঃ বারেক সরকার@বারেক হাজীকে তার ০৪ সহযোগীসহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতাকৃত বারেক হাজীর নিকট হতে ০১টি বিদেশী পিস্তল, ০১টি ম্যাগাজিন ও ০২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ সংক্রান্তে সে কোন বৈধ কাজগজপত্র দেখাতে পারে নাই। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় এক বা একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা তাদের সংগঠন ও প্রতারণার কৌশল সম্পর্কে বিবিধ তথ্য প্রদান করেছে।

বারেক হাজীর পরিচালিত প্রতারকচক্রের সংগঠন

৩। রাজধানীর প্রতারক চক্রটির মূল হোতা মোঃ বারেক সরকার@বারেক হাজী। সে ১৯৫৬ সালে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার বাহের চর গ্রামে জন্ম গ্রহন করে। শিক্ষা জীবনে প্রাথমিক গন্ডি পাড় হতে পারেনি। তারা বাবা মা ১৮ বছর বয়সে তাকে সৌদি আরব পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু সেখানে গিয়েও সে তার জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারেনি। বরং প্রতারণার নতুন নতুন কৌশল আয়ত্ব করে মাত্র দুই বছর প্রবাস জীবন শেষ করে বাংলাদেশে ফিরে আসে। বাংলাদেশে এসে সে সুনির্দিষ্ট কোন পেশায় আত্মনিয়োগ না করে প্রতারণা পূর্বক অর্থ আত্মসাতের বিভিন্ন কলাকৌশল শুরু করে। প্রতারণার কাজে তার তীক্ষè দক্ষতা, সুচিন্তিত কর্ম কৌশল ও কর্ম পরিকল্পনা অল্প দিনের মধ্যে তাকে বিরাট সাফল্য এনে দেয়। দিনে দিনে সে তার প্রতারণা স¤্রাজ্যের পরিধি ও প্রতারণার কৌশল বাড়াতে থাকে। এক পর্যায়ে জঈউ (জড়ুধষ ঈযবধঃবৎ উবাবষড়ঢ়সবহঃ) নামে প্রতারণার একটি সংগঠন তৈরী করে। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল, সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা। তার গ্রুপের প্রতিটি সদস্য অত্যান্ত সু-কৌশলে মানুষের সাথে প্রতারণার কার্যটি ভাল ভাবে রপ্ত করে তারা ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন গ্রুপ তৈরী করে অফিস ভাড়া নিয়া বিভিন্ন কৌশলে মানুষের নিকট হতে প্রতারণা পূর্বক অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল। গত ০২ মার্চ ২০১৯ তারিখে উক্ত প্রতারকচক্রের সদস্যদের গ্রেফতারের পর বারেক হাজী তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ করে গ্রেফতার এড়ানোর লক্ষ্যে আত্মগোপনে চলে যায়। দীর্ঘ ৪৩ বছর প্রতরণা জীবনে সে প্রতারণা পূর্বক লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে। তার নিজের দুই সন্তান যথাক্রমে মেহেদী হাসান হাবিব এবং আল-আমিন সরকার রাজসহ তার ভাগিনা শাহাদাৎ হোসেন তার প্রতারণাচক্রের অন্যতম সদস্য। তারা গত ০২ মার্চ ২০১৯ তারিখ গ্রেফতার হয়। প্রতারণার মাধ্যম সে কোটি কোটি টাকা অবৈধ উপার্জন করে ঢাকা শহরে নিজের নামে ফ্ল্যাট, গাড়ী, গ্রামের বাড়ী কুমিল্লাতে জমি-জমাসহ অঢেল সম্পত্তি মালিক হয়েছে।
প্রতারক স¤্রাট বারেক হাজী এবং তার প্রতারণার কলাকৌশল

৪। বারেক হাজী প্রতারণা সংক্রান্তে তার দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা লব্ধ জ্ঞান, চাতুর্য্যতা ও তীক্ষè মেধা শক্তির সবটাই প্রতারণার উদ্দেশ্যে প্রয়োগ করে বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষ এর সাথে প্রতারণা করে আসছে। ঢাকা শহরের প্রতারক চক্রের সদস্যরা তার প্রতারণার সফল কর্মকৌশল ও মানুষকে প্রতারণা করার নিত্য নতুন অভিনব কৌশল সৃষ্টি করার কারনে তাকে গুরু বা স¤্রাট বলে মান্য করে। হাজী বারেকের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রকার প্রতারণার কৌশল দীক্ষা নিয়া উক্ত সদস্যরা ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতারণার এক একটি গ্রুপ তৈরী করিয়া সাধারণ মানুষের সাথে প্রতরণা করে আসছিল। তারা নিজেদেরকে বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত করে এবং এক একটি গ্রুপে সাধারণ ০৫ টি স্তরে সদস্য থাকে। স্তরগুলো যথাক্রমে (ক) সাব-ব্রোকার, (খ) ব্রোকার, (গ) ম্যানেজার,(ঘ) চেয়ারম্যান (অফিস প্রধান), (ঙ) বস। প্রতারণার কৌশল হিসেবে সে এবং তার সংগঠনটি বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। যেমনঃ-

(ক) সে এবং তার সংগঠনের সদস্যরা অবসরপ্রাপ্ত সরকারী/বেসরকারী কর্মকর্তাদের অবসরের আগে থেকেই টার্গেট করে। প্রতারক চক্র তাদের কোম্পানীতে উক্ত কর্মকর্তাদের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের অফিসে নিয়ে আসে এবং প্রতিষ্ঠানের শেয়ার হোল্ডার হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করে। অফিস কর্মকর্তাদের চালচলন, ব্যবহার ইত্যাদিতে অভিভূত হয়ে ঐ কর্মকর্তাগণ তাদের অবসরকালীন প্রাপ্ত সমুদয় টাকা সরল বিশ্বাসে বিনিয়োগ করে এবং বিনিয়োগের কয়েক দিনের মধ্যেই উক্ত অফিস এবং অফিস কর্মকর্তারা উধাও হয়ে যায়।

(খ) দেশের বিভিন্ন এলাকার তাঁত ব্যবাসার সাথে জড়িত ব্যবসায়ীদেরকে কয়েক কোটি টাকার অর্ডারের ফাঁদে ফেলা উক্ত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৪০-৫০ হাজার টাকার স্যাম্পল নেয় এবং কয়েক কোটি টাকার মালামাল তৈরীতে যে পরিমাণ কাঁচামাল প্রয়োজন (সুতা, রং ইত্যাদি) তা সরবরাহের কথা বলে অগ্রিম হিসেবে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতারণা পূর্বক আত্মসাৎ করে।

(গ) বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের জমি বা নির্মাণাধীন ভবনের উপর ইন্টারনেট টাওয়ার স্থাপনের প্রলোভন দিয়ে উক্ত ভবন মালিকের নিকট হতে সুকৌশলে বিভিন্ন অজুহাতে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাৎ করে।

(ঘ) ঢাকার বাইরে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের বাসায় এবং তার এলাকার মাদ্রাসা, মসজিদে এনজিও এর পক্ষ থেকে বিনা খরচে সৌর প্যানেল বসানোর কথা বলে বারেক হাজী এবং তার সংগঠনটি সুকৌশলে বিভিন্ন অজুহাতে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাৎ করে।

(ঙ) ইট/পাথর, রড/সিমেন্ট, গার্মেন্টস, চাল, থাই/এ্যালুমিনিয়াম, সোলার প্যানেল ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার লোকদের টার্গেট বানিয়ে তাদেরকে বিপুল পরিমান অর্থের অর্ডারের ফাঁদে ফেলে এবং অর্ডারের চুক্তিপত্র সম্পন্ন পূর্বক অগ্রিম বাবদ লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাৎ করে।

৫। গ্রেফতারকৃত আসামীদের নাম-ঠিকানাঃ

ক। মোঃ বারেক সরকার @হাজী বারেক(৬৩), পিতা-মৃত হাবিজ সরকার, মাতা-আন্না বেগম, সাং-সাহেবচর, থানা-দাউদকান্দি, জেলা-কুমিল্লা, এ/পিঃ বাসা-৪৪৭ (৩য় তলা) পশ্চিম রামপুরা, হাতিরঝিল, ঢাকা।

খ। মোঃ হাবিবুর রহমান(২৪), পিতা- মোঃ আজগর আলী, মাতা-মোসাঃ বেগম, সাং-জামালপুর, পোষ্ট-মাথাভাঙ্গা বাজার, থানা-বাঘারপাড়া, জেলা-যশোর, এ/পি-৭৫/১, ওয়াপদা ওমর লেন, থানা-রামপুরা, ঢাকা।

গ। মোঃ জাকির হোসেন(৫৮), পিতা-মৃত মোবারক আলী, মাতা-শরিফা খাতুন, সাং-পয়ালগাছা, থানা-বরুড়া, জেলা-কুমিল্লা, এ/পি-১১১, রামপুরা টিভি সেন্টার রোড, রামপুরা, ঢাকা।

ঘ। মোঃ আক্তারুজ্জামান(২৮), পিতা-মোতাহার উদ্দিন, মাতা-সুফিয়া বেগম, সাং-পৌর ৮ নং ওয়ার্ড, লালমোহন পৌরসভা, থানা-লালমোহন, জেলা-ভোলা, এ/পি-৩৯/৫ পূর্ব হাজীপাড়া, থানা-রামপুরা, ঢাকা।
ঙ। মোঃ শাহরিয়ার তাসিম(১৯), পিতা-মোঃ আনোয়ার হোসেন, পিতা-শাহনাজ পারভীন, সাং-সেলিমপুর, থানা-মুলাদী, জেলা-বরিশাল, এ/পি-২৫৬/৭ আহমেদনগর, পাইকপাড়া, মিরপুর-১, থানা-মিরপুর, ঢাকা।

৫। উপরোক্ত বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সাম্প্রতিক ভিডিও




র‌্যাব কর্তৃক প্রদত্ত পরামর্শ

***জমি জমা বা টাকা-পয়সা সংক্রান্ত কোন অভিযোগ র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোন সমস্যা র‌্যাব কর্তৃক গ্রহণ করা হয় না ।
***কোন অভিযোগ করার পূর্বে আপনার এলাকার জন্য দায়িত্বপূর্ন র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্প সম্পর্কে জানুন ও যথাযথ র‌্যাব ব্যাটালিয়ন/ক্যাম্পে অভিযোগ করুন ।
***আপনার এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে র‌্যাব কে তথ্য প্রদান করে র‌্যাবকে সহযোগীতা করুন । আপনার পরিচয় সম্প‍ুর্ন্ন গোপন রাখা হবে । ***বেশী করে গাছ লাগান অক্সিজেনের অভাব তাড়ান
***ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের আগুন নিয়ে খেলতে দিবেন না ।
***যাত্রা পথে অপরিচিত লোকের দেওয়া কিছু খাবেন না । ভ্রমণকালে সহযোগী বা অন্য কাহারো নিকট হইতে পান, বিড়ি, সিগারেট, চা বা অন্য কোন পানীয় খাওয়া/গ্রহন করা হইতে বিরত ‍থাকা আবশ্যক ।